বিলাসীতা
২৪ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:০৯
মাঝে মাঝে কত কি যে ভাবি; আমার কাছে কি মনে হয়, জান?
ঐ তিতাসের তীরে একখানা কুঁড়েঘর বানিয়ে মেটাবো মনের তিয়াস,
খড়ের ছাউনি বিছিয়ে দেব অথবা সাজিয়ে দেব কেয়া পাতা থরে থরে।
ইকড় দিয়ে আগলে দেব চারপাশ আর তুমি মাটির লিপিতে সাজিয়ে দেবে
তোমার মনে জল্পনা-কল্পনা-আলপনা দিয়ে; পাতা-ফুল-গাছ এঁকে।
উত্তরে আর দক্ষিণে দু'টো জানালা করে দেব; শীত ও গরমে
তুমি কাজী নজরুলের কল্পিত নারীর মত- "গোমতীর তীরে পাতার কুঠিরে
সে আজও পথ চাহে সাঁঝে" হয়ে দাঁড়িয়ে র'বে আমার প্রতীক্ষায়।
কুঠিরের সামনে কিছু পথ পেরিয়ে থাকবে তটিনীর তীর-
তুমি কাজলা-সাদা ফুল-পাতা কাজ করা শাড়ী পরে হেঁটে যাবে
কাঁখে নিয়ে মাটির কলসী কোন এক ষোড়শীর মত।
আমি আঙ্গিনায় বসে দেখে যাব তোমার রূপ আঠার পার হওয়া
কিশোরের মত- অপলক চোখে তাকিয়ে; আর আমার কাব্যের খাতায়
শব্দ দিয়ে বুনে যাব তোমার ছবি হুক্কার ধোঁয়া তুলে পান চিবিয়ে চিবিয়ে।
ঝড়ের রাতে যখন থর থর করে কাঁপবে কুঁড়েঘর আমাদের,
তুমি ভয়ে জড়সড় হয়ে আমার বাহুতেই আশ্রয় নেবে।
যখন চুইয়ে চুইয়ে পানি পড়বে কোন এক পাত্র বসিয়ে দেবে
অথবা বিছানা গুটিয়ে নেবে; তারপর বসে বসে কুপির আলোয়
বাকিটা রাত কেটে যাবে- তুমি আমি দুজনে বিলীন।
বাণের তোড়ে যখন তিতাসের তীর ভাঙ্গবে মেটাতে তার
প্রলয়ঙ্করী পিয়াস; আমরা দেখে যাব তীরে দাঁড়িয়ে-
এপার আর ওপারের ভাঙ্গার খেলা- স্রোতের বয়ে চলা।
তারপর একদিন মিটিয়ে পিপাসা মনের চলে যাব-
ইট পাথরের জঙ্গলে; দু'পেয়োদের কোলাহলে, যেখানে
চার চাকার উপরে বসে স্বপ্ন দেখা যায়, তিন চাকায় যেখানে
ক্ষয় করে নিয়ে যায় জীবনের শক্তি আর পায়ের তলে
ক্ষয় হয়ে যায় কত বাহারি পাদুকা, তবু শেষ নেই- পথ চলা।
আমি শুধু এই ভেবেই ক্ষান্ত হইনি; আরও ভেবে রেখেছি, শুনবে?
তোমার আমার কাছে কুঁড়েঘর বড় স্বপ্নের ভূমি, বড় প্রমোদের
যেখানে তুমি কাব্যের নায়িকা সেজে তোমার পুরুষ আমার জন্য
বিকেলে পথ পানে চেয়ে র'বে; কাঁখে কলসী করে পানি আনবে
শরীরে তাল জাগিয়ে- আমারই কল্পনার কামিনী হতে।
ঝড়ের রাতে ভয় পাওয়া- এই ষোলকলা অভিনয় আমরা করে
যেতে পারি, ভরে দিতে আমাদের অবচেতন মনের বাসনাকে।
কিন্তু; এই নদীর ভাঙ্গন কত স্বপ্ন ভেঙ্গে নিয়ে যায়- নিয়ে
যায় কত জীবন কেড়ে, ছন্দ পতন ঘটে নিমিষে- বেঁচে থাকার।
ঝড়ের রাতে ছাল উড়ে যায়, ঘরে জলধরের পানি ডুকে-
তোমার আমার কাছে স্বপ্ন সাধনা তবু কারও কাছে অভিশাপ।
এই বিলাসীতা আমাদের সাজে- আমাদের সম্বল আছে;
ভর পেট ভাত আছে তাই ঝাঁকে ঝাঁকে কল্পনা আসে।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:৪২


















