সন্ধ্যার আঁধারে আমি যদি হারিয়ে যাই বন্ধু, আমাকে মনে রেখো তোমার ঘরের ধূপ-আগরের সুবাসে- তোমার ঘরের প্রদীপের আলোয়, আমাকে ফেলে দিও না বাসি ফুলের মত। মনের ঘরেই রেখো বন্ধু পথের ধারের ফুলটি ভেবে। আমি যে জলসাঘরে ...www.jolsaghor.com/author/sharmabangla

আমি এভাবেই বাংলাদেশকে আপন করেছি আত্মায় মিলিয়ে..........

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:১২

শেয়ারঃ
0 16 3

ভাবতে অবাক লাগে স্বাধীনতার এত বছর পরও কিছু হীনমন্য মানুষ দেশাত্ববোধ আর জাতীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে। আজও তারা ধর্মের মত ফালতু শব্দের পিছে পরিচয় খুঁজে। তাই বাধ্য হয়েই নিজের ইতিহাস নিজেকে লেখতে হয়।
কত সময়, কত ইতিহাস পেরিয়ে গেছে। ১৯৪৭ গেছে, ১৯৬৫ গেছে, ১৯৭১ গেছে। বাংলাদেশের রাজনীতির অঙ্গনে ঘটে যাওয়া অনেক ঘটনার ঘনঘটার পরে আমার জন্ম। আমি বেড়ে উঠেছি এমন এক সময়ে এমন এক পরিবেশে- যখন দেশ-রাজনীতির অনেক লজ্জাকর মনমানসিকতা পরিবর্তনের পথে। যদিও আজও অনেক কিছু পরিবর্তন হয়নি। একজন শিশু জন্মের পরে তার চারপাশের আলো-পানি-বাতাস আর প্রকৃতি দেখেই পৃথিবীকে ভাবতে থাকে। সে শ্যামলিমা ঘেরা কোন স্থানে জন্ম নিলে সারা পৃথিবীকে তেমনই ভাবে যদিও পৃথিবীতে মরুভূমি আছে, বরফভূমি আছে। আমিও যে পরিবেশে বেড়ে উঠেছি সেই পরিবেশ দিয়েই আমি বাংলাদেশকে চিনেছি, বাংলাদেশকে ভালবেসেছি, বাংলাদেশ আমার আত্মার সাথে মিশেছে- কারণ এ যে আমার জন্মভূমি।

আমাদের গ্রাম পূর্বে এক হিন্দু গ্রাম ছিল। ইতিহাসের পট পরিবর্তনে এখন এই গ্রাম একটি মুসলমান গ্রাম আর আমরা একঘরই হিন্দু। এখানে যেসব মুসলমান পরিবার আছে তাদের প্রায় সবারই শেকড় ভারত থেকে। এখানকার হিন্দুদের সাথে বাড়ি বিনিময় করে তারা এখানে এসেছে- হিন্দুরা সেখানে চলে গেছে(১৯৪৭,১৯৬৫)। শুধু আমরাই রয়ে গেছি। ছোটবেলায় অনেক শুনেছি হিন্দুদের জন্য ইন্ডিয়া আর মুসলমানের জন্য বাংলাদেশ। তখন আমার ছোট্ট মনে ভাবতাম- ‘হি’ এর সাথে ‘ই’ এর মিল আছে বলেই মনে হয় হিন্দুদের জন্য ইন্ডিয়া। আর মুসলমানদের জন্য কি করে বাংলাদেশ হয় হয় তা মেলাতে পারতাম না। প বর্গীয় বর্ণের ব এর পরে ম- তাই হয়তো। এই ছিল আমার ধারণা। কিন্তু আমি বেড়ে উঠেছি বাংলাদেশকে আমার জন্মভূমি ভেবে। এদেশের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করে। আমি কখনই ভাবিনি এদেশ আমার নয়। না আমার পরিবারের কেউ ভেবেছে- না আমাকে এই শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। আশেপাশের কারও এই স্পর্ধা নেই যে আমার সামনে এসে বা আমাদের কারও সামনে এসে বলে- এ দেশ তোমার নয়, তোমরা ওপারের। কারণ ওরা ভাল করেই জানে; ওরা ওদের শেকড় ওপারে ছেড়ে এখানে এসেছে। আর আমরা আমাদের শেকড়েই রয়ে গেছি।

১৯৭১ এর সময় আমাদের বাড়িতেও পাকিস্তানি সৈন্য এসেছে। বাড়িতে আমার ছোট পিসি ছিলেন। উনি ভয়ে ধানের ভাড়ারে লুকিয়ে ছিলেন। বাড়িতে ছিলেন আমার দাদুর শ্বাশুড়ী- উনি অসুস্থ- বিছানায় ছিলেন। দাদু তখন ছিলেন মাঠে- গরু চরাচ্ছিলেন। মুক্তির খুঁজে পাকিস্তানি এসেছিল- খুঁজে গেছে। তখন আমের দিন ছিল। আমাদের একটি আম গাছের নিচে আম পড়ে আছে দেখে এক সৈন্য আম উঠিয়ে খেল। বাড়ির পাশেই ছিল আম গাছ। দাদু তখন ফিরছিলেন। দাদুকে দেখে উর্দুতে জিজ্ঞেস করল। আমার দাদু উর্দু জানতেন- উনি জবাব দিলেন। শেষে ওরা আম খেতে চাইলে ওদেরকে আম পেড়ে দিয়েছিলেন। আমাদের এলাকায় পাকিস্তানীরা কোন হত্যাযজ্ঞ করেনি। এলাকার চেয়ারম্যান ছিলেন রাজাকার। আবার চেয়ারম্যানের বাড়ি ছিল একেবারে সীমান্তে। উনার বাড়িতে আশ্রয় পেয়েছিল মুক্তিযুদ্ধারা। তাহলে বুঝতেই পারছেন- এই রাজাকারী এলাকা রক্ষার জন্য নেওয়া। ভারত থেকে ছুড়া একটি মর্টার শেল একবার আমাদের বাড়িতে এসে পড়েছিল। ভাগ্য ভাল কেউ মারা যায়নি। গুলাগুলি শুরু হলে নিরাপদ জায়গা হিসেবে গর্তে ডুকে যাওয়া হত। আমাদের বাড়ি সীমান্ত থেকে এক কিমি দূরে হলেও ভারতের ওদিকের উঁচু পাহাড় থেকে দেখা যায়।আর ভারতের যুদ্ধাবস্থানের দূরত্ব দেড় কিমির মত হবে। (এখনও বিএসএফ সার্চ লাইট মারলে মাঠ পরিস্কার হয়ে যায়।যদিও এখন সীমান্তে অনেক বাড়ি ঘর হয়ে গেছে এত পরিস্কার দেখা যায় না।) গর্তে ডুকা এবং বের হওয়ার সময় ভারত থেকে দূরবীন দিয়ে দেখে সন্দেহজনক কিছু ভেবেছিল। তারপর আমাদের বাড়ি বরাবর মর্টার নিক্ষেপ করে। আর তা গর্তের কাছে এসেই পড়ে। পরে আমার দাদু হেঁটে হেঁটে পা দিয়ে মেপে মেপে ভারতের ক্যাম্পে জানিয়েছিলেন। আমাদের গ্রামের পশ্চিমে খানিকটা দূরে চা বাগানের টিলায় পাকিস্তানীদের ঘাঁটি ছিল। তারা সবসময় টহলে আসতো না। আমাদের পাশের বাড়ির মুসলিম পরিবার- যারা বিনিময় করে আসেনি- তাদেরকে এখনও গ্রামের অন্যান্যরা রিফুজি বলে ডাকে; পাকিস্তানীরা এদের বাড়ির সবাইকে লাইন ধরে দাঁড় করিয়ে সার্চ করেছিল। এমনই সংকট সময়েও আমার দাদা এদেশ ছাড়েননি- আমাদের জমিতে কৃষিকাজ হয়েছে। আমার বাবা বলেছেন ৭১ এর বছর নাকি খুব ভাল ধান হয়েছিল। যুদ্ধের পরে দেশে হাহাকার ছিল কিন্তু আমাদের ঘরে নিজের জমির ধান ছিল। বাবা- আমার দাদুর একমাত্র ছেলে হওয়ায় ঠাকু’মা বাবাকে নিয়ে চিন্তা করতেন। তাই কিছুদিন বাবাকে নিয়ে ভারতের আত্মীয় বাড়িতে থেকেছিলেন।

তখনকার সময়ে দুই দেশের সীমান্তে এত নজরদারি ছিল না। যুদ্ধের আগে ও পরের কথা বলছি। এমনকি আমিও ছোটবেলায় এমনই দেখেছি। কাঁটা তারের বেড়া হলো- কঠোর সীমান্ত নীতি এলো- তা ৮-৯ বছরের মত হবে। আমার বাবার তিন বোনেরই বিয়ে হয়েছে ভারতে। শুধু আমরা না। আমাদের আশেপাশে মুসলমান যেসব পরিবার আছে- তাদেরও আত্মীয় স্বজন এখনও ভারতে। এমনকি আমাদের সাথে বেড়ে উঠা এক মুসলমান মেয়ের বিয়েও হয়েছে ভারতে তাদের আত্মীয়ের সাথে। ওপারে যেসব বাঙ্গালী পরিবার আছে- তাদের বর্তমান প্রজন্ম ভারতীয় হয়ে উঠেছে কিন্তু আগের যারা এদেশ থেকে গেছে তারা এখনও মনে প্রাণে এদেশকে ভালবাসে। আমার বাবা প্রতিবছর ভিসা নিয়ে ভারত যান উনার বোনদেরকে দেখতে। বাংলাদেশ থেকে এসেছেন জেনে- অনেকেই এদেশের কথা জিজ্ঞেস করে। তাদের নিজের বাড়ি কোথায় ছিল সেই এলাকার কথা জিজ্ঞেস করে। এদেশে থাকতে সবাই খুব স্বচ্ছল ছিল কিন্তু ওখানে দিন আনে দিন খায়- এদেশের কথা ভেবে এখনও তারা চোখের পানি ফেলে। এক মহিলা বাবাকে বললেন- আমার বাবার বাড়ি অমুক জায়গায় ছিল, মানে আমাদের বর্তমান থানার পাশের এলাকার কথা বললেন। আরেকটি পরিবার বলেছিল- আমরা যদি ফিরে আসি তাহলে কি আমাদের বাড়ি ফিরে পাব? এর কোন জবাব ছিল না চুপ করে থাকা ছাড়া। কারণ সেই আবেগ- সেই টানের কাছে স্বার্থান্বেষী রাজনীতির কোন স্থান নেই। আবেগ আর মমতা মানুষকে কত অবুঝ করে তুলে, জেনেশুনেও অবুঝের মত এমন প্রশ্ন একজন মানুষ কখন করে তা অন্তরে যে কেউ উপলব্ধি করতে পারে। বর্তমান প্রজন্ম অবশ্যই বর্তমান ধ্যান ধারণায় বেড়ে উঠছে কিন্তু আগের মানুষগুলো এখনও তাদের শেকড়কে ভালবাসে। আমার পাশের বাড়ির বৃদ্ধা- আজ উনি বেঁচে নেই- উনি আমার সাথে ভারতে উনাদের অবস্থার কথা বর্ণনা করতেন। এত সুন্দর মহিলা ছিলেন কি বলবো- বৃদ্ধ বয়সেও উনার শরীরের রঙ ইরানীদের মত ফর্সা ছিল। খুব বড় ঘরের মেয়ে ছিলেন ভারতে। বা যে পরিবার রিফুজি হয়ে এসেছে তারাও খুব বড় ধনী ছিল সেখানে। সেই সময় ঘোড়ায় চড়ে তারা বাড়ির বাইরে যেত। তাদের আত্মীয়রা এখনও সেখানে আছেন, কিন্তু তারা কেন এসেছিল বা সমস্যা হলে তাদের আত্মীয়রা কিভাবে থেকে গেল- তার উত্তর পাইনি। হয়তো দাঙ্গার সময় খুব ভয় পেয়েছিলেন তারা। আশেপাশের মানুষকে আর বিশ্বাস করতে পারেননি অজানা আশঙ্কায়। এদেশে আসার পর এদের পরিবারের অবস্থা খুব খারাপ ছিল। দিন আনে দিন খায়। ক্ষুদার জ্বালায় যখন বাচ্চারা কাঁদত তখন আমাদের বাড়ি থেকে আমার ঠাকু’মা কত দিন যে তাদের চাল দিয়েছেন। এ তো অনেক আগের কথা। আমি আমার ছোটবেলায় দেখেছি- শীতের সময়ে আমাদের গরুর জন্য শুকাতে দেওয়া খড় দিয়ে ওরা আগুন পোহাচ্ছে। কারণ শীতের পোশাক পর্যাপ্ত নেই। এই কয়েক বছর হলো- এদের অনেকে বিদেশ গিয়েছে, এখন পরিবারে স্বচ্ছলতা এসেছে। এই যে মানুষগুলো- রাজনীতি তাদের দেশ ছাড়া করেছে, তারা কিন্তু তাদের শেকড়কে এখনও মনে রেখেছে। শেকড় ছাড়া কি বৃক্ষ থাকতে পারে? তাদের দেশাত্ববোধের পরিচয় এই মানুষগুলোর মাঝে খুঁজতে যাওয়া ভুল। ভারতের হিন্দু বাঙ্গালী যারা এখনও এদেশকে ভালবাসে জন্মভূমি বলে তাদেরকে কোন আইনেই দোষী করা যাবে না। আর এই মুসলমান বাঙ্গালী পরিবারগুলোর দেশাত্ববোধের পরিচয় বিচার করা যাবে না- কারণ তারাও তাদের জন্মভূমিকে আজও ভালবাসে। আজও তারা কল্পনায় তাদের শৈশবে বেড়ে উঠা দিনগুলোর কথা মনে করে- মনে করে তাদের আলো ঝলমল সেই দিনগুলোর। বর্তমান প্রজন্মের কথা আলাদা।

চলার পথে বর্তমান প্রজন্মের সাথে ঝগড়া আমি অনেক করেছি। আমার অনেক ঝগড়াই সালিশ পর্যন্তই গড়িয়েছে। যদিও আমি ভুল অবস্থানে ছিলাম না। বিচার সবগুলো আমিই পেয়েছি। আর যারা বিচার করেছেন তারা সবাই মুসলমান। আমার প্রতিপক্ষ মুসলমানই ছিল। এখানে যদি সাম্প্রদায়িকতা থাকত তাহলে বিচার তো আমি পেতাম না। যারা বিচার করেছেন- তাঁদের সবাই আগের আমলের মানুষ। খাঁটি মুসলিম লীগ। এখন মুসলিম লীগের কিছু না থাকায় অন্য দলকে সমর্থন করেন। ১৯৯৬ এর নির্বাচনে মুসলিম লীগের এক প্রার্থীকে হারিকেন মার্কায় উনারা ভোট দিয়েছেন। তারাই আমাকে সমর্থন করেছেন বিচারে। এমনকি আমি যদি ভুলও করতাম- তাহলেও আমিই জয়ী হতাম, বিচারের রায় আমিই পেতাম। বিচারকদের মাঝে একজন- মোহাম্মদ আলী; উনাকে চাচা ডাকি। এখনও সামনে পড়লে আদাব দেওয়ার সাথে সাথে ভাতিজা বলে জড়িয়ে ধরেন। কখনও আমাকে আমার বাবার নাম ধরে অমুকের ছেলে সজল বলেননি। কোথাও আলোচনায় হলে বলেন- আমার সজল। বিচারে গেলেও বলবেন- আমার সজল এই কাজ করতেই পারে না। আমি বিদেশ যেদিন আসি সেদিন- উনার চোখও আদ্র দেখেছিলাম। এই যে ভালবাসা- সেখানে সাম্প্রদায়িকতা নেই। যদিও উনারা মুসলিম লীগ। আরেকজন মুরব্বী- মছব্বির আলী, ১৯৭১ সালে রাজাকার ছিলেন, তবে কুখ্যাত নন, এলাকা রক্ষায়। উনি সম্পর্কে আমার দুলাভাই। উনার স্ত্রী আমার মাকে মা ডেকেছেন। সম্পর্ক খুব ঘনিষ্ঠ। প্রতি বছর রমযান মাসে একদিন বোনের বাড়িতে আমরা ইফতারি দিয়ে আসি। দুর্গাপূজায় বোন-বোনের জামাইয়ের জন্য কাপড় আসে। যেকোন অনুষ্ঠান আমার বাড়িতে হোক- উনারা আগে আসবেন। আমার ভাগ্নেরা আমাদের চেয়ে বয়সে কত বড়। মানে আমাদের নাতিরাই আমাদের বয়সী। তারপরেও বাবার বয়সী ভাগ্নে দেখা হলেই মামা করে সম্বোধন করে কথা বলবে। ভাগ্নে বউরাও মেনে চলে- সামনে পড়লে মাথায় ঘোমটা টেনে সম্মান করে। বেড়াতে গেলে যথেষ্ট আদর-আপ্যায়ন হয়। এই যে আত্মার সম্পর্ক- এসবে সাম্প্রদায়িকতা নামক ফালতু শব্দের কোন স্থান নেই। আমি আমার চারপাশের পরিবেশকে এভাবে আত্মার সম্পর্কের মাঝেই দেখে এসেছি- আর বাংলাদেশকে এভাবেই আমার আত্মার সাথে মিশিয়েছি।

আমাদের বাড়িকে ঠাকুর বাড়ি নামেই চেনে সবাই। এখন কেউ কেউ স্যারের বাড়ি বলে ডাকে, কেউ মাস্টার বাড়ি। কিন্তু সবাই সম্মানের সাথে বাড়ির নাম নেয়। আমাদের আশেপাশে যারা আছে- আমাদের বাড়িতে বড় কোন অনুষ্ঠান হলে নিজেরা এসেই বলবে- আমাদেরকে বলুন আমরা কি করতে পারি। আমার দাদু আর ঠাকু’মার যখন বাতসরিক শ্রাদ্ধ হয়। আমাদের গ্রামের লোকেরা নিজেরা এসে সবকিছু পরিস্কার করে দিয়ে গেছে। তখন সীমান্ত এত কঠোর ছিল না। বিডিআরকে বলা হয়েছে আমাদের আত্মীয়-স্বজন ভারত থেকে আসবে- তারা বলেছে হ্যাঁ কোন সমস্যা নেই। (শুধু তাই নয় চরক পূজায় বিএসএফও আমাদেরকে পাস দিত- আমরা ভারতে গিয়ে মেলা দেখতাম হিন্দু-মুসলমান সবাই।ওরুস মেহফিলে বিডিআর ভারতীয়দের পাস দিত- এখনও সীমান্ত শীথিল করা হয়।) আমাদেরকে বাড়িতে কীর্তন হয়েছে। মাইক বেজেছে। সবাই মিলেমিশে নিজের অনুষ্টানের মত করে সাহায্য করেছে। আশেপাশের কারও বিয়ে হলে আমাদের বাড়িতে দাওয়াত আসে। শ্বশুর বাড়ি থেকে বা বাপের বাড়ি থেকে আসা মিষ্টি-ফলমূলের ভাগ আমাদের বাড়িতেও আসে। আমার ভাইয়ের বিয়ে হলো। পাশের বাড়ির পুরুষরা তাদের স্ত্রীদের পাঠিয়ে দিয়েছে আমাদের বাড়িতে- কি সাহায্য লাগে তারা করবে। বিয়েতে একসাথে দুই রান্না হয়েছে কারণ হিন্দু স্টাইলের রান্না মুসলমান অতিথিদের ভাল নাও লাগতে পারে। রাতে গ্রামের অন্যরা এসে মুসলমান অতিথিদের জন্য আলদা রান্না করেছেন। একই সাথে হিন্দু অতিথদের জন্যও আলাদা রান্না হয়েছে। বিয়েতে বরযাত্রী হিসেবে আশেপাশের বন্ধু-বান্ধব প্রতিবেশী গিয়েছে। একসাথে খাওয়া-দাওয়া হয়েছে। একসাথে মজা করা হয়েছে। এই যে আত্মীয়তার বন্ধন- আমি এমনই পরিবেশে বড় হয়েছি। তাই আমার মনে কুটিলতা আসে না। সাম্প্রদায়িকতা আসে না। আমি সবাইকে আপন ভেবেই বড় হয়েছি।

আমাদের বাড়ির কেউ ভোট দেয় না। মানে সুযোগ নেই। কারণ ভোট কেন্দ্রের দায়িত্ব এসে পড়ে- ভোট গ্রহন করতে করতেই নির্বাচনের পর নির্বাচন যায়। তারপরেও প্রচারণার সময় প্রার্থী আমাদের বাড়ি আসবেন- যে দলেরই হোক। দোয়া নিয়ে যাবে। বিএনপির প্রার্থী, একবার স্বতন্ত্র সাংসদ, তিনিও রাস্তায় মাকে দেখলে গাড়ী থামিয়ে দিদি ডেকে কুশল জিজ্ঞেস করে বলতেন- আপনার ছেলে কেমন আছে। ক্লাশ এইটের বৃত্তি পরীক্ষায় থানার মধ্যে প্রথম হবার পর তিনি সরাসরি আমার নামে আমন্ত্রণ পাঠিয়ে সম্বোর্ধনার জন্য আমন্ত্রিত করেছিলেন। এই যে সবকিছু তা কিন্তু ভোটের লোভে নয় কারণ ভাল করেই জানেন এই পরিবারের কেউ ভোট দেয় না- শুধু ভোট গ্রহন করতে থাকে। আর আওয়ামীলীগের ভোট ব্যাংক হিসেবে তো বাংলাদেশে এক পরিচয় তো আছেই- তারপরেও যে দলেরই লোক হোক প্রয়োজনে সাহায্য করবেই। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময়ও এমন হয়। প্রার্থীরা আসেন। এই যে জনপ্রতিনিধিরা আছেন- তারা যথেষ্ট সম্মান করেন, ভালবাসেন। উদাহরণ হিসেবে একটি ঘটনার কথা বলি। এ বছরই ফেব্রুয়ারীতে আমি দেশে গিয়েছিলাম। হঠাত আমার জন্মনিবন্ধন কার্ডের দরকার হলো। আমি সাথে করে নিয়ে যাইনি। আর এমন এক সময়ে প্রয়োজন হলো আমার আধা ঘন্টার মধ্যেই লাগে। বড়দা ইউনিয়ন অফিসে গেল। সাথে আমিও গেলাম। মেম্বার চেয়ারম্যানের সাইন লাগে। চেয়ারম্যান সাহেব তখন জরুরী সভায়। কিন্তু বড়দা রুমে ডুকে বললো- চাচা সাইন লাগবে। সামনে বাড়িয়ে দিতেই- না পড়েই সাইন। মেম্বারকে বলতেই দৌঁড়ে এসে সাইন দিলেন। এই যে আমাদের হয়ে কাজ করে যান। এই যে সম্মান দেখান- এই যে ভালবাসা দেখান। এখানে কিন্তু সাম্প্রদায়িকতা নামক বিষাক্ত শব্দের স্থান নেই। আমি বাংলাদেশকে এভাবেই চিনেছি আমার আপন করে।

ধর্মের রাজনীতি করে বলে স্বীকৃত জামায়াত শিবিরের কাছ থেকেও আমি কোন বিষাক্ত আচরণ পাইনি। শিবিরের ছেলেরা দেখলে কত সুন্দর করে মেহফিলি স্টাইলে আদাব দেয়। কত সুন্দর করে হাত মেলায়। দোকানে বসে চা-নাশতা চলে। কত অমায়িক ব্যবহার। আমার সাথে কেন সে এই ব্যবহার করবে। এখন না হয় ওদের গঠনতন্ত্র পরিবর্তন হয়েছে যে সবাই সদস্য হতে পারবে। আগে তো এমন ছিল না। আমি এদের কাছ থেকে যে ব্যবহার পেয়েছি- তাতে আমি এদেরকেও খারাপ বলি না। কারণ মানুষ জন্ম থেকে খারাপ হয়ে আসে না। মাদ্রাসাকে সবাই জঙ্গির আখড়া বলে। আমার এলাকায়ও মদ্রাসা আছে। মাদ্রাসার ছাত্রদের সাথে উঠাবসা। আমার বাড়ির রাস্তা দিয়েই মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রী আসা যাওয়া করে। কই আমি তো খারাপ কিছু আমার এলাকায় দেখিনি। আমি তাদেরকে তাই আপন করেই জেনেছি। হ্যাঁ- খবরে আসে, বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন সহিংস কর্মকাণ্ড হচ্ছে।, সহিংস রাজনীতি হচ্ছে। কিন্তু আমি বড় হয়েছি সম্প্রীতির মাঝে। মাদ্রাসা বা জামায়াত শিবিরের কোন ছাত্র বা সক্রিয় সদস্যও কোন দিন বলেনি তুমি এদেশের না। আমার ভাইয়ের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু বাবর ভাই- কুমিল্লা বাড়ী, উনি জামায়াত শিবির করতেন। সেই উনার সাথেই আমি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলেছি। উনার সাথে গিয়ে মসজিদের ভেতরেও আমি ঘুমিয়েছি। তাই আমি বলি আমাদের দেশের মানুষ খারাপ না। দু’একটা বিষাক্ত কুলাঙ্গারই খারাপ করছে দেশকে।

এই যে আগে বললাম, মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীরা আমার বাড়ির রাস্তার উপর দিয়ে যায়। শুধু ওরা না- গ্রামের অন্যপাশের মানুষ আমার বাড়ির রাস্তার উপর দিয়েই যায় বাজারে; যদিও আলাদা সরকারী রাস্তা রয়েছে। আর এই যে সরকারী রাস্তা- সেই রাস্তার এক বিরাট অংশ আমাদের জমির উপর দিয়েই গেছে। আমাদের জমি এক প্লটে- কারও রাস্তার উপর দিয়ে আমাদের যেতে হয় না, আমরা নিজের রাস্তা দিয়েই মেইন রোডে গিয়ে উঠতে পারি। কিন্তু তারপরেও আমাদের অনেক জায়গা সরকারী রাস্তার ভেতরে চলে গেছে। কিছু দাদুর আমলে দাদু দিয়েছেন, আর কিছু বাবা দিয়েছেন। এলাকার উপকারের জন্যই দিয়েছেন- জোর করে কেউ নিতে পারতো না। এই কয়েক বছর আগে হয়ে গেল স্যাটলমেন্ট- এর আগের স্যাটলমেন্টেই রাস্তার নামে দেয় জায়গা কেটে নেওয়া হয়েছে- আর গত স্যাটলমেন্টের বাকি জায়গা নেইয়া হয়েছে; আমি হিসেব করে দেখেছি ৯০ শতাংশের বেশি জায়গা শুধু আমাদের চলে গিয়েছে রাস্তায়। যদিও এই রাস্তা না হলেও আমাদের চলে।এই রাস্তা থাকা সত্ত্বেও আমাদের নিজস্ব ছোট রাস্তা আছে আমাদের জন্য। কিন্তু সবাই সরকারী রাস্তা ব্যবহার না করে একটা অংশ আমাদের রাস্তা দিয়েই যায়- আর এটা আজ থেকে না; সে বিগত সময় থেকেই।এই যে আমাদের জমি গেল- এর বাজারমূল্য কিন্তু অনেক। এসব না দিলেই পারতাম। কিন্তু আমার দাদা বা বাবা মানুষের উপকারের জন্যই দিয়েছেন। মানুষকে আপন ভেবেই দিয়েছেন মানুষের উপকারের জন্য। এই দেশে থেকে অন্যদেশকে আপন ভাবলে কিন্তু দিতেন না।আমি এভাবেই আমার বংশের কাছ থেকে শিক্ষা পেয়েছি; কোন কুশিক্ষা অর্জন করিনি।

সংখ্যালঘু বলে যারা চেঁচামেচি করে তাদের আমি জিজ্ঞেস করি- এই শব্দের মানে কি। এই দেশে এই শব্দের কোন প্রয়োগ নেই। হ্যাঁ- দু’একটা বিষাক্ত বর্বর এই কথা বলবে ভোটের রাজনীতির জন্য। আমার মতে এই শব্দ রাজনীতিবিদিদের বানানো। সখ্যালঘু আবার কি আর সংখ্যাগুরু আবার কি। এই দেশে আমার রক্ত হাজার বছর ধরে আছে। রক্তের সূত্র ধরে আমি বাঙ্গালী আর রাষ্ট্রীয় পরিচয়ে আমি বাংলাদেশী। সেখানে সংখ্যাগুরু আর সংখ্যালঘু নামের শব্দ কোত্থেকে আসে। আমি এমনই পরিবেশে বড় হয়েছি- গ্রামের মাঝে মাত্র এক ঘর হিন্দু পরিবার হয়েও এই শব্দের প্রয়োগ জীবিনে দেখিনি আর কানে শুনিনি; তাই আমি বাংলাদেশকে আর বাংলাদেশের মানুষকে একই মাতৃভূমির গর্ভজাত সন্তান হিসেবে দেখে বড় হয়েছি। আমি এদেশে জন্মে ভারতের ভালবাসার স্বপ্ন দেখি না কিছু কুলাঙ্গারের মত যারা পাকিস্তানের ভালবাসার স্বপ্ন এখনও দেখে দেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও। আমার বাবাও পাকিস্তানের জাতীয় সংগীত “পাক সার বাদ” গেয়ে স্কুলে পড়েছেন। আমার বাবাও স্কুলে উর্দু শেখেছেন। দেশ বদলেছে- ইতিহাস বদলেছে- তাই নিজের দেশ ছেড়ে আরেক দেশকে ভালবাসতে যাননি। আমি সেই পুরুষের ঔরসজাত সন্তান- আমি বেঈমানী শিখিনি। আমি গিরিগিটি হতে শিখিনি।

আমি বাংলাদেশকে এভাবেই ভালবেসেছি। এভাবেই বাংলাদেশের মানুষকে আপন করেছি। যে শিক্ষা আমাকে আমার মাটি দিয়েছে সেই শিক্ষায় আমি শিক্ষিত হয়ে উঠেছি। মাতৃভূমি মায়ের মত। মাতৃভূমি আমাকে কুশিক্ষা দেয়নি- আমি কুলাঙ্গার হয়ে জন্ম নেইনি আর নেইনি জন্ম কোন কুলাঙ্গার পিতার ঔরসে কোন কুলাঙ্গার মায়ের গর্ভে। আমার মা-বাবা বাংলাদেশের জন্যই কাজ করে যাচ্ছেন অক্লান্তভাবে। আমার ভাইও করছে। আমিও করবো। আমার চারপাশের পরিবেশ আমাকে সম্প্রীতির শিক্ষা দিয়েছে তাই আমি প্রশ্ন তুলি না ধর্মের নাম ধরে কারণ ধর্মের মত ফালতু (ধর্ম যখন অন্তরের তখন ধর্ম সব থেকে সুন্দর; ধর্ম যখন শুধু বাহিরের তখন ধর্ম ফালতু ও বর্জনীয়) জিনিসের স্থান নেই সেখানে। আমার চারপাশের মানুষ আমাকে ভালবাসার শিক্ষা দিয়েছে তাই আমি কাউকে খারাপ ভাবতে শিখিনি।
……………………..আমি এভাবেই বাংলাদেশকে আপন করেছি স্বর্গদপি গরিয়সী(স্বর্গের চেয়ে শ্রেষ্ঠ) ভেবে; আমি এভাবেই আমার আত্মায় বাংলাদেশকে একাত্ম করে রেখেছি।

 

বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:২২
ইরফান আহেমদ বলেছেন: এই দেশ এই মাটি আর এই মানুষ সবই আমাদের। কোন ধর্মের বা শ্রেনীর জন্য নয়। শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থের কারনে কিছু মানুষ হিংস্রতা আর সহিংসতা ছড়িয়েছে। তাদের অনেকে আবার অসাম্প্রদায়িকতার কথাও বলে।

ধন্যবাদ, পড়ে ভালো লাগলো।
০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৩৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।

আমি এই বিষাক্তদের কথায় পাত্তা দেই না। যদিও মাঝে মাঝে মন খারাপ হইয়ে যায় এই ভেবে যে- আমাদের মাঝে এখন কিছু কুলাঙ্গার রয়ে গেছে।

২. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:২৩
ইরফান আহেমদ বলেছেন: আমি এভাবেই বাংলাদেশকে আপন করেছি স্বর্গদপি গরিয়সী(স্বর্গের চেয়ে শ্রেষ্ঠ) ভেবে; আমি এভাবেই আমার আত্মায় বাংলাদেশকে একাত্ম করে রেখেছি।
এই কথাটা বারবার পড়তে ইচ্ছে করছে।
০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৫০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:২০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৪. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৪৯
কাজ করে খাই বলেছেন: অনেক দিন পর ভালো কিছু পড়ার সুযোগ পেলাম... মনটা ভালো করে দিলেন। ধন্যবাদ।+
০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:২১

লেখক বলেছেন: মনের দুঃখে মনের কথাগুলো লেখলাম। ভাল লেগেছে জেনে খুশী হলাম। শুভেচ্ছা রইলো।

৫. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৫৭
সামছা আকিদা জাহান বলেছেন: আমার কিছু বলার নেই।শুধু ভাল লাগা রেখে গেলাম। ধন্যবাদ।
ভালো থাকুন।
০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:২২

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। শুভকামনা রইলো।

৬. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৫৭
রনি রাজশাহী বলেছেন: অসাধারণ লেখা। ফেভারিটে।
০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:২২

লেখক বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ। ভাল থাকুন।

৭. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:১৫
জাহিদ পারভেজ বলেছেন: আমরা মুসলমান কিন্তু আমির জন্মের পর থেকে দেখেছি আমাদের গ্রাম থেকে এক বয়স্ক হিন্দু ভদ্র লোক আমাদের বাসায় আসতে তার পরিবার পরিজন নিয়ে।ভদ্র লোক আব্বাকে নাম ধরে ডাকতেন আর আমার মাকে বউমা বলতেন।আমাদের কে খুব আদর করতেন আর দাদু বলে ডাকতেন।আমার মনে আছে আমার মা বাবা ওনাকে পিতার মত শ্রদ্ধা করতেন।ছোট বেলায় ব্যাপারটা বুঝতাম না এর কারনটা পরে জেনেছি ভদ্র লোকটি আমার বাবার শিক্ষক ছিলেন এবং ওনার বাসাতেই বলতে গেলে আমার বাবার লেখাপডা আর বেডে ওঠা।
আমার খুব মনে পড়ে ছোট বেলা আমরা পুজোর সময় প্রতি বৎসর গ্রামে যেতাম । কি যে মজার ছিল সে সময় টা তা আর বলার না।
আপনার লেখাটা পড়ে ভাল লাগলো মনে পড়িয়ে দিল সেই সব দিনের কথা।
শহুরে কিছু রাজনিতীকদের সস্তা খেলাই আমরা আজ দ্বিধা বিভক্ত জানি না এর শেষ কোথায়।তবে আশা, তারা এই নোংরা খেলা থেকে বেরিয়ে আসবেন একদিন আর আমরা ফিরে পাব আমাদের পুরানো দিন গুলি।
০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:২৪

লেখক বলেছেন: আমাদের মাঝে সম্প্রীতির বন্ধন অটুট হোক- এই কামনাই করি।

ধন্যবাদ আপনাকে, আপনার পরিবার কাহিনী শেয়ার করেছেন। এরকম কাহিনী বাংলাদসশের সকল পরিবারের। আসলে খুঁজতে গেলে সম্প্রীতির ভিড়ে বিষাক্ত মন-মানসিকতা খুঁজেই পাওয়া যাবে না। কিন্তু আমাদের সামনে বিষাক্ত দিকটাই তুলে ধরা হয়।

৮. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:১৮
উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: আপনার লেখাটা সুন্দর। বাংলাদেশে অসাম্প্রদায়িক পরিবেশের কারন কালচারাল সমতা। ধর্ম আলাদা হলেও অন্যান্য ফ্যাক্টরগুলো এক। চাল চলন, মূল্যবোধ - সবই এক।

অনেক দেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে কালচারাল গ্যাপের কারনে সমস্যা প্রকট হয়।
০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:২৭

লেখক বলেছেন: হ্যাঁ- আমাদের সংস্কৃতি এক। আমাদের চলাফেরা, খাওয়া-দাওয়া, কথা বলা সবই এক। শুধু ধর্ম নামের এক শব্দের জন্য দ্বিধা-বিভক্ত করে যায় আমাদের যখন বিষাক্তরা বিষ ছড়ায়। তা না হলে আমি জোর গলায় বলতে পারি- আজ পশ্চিমারা সভ্যতা আর অসাম্প্রদায়িকতা বলে যে গলাবাজি করে তা আমাদের অশিক্ষিত(পশ্চিমাদের ভাষায়) জনগণ ওদের আগে থেকেই জানে- ওদের আগে থেকেই পালন করে আসছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির রীতি-নীতি।

৯. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:২২
স্পেলবাইন্ডার বলেছেন: আমার নানা বাড়ী এলাকাটি একসময় হিন্দু প্রধান এলাকা ছিল। এখনও অর্ধেকের বেশি বসতি তাদেরই।
আমাদের গ্রামের বাড়ী অঞ্চলে অর্থাৎ বৃহত্তর রংপুর, দিনাজপুরে কে হিন্দু কে মুসলিম এ নিয়ে কোন বিভেদ কখনই চোখে পড়েনি।
০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:২৯

লেখক বলেছেন: আমি আমার এলাকায় বেড়ে উঠেছি- কোন বিভেদ ছাড়াই। আমার কাছে তাই সারা বাংলাদেশ এমনই। আর আপনার কথায় সে বিশ্বাস আরও প্রবল হলো। আমাদের মাঝে বিভেদ নেই। শুধু মাঝে মাঝে দু'একটা বিষফোঁড়া উঠে।

ধন্যবাদ।

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৩০

লেখক বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা রইলো।

১১. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:২৭
বাবুনি সুপ্তি বলেছেন: অনেক ভাল লেগেছে । রেখে দিলাম। কখনো ড্রাফট করবেন না এই লেখা প্লিজ।
০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৪০

লেখক বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ। ড্রাফট করি না সাধারণত আমার কোন লেখাই। ভাল থাকুন।

১২. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৩৩
ফুয়াদ০দিনহীন বলেছেন: """ধর্মের মত ফালতু ""
এই কথা ছাড়া পোষ্ট অত্যন্ত সুন্দর । আমার কথায় রাগ করিয়েন না প্লিজ (এই ব্লগে নাস্তিক-আস্তিক ঝগরা আছে তো তাই)।

আপনাকে একটা না হাজার, হাজার লাল গোলাপ । সাথে অনেক অনেক, অনেক ধন্যবাদ । ভাল থাকবেন ।
০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৪২

লেখক বলেছেন: হ্যাঁ জানি। আমি নিজেও আস্তিক। তবে নাস্তিকদেরও বিশ্বাসকে সম্মান করি। তাই আমি বন্ধনীর মাঝেই লেখে দিয়েছি- "(ধর্ম যখন অন্তরের তখন ধর্ম সব থেকে সুন্দর; ধর্ম যখন শুধু বাহিরের তখন ধর্ম ফালতু ও বর্জনীয়)"।

আপনাকেও অনেক অনেক শুভেচ্ছা। ভাল থাকবেন।

১৩. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৩৮
অ্যানালগ বলেছেন: ধন্যবাদ সজল শর্মা। সহজ কথা সহজে প্রকাশের জন্য।
০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৬

লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।

১৪. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৪২
রাজিয়েল বলেছেন: খুবই টাচি লিখসেন ভাই। প্লাস। প্রিয়তে নিলাম। আসলেই বাংলাদেশের সাধারন মানুষের মধ্যে সাম্প্রদায়ীক সম্প্রীতি অনেক ভাল। রাজনীতিকরা আর কিছু হাতে গোনা অশিক্ষিত মুর্খের মুখে ছাড়া হিন্দু-মুসলমান ঝামেলা আমাদের দেশে নাই। দুর্গাপুজার সময় কত মুসলমান যে পুজা দেখতে যায় আর প্রসাদ খেতে যায়, তা তো সবারই জানা আসে।
০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৫১

লেখক বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ। আমার ভাবনার সাথে একাত্মতার জন্য। একথা সত্যি- আমাদের দেশে হিন্দু-মুসলিম ঝামেলা নেই। চলার পথে তো অনেক ঝগড়াই হয়। সেগুলোকে ধর্মের নামে নাম দেওয়ার কি দরকার।

ভাল থাকুন।

১৫. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:২৪
হাসান শহীদ ফেরদৌস বলেছেন: প্রিয়তে।

জীবনে কিছু বিষাক্ত মানুষের কর্মকান্ড দেখেছি, ধর্মকে অপব্যাবহার করে স্বার্থ আদায়ে। কিন্তু জানি, বাংলাদেশের প্রায় সব সাধারন মানুষ আপনার বর্ননার মতই অসাম্প্রদায়িক।
০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:৩৮

লেখক বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ। ভাল থাকবেন।

১৬. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৩৫
আমি আমার বলেছেন: "এই যে আত্মার সম্পর্ক- এসবে সাম্প্রদায়িকতা নামক ফালতু শব্দের কোন স্থান নেই। আমি আমার চারপাশের পরিবেশকে এভাবে আত্মার সম্পর্কের মাঝেই দেখে এসেছি- আর বাংলাদেশকে এভাবেই আমার আত্মার সাথে মিশিয়েছি।"

সহজ কথা সহজ ভাবে বলার জন্য। হৃদয় ছুয়েগেল।

আমার বেশীরভাগ বন্ধু হিন্দু ,আমি যেপাড়াতে বড় হয়েছি মনেহয় ২টামুসলমান পরিবার ছিল/ লাগোয়া ২টা বাড়ীইহিন্দু ছিল।খুবই মজারছিল।

আমাদের মাঝে বিভেদ নেই। শুধু মাঝে মাঝে দু'একটা বিষফোঁড়া উঠে।ধন্যবাদ

দু'একটা বিষফোঁড়া সব জাতেই আছে/থাকবে।
০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:৪০

লেখক বলেছেন: মানুষের চিন্তা থাকে কিভাবে দু'বেলা দুমুঠো খাবার খাবে। এই মানুষদের মাঝে প্যাঁচাল-ক্যাঁচাল কিছুই থাকে না। আর এভাবেই আমাদের দেশের ৯৯% মানুষ।

ধন্যবাদ আপনাকে।

১৭. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:২৮
ধীবর বলেছেন: শুধু ধন্যবাদ দিলে আপনাকে খাটো করা হবে সজল। তার চেয়ে হৃদয় নিংড়ানো শুভেচ্ছা নিন। যা লিখেছেন, সেই বাংলাদেশকেই তো জানি। কিন্ত গোলাপের বিষাক্ত কিটের মত, কিছু উচ্ছিস্টভোগি আমাদের জন্মভুমির নামে ক্লেদ ছড়ানোর জন্য নানান রকম গাল্গল্পের অবতারণা করে। আপনার এই লেখা সেই কিটদের বিরুদ্ধে কিটনাশক হিসেবে কাজ করবে। + ও প্রিয়তে।
০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:৪৬

লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা আপনাকে। একাত্মতায় এগিয়ে যাবার প্রেরণা পেলাম। আমাদের চিরিপরিচত বাংলাদেশ সকল পঙ্কিলতা কাটিয়ে উঠুক। ভাল থাকুন।

১৮. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:৪২
তাজা কলম বলেছেন: প্রিয়তে লাখলাম, পরে পড়ব।

আমার অন্যরকম এক কবিতায় স্বাগতম:
Click This Link
০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:৩১

লেখক বলেছেন: লিংক এরর দেখাচ্ছে। আপনার ব্লগে আসছি।

ধন্যবাদ আপনাকে।

১৯. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:৪৮
নীলপদ্দ বলেছেন: আমি এভাবেই বাংলাদেশকে আপন করেছি স্বর্গদপি গরিয়সী(স্বর্গের চেয়ে শ্রেষ্ঠ) ভেবে; আমি এভাবেই আমার আত্মায় বাংলাদেশকে একাত্ম করে রেখেছি।

অসাধারন লিখেছেন। পোষ্টটি প্রিয়তে। :)
০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:৩২

লেখক বলেছেন: ভাবনার সাথে একাত্মতার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে। শুভেচ্ছা রইলো।

২০. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:০০
ত্রিশোনকু বলেছেন: অসাধারন।
আমরা সিংহভাগই অসাম্প্রদায়িক।
ভাল থাকুন।
০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:২৭

লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা।

২১. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৫৯
একাকী বালক বলেছেন: বেশ কিছু বছর আগে আমার বাবা সরকারের কাজে একটা টিম নিয়ে ভারতে যায়। কলকাতাতে এক আফিসার বলে যে, সে এক গ্রামে যাবে তার ছোটবেলার শিক্ষকের সাথে দেখা করতে যিনি বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে চলে গিয়েছিলেন। উনি নাকি ওনার গ্রাম থেকে অনেক কষ্টে এই ঠিকানাটা পেয়েছেন। আমার বাবা প্রথমে এত বছর পর একই ঠিকানায় পাওয়া যাবে কিনা, পরে তিনি বেচে আছেন কিনা এবং শেষে সিকিউরিটি কোন কিছুর কথা বলেই তাকে থামাতে না পেরে তার সাথে যায়। বয়স্ক শিক্ষক তার ছাএকে ৩৫ বছর পরও দেখে চিনতে পারেন এবং জড়ায় ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। ধর্ম কোন বাধা হতে পারেনি। ছাএও ৩৫ বছর পর শিক্ষককে জড়ায় ধরেন। তার রাস্ট্রীয় পরিচয়, ধর্ম কোন বাধা হতে পারেনি।


কলকাতাতে গিয়ে আমি ৭১ তে বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যাওয়া এক পরিবারের সাথে থেকেছি। নতুন প্রজন্ম যাদের কিনা কলকাতাতেই জন্ম তাদের সবার মুখেই আমি শুনেছি ওমুক জেলায় তার এক মামা থাকেন। ওমুক জেলায় তার এক পিসি থাকেন, তাদের মাদের থেকে শুনা।

দেশভাগ যতই হোক, আমাদের হিন্দু, মুসলিম, সকল ধর্মেরই সম্প্রীতির কোন ভাগই কোন দিন হবে না। আপনাতে আদাব।
০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:২৮

লেখক বলেছেন: আদাব। এভাবে সম্প্রীতির হাজারো কাহিনী আমাদের চারপাশে আছে। আমাদের রক্তই সম্প্রীতির।

২২. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:০৭
পদ্মাচরের লাঠিয়াল বলেছেন: ভালো লাগলো। প্রিয়তে।
০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:২৯

লেখক বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ।

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:৩০

লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা।

২৪. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৪০
রাজিয়েল বলেছেন: একাকী বালক বলেছেন: বেশ কিছু বছর আগে আমার বাবা সরকারের কাজে একটা টিম নিয়ে ভারতে যায়। কলকাতাতে এক আফিসার বলে যে, সে এক গ্রামে যাবে তার ছোটবেলার শিক্ষকের সাথে দেখা করতে যিনি বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে চলে গিয়েছিলেন। উনি নাকি ওনার গ্রাম থেকে অনেক কষ্টে এই ঠিকানাটা পেয়েছেন। আমার বাবা প্রথমে এত বছর পর একই ঠিকানায় পাওয়া যাবে কিনা, পরে তিনি বেচে আছেন কিনা এবং শেষে সিকিউরিটি কোন কিছুর কথা বলেই তাকে থামাতে না পেরে তার সাথে যায়। বয়স্ক শিক্ষক তার ছাএকে ৩৫ বছর পরও দেখে চিনতে পারেন এবং জড়ায় ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। ধর্ম কোন বাধা হতে পারেনি। ছাএও ৩৫ বছর পর শিক্ষককে জড়ায় ধরেন। তার রাস্ট্রীয় পরিচয়, ধর্ম কোন বাধা হতে পারেনি।


ভাই, কি লেখা দিলেন! মনটাই খারাপ করে দিলেন। আজ ১৪ বছর হলো স্কুলের শিক্ষকদের দেখিনা! অনেকে হয়ত বেচেও নাই। সাহাবুদ্দিন স্যার, নারায়ণ স্যার, গোপাল স্যার, ডলি আপা, কবির স্যার। একবার একটা সিরিয়াস অপরাধ করসিলাম (ঐ বয়স হিসাবে) ক্লাস সিক্সে থাকতে। গোপাল স্যার ছিলেন সিক্সের ক্লাস টিচার। ইচ্ছা করলে টিসি দিতে পারতেন। কিন্তু হেড স্যারের কানে কথাটা উনি নেন নাই। অপারাধের মাত্রাটা বুঝায় মাফ করে দিসিলেন। এখন বুঝি কত ভাল মানুষ ছিলেন উনারা। দেখা হলে বুকে একবার জড়ায় ধরতাম। কিন্তু কোথায় আসেন তারা সে খোজ তো নাই! যেখানেই থাকুক উনারা, আল্লাহ সবাইকে শান্তিতে রাখুন। আর বেচে না থাকলে সবাই জান্নাতবাসী হোন।


যাইহোক, বাংলাদেশের মানুষ সুখে থাকুক আর দুঃখে থাকুক, সাধারন হিন্দু-মুসলমান মানুষের মধ্যে যে ভাই-ভাই সম্পর্কটা আসে সেটা যেন সারাজীবন টিকে থাকে এই কামনা থাকুক সবার মাঝে। আমীন।
০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:৩২

লেখক বলেছেন: আমীন।

খুঁজলে পেয়ে যাবেন হয়তো। স্কুলে গিয়ে খবর নিতে পারেন। স্যাররা তখন খুব খুশী হবেন। শুভকামনা রইলো।

২৫. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:১৯
একাকী বালক বলেছেন: @রাজিয়েল ভাই, অনেক মন খারাপ করা সত্য কাহিনী আছে। ৪৭, ৭১ হিন্দু, মুসলিম সবারই, যারা পায়নি কিছুই, হারিয়েছে সব।
২৬. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:২০
লুৎফুল কাদের বলেছেন: Thank you very much for such a good post. You remind me my school and collage life. Most of my close friends are hindu. We never had any problem with each other. I used to go to their houses, and they used to come to my house. I miss those days.

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:৩৪

লেখক বলেছেন: আমিও আমার বন্ধুদের খুব মিস করি। সবসময় আমাদের মাঝে এরকম যাওয়া-আসা, উঠা-বসা ছিল।

২৭. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:৪৭
দিগন্ত বলেছেন: খুব ভাল লেখা। প্রিয়তে নিলাম।
০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:৩৫

লেখক বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ।

২৮. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:২৪
সেতূ বলেছেন: অসাধারণ লিখেছে।

যদি আমাদের সকলের মন ও চিন্তাধারা আপনার মত হত।

শুধু বিভেদ স্বষ্টি করে দু'একটা বিষফোঁড়ার ও স্বার্থবাদী রাজনীতি বিদরা,
যুগে যুগে নিজ বা দলের স্বার্থের জন্য স্বাধিণতার পর থেকে বাংলাদেশের জনগনের সাথে প্রতারনা করেছে আসছে।

পোষ্টটি প্রিয়তে। +++
০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:৩৬

লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা। এই প্রতারণার ফাঁদ থেকে দেশ ও জাতি একদিন বেরিয়ে যাবে।

০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৪২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।

৩০. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:০৬
জনৈক আরাফাত বলেছেন: এই লেখাটা প্রিয়তে না নিলে অপরাধ হবে!
ধন্যবাদ লেখক! :)
১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:১৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।

৩১. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৫৬
বোহেমিয়ান কথকতা বলেছেন: এই লেখাটা প্রিয়তে না নিলে অপরাধ হবে!
ভাল থাকুন ভাই
১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:১৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।

১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:১৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৩৩. ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৫২
দীপান্বিতা বলেছেন: ভাল লাগলো......'সম্প্রীতির বন্ধন অটুট হোক' -এটাই আসল কথা......পরিবেশে আরো বড় বড় বিপদ ঘনিয়ে আসছে, হানা-হানি ভুলে সবার প্রথমে সুন্দর পৃথিবীটাকে রক্ষার চেষ্টা করতে হবে
১৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:৩৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।

৩৪. ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:২২
তায়েফ আহমাদ বলেছেন: এই লেখাটা আমি এতদিন পরে দেখলাম।
মন ভাল করে দেবার মত অসাধারন একটা লেখা!
ধন্যবাদ।
১৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:৪৫

লেখক বলেছেন: মানবতার পথ ধরে চলা এখন বেশ কঠিন হয়ে গেছে। অন্তত ব্লগের রাজ্যে তাই মনে হয়। মানবতার কথায়ও যেখানে আক্রমণ আসে। এর থেকে ভাল শিক্ষা আমি নিজের বেড়ে উঠা ভূমিতে পেয়েছি। সাধারণ মানুষ শিক্ষিতদের চেয়েও বেশি মানবতাবাদী।

৩৫. ২৭ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৫৭
জন্মভূমি বলেছেন: যদি আমাদের সকলের মন ও চিন্তাধারা আপনার মত হত। শুধু বিভেদ স্বষ্টি করে স্বার্থবাদী রাজনীতি বিদরা, যুগে যুগে নিজ বা দলের স্বার্থের জন্য স্বাধিণতার পর থেকে বাংলাদেশের জনগনের সাথে সাম্প্রদায়িকতা নামে প্রতারনা করেছে আসছে।
সাম্প্রদায়িকতা নামক বিষাক্ত শব্দের স্থান নেই বাংলাদেশে।
হিন্দু, মুসলিম, সকল ধর্মেরই সম্প্রীতির কোন ভাগই কোন দিন হবে না বাংলাদেশে।কারণ আমরা আমাদের শেকড়কে ভালবাসি

আমাদের সম্প্রীতির বন্ধন অটুট থাকুক ....য়তিদন পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশে থাকে ততদিন....
আপনার লেখা ভাল লাগলো আপনাকে ধন্যবাদ ।
১৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:৪৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৩৬. ৩০ শে এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৪৩
আদনান ফারাদী বলেছেন: আমাদেরকে এই বিষফোড়া গুলো থেকে সাবধান থাকতে হবে। এরা আমাদেরকে বিভক্ত করে ফেলতে পারে। কারণ আমাদের মত যারা নতুন প্রজন্ম তারা অনেকেই ছোট বয়সে এইরকম সম্পর্কের মিষ্টতার অভিজ্ঞতা পায়নি। যেমন আমার কথাই বলি কারণ আমি ঢাকায় যে এলাকায় থাকি সেখানে কোনো ভিন্ন ধর্মের লোকের সাথে আমার পরিচয় হয়নি। হয়েছে বটে আমার ইউনি লাইফে এক খ্রিস্টান এবং হিন্দু বন্ধুর সাথে। আমি পারিবারিক ভাবে খুবই মডারেট ধরনের ছেলে এইকারণে আমার মনে কুসংস্কার নেই তাই এরা আমার খুবই ভালো বন্ধু হয়েছিল।এই প্রবাস জীবনে আমি এখনো ওদেরকে মিস করি। কিন্তু নতুন প্রজন্মের অনেকেই এরকম মডারেট নয় বলে ওদেরকে খুব সহজেই বিভ্রান্ত করে ফেলা সম্ভব এবং এরই সুযোগ অসৎ রাজনীতিবিদরা নেয়।

ধন্যবাদ
০৫ ই মে, ২০১০ রাত ১:৫২

লেখক বলেছেন: আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য কৃতার্থ। ভাল থাকুন। শুভেচ্ছা।

৩৭. ১৪ ই আগস্ট, ২০১০ দুপুর ১:৩৪
অভিবাসী বলেছেন: অনেক ভাল লেগেছে । রেখে দিলাম। কখনো ড্রাফট করবেন না এই লেখা প্লিজ।
২৫ শে নভেম্বর, ২০১০ রাত ১১:৩৬

লেখক বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ। না, এই লেখা থাকবে। এই লেখা আমার শেকড়ের কথা, আমার নিজের কথা, আমার নিজ চোখে দেখা কথা, বুঝা কথা।

৩৮. ২৪ শে নভেম্বর, ২০১০ রাত ৮:৪০
সোহায়লা রিদওয়ান বলেছেন: শেকড়ের লেখা, শেকড়কে নিয়ে লেখা গুলো এমনই হয়!
সত্য আর পারস্পরিক মমত্ববোধ যে সব ধরনের রাজনীতির উর্ধ্বে থেকে এদেশের হাজার হাজার মানুষকে শান্তিপ্রিয় করে রেখেছে , সেটাই শিক্ষনীয়!

লিখুন এমন সব মন থেকে আসা সত্যবচন।

ভালো থাকবেন সজল ভাই।
২৫ শে নভেম্বর, ২০১০ রাত ১১:৪০

লেখক বলেছেন: একদিন খুব কাছের একজন আমাকে খারাপ কিছু কথা বলেছিল যে নিজেকে সবকিছুর উর্দ্ধে তুলে ধরত। আমাকে বলল- তোমরা এদেশের খাও আর গুণ গাও ভারতের। সেদিন স্তব্ধ হয়েছিলা, অন্য কেউ হলে হতাম না- কারণ সে নিজের খুব কাছের ছিল। স্তব্ধ হয়েছিলাম এই কারণে, আমি শেকড়েই আছি। ইতিহাস পরিবর্তন হয়েছে তবু আমি মূল আঁকড়ে আছি। আমি কিভাবে অন্য দেশের গুণ গাইবো। যে দেশে আমার ছিল না, যে দেশ আমার হয়নি- তাকে কেন আপন করব আমার নিজের মাটিকে পর করে। তবু সুখের কথা এই যে- এরকম খারাপ কথা বলার লোক খুব কম। আমাদের সবাই শান্তিপ্রিয় আর উদার।

৩৯. ০৮ ই জুন, ২০১১ সকাল ৮:৩৭
নষ্ট কবি বলেছেন: আমি এতদিন পর দেখলাম......... :( :(


আমাদের মাঝে সম্প্রীতির বন্ধন অটুট হোক- এই কামনাই করি। :| :|
০৮ ই জুন, ২০১১ রাত ১১:৩৪

লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা জানাই।

৪০. ২১ শে আগস্ট, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:২৭
অসীম বেস্ট বলেছেন: শৈশবের স্মৃতি মনে পড়ে গেল আপনার লেখা দেখে। খুবই ভাল লাগল। আজো আমার দাদুর চোখে বাংলাদেশের হারানো সেই দিনের সপ্ন দেখি, আমার অস্তিত্ব কে অনুভব করি।

আসলে আমরা (আমার মত যারা পরিস্থিতির শিকার) তারা মনে-প্রাণে না পেরেছি ভারতীয় হতে না পেরেছি বাংলাদেশী হতে। পরিস্থিতির শিকার কেও অস্বীকার করা যায় না, আবার অতীতের স্মৃতিকেও/শেকড় কেও ভোলা যায় না।
সব শেষে নিজের পরিচয় গিয়ে যেখানে দাড়ায়, তা হল আমি একাধিক দেশাত্মবোধ সম্পন্ন একজন মানুষ।
যাইহোক, আপনাদের এই সম্পৃতি খুবই ভাল লাগল। এখানেও আমরা এইভাবেই থাকি। সামনের ঈদে আমি যেমন অনেক মুসলিম বন্ধুর দ্বারা আমন্ত্রিত তেমনি তারাও আমন্ত্রিত হয় পূজায়। মনের এই সম্পৃতিটাই আসলে কাম্য। ধন্যবাদ আপনাকে।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৬১৮ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
ক্ষেত্রঃ তড়িৎ-তাড়িৎ-যান্ত্রিক এবং নবায়ন শক্তি ও সবুজ প্রকৌশল
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ