somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... জলঘাটে পড়ে যায় বেলা
সেদিন হেঁটে হেঁটে যেতে পথ দেখাল এক জলঘাট। জলের মাঝে আকাশ, জলের মাঝে গাছের ছায়া; বসলাম জলঘাটে। ফিরে গেলাম ব-দ্বীপের আবহমান এক দৃশ্যপটে। যেন অতীতের সব সাদাকালো ছবি চোখে ভেসে উঠল।


'চন্দ্রশেখর'-এ পড়েছিলাম জলের সাথে যুবতীর খেলার কথা। বঙ্কিমচন্দ্র শর্ম্মণঃ এত সুন্দর করে শব্দে শব্দে গেঁথেছিলেন সে ছবির পিক্সেল, তাই এখনও ভুলতে পারি না শৈবলিনীর কথা।


জলঘাট! যুবতীর পায়ের ছাপ ছাড়া যেন অপূর্ণ। অবশেষে পেয়ে গেলাম। সেই ঈপ্সিত ছবি।


জলের সাথে খেলা করে সময় বয়ে যায়। যুবতীর কি আর সে'কথা মনে থাকে। অবশেষে যখন ঘরে ফিরে, তখন বেলা পড়ে যায়। আর জলঘাট! যুবতীর পায়ের ধুলিকে শুধু মনে রাখে।

*অনুমতি ছাড়া ছবি না ব্যবহারের অনুরোধ রইল। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29533974 http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29533974 2012-02-02 17:43:55
পথ পরিক্রমাঃ দুটি ইচ্ছা দুটি স্বপ্ন অবশেষে পূর্ণ হল মেহফিল- শরাবীর শায়েরী । শুরুটা ছিল হঠাৎ করেই। ইচ্ছে হল শায়েরীর মত বাংলায় কিছু লেখি। যদিও গজলের প্রতি ভাল লাগা ছিল স্কুল থেকেই। গজলের হাত ধরেই ছিল শায়েরীর প্রতি টান। সেই সূত্রেই শায়েরী নিয়ে এখানে ওখানে কিছু স্টাডি করেছিলাম। ব্লগে তখন মনের খুশীতে কত কিছুই লেখতাম। তেমনি ছিল শায়েরীর শুরু। তারপর সাথের ব্লগারদের ভাললাগার সাড়া পেয়ে এগিয়ে চলা। 'মেহফিল-ই-আশিকি' শিরোনামে হত আমাদের ব্লগীয় জলসা। ছবি আর কমেন্টে ভরে যেত জলসা। আর্কাইভে সেগুলো স্মৃতির মতই পড়ে আছে। এই শিরোনামে প্রায় পঁচিশটি ভার্চ্যুয়াল জলসা হয়েছিল। আর এমনিতে শায়েরী নিয়ে আরও অনেক পোষ্ট এসেছে।

শায়েরী নিয়ে একটি ই-বুক হয়েছিল। ব্লগার জায়দুল ইসলাম অনেক শ্রম দিয়ে খুব সুন্দর করে ডিজাইন করেছিলেন। তার কাছে চিরকৃতজ্ঞ রইলাম। প্রকাশিত হল ই-বুক :: মেহফিল-ই-আশিকি (শায়েরী মালা) : সজল শর্মা

ব্লগার হুমায়রা হারুনের কাছেও চিরকৃতজ্ঞ রইলাম। 'নব আলোকে বাংলা ' ম্যাগাজিনের সতের, ঊনিশ ও বিশ সংখ্যায় শায়েরীকে স্থান দিয়েছিলেন।
১৭
১৯
২০

চলার পথে হোঁচট খেতে হয়। আমিও খেয়েছি। সেদিকে যেতে চাই না, মনে করতে চাই না।

সময়ের সাথে সাথে শায়েরী লেখায়ও পরিবর্তন এসেছে। প্রথম দিকে আরবী ও ফারসী শব্দের অধিক প্রয়োগ ছিল অনেক শায়েরীতে। যদিও সেসব বিদেশী শব্দের অনেককেই বাংলা একাডেমির অভিধানে দেখেছি। তখন সাথে শব্দার্থ দিয়ে দিতাম। কারণ অভিধানে থাকলেও অনেক শব্দই অপ্রচলিত। এখন চেষ্টা করি প্রমিত ছাঁচে লেখার, তবে ভাবের প্রয়োজনে বিদেশী শব্দের আনাগোনা এখনও আছে।


শায়েরী ও রুবাই এর যুগ্ম রূপ নিয়ে অবশেষে আড়াইশত শায়েরীকে 'ব-দ্বীপ রাতের শায়েরী' পুস্তকে গ্রন্থিত করেছি। ইচ্ছে ছিল- স্বপ্ন ছিল, তা সাকার হল। ফেইসবুকে


ভার্চ্যুয়াল জলসার পথ ধরে শুনেছিলাম একটি গান, 'আমি যে জলসাঘরে'। গানের কথাটি ভাল লেগেছিল খুব। সেই সূত্রেই অবশেষে আমার এক বন্ধু আমার জন্য এক জলসাঘর গড়ে দিলেন। জলসাঘর নামে একটি ব্লগ। ফেইসবুকে


স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রনা খুবই ভয়াবহ। জীবনে অনেক স্বপ্নই ভেঙ্গেছে কাঁচার মত। শরীরে ভাঙ্গা কাঁচ ঢুকে যে যন্ত্রনা তেমনই যন্ত্রনা পেতে হয়েছে। সেই যন্ত্রনাগুলো মনে আছে বলেই হয়তো স্বপ্ন পূরণে সুখ পেয়েছি। নৈরাশ্য আসবে চলার পথে, তবুও আশাটুকু করি সবার মত- সবগুলো পথ সরল-সুন্দর হোক।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29529188 http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29529188 2012-01-25 19:44:19
বয়সটা এভাবেই বেড়ে গিয়েছিল
বয়সটা বেড়ে গিয়েছিল, রাখাল যেদিন সবার অগোচরে জামার আড়ালে রোদে শুকাতে দেওয়া কামিনীর কঞ্চুলিকার ঘ্রাণ নিয়েছিল। তারপর ফিরে গিয়ে বাঁশিতে গভীর এক সুর তুলে কি যেন বলেছিল। সুর শেষে সব ভুলে নদী পারের বটের তলে এক লম্বা ঘুম দিয়েছিল। কামিনীর সেদিন হুঁশ ফিরেছিল মায়ের ঝাঁটা খেয়ে, গালি খেয়ে বাপের। পড়শী ঘরের বউরাও ঠারাঠুরি করে কি যেন বলে কলপারে গা ঠেলাঠেলি করেছিল। বয়সটা সেদিন খুব বেড়েছিল!

বৃষ্টি ছিল সেদিন। আকাশ একেবারে কালো করে। গোয়ালের উপোস গাভীর জন্য ঘাস আনতে গিয়ে প্রতিদিনের অভ্যাসের মত সেদিনও উঁকি দিয়েছিলাম স্কুলের অফিস ঘরে। বৃষ্টি দিনে স্কুল ছিল ফাঁকা, শুধু জানালার ধারে বসে বৃষ্টি দেখা কাঁচা হলুদ রঙের আপামণি আর হেডমাস্টারের শরীরে কোন ফাঁক ছিল না। বয়সটা সেদিন যেন এক নিমিষেই দশ কেলাস্‌ পাস দিয়েছিল।

এরপরে একদিন গভীর ঘুমে, স্বপ্নে দেখলাম পরী এসে দাঁড়িয়ে, দরজার কাছে। বয়সটা সেদিন পুরো বেড়েছিল। এভাবেই বেড়ে গিয়েছিল!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29523495 http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29523495 2012-01-16 21:02:59
বদলে যাওয়া সময়
কাল রাতে বসে বসে ভাবছিলাম। আকাশে তখন গোল একটি চাঁদ ছিল। ঠিক আমার মাথার উপরে, একটুখানি দক্ষিণে হেলে। এক বাগান ভরা ফুল ছিল। তাদের গন্ধ ছিল তাদের রূপের মতই। ভাবতে ভাবতে অনেক কিছুই মনে পড়ল। অনেক ইতিহাস! অনেক কাহিনী! অথচ সবই যেন আজ পরীদের কথা হয়ে আছে। এখন, চাঁদকে দেখে নির্জীব পাথরই মনে হয়। ফুলকে দেখে মনে হয় মৃত কাগুজে শরীরে লেখা শেষ কিছু কথা। কারও কোমল হাত, কারও অধর, এগিয়ে এলে মনে হয় কোষ বিভাজনের কথা। অথচ কতবার ইতিহাসের পাতায় লেখা আছে আমার ধূপ হয়ে জ্বলার গল্প। আমি জানি, আর আমার মন জানে। আমি, আর আমার মন; এ যেন দ্বৈতসত্ত্বা। এই দুইয়ের মাঝেই আমি বারবার দ্বিজ হই, কখনও সখনও ত্রিজ।

মনে পড়ে পাঠশালা সময়ের কৈশোরের কথা। অবসরের ফাঁকে প্রার্থনা ঘরে ছিল আমার পদার্পণ। কারও প্রার্থনারত হাত, প্রার্থনারত মুখ, সেদিন সবকিছু ভুলে আমারই নাম নিতে শুরু করেছিল। তার অধর, তার চিবুক, তার কপোল, তার কপাল, তার গ্রীবা- আমারই চিহ্ন এঁকে নিয়েছিল। আর তার বুকে ছিল আমার উপস্থিতির ধুকপুক ঢঙ্কা। চুমকি বসানো তার উত্তরীয়তে যে ঘ্রাণ ছিল, এখনও যেন আমার নাকের গ্রন্থিতে লেগে আছে। যখন মনে পড়ে, এখনও যেন সেই সময়ের কাছে সেই অনুভূতির সকল পসরা ফিরে পাই। নাসিকার নিচে, অধরের উপরে, অনুভূতি আর হৃদযন্ত্রের উন্মাতাল সময়ে জমা ক্ষুদ্রক্ষুদ্র ঘামবিন্দুর কথা চোখের সামনেই এখনও ভাসে।

এক নির্জন দুপুরের কথা এখনও আমার সকল দুপুর হয়ে আছে। যদিও অনেক ধূলি পড়ে আছে, তবুও মনে হলে ধূলো ঝেড়ে মনে হয়- আমার সকল দুপুরই তো এমন। নির্জন দুপুরের সুখকর ক্লান্তি, দূরে পাতার আড়ালে ঘুঘুর মনভুলা ডাক, আর আমি ছিলাম প্রশান্ত সাগর সাঁতরিয়ে ফেরা বিজয়ী নাবিক। যেন সাঁতরিয়ে তীরে ফেরে গামছায় জল মুছা সুখের মত। রোদস্নানে গা-সেঁকা রমনের মত। সেদিন যাবার পথে বোতামে লেগে থাকা একটি দীঘল চুল, আমার বুকে দীঘল দীঘির মত গড়ে নিয়েছিল কিছু যে আজ এত বছর পরে সেই মানুষকে ভুলে থাকা গেলেও তার চুল কখনও সময়ের শ্মশানে শব হয়ে যায়নি।

খসখস করে কি যেন পড়ছে! সেই শব্দে আচমকা বর্তমান সময়ের কাছে ফিরলাম। হ্যাঁ, সেগুনের মরা পাতাটি এদিক ওদিক করে, ডালে ডালে হোঁচট খেয়ে, অবশেষে বুনোপথে পড়ল। তার অপেক্ষা থাকবে হয়তো কোন পথিকের জন্য, পায়ের আঘাত লেগে তার অন্তিম মর্মর গানটি শুনে নেবে কেউ। হয়তো সেই পথিকের বুকে সেই নিনাদ অনেকক্ষণ ধরে কম্পিত হবে। কে জানে! আমি জানি শুধু, আমারও এমন হয়।

-ভাই! একটু আসব?
তাহিরের ডাকে তার দিকে ফিরে তাকালাম। আমার একাকী ধ্যান ভাঙ্গানো নিষেধ, তাই ভয়ে ভয়ে দূরে দাঁড়িয়ে আছে। আর জরুরী কাজ ছাড়া রুদ্রের ক্ষোভে কামদেবের ভস্মীভূত হবার কাহিনী জেনেও সে এই কাজ করত না। তাকে ঈশারায় ডাক দিলাম।
- ভাই, ছোট বাজান গোস্বা করেছেন!

- কেন? তার কি হল আবার।

- এই যে ফোন, কথা বলেন।

আমিও তাই ভেবেছিলাম। ফোনটা হাতে নিলাম। নিতেই ওপাশ থেকে অনুযোগ এল।
- হ্যালো পাপা! তোমার সাথে কোন কথা নেই।

- কেন বাবা? আমি কি অপরাধ করলাম!

- কখন থেকে বসে আছি, বাসায় ফিরছ না। এদিকে আমার গাড়ী দুটোও খেলা করছে না। তাই ভেঙ্গে গুড়ো করে দিয়েছি।

- ও! এই কথা! গাড়ীর উপরে রাগ। ঠিক আছে, আমি এখনই ফিরছি। আর তোমার জন্য অনেকগুলো গাড়ী নিয়ে আসব। ঠিক আছে?

- উঁ ঠিক আছে।

-খুশী তো এবার?

-খুশী!

-পাপার উপর আর কি রাগ আছে?

- নেই। যাও যাও জলদি যাও, গাড়ী নিয়ে এসো।

- যাচ্ছি বাবা!

আরক, আমার ছেলে। আমি ওর জন্মদাতা নই, তবে আমিই ওর বাবা। এই পৃথিবীতে আমি ছাড়া ওর আর কেউ নেই। এই তো কদিন আগে পাঁচ পেরিয়েছে। পাঁচ বছর আগে, একদিন খুব ভোরে তাকে কুড়িয়ে পেয়েছিলাম পথে। আমার বাড়ির অদূরেই। সেই থেকে সে আমার সব হয়ে আছে!
............

ছয় মাস পরে আবার এই পটভূমিতে আমাকে আসতে হবে, ভাবিনি কোনদিন। আজ বিকেলে ফেরার পথে একটি চিঠি দিয়ে গেছে পিয়ন। আজ সন্ধায় পৌঁছেছে আমার কাছে। ব্যস্ত ছিলাম, তাই তোলে রেখেছিলাম রাতে পড়ব বলে। রাতে যখন সময় হল, তখন আমার সবকিছু যে এলোমেলো হবে ভাবিনি। ছোট্ট কিছু কথা, কিন্তু এটম বোমের মত আমাকে হিরোসিমা-নাগাসাকি করে গেছে।

আনৃণ্য,
তোমার নামটি কঠিন ছিল বলে আমি তোমাকে 'আনরি' বলে ডাকতাম। কিন্তু ভাবিনি কখনও যে আমিই তোমার জন্য কঠিন কিছু দিয়ে যাব। আমি তোমার কাছ থেকে বেশি সময় নেব না। অনেক দিন থেকে বুকে চাপা পাথরকে একটু সরাতে চাইছি। তুমি আমাকে মনে রেখেছ কি না জানি না, কারণ মনে রাখার মত কিছু ছিল না। এমনকি তোমার আমার মাঝে যা কিছু ছিল, সব ছিল যার যার পথে থেকে- ক্ষণিকের দেখা ক্ষণিকের মিল, ক্ষণিকের সব ভাগাভাগি, একসাথে। তোমার কাছে আমি নতুন কেউ ছিলাম না, অথবা আমার কাছে তুমি প্রথম হলেও পথটা আমার কাছে নতুন ছিল না।

সেদিন রাতে আড্ডা শেষে একাকী গল্পে মেতে উপসংহারে যা কিছু হয়েছিল তার দায় আমার। আমি জানি, তুমি খুব শক্ত, পান করলেও তোমার মতি লোপ পায় না। আমার পেয়েছিল কি না জানি না, তবে এটুকু জানি, আমি আমার কামনাকে হারাতে পারিনি। হারানোর চেষ্টাও ছিল না। এর পরের কিছু আর লেখছি না, তোমার মনে যদি থেকে থাকে, তাহলে তো সবই জানা আছে তোমার। আর যদি ভুলে থাক, সে না হয় মুছেই যাক। এখন দু'একটি কথা বলি, যা তুমি জান না, কেউ জানে না; শুধু আমি জানি।

তুমি যাকে কুড়িয়ে পেয়েছিলে পথে, তাকে আমিই রেখে এসেছিলাম। আমাদের সে রাতের ফসল ছিল সে। ভুল আমারই ছিল, কিন্তু ভুলকে বয়ে নেবার ক্ষমতা আমার ছিল না। তাই তোমার কাছাকাছি তাকে রেখে এসেছিলাম। জানতাম, তুমি কিছু একটা ব্যবস্থা নেবে। তবে, এতটুকু আশা করিনি যে, তুমি নিজের কাছেই রেখে দেবে। আমি জানি, সে আহুত নয়, তবে তার স্থান তো তোমার কাছেই, এবং সে তা পেয়েছে; এটুকুতেই আমার সারা জীবনের তৃপ্তি। এটুকু বলতে পেরে মনে হচ্ছে, তোমার নামের অর্থটুকু আমার জীবনে সত্য হল, আমি যেন কোন ঋণ থেকে মুক্তি পেলাম।

আমি তোমাদের দুজনেরই অপরাধী, আমি দূরেই থাকব। তোমরা ভাল থেকো।
---আবৃতা

চিঠিটি পড়ে স্তব্ধ হয়ে রইলাম। আরক তখন ঘুমিয়ে পড়েছে। পর্দা সরিয়ে তার দিকে তাকালাম। কেন জানি আমার বুকের ভেতর তখন হু হু করে উঠল। নিজেকে সান্তনা দিলাম, জীবনে এই একটি কাজে অন্তত আমি কোন ভুল করিনি। আমার অংশজ আমার পাশেই আছে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29522355 http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29522355 2012-01-14 19:02:34
ফকিরানা কেরামতির তরিকানা আপডেট ফকিরানা কেরামতি পোস্টে বর্ণিত হাত ঘষে আগুন লাগানোর তরিকার বিষয়ে অনেকেই তাদের জানাশোনা শেয়ার করেছেন। আমি তাদের সেসব কমেন্ট এখানে তোলে দিলাম। যাতে করে অন্যরাও ধারণা রাখেন এসব ব্যাপারে। এবং ফকিরদের ভণ্ডামী ধরতে পারবেন।

কেমিকেল আলী বলেছেন
আসলে কোন কেমিকেলসই হাত বা শরীরের সাথে মেখে সেখান থেকে আগুন ধরানোটা নিরাপদ না, কারণ শরীরের আদ্রর্তা থেকে শরীরেই আগুন লেগে যাবার একটা সম্ভবনা থাকে। টাকায় বা অন্য যে কিছুতে ম্যাজিক বা যাদু হিসাবে আগুন ধরানোতে বিশেষ যে রাসায়নিক পদার্থগুলো ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে সোডিয়াম (৮০ % ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় এর সহজলোভ্যতার কারণে), পটাশিয়াম উল্লেখযোগ্য। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সোডিয়াম/পটাশিয়াম হাইড্রাইড ও ব্যবহার করে অনেকেই (পাউডার হওয়াতে কিছু জাদুতে সুবিধা )। এগুলো নির্ভর করে আপনি কি ও কিভাবে দেখাতে চান। তবে এগুলো কোনটাই হাতের সাথে আগে থেকে মেখে রাখার সুযোগ নাই, এগুলো তার জামা কাপড়ের কোন এক জায়গায় কোন কনটেইনারে লুকানো থাকে যা সে সুবিধা মত সময়ে ব্যবহার করে।

জ.ই মানিক বলেছেন
কথা বললাম, দাদা।
potasium per maganate এবং glycarine এর সমন্বিত বিক্রিয়ায় সংগঠিত হয় এটা।
ম্যাজিক সরঞ্জাম যারা বিক্রি করে, তাদের কাছে এক ধরণের লিকুইডও কিনতে পাওয়া যায়। বোতলের গায়ে বিস্তারিত কেমিক্যাল ইন্সট্রাকশন দেয়া নেই দেখলাম। এটার এক ফোটা দিয়ে পানি, কাগজ… যে কিছুতে আগুন লাগানো সম্ভব। এছাড়া এক ধরণের ফ্লাশ পেপারও আছে দেখলাম। আগুন নিয়ে যে এতো এতো খেলা এবং কারিগরী আছে, দেখে আমি টাশকিত!

বেলের কাঁটা.. বলেছেন
সমপরিমান এলকোহল আর পানিতে টাকা ভিজিয়ে নিয়ে আগুন ধরিয়ে কিছুক্ষন বাতাসে নাড়ালে আগুন নিভে যায়। এলকোহল দ্রুত বাতাসে মিশে যায়,কাজেই টাকাটা পূড়তে পারে না,অন্য দিকে পুড়ার হাত থেকে পানি রক্ষা করে।
তবে এই ক্ষেত্রে আগুনের রঙ হবে নীলাভ।

পাগলা জগাই বলেছেন
দাদা ওটা পটাশিয়াম একটু পানি পেলে জ্বলে উঠে, বিবিসি এর ভিডিও দেখুন


করতোয়া বলেছেন
ফসফরাস সোলুশন। ফসফরাস বাতাসের অক্সিজেনের সংস্পর্শে আসলে আগুন ধরে।


ড্যাফোডিল বলেছেন
হুম। কথা হচ্ছে তার হাতে পটাশিয়াম, সোডিয়াম, শ্বেত ফসফরাস যে কোন একটা খুবই অল্প পরিমান থাকলেই টাকাতে আগুন ধরাতে পারবে! তবে তরল কিছু থাকা আমার মতে একটু কঠিণ হতে পারে! এরকম ধোঁকাবাজদের ফুন্দির অভাব নেই!

মোহাম্মাদ রাকিবুল হাসান বলেছেন
সাদা ফসফরাস..

সায়েম মুন বলেছেন
কি অলৌলিক কাহিনী শুনাইলেন। সাদা ফসফরাসের এই অলৌলিক ক্ষমতা ব্যবহার করে গ্রামের ভীরু লোককে তাজ্জব বানাচ্ছে।

আচার্য বলেছেন
পটাশ আর গ্লিসারিন একত্র করলে আগুন ধরে জানি কিন্তু হাতে কি মাখলে আগুন ধরে এটা জানা নেই।

Shadman Rhaman বলেছেন
I'm a student of pharmacy.......yes this is cause by the chemical K(potasium)which react with water.....

কেমিকেল আলী বলেছেন

অনেকেই একটা মৌলিক ভুল করছে তা হল যেসব রাসায়নিক পদার্থগুলো দাহ্য সেগুলোকে ম্যাজিকের উপকরণ মনে করছে। বিষয়টা আসলে এতটা সহজ নয়। যেমন একজন শ্বেত ফসফরাস, পটাশিয়াম পার ম্যাংগানেট ইত্যাদির কথা বলেছেন। একটু খেয়াল করলেই দেখবেন আপনারই বলেছেন এগুলো বাতাসে রাখলে আগুন ধরে, কাজেই একথা বুঝতে অসুবিধা হবার কথা নয় এগুলো যে হাতে মেখে রাখলে বাতাসে সেখানেও আগুন লাগতে পারে। আর শ্বেতফসফরাস ব্যবহৃত হয় কার্পেট বোম্ব তৈরিতে (আইনত এখন ব্যবহার নিষিদ্ধ), পটাশিয়াম পারম্যাংগানেট বিস্ফোরক জাতীয় পদার্থ। এগুলো না জেনে ব্যবহার কোনভাবেই নিরাপদ নয়। আর যারা একটু বেশি বুঝে তাদের কেরামতির খবর দেখি বিস্ফোরণে মারা যাওয়া সংবাদে।

যুদ্ধদেব বলেছেন

আরে!! এই পোস্ট কালকে মিস করলাম ক্যামনে?

এইখানে আমি যদ্দুর জানি পটাসিয়াম পারম্যাঙ্গানেট আর গ্লিসারিন ব্যবহার করা হয়। শুকনো পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট থাকে এক হাতের আস্তিনে অথবা আঙ্গুলে কোন আংটি বা ছোট্ট পুঁটলির মাঝে। আর গ্লিসারিন থাকে আরেক হাতের আংটি বা কোন ছোট ডিব্বা বা কৌটায়। হাতের কারসাজি তে নোটে পারম্যাঙ্গানেট ঘসে দেয়া হয়। এরপর সেখানে গ্লিসারিন আস্তে করে ছেড়ে দেয়। ফলে নোট টির কিছু অংশ পুড়ে যায়।

শ্বেত ফসফরাস খুবই দাহ্য এবং এটা হাতে রাখলে সেটা হাত পুড়িয়ে ফেলবে। পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট সেই হিসেবে তূলনামূলক নিরাপদ। তবে এটা মোটামুটি সহজলভ্য।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29519956 http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29519956 2012-01-10 17:42:01
ফকিরানা কেরামতি
বেশ আগের ঘটনা।
পাগলের মত এক ফকির এল বাড়িতে। সেদিন সাপ্তাহিক ছুটি ছিল বলে সবাই বাড়িতে ছিল। বিশেষ করে নারীরা। পাগল শুরুতেই বিভিন্ন কেরামতি পীরখানার ছবি দেখাল। সে নিজে কথা বলে না। লেখা কিছু দেখাল। লেখা ছিল- অমঙ্গল হবে, সংসারে আগুন লাগবে, এই জাতীয় নারীকে ভয় দেখানো কথাবার্তা। তাকে দশ টাকা দেওয়া হয়েছিল। সে টাকাটা নিয়ে হাতে ঘষলো। এবং টাকাতে আগুন ধরল। পরে তাকে একশত টাকা দিতে সে চলে গেল।

সে চলে যাবার পর আমাকে এই রূপকথা বলতে আসা হল। আমি ঘরেই ছিলাম, নিজের কক্ষে মগ্ন। বাইরের কিছুর দিকে খেয়াল ছিল না। শুনেই মেজাজ চড়ল। আগেই বললাম, কত টাকা নিয়েছে বলতে। আমাকে কমিয়ে বলা হল ভয়ে। তাদের কথা লোকটি কেরামতি জানে। আমি বললাম, তোমরা যদি এসব বল তাহলে লেখাপড়া করে সভ্য হবার কী দরকার ছিল। লোকটির হাতে কেমিকেল লাগানো ছিল, তাতে ঘষিয়েছে, আগুন ধরেছে। এটুকু বুঝানো গেলেও তাদের কথা, টাকা নিয়েছে, দোয়া করবে। মেজাজ আরও গরম হল। বললাম, তার দোয়া যদি ঈশ্বর নামের কেউ শুনতেন তাহলে সে ভিক্ষা করত না। আর ভিক্ষা করলেও লোক ঠকানো এইসব কাজ করত না। তার দোয়াতে যেখানে সে নিজেই খেতে পায় না, সেখানে আমাদের কি দোয়া দেবে। গরম হয়েই কথা বললাম, জানতে চাইলাম- বাড়ির আর কিছু খোয়া গেছে কি না। তাদের বললাম, লেখাপড়া করে দুনিয়ার খবর জেনেও যদি তারা এই কাজ করে তাহলে সাধারণ মানুষের কি হবে।

ফকিরকে ধরতে বেরিয়েছিলাম। কোন দিকে গেছে বাড়ির কেউ বলল না। তাই নিজেই এদিক ওদিক খুঁজলাম। ততক্ষণে লোকটি অন্য কোন দিকে চলে গেছে। আমাকেও বেশ পরে জানানো হল। মানে, মন্ত্রমুগ্ধ দর্শকরা কেরামতি দেখে রূপকথার রাজ্যে গিয়েছিল, তারপরে তা প্রশমিত হলে সেই রূপকথাকে জাগ্রত করতে আমাকে শ্রোতা করতে চেয়েছিল। জিজ্ঞেস করলাম আশেপাশের অন্যদের, কেউ কিছু বলল না। ঝামেলা বাড়াতে চাইল না আর কি। মাথা গরম হিসেবে আশেপাশের সবাই চিনে, কারনামাও ঘটিয়েছি অনেক। তাই আমার চেহারা দেখে সবাই কেন জানি ফকিরের খুঁজ দিল না।

মেজাজ গরম দুই কারণে ছিল। এক- সে রসায়ন ব্যবহার করেছে কিন্তু বুঝিয়েছে ঐশী কেরামতি। দুই- সে দেশের জাতীয় সম্পদ টাকাকে জ্বালিয়েছে। আমার জানামতে এটা দণ্ডনীয়। দেশাদ্রোহীতার শামিল। যদিও এটুকু মাথায় ছিল- অভাবে স্বভাব নষ্ট হয়েছে লোকটির অথবা লোভে, তাই ছল-চাতুরির পথ বেছে নিয়েছে, আর টোপ দিয়েছে হাজার বছর ধরে চলে আসা সবচেয়ে ফলপ্রসু টোপের। যা হলো- ভীরুতা আর অন্ধ বিশ্বাস।

অবশেষে আমিও ক্ষান্ত দিলাম। কারণ আমাকে অনুনয় বিনয় করে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলল।

আমার জানামতে, পানির মত পাতলা কোন কেমিক্যাল এরা ব্যবহার করে যা আগে থেকেই হাতে লাগানো থাকে। সেই কেমিক্যাল হাতে শুকিয়ে যায়। আর তাতে ঘষলে কাগজ জাতীয় কিছুতে সহজে আগুন ধরে যায়। ঠিক কোন কেমিক্যাল তা স্মৃতিতে আসছে না। কেউ জানলে সাহায্য করুন।

সতর্কতা হিসেবে কিছু কথা না বললেই নয়। আমি ধরতে পারিনি। কিন্তু এই ধরণের ফকিরকে ধরতে গেলে সতর্কতা অবলম্বন করবেন। কারণ তাদের সাথে ঝোলা থাকে। সেটাতে অস্ত্র অথবা অন্য কেমিক্যাল থাকতে পারে। এই যেমন, এসিড বা শক্তিশালী ক্ষার। ছলচাতুরীতে যেহেতু এরা ওস্তাদ সেহেতু একা পেলে আপনার ক্ষতি করে যে পালাবে না তার নিশ্চয়তা নেই। আর ধরা পড়ার আগে, নিজের চরম অবস্থা জেনেও ছোবল মারতে পারে। তাই আগে এদের কাছ থেকে ঝোলা আলগা করতে হবে, শরীর সার্চ করতে হবে। গণধোলাই দেওয়ার চেয়ে এদেরকে পুলিশের হাতে তোলে দেওয়া উচিত, এবং সাথে অবশ্যই জনস্বার্থে মামলা করে দিতে হবে। মামলা না করলে অনেকসময় দেখা যায়, পুলিশ কয়েকদিন জামাই আদরে রেখে এমনিতেই লকআপ থেকে ছেড়ে দিচ্ছে। আর পুলিশও তো আমাদের মত। তাদের কাউকে যদি কেরামতির যাদুতে ফেলে দেয়, তাহলে সে তো পুলিশেরও গুরু হয়ে যাবে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29518923 http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29518923 2012-01-09 00:32:16
হতে পারে সিনেমা অথবা অন্যকিছু ঠাকুর সাব, আপনি ধন-মানের গরিমা দেখলেন, কিন্তু দেখলেন না দুটি মন। আমি আপনার মেয়েকে ভালবাসি। সে আপনার সবকিছু পায়ে ঠেলে ফেলে এসেছে আমার কাছে। ভালবাসা কি অপরাধ? ঠাকুর সাব, যদি হয় তো আপনার দেওয়া মামলার কারাবাস আমি বরণ করে নেব।

উপরের সংলাপটি হতে পারে কোন প্রেমিকের!

মা, তোর যখন জন্ম হয় তোর মায়ের মন একটু খারাপ হয়েছিল। ভেবেছিল, এবার নিশ্চই ছেলে হবে। কিন্তু আমার মন খুশীতে ভরে ছিল। তোর মুখে আমি এক রাজকুমারী দেখেছিলাম। আমি সেদিন স্বপ্ন দেখেছিলাম, আমার মেয়ে বড় হয়ে একজন ছেলের চেয়েও বেশি হবে। তোর কোন ইচ্ছাই অপূর্ণ রাখিনি মা। আজ এই কেমন প্রতিদান দিয়ে গেলি মা? তোর এই ইচ্ছাও অপূর্ণ রাখতাম না মা, যাবি যদি তো যোগ্য খুঁজে নিলি না কেন? আমার মাথা ছুঁয়ে দেওয়া দিব্যির এই কি ছিল প্রতিদান?

উপরের সংলাপটি হতে পারে এক ব্যথিত পিতার!
তিল তিল করে বড় করা তার মেয়েটি হারিয়ে যাবার। অনেক স্বপ্নকে জলাঞ্জলি দেবার।

হ্যাঁ, এমনই ঘটেছিল।
কাহিনীর এক দিকে ছিল অবিভক্ত বাংলার ব্রিটিশ জমানার বিরাট তালুকের অধিকারী এক পরিবার। যাদের চলতে হলে কারও জমিতে পা ফেলতে হত না। যাদের বাড়িতে ব্রিটিশ পুলিশকেও ঢুকতে হত বিনীত অনুমতি নিয়ে, তাও বাহির বাড়িতে। ব্রিটিশ আমলের পাকা বাড়ি ছিল, ঘরে সঞ্চিত সোনার মোহর ছিল। ব্যবসা ছিল, প্রতাপ ছিল। এখনও আছে, তবে বিস্তৃত, বিক্ষিপ্ত, যেন ছড়িয়ে ছিটিয়ে। তাদের কেউ এখানে, কেউ ওখানে। এমনও আছে, এক রক্তের স্রোত বহমান, কিন্তু বংশের একজনকে আরেকজন চিনে না, দেখেনি কোন দিন। শুধু ঠিকানা-নিশানাটুকু জানে।

কাহিনীর অন্যদিকে ছিল দূর নেপাল থেকে পেটের দায়ে ঘুরে বেড়ানো কারও অংশজ। কখনও হয়তো এরা যুদ্ধা ছিল। সীমান্তে বসবাসকারী, একাধারে সীমান্তরক্ষী ছিল। জীবিকার প্রয়োজনে জৈবিক মিশ্রণ ঘটেছে বাংলার কর্মকার অথবা চর্মকারের সাথে। তবুও, নিজের পরিচয় এখনও তাদের বাংলাকে লুকিয়ে রেখে।

আদি-অন্ত বাংলার সম্ভ্রান্ত সেই পরিবারের একটি মেয়ে ছিল। তার জগৎ খুব ছোট ছিল। মা-বাবা ঘিরে। যখন তার কৈশোর ছিল তার কল্পনার আসত এক রাজকুমার। সে তাকে চিনত না। জানত না। তার চেহারা দেখত না। ঠিক তখন পথে দেখা হয় মিশ্র বংশের এক ছেলের সাথে। ছেলেটি এত সুদর্শন ছিল না, সুঠাম ছিল না। তবু মেয়েটি তার কল্পনার সেই রাজকুমারের অবয়বে ছেলেটির মুখ বসিয়ে দেয়। কারণ তার পৃথিবী অনেক ছোট ছিল। মন ভুলানো কথায় ভেবেছিল সেই ছেলেটিতেই তার দিগন্ত। তার পথ সেখানেই শেষ। আর তাই সে একদিন সেই হাতে নিজের হাত সঁপে রাতের আঁধারে বেরিয়ে পড়ে। তাকে ফিরিয়ে আনা হয়। সে বলে- সে ভুল করেছে, তাকে ভুল বুঝিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সে আর যাবে না। সে আর ভুল করবে না। কথা দিয়েছিল বাবার মাথা ছুঁয়ে। কিন্তু সে আবার ভুল করে। যেদিন সে ভুল করে ফিরে এসেছিল, তার ঠিক চার মাস পরেই আবার সে আঁধারেই বের হয় পথে। সে হয়তো ভেবেছিল, তার বদনাম জীবন সেপথেই ঘুমনাম হোক।

কাঁদতে কাঁদতে তার বাবার চোখের জল শুকিয়ে গেছে। তবুও সেখানে উঁকি মারে শিশিরের মত কিছু, এই দেখা যায় এই নেই। মায়ের বুক অনেক পাথর হয়ে গেছে। ঢহরের বুকে পলি পড়ে ভরে যাওয়া স্থানের মত, দূর থেকে শক্ত তবু দাঁড়ালে উতলে উঠে ঠিক জলের মত। যেমনটি তার ভরা যৌবনের জলে ছিল।

ঘটনা যখন এতটুকু থেমে আছে। মেয়েটি তখন সম্পর্কের বন্ধনে অনেক এগিয়ে গেছে। তার জঠরে তখন স্পন্দন। ঠিক এমন সময়ে রক্তের টানে সেখানে আসে মেয়েটির বংশজ ভাই। যার বোন ছিল না বলে কথা ছিল তারাই কন্যাদান করবে। এবং ভাইটি জানত না এতকিছু ঘটে গেছে। শুধু জানত, বোন অনেক আগেই ভুল করে ফিরে এসেছে। যখন সে শুনল, তখন তার জমানো স্নেহ উতলে উঠেছিল বুকের ভেতর। বোন কেমন আছে, দিন আনে দিন খায় পরিবারে কি খাচ্ছে, সেই ভাবনায় নির্ঘুম ছিল। শুনেছিল, বোন অসুস্থ, তাকে রক্ত দিতে হয়েছিল, তার সাথে ভেতরে সে আরেক প্রাণের স্পন্দন নিয়ে আছে। বোনের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েই সে সিদ্ধান্ত নিল দেখতে যাবে বোনকে, তার হাতে কিছু টাকা তোলে দেবে। আর ভাবনায় ছিল, বোন তাকে দেখে খুব খুশী হবে, মনোবল ফিরে পাবে। বোন ভুল করুক আর শুদ্ধ করুক, সেই ভাবনায় না গিয়ে- কেউ দেখুক আর না দেখুক, সে বোনকে দেখবে, সাহায্য করবে। ভাইয়ের নির্ঘুম রাত সেদিন বেশ দীর্ঘই ছিল। যদিও অন্যসব রাত চোখ মুদলেই পার হয়ে যেত।

সকাল হয়েছে অনেক আগে। শ্রমিকেরা কাজে বেরিয়েছে। এমনই এক কাজের স্থানে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে অপরিচিত কেউ। তার চোখে কালো উপনেত্র। হ্যাঁ, তাকে দেখে অপরিচিত মনে হচ্ছে। সে এই এলাকার কেউ নয়। সে কাউকে খুঁজছে। তার সাথে আসা স্থানীয় কেউ কাউকে খুঁজল। একটু পরেই তার সামনে এলো খাটো করে পাহাড়ী ছাপ চেহারার কেউ। অপরিচিত লোকটি হাত বাড়িয়ে দিল। শ্রমিক ছেলেটি হাত মেলালো। তাদের মধ্যে কথা হল। বেশ কিছু সময় ধরে কথা হল। তারপর মুখ ফিরিয়েই দুজন দুদিকে চলতে থাকল। অপরিচিত লোকটি থামল, সেই ছেলেকে ডাকল, আর তার হাতে সামান্য কিছু টাকা ধরিয়ে বিফল মনোরথে ফিরে চলল।

জানা গেল, অপরিচিত লোকটি সেই মেয়েটির ভাই। এসেছিল বোনকে দেখতে। তার আগে বোনের স্বামীর সাথে কথা বলে। কারণ সে চায়নি ভাই-বোনের দেখাদেখি নিয়ে বোনের উপর কোন যন্ত্রনা আসুক। বর ছেলেটি রাজি হয়নি। তার শর্ত, তাকে বর হিসেবে মেনে নিতে হবে আগে। তবেই দেখতে পারা যাবে মেয়েটিকে। অপরিচিত লোকটি অনুরোধ করেছিল, কিন্তু ছেলেটি বলল তার এক কথা- বদলানো যাবে না। অপরিচিত লোকটির হাত টান টান হয়ে এসেছিল। সে হয়তো কারও কাছে এমন করে কিছু চায়নি। নিবৃত হল সে। বোনের উপর রাগ হল তার। তার কারণেই তো একজন আজ এমন করে বলছে। তবু পরক্ষণে অবুঝের ভুল করা ভেবে বোনের জন্য মন আদ্র হল। বোনের স্বামীর হাতে কিছু দিয়ে এল, নিশ্চয়তা নেই- তবু যদি সামান্য কিছুও বোনকে খাওয়ায় তবুও তো বোন কিছু খাবে।

স্বামী হয়ে যেন প্রভু হয়ে যাওয়া ছেলেটি স্বীকৃতি চায়। কারণ, মেয়েটির উত্তরাধিকার! সহজেই মালিকানা প্রাপ্তি। অন্যদিকে, অপত্যস্নেহের তাড়নে তীরবিদ্ধ পিতা সামাজিকতায় হেয় হয়ে নিজের জেদে অনড়। তাই এই কাহিনীর সমাপ্তি দেখা হয়নি। ‘অতঃপর তাহারা সবাই মিলেমিশে সুখে বাস করিতে থাকিল’-এই কথাটিও বলা যায়নি।

তাহারে পরে… এটুকু আগামীর গর্ভে!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29517692 http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29517692 2012-01-07 00:43:29
ফুল যদি হত বনমালী, কে হত রাধা?

আঁখিপল্লবে তার রাত ছিল আর রাত ছিল তার বাঁকা ভুরুতে
উঁকি দেওয়া চকিত চাহনির ছলছল জল ভরা চোখ ছিল।
সে পথে হেঁটে গেলে পথ তারে ধরে রাখে ধূলির মায়ায়
সেখানেও আলতা ছিল আবিরের টানে যেন পায়েও হৃদয়।।
নীল আকাশ ছিল তার উত্তরীয়তে ধীর বায়ু বয়ে যেত সুরে
চপল থমকে ধীর স্থির লয়ে ঘুঙুর কাঁদত তার পায়ে।
সে বনফুল হলে মালী হবে কাননের ফুল ফাঁদ পেতে পাঁপড়ির
কে হত রাধা তবে যদি খালি পড়ে থাকে বিনোদিনীর নীড়।।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29508003 http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29508003 2011-12-22 19:25:49
চিরসবুজ একটি গজল

ও প্রেম তোর পরিণামে বড় কান্না এলো
জানি না কেন তোর নামে আজ বড় কান্না এলো
এই তো প্রতি সাঁঝ এমনই আশায় কেটে যেত
আজ কিছু কথা আছে যে সাঁঝে কান্না এলো
কখনও ভাগ্যের ফের কখনও পৃথিবীর অপবাদ
প্রেমের পথে পাওয়া প্রতি ব্যথাতে কান্না এলো
যখন সময়ের আসরে প্রেম নিয়ে কথা হল
আমার এই অপয়া মন ঘিরে কান্না এলো

মূল মুখড়াঃ Aye Mohabbat Tere Anjaam Pe Rona Aaya
মূল গীতিকাঃ শাকিল বাদায়ুনি
মূল শিল্পীঃ বেগম আখতার
ভাবানুবাদঃ সজল শর্মা


শিল্পীঃ খুশবু খানম্‌]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29505616 http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29505616 2011-12-19 00:57:12
দিন বদলের কেচ্ছা এই তো ক’দিন আগেও সব আপন ছিল, পর হয়ে গেল।
সে চেনা ছিল- অচেনা হল, সে আপন ছিল- পর হল,
হতে হতে সবকিছু দূরে চলে গেল, অথচ সবই কাছের ছিল।
কার বদ-দোয়া ছিল কে জানে, সব বিরান হয়ে গেল।
রোশনি ছিল যত আঁধার হয়ে গেল।

যেতে যেতে পথের মোড়ের বাঁপাশে যে বটগাছটা ছিল,
বেশি ছায়া দেয় বলে নাকি কেটে নিয়ে গেছে নগরের দল।
গাছটাও চিনত আমাকে- আজ সে কোথাকার চুলোয় লুকালো,
অবশেষে তার ছায়া, তার মায়া, তার বিশাল কায়া, ছাই হয়ে গেল।

বুড়ো এক কুকুর ছিল, লেজ নেড়ে আসত- পথে দেখলেই;
শুনলাম- তাকে ধরে নিয়ে মেরে গেছে বিশুদ্ধ সেবকের কল।
তার জন্য কেনা দুটাকা রুটি হাতেই রইল, সে চলে গেল।
আসলেই বড় বদ-নসিব ছিল, সব এলোমেলো হল।
কার শাপে শাপিত হল কে জানে, শহরটাই একেবারে অজানা হল।
সব শেষ হয়ে গেল।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29499792 http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29499792 2011-12-10 00:18:23
গঞ্জিকার নাও

১।
দুইজন বসে গঞ্জিকা সেবন করছে। দম মারো দম, করে করে তাদের পুরাই পিনিক এসে গেছে। অন্ধকার রাত। একজনের সাথে টর্চ লাইট ছিল। আকাশের দিকে একজন তাকাল। তাকিয়ে তারাদের দেখল। তারপরে আকাশের দিকে লাইট মারল। অন্যজন জিজ্ঞেস করল, কি দেখিস? প্রথমজন জবাব দিল, আর বলিস না, উপরের বাত্তিগুলার পাওয়ার এত কম। এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়ির পথ দেখা যাচ্ছে না। বাত্তিগুলাও কেমুন ছোট ছোট। মাঝখানে কি আছে কিছুই দেখা যায় না। আমাদের লাইটেও দেখা যায় না, নতুন ব্যাটারি লাগাতে হবে।

কই, দেখি? অন্যজন লাইটটা হাতে নিল। সেও আবার আকাশের দিকে লাইট মারল। এইবার বিজ্ঞের মত বলল, দেখছিস! আমার হাতে এই যে একটি বাঁশ। রাতে আলো যতদূর যাচ্ছিল, দেখে দণ্ডের মত মনে হচ্ছিল। সেটাকে সে বলল বাঁশ। অন্যজন বলল, এক্কেবারে আইক্কা ছাড়া বাঁশ। বিজ্ঞজন আবার বলল, এই বাঁশ বেয়ে উঠতে পারবি? অন্যজন কনফিডেন্ট নিয়ে জবাব দিল, উঠতে পারব, কিন্তু তোমারে তো ভরসা নাই। মাঝপথে তুমি বাঁশ নামিয়ে ফেলবে।

২।
আকাশে চাঁদ উঠেছে। দুই গঞ্জিকার সেবক অনেকক্ষণ ধরে চাঁদের দিকে তাকিয়ে আছে। তারপর একজন বলল, আহ! সূর্যটা কত্ত সুন্দর। অন্যজনেরও একই অবস্থা, কিন্তু সাথের জন সূর্য বলেছে বলে সে বলল, না না! আমি বলছি এটা চাঁদ।
তখন কেউ কারও কথা মানতেই চায় না। একজন বলে, আমি বলছি এটা সূর্য। অন্যজন বলে, আমার কথার উপরে কথা, আমি বলছি বলছিই- এটা চাঁদ। দুজনে তর্ক শুরু করল। তর্ক থেকে হাতাহাতিও শুরু হল।

প্রথমজন দ্বিতীয়জনের গালে চড় মেরে বলল, এইবার দেখ এইটা সূর্য। গাল হাতিয়ে হাতিয়ে দ্বিতীয়জন খানিক আকাশের দিকে তাকাল। তারপরে কষে প্রথমজনকে চড় মেরে বলল, এইবার তুই দেখ, এইটা চাঁদ। এরপরে প্রথমজন স্বিতীয়জনকে লাথি মারল। বলল, এক লাথেই তোর জ্ঞান ফিরবে, এই দেখ এইটা আমাদের সূর্য। দ্বিতীয়জনও এভাবে লাথি মেরে বলল, এইবার ভাল করে দেখ, এইটা একটা চাঁদ।

তারপর প্রথমজন বলল, এইটা চাঁদ হয় কেমনে? দ্বিতীয়জন জবাব দিল, চেয়ে দেখ, এইটা দেখতে সূর্যের মত, তাই এইটা চাঁদ। আচ্ছা, তুই যে এতক্ষণ এটাকে সূর্য বলছিস, কিসের জোরে এই কথা বলছিস? প্রথমজন দ্বিতীয়জনকে আরেকটা লাথি মারল, বলল, গাধা ভাল করে দেখ, এটা দেখতে চাঁদের মত, তাই তো এইটা একটা সূর্য। এবার, আবার দুজনে হাতাহাতি শুরু করল। কুস্তাকুস্তির এক পর্যায়ে রাস্তার মাঝে গড়াগড়ি দিতে লাগল। গড়িয়ে গড়িয়ে একেবারে রাস্তার নিচে গিয়ে পড়ল। তারপর দুজন উঠে দাঁড়াল।

উঠে দাঁড়াতেই দেখল, একজন লোক আসছে। তারা সিদ্ধান্ত নিল ঐ লোককে জিজ্ঞেস করবে। লোকটি কাছে আসতেই তারা অনুরোধ করল থামতে। এবং জিজ্ঞেস করল, ঐ যে আকাশে দেখা যায়, ঐটা সূর্য না চাঁদ? লোকটি আকাশের দিকে তাকাল, তারপরে খুব করে চোখ ঘষল। আবার তাকাল। চোখ ঘষে ঘষে বলল, এইটা তো তারা!
(লোকটি আসলে তাড়ি খেয়ে মাতাল ছিল)

গঞ্জিকা সেবক দুজনের নতুন ঝগড়া শুরু হল। প্রথমজন বলল, বলেছিলাম না, এটা আমার তার। অন্যজন বলল, না, হতে পারে না, এটা আমার তারা। আবার আগের মত হাতাহাতি, লাতালাথি শুরু হল। আবারও তারা একজন লোককে আসতে দেখল। ঝগড়া থামিয়ে অপেক্ষা করতে লাগল।

নতুন লোকটি কাছে আসতেই তারা জিজ্ঞেস করল, আচ্ছা ভাই, ঐ যে তারা দেখা যায় (চাঁদকে দেখিয়ে)। ঐ তারাটা আমার না ওর? নতুন লোকটি আকাশের দিকে তাকাল, তারপর বলল, আমি এই এলাকায় অনেক বছর পরে এসেছি, বলতে পারছি না কার হবে।
(নতুন লোকটিও মদে টাল হয়ে এসেছিল)

--------------------
*নাও – নৌকা ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29492555 http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29492555 2011-11-29 01:29:46
অ্যা নাইট উইথ কাম্‌লিনেস্‌
আমার নির্জন একটি খামার বাড়ি আছে। আমার বললে কিছুটা ভুল হবে। আমার মায়ের ছিল। আমার মা জোলিন এক কৃষকের মেয়ে ছিলেন, তার বাবার কাছ থেকেই পেয়েছিলেন ঐ বাড়ি। যতদিন বেঁচেছিলেন চাষবাস করতেন। বাবার কথা খুব একটা মনে পড়ে না। ছোটবেলার হাতেগুনা কিছু কথা মাঝে মাঝে মনে আসে। আমার বাবা জ্যাকি চাষবাসের কাজে মজুরি কাটতেন। মায়ের খামারে এসেছিলেন। দেখতে সুপুরুষ ছিলেন, মাও সুন্দরী ছিলেন, তাদের প্রেম হয়ে গেল। এক রবিবারে বিয়েটাও হয়ে গেল তাদের। তার পরের বছরই আমি এলাম। মা বাবার সংসার সাত বছরের মত টিকে ছিল। বাবার সবকিছুই ভাল ছিল, শুধু একটি দোষ ছিল, হঠাৎ করে কোন কিছুতে বিরাগ চলে আসত। এভাবেই একদিন সংসারের প্রতি বিরাগ আসল। কাউকে কিছু না বলেই বাড়ি থেকে চলে গেলেন যাযাবরের মত। আর ফিরে আসেননি। মা বাবাকে খুব ভালবাসতেন, আর কোন বিয়ে বা সম্পর্কের দিকে যাননি। তারও হয়তো বিরাগ এসেছিল এসবের প্রতি। আমি আর আমার মা, চাষবাস করেই আমাদের চলে যেত।

তখন আমার বয়স পনের, যখন একটি চিঠি এসেছিল বাবার খবর নিয়ে। বাবার পক্যাটে মা আর আমার ছবি ছিল, ঠিকানা ছিল। গ্যাং ফাইটের মধ্যে পড়ে মারা যান তিনি। চিঠি পড়ে সারা দিন সারা রাত মা স্তব্ধ হয়েছিলেন। আমার যতটুকু মনে আছে মা কাঁদেননি। কোন যোগাযোগও করেননি। বেঁচে থাকতে যে দেখে যায়নি, যাবার সময় বলে যায়নি, মৃত্যুর পরে তাকে দেখে আর কি হবে। মায়ের এই তীব্র অভিমান ভাঙেনি এরপরে আর কখনও। পরের রবিবারে চার্চে একটি মোমবাতি জ্বালিয়েছিলেন, ফাদার জানতেন, এসে বিড়বিড় করে কিছু প্রার্থনা করে গেলেন। সেদিন মা একা একা সারাটি বিকেল চার্চে বসেছিলেন।

তারপর মাত্র পাঁচটি বছর গেল। মাও চলে গেলেন। আমার বয়স তখন কুড়ি। তারপর থেকে দশটি বছর আমার একা একাই চলছে। চাষবাসের কাজ ছেড়ে দিয়েছি। খামারের পাশেই কিছু ফ্যাক্টরি হয়েছে, পেটে টান পড়লে কাজ করি। এভাবেই চলছে আমার।

এই যে কিছুদিন এক নাগাড়ে কাজ করছি। তাও ঠিক এমনই এমনই নয়। তবে মনটা কি করে কাজে বসল তা নিজের কাছেও কৌতূহল জাগায়।

মাস খানেক আগের কথা। দিনটি বুধবার ছিল। হাওয়া পরিবর্তনে বেরিয়েছিলাম আমার প্রিয় গাড়িটি নিয়ে। গাড়িটি আমার নানার ছিল। গাড়ির বয়স হয়েছে অনেক, কিন্তু এখনও ভাল রয়ে গেছে। নানা খুব যত্ন করতেন। আমি ছন্নছাড়া হলেও গাড়িটিকে যত্ন করে রাখি। নিজের উপর কাবু রাখতে পারি বলে পান করেও গাড়ি চালাতে সমস্যা হয় না। সেদিনও ফিরছিলাম এভাবেই ওল্ড টাউন থেকে। তবে হালকা পানীয় নিচ্ছিলাম। এক ডজন বীয়ারের মাঝে তখন আস্তো ছিল মাত্র দুটি, আর আমার হাতে ছিল অর্ধেক শেষ হওয়া এক ক্যান। রাত বেশ হয়ে গিয়েছিল। ঘড়ির কাটাতে বারটা হবে। যদিও এটা বড় শহরের জন্য মাত্র জৌলুসে পূর্ণ হবার সময়, মাত্র রাতের শিশুকাল। কিন্তু ছোট শহরতলিতে অনেক রাত। ওল্ড টাউনের শেষ প্রান্তে ছিল ইয়ুথ বার। বাইরে সুনসান হলেও ভেতরে নাচ-গান চলে সারারাত। কিন্তু সেদিন বারের সামনে কিছু একটা ঘটছিল। আমি সামনের দিকে তাকিয়ে আছি, ডান পাশে অস্পষ্ট নড়াচড়া চোখে লাগতেই তাকালাম সেদিকে। হ্যাঁ, একটি মেয়েকে দুই ছেলে ধরে টানছে। পাশে আরও দুজন দাঁড়িয়ে। আর পাশেই আরেকটি গাড়ীর দরজা খোলা। মেয়েটি পান করেছে, বেশিই হবে, তার ভাবভঙ্গি দেখে মনে হলো খুব করে টলছে সে। তবুও দুজন ছেলের সাথে ধস্তাধস্তির মত করছে।

আমি গাড়ি দাঁড় করালাম তাদের প্রায় কাছাকাছি। গাড়ী থেকে নামতেই শুনতে পেলাম মেয়েটি গালি দিচ্ছে ছেলেদের। “এই জারজের বাচ্চারা, আমি যাব না তোদের সাথে, কাল স্কুলে গিয়ে দেখবি তোদের সবাইকে বাঁশ দেব”। মেয়েটি জড়িয়ে জড়িয়ে বলছিল সব। মনে হলো, ছেলেগুলো তার স্কুলের সহপাঠী। হয়তো মাতাল মেয়েটিকে নিয়ে গ্যাংব্যাং-এর পরিকল্পনা এঁটেছে ওরা। এরমাঝে ছেলেদুটো ছেড়ে দিল, একজন বেশ রেগেই বলল, “মেগান, অতিরিক্ত হয়ে যাচ্ছে, তুমি বলেছিলে আজ রাত আমাদের সাথে কাটাবে, এখন কথা বাড়াচ্ছ কেন? খচ্ছড় মেয়ে কোথাকার!” বলেই ছেলেটি কষে ছড় মারলো। মেয়েটির নাম তাহলে মেগান। তার গোলাপী গাল লাল হয়ে গেল। ছড়ের আঘাত সামলে উঠতে যেন খানিকটা সময় লাগল। একে তো পান করে বেসামাল হয়ে আছে। ছেলে দুটো আবার টানতে যাবে, অমনি আমি গিয়ে নাক গলালাম। বললাম, “বাছারা, এখানে হচ্ছেটা কি? ওকে জোর করছ কেন?” সবাই আমার দিকে তাকাল। বেশ বিরক্ত হল বলতে হবে। উঁচালম্বা একজন কটমট করে আমার দিকে তাকাল। বললো, “এই যে ভাম- এখানে নাক গলাতে এসো না, না হলে নাকটা ভূতো করে দেব”। সত্যি সত্যি আমার দিকে তেড়ে এল। আমার গাড়ীর দরজা খোলাই ছিল। সেখানে মাঝারি আকারের রড ছিল। টান মেরে বের করেই ধিড়িম লাগালাম। একটাতেই ‘আউ’ করে ছেলেটি বসে পড়ল। আমার মারমুখো চেহারা দেখে বাকিগুলো ঘাবড়ে গেল। মেয়েটিকে ছেড়েই আহতটিকে টেনে ধরে গাড়ী রেখেই পালালো।

মেগান জড়ানো গলায় বললো, “অনেক শুকরিয়া, বড় জ্বালাচ্ছিল হতচ্ছাড়া জারজগুলো”। আমি নির্লিপ্ত গলায় বললাম, “বেছে বেছে বন্ধু নিলেই পার, আর ভাল করে চিন্তাভাবনা করে কাজ করলেই পার, আজ রাতে তোমার কপাল বেশ খারাপই হত”। মেগান কিছু বলল না। জিজ্ঞেস করলাম, কোথায় যাবে। জড়িয়ে জড়িয়ে বাসার ঠিকানা বলল। আমাকে বলল, “আমাকে একটু পৌঁছে দাও না”। মেগানকে গাড়িতে তুললাম। মাইল পাঁচেক পরেই ওর আবাসিক এলাকা।

গাড়ী চালাচ্ছি। জড়ানো গলায় আবোল-তাবোল বকছিল মেগান। মাঝে মাঝে গানও গাচ্ছিল। বারে হয়তো গানের তালে বেসামাল নেচেছিল। এই প্রথম ভাল করে তার দিকে তাকালাম। সোনালী চুল, কাঁধের আরেকটু নিচে কাঁটা। মুখে যেন গোলাপ ফুটে আছে। হতে পারে বের হবার আগে প্রসাধনী লাগিয়েছিল। কিন্তু তার মুখের গঠন চোখ জুড়িয়ে নেবার মত। অজান্তে বুকের মাঝে ঘোর লাগাবার মত। একটু পরেই তাকে নামিয়ে দেব। আমার পথে আমি চলে যাব। তাই এসব খেয়াল ঝেড়ে ফেলতে চাইলাম। আবার তাকালাম তার দিকে। মেগান তখন ঘুমিয়ে পড়েছে। মাঝে মাঝে তখনও বিড়বিড় করে চলেছে ঘুমের ঘোরেই।

মেগানের বাসায় পৌঁছে গেলাম। গাড়ি থামিয়ে তাকে বললাম আমরা এসে গেছি। কোন নড়চড় নেই। হাতে আলতো ধাক্কা দিয়ে বললাম। বললো, “আমাকে ধরে নামাও”। তাকে ধরে নামালাম। নামাতেই বললো, “আমাকে ঘরে নিয়ে যাও, ব্যাগে চাবি আছে”। কি আর করা, এই মাতাল মেয়ের দাস হওয়া ছাড়া এখন উপায় আর নেই। তাড়াতাড়ি এই আপদকে সরাতে পারলেই হয়।

মেগানকে নিয়ে ঘরে ঢুকলাম। বাসায় আর কেউ নেই। সম্ভবত সে একা থাকে। অথবা তার পরিবার বাইরে গেছে। জড়ানো গলায় আমাকে নির্দেশনা দিয়ে গেল। আমি তাকে তার শোবার ঘরে নিয়ে গেলাম। তাকে শুইয়ে দিলাম। ফিরে চলে যাব, এমন সময় হাতে টান পড়ল। মাধকতা মেশানো গলায় বলল, “তুমি খুউব ভাল, থাক আমার সাথে”। কিন্তু হাত ছাড়ল না। আমারও কি হল জানি না। আমি দাঁড়িয়ে রইলাম। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলাম। তার দিকে তাকিয়ে রইলাম। হয়তো হালকা পানীয় ধীরে ধীরে মাথায় হালকা কোন কাজ করছিল তখন। আমিও আড়ষ্ট হয়ে গেলাম। ঘোরের মধ্যে চলে গেলাম। আমারও শরীর যেন জড়িয়ে এল। মেগানের বিছানার প্রান্তে একটু জায়গা করে নিলাম গা বাঁচিয়ে। কাত হয়ে শুয়ে পড়লাম।

কিছুক্ষণ যেতে না যেতেই ঘুমের ঘোরেই মেগান লেপ্টে গেল আমার পিঠের সাথে। একটা হাত এসে আমাকে ধরল। মাঝ রাতের হালকা ঠাণ্ডার আমেজে যেন আমার কাছ থেকে উষ্ণতা নিতে চাইছে। সে একেবারে অজ্ঞান না একটু একটু সজ্ঞানে আছে, জানি না। তার উষ্ণতা ভোগের আকাঙ্ক্ষা যেন বাড়ল। সে চঞ্চল হল। আবদার করল। অবশেষে আমিও বাঁধ না ভেঙ্গে পারলাম না।

সকালে বেশ বেলা করেই ঘুম ভাঙল। মেগান তখনও ঘুমাচ্ছে। মেঝেতে পড়ে থাকা কাপড় তুলে পরে নিলাম। মেগান তন্দ্রালু গলায় বলল, “চলে যাচ্ছ? তুমি খুব ভাল! আমি অনেক সুখী! আবার কোথায় দেখা হবে?” আমি কিছু না ভেবেই বলে ফেললাম, “আজ বিকেলে, ইউথ বারে”।

সেদিন বাড়ি ফিরেও ভাললাগার তীব্র ঘোরে ছিলাম। ওল্ড টাউন যেতে এক ঘন্টার মত লাগে। বারবার ঘড়ি দেখছিলাম। স্নান সেরে খেয়ে নিলাম। একটু গা এলিয়েছিলাম বিছানায়, যদি ঘুমিয়ে পড়ি, এই ভয়ে উঠে পড়লাম। পায়চারি করছিলাম। অবশেষে দুই ঘন্টা আগেই বের হলাম। জানতাম, তখনও সে আসেনি। তবুও খুব দ্রুত গাড়ি নিচ্ছিলাম। আমি তখনও জানি না, আমার জন্য সেখানে ভাল-মন্দ কোন বিস্ময় অপেক্ষা করছে।

গাড়ী রেখে বের হতেই দেখলাম, বারের বাইরে মেগান বসে আছে। সে চমকে আমার দিকে তাকাল। উঠে দাঁড়াল। আমিও দূরে থামলাম। দুজন দুজনের দিকে তাকালাম। তারপর এগিয়ে আসলাম পরস্পরের দিকে! যেন আমরা আগেই জেনে নিয়েছি, আমরা একে অপরকেই চাই।

আমি বিশ্বাস করি, এই এগিয়ে চলা আরও অনেক অনেক পথ মাড়াবে। পরস্পরের দিকে এখনও পথ হাঁটছি আমরা। যেন কাছে যেতে যেতে কাছাকাছি হবার কোন শেষ নেই!

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29491847 http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29491847 2011-11-28 00:58:31
জরুরী রক্ত প্রয়োজন এক সদ্য মা হওয়া নারীকে বাঁচাতে " একজন মাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন " একজন প্রসূতি মায়ের জন্য এ নেগেটিভ A (-ve) রক্ত দরকার। সন্তান জন্ম দিয়ে তিনি এখন মৃত্যুর সঙ্গে পান্জা লড়ছেন। সন্তানকে তিনি বাঁচিয়েছেন আমরাকি পারি না তাকে বাঁচাতে ? যোগাযোগঃ -01680 168 262 শেয়ার করুন সবার সাথে যাতে করে কেউই না কেউ এগিয়ে আসে মানবতার ডাকে! *ফরিদপুরের ব্লগাররা কেউ থাকলে যোগাযোগ করুন। কারণ রক্তের দর্কার ফরিদপুরে।

------------------------------------
ফেসবুক থেকে কপি করা। খুব খারাপ লাগছে এই মায়ের জন্য। কারও রক্তের গ্রুপের সাথে মিললে কৃপা করে এগিয়ে আসুন।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29491056 http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29491056 2011-11-26 19:29:23
শ্রেয়ান শ্রেয়সী
*****
মোহিনীর মত তার রূপ দেখেছিলাম চিরবসন্তের কুঞ্জে
ফুলে ফুলে দলে দলে মধুকরের গুঞ্জন ছিল।
যেন তারাও প্রেমাষ্পদের খুঁজে ঠিক আমারই মত
বহুতে নয় আমি একেতে লীন হতে চাইলাম তার হৃদয়ে।।

গিরিখাত হতে প্রবাহিত নির্ঝরে স্নাত বস্ত্রসিক্তাকে দেখলাম
কামদেব আসলেন যদিও মদনের কাছে পরাস্থ ছিলাম আগে।
আমি পেলাম তাকে পেলাম সে শুধু আমার শুধু আমার
প্রেমাহত এমন প্রলাপ কোলাহল তুলল অন্তরে।।

দেবী আমাকে দেখল আমি দেবীকে দেখলাম
অতঃপর আমাদের নয়ন নয়নে পতিত হল।
দেবীর চোখের পাতায় কাজলের রেখা টানা ছিল
আমি সেই কাজলে প্রেমের কথা লেখে রাখলাম।।

সুচিস্মিতা দেবী আমার পানে স্মিত হাসিতে তাকাল
আমি হরিণের মত দাঁড়িয়ে রইলাম যেন সে শিকারি।
স্মিত হাসি তার মিলিয়ে গেল চকিতে যেন গভীর কাব্য সে
মনে হল তারও যৌবন মন্দিরে রতি দেবীর পূজার্ঘ চলছে।।

নিরবতা ভেঙ্গে সে বলল কে তুমি কুমার কেন এসেছ?
আমি তখনও ঘোরের মাঝে কল্পনায় সমাধিগ্রস্থ ছিলাম।
সে আবার বলল কিছু তো বল কোথা থেকে এসেছ সুপুরুষ?
কানে সুললিত কন্ঠ ঝংকার দিল আর আমি জাগলাম।।

বিপ্র তনয় আমি অদূর লোকালয়ে আমার আশ্রম কুঠির
শ্রেয়ান নাম আমার এসেছিলাম নির্ঝরের কাব্য রচনায়।
নিরালায় তোমাকে দেখলাম নির্ঝরের মত যৌবন স্রোতে
কাব্য ভুলে মনের কাছে হারলাম নিজেকে শিকার ভেবে।।

সুমধুর সরব হাসি গিরিগাত্রে প্রতিধ্বনিত হল সুরের মত
সুরের সুধা পান করলাম আমি সুরের নদীতে ভাসলাম।
কৃপা করে তোমার পরিচয় দাও লক্ষ্মীশ্রী দেবী
আমি এটুকু বলেই নিরব হলাম বশীভূত কপোতের মত।।

আমি জানতাম একদিন এমনই হবে ঋষি বলেছিলেন
আমিও অপেক্ষায় ছিলাম তোমার পুরুষ সেদিন থেকে।
আজ এসেছ তো সব বলব তোমায় কত কথা জমে আছে
তার চোখে প্রেম বিগলিত আদ্রতা দেখলাম।।

ব্যধ তনয়া শ্রেয়সী আমার নাম এই পাহাড়েই থাকি
নিকটেই পিত্রালয় মাতৃহীনা শৈশব থেকে।
ভবিষ্যদ্বানি ছিল পাণিপ্রার্থী হয়ে কাব্যের পুরুষ আসবে
সেই থেকে পরিণয়ের প্রতিক্ষায় প্রহর গুণছি তরুণ।।

আমি পরম সুখে উত্তাল হলাম বিধির এমন খেলা দেখে
আমি বললাম আমি তোমার পাণিপ্রার্থী দেবী সম্মতি দাও।
সংসারে গৃহত্যাগীর মত আছি অনেক কাল ধরে
আমাকে স্থির কর তোমার তনুমনের দাস কর।।

শ্রেয়সী মৌন ছিল আর তার চোখে সম্মতি ছিল দ্বিপ্রহর সাক্ষী
গিরি কাননে শিলাখণ্ডে বসলাম আমরা আর গল্প সিন্ধু হল।
গল্পকথার সকল প্রণয় অবগাহন শেষে আমাদের পরিণয় হল
আমাদের গান্ধর্ব পরিণয়ে গোধূলি দিল আবির আকাশ।।

রাত যখন হলো আকাশে তিথির চাঁদ উঠল তবে ক্ষণিকের
তবুও আমাদের পরিণয়ে অত্যানন্দের হিল্লোল তুলে গেল।
আমরা উঠলাম এবং অবগাহন শেষে পথ ধরলাম ব্যধ গৃহের
সেখানে হয়তো শ্রেয়সীর পিতা প্রতীক্ষায় তনয়ার।।

আমরা হাঁটলাম পাশাপাশি আর তার হাত ছিল আমার হাতে
বুকের যেপাশে হৃদয় আছে সেই পাশেই চলছিল শ্রেয়সী।
আমরা চলছিলাম আর মনে হচ্ছিল সবকিছু আশিস দিচ্ছে
পবন শুভগীত গাইছে যেন জোনাকি পথদীপ জ্বেলেছে।।

গিরিপথে আমাদের যুগল রূপ জানিয়েছিল কেউ পল্লীতে
সমস্ত ব্যধপল্লী আমাদের অভ্যর্থনায় ঢালি হাতে উন্মুখ ছিল।
ফুলের বৃষ্টি হল দীপের আরতি হল প্রকম্পিত হল মঙ্গলধ্বনি
বাদ্য নৃত্য গীতে জমে উঠল নিরব পল্লী পরম উৎসবে।।

মধ্যমণি ছিলাম আমরা আমাদের ঘিরেই এত আয়োজন
রাত বাড়ল একটু একটু করে আনন্দ মুখর হল প্রহরে প্রহরে।
কাল প্রাতেই শ্রেয়সী বিদায় নেবে শ্রেয়ানের সাথে
আমার পিতৃমাতৃহীন কুঠির সেই প্রতীক্ষাতেই যেন।।

————————

সরল সার-সংক্ষেপঃ পাহাড়ের ঝরণা দেখে কবিতা লেখতে গিয়ে এক পণ্ডিতের(বিপ্র) ছেলে ঝরণায় স্নানরত এক যুবতীকে দেখে। যুবকের নাম শ্রেয়ান, পাশের লোকালয়ে তার কুঠির। তার মা বাবা নেই। যুবতী শিকারির (ব্যধ) মেয়ে, তার নাম শ্রেয়সী, তার বাবা আছেন কিন্তু মা নেই। শ্রেয়সীকে দেখে শ্রেয়ান প্রেমে পড়ে গেল, তার মনে কামনা জাগল শ্রেয়সীর রূপ দেখে। শ্রেয়সীও শ্রেয়ানকে দেখল, কিন্তু আশ্চর্য হল না, কারণ সে জানত এমন কেউ আসবে। শ্রেয়সীকে এক ঋষি বলেছিলেন তার ভবিষ্যত। শ্রেয়ান শ্রেয়সী একে অপরের সাথে কথা বলল। তারা পরিণয়ে সম্মত হল। নারী পুরুষের পরস্পর সম্মতিতে মিলিত হয়ে যে পরিণয় তাকে গান্ধর্ব বিয়ে বলে। তারা গান্ধর্ব বিয়ে করল। পরিণয় শেষে তারা শিকারিপল্লীতে গেল। কেউ পথে তাদের দেখে পল্লিতে জানিয়ে দিয়েছিল। সবাই তাদের অভ্যর্থনায় দাঁড়িয়ে ছিল। শ্রেয়সীর বিয়েতে আনন্দ ভরে গেল পল্লীতে। পরদিন সকালেই শ্রেয়ান শ্রেয়সীকে নিয়ে যাবে তার বাড়িতে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29489670 http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29489670 2011-11-24 16:56:25
হে জলস্থ মহাগরু

হে মেহের্তুত্‌, হে স্বর্গের মহোদয়া। তুমি এক মহাপ্লাবন। তুমি জলের মধ্যে এক বিরাটকায় গরুর মত। অতএব হে জলস্থ মহাগরু, আমাদের কৃপা কর। হে নৃগো আমাদের জীবনকে বহমান কর, আমাদের স্থবির করে রেখো না। আমাদের জ্ঞান দাও, আমাদের ধন দাও, আমাদের প্রতাপ-প্রতিপত্তি দাও, আমাদের তেজস্বী করো, আমাদের যশোস্বী কর, হে মহাপ্লাবন আমরা তোমাকে প্রণাম জানাই। হে মেহুর্ত্, আমরা তোমাকে করজোড়ে নিযুদ প্রণাম জানাই।

হে নারীদেহী দেবী, হে গোমোস্তকা দেবী, তুমি প্রবাহিত হচ্ছ আকাশ ও পাতালে। তোমার প্রবাহেই ছায়াপথ এত সুন্দর হয়ে আছে। তুমি প্রবাহিত হচ্ছ এই সুন্দর পৃথিবীর মধ্য দিয়ে। আরও প্রবাহিত হও, শস্যে শ্যামল করে তোল পৃথিবী। হে মহাগরু, আমরা তোমার স্তব করি।

হে আলোকপ্রসবিনী, হে দিবামাতৃকা, তুমিই প্রসব করো সূর্যকে, আর সূর্য প্রতিদিন আমাদের আলো দিয়ে যায়। তুমিই দিয়েছ সূর্যকে যে আমাদের তাপ দিয়ে যায়। তুমিই তো তোমার মুকুট শৃঙে ধারণ করেছ সূর্যের থালাকে। তোমার কৃপাতেই সূর্য প্রতিদিন সন্ধ্যায় ঘুমাতে যায়, আর আমরাও শান্তির আঁধারে ঘুমাতে পারি, অন্ধকারে আমাদের কামনা-বাসনা পূর্ণ করতে পারি। হে দেবী, আমাদের শরীরে কামনার মত প্রবাহিত হও, আমাদের শরীরে মদিরার মত প্রবাহিত হও। আমাদের দীর্ঘায়ুষ্মান হবার আশিস দাও, আমাদের বীর্যবান হবার আশিস দাও, আমাদের ধ্যান-জ্ঞান-ধন-বিদ্যা-বুদ্ধি দাও। হে জলস্থ মহাগরু, হে মহাপ্লাবন, হে মহান নৃগো, তোমাকে প্রণাম করি। তোমায় কোটি কোটি প্রণাম করি।

-----------------------------------
*মেহেত-ওয়েরেত (Mehet-Weret) একজন প্রাচীন মিশরীয় দেবী। তাকে সম্মান করে 'জলস্থ মহাগরু' বিশেষণে ডাকা হত। এমন বিশেষণে প্রভাবিত হয়ে দেবীর সম্মানে বঙ্গভাষায় স্তব রচনা করলাম।
দেবীদের রাজত্বঃ মিশরের দেবীরা-১ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29488249 http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29488249 2011-11-22 16:01:07
রাখালিয়া
সকালের সূর্য হেঁটে গেলে কিছুদূর পথ- ঠিক পুবের সুপারী পাতার আড়ালে উঁকি দিত; রোদ হেঁটে আসত দেউড়িতে। নারিকেলের হুক্কায় তামাক সাজিয়ে শুরু হত আমার চারণ-বেলা। ওরা হেঁটে যেত আগে আগে, নেচে যেত বাছুরের দল। আমিও হেঁটে যেতাম ছায়া পেছনে ফেলে। রোদ তখনও আমার দেউড়িতে!

ভাদ্রের ভারী বাদলে গলে যাওয়া মাটি আমাদের পায়ের ছবি আঁকত। আবার, বৃষ্টি এসে মুছে দিয়ে যেত। এখানেই হেমন্তে দিন ডুবে গেলে, গোধূলীর বেলা আমাদের রঙে রাঙ্গাতো। ধবল চাঁদরের শীত হোক, হোক বসন্ত আবেগে মিহি বাতাসের আনাগোনা, এ মাঠে- এ পথে আমারও ছিল শত আনাগোনা।

এই রেশমি মাটির পথে আমি কত হেঁটে গেছি সুর সাথে করে, ছোট্ট ডলু বাঁশের ফাঁক-ফোকরে; অদূর কুঠিরের পাতার আড়ালে মায়াবিনী চোখে স্বপ্নের স্বরলিপি লেখে। সায়াহ্নের ভরা মায়াতে কুপি জ্বেলে আমিও ভেবেছি দুটি শ্যামল মায়ার হাত, বিলি কেটে দিয়ে যেত রাজ্যের ঘুম।

এই ধূলো মাখা পথ! এপথেই আমার কেটে গেছে বিগত প্রহর। হয়তো পথের ধূলি এখনও আমাকে মনে রাখে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29486373 http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29486373 2011-11-19 17:57:48
এক আসরের ইতিকথা জলের প্লাবন এসেছিল! যদিও তার চোখে প্লাবন ছিল (যেন) অনন্ত কাল ধরে। যেদিন থেকে লজ্জাবতী লাজে মরতে শিখেছে সেদিন থেকে। কারণ- তাকে ঘোমটার আঁড়ে লাজে মরতে দেখেছি, অন্তসলিলার মত বইতে দেখেছি, যদিও অঝোর ধারায় চোখের জল-সিঞ্চন কখনও কখনও- চাঁদের তিথিতে সাকার হত; আর সেদিন তটিনীও উত্তাল হত ঊর্মির সফেন মালায়।

নগরের সকালে একদিন বেশ কোলাহল ছিল, শঙ্কার ডঙ্কা- আর কৌতূহল ছিল; সকাল না হতেই- রাজপথে দাঁড়িয়ে বুক-চাপড়ে কাঁদছিল হতভাগী প্রৌড়া। সে নাকি শেষ রাতে স্বপ্নে দেখেছে- নদী উঠে এসে কোলে করে নিয়ে গেছে কাকে। প্রৌড়ার কন্যাও ডুবেছিল বিশ-ভাদ্র আগে সাঁতরাতে গিয়ে এক অমানিশায়।

তারপর বিতে গেল এক পক্ষকাল! হ্যাঁ, যা বলছিলাম- প্লাবন এসেছিল।
ঋতুস্নানে জলে পড়েছিল তার এক পায়ের ঘুঙুর; খুঁজতে খুঁজতে সে গড়ালো দুপুর, তবু প্রয়াস যত তত বৃথা ছিল। বেলা অবসান শেষে কখন যে সন্ধ্যা নামল সে দেখেনি, কালো তিথির সর্বনাশ ডিঙাতে পারেনি। তার পরনের রেশমী-পীতাভ শাড়ী ঘাটে পড়ে রইল, আর- তার কালো চুল কালো জলে হারিয়েই গেল। নিমিষেই হারিয়ে গেল!

তার কথা ছিল, সে রাতে জুড়াবে নগরের মন ঘুঙুরের জলসায় রাতের নেশায়। জলসা হয়েছিল- জলসা হলো সেদিন জল সায়রে, নগর ভেসে গেল ফেনিল অথই সুরায়। হ্যাঁ, সেদিন প্লাবনই এসেছিল!

সেদিন প্লাবন এসেছিল, প্রতীক্ষায় সেই শাড়ী নাকি তার এখন পীতাভ-পাথর হয়ে গেছে। এখন, আসরের ভগ্ন দেওয়ালে পরগাছা-বিরুতের নিলাজ সমাবেশ, এখনও নাকি মঙ্গলের রাত্রিতে বেজে উঠে এক পায়ের ঘুঙুর। সেই যে গড়িয়েছিল মঙ্গলের দুপুর!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29483008 http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29483008 2011-11-14 11:51:43
দিল-ই-নাদানের শের

*
সাকির হাতে রাখলে কি হাত সেই হাতেরই পরশ মেলে?
সেই সে হাতে জীবন মরণ সে হাত শুধু আগুন জ্বালে।।

*
মাতম কেন গাইছে সবাই প্রাণ তো আমার যায়নি চলে?
বাহারে কি সাজে না ফুল, শৈত রাতে ঝরবে বলে?

*
নিশ্চুপ বলে ভেব না সাকি, এই দেহে আর প্রাণ নেই।
পেয়ালা খালি হলে পরে তুমি তো পেয়ালা ভরে দেবেই।।

*
ম্যায়খানেতে পেয়মানে ছলকে ছলকে পড়ে যায়।
আমিও তেমন লুটিয়ে পড়ি পাতা যেমন ঝরে যায়।।

*
রোদ ঢলে যায়, দিন চলে যায়, এভাবেই আসে রোজ সাঁঝের বেলা।
রাত বেড়ে যায়, আসর সাজায়, ভোর হতে ভেঙ্গে যায় সুহৃদের মেলা।।

*
যাবার বেলায় বিদায় ভেলায়, জ্বালে কি কেউ আশিসের দীপ?
বেহুলাও তেমন একা ছিল, বাসী ছিল তার সোহাগের টিপ।।

*
সুখের রাতি জ্বালিয়ে বাতি এক নিমিষেই শেষ হয়ে যায়।
আগর তখনও ছাঁই এর স্তুপে বিতানো রাত ভেবে যায়।।

*
বদলে বদলে আর কত বদলাবে বল, জন্মালে একদিন চলে যেতে হয়।
এবার তো কিছু ক্লান্ত-শ্রান্ত হও, একটানা শ্রমে কিছু বিশ্রাম নিতে হয়।।

*
ফুলের মালা বাড়ায় জ্বালা, সেই জ্বালাতে রাত্রি পার।
সোহাগের কি আর সময় আছে, পেয়ালা খালি- এটুকুই সার।।

*
পাগল আমি সবার কাছে, যদিও কিছু করিনি বেশ।
পেয়ালা ভরি- সে হয় খালি, এই তো আমার কাহিনীর শেষ।।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29482061 http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29482061 2011-11-12 21:30:39
আপন হবার পুরাকথা মাঝি বাড়ির নৌকা;
ঢেউ তার খবর রাখেনি।
সেই যে ছেঁড়া রজ্জুর নসিবে লেখা সব ভাগ-লিখন,
নৌকার কপালেই ছিল সব, যেন কেউ দু’হাত মেলে দান দিয়ে গেছে।
কপালের লিখন তার কপোলের জল হয়ে ঝরেনি,
যদিও সলিল সমাধি খণ্ডাতে পারেনি দু’পাশের
লাল-কালো বেলে-এঁটেলের তীর।
আর, সেই ঢেউ?
সেই ঢেউ একবার একূলে, একবার ও-কুলে, অতঃপর;
কোথায় যেন হারিয়ে গেল আরেক ঢেউয়ের বুকে।

ওদিকে দ্বাদশ বছরের মেঠো পথের মেঠো বালিকা
আগলে রাখবে বলে দ্বাদশী তিথির ক্ষণিকের অতিথি ঢেউ,
কত কসরতে তার মায়ের ছেঁড়া শাড়ীর আঁচলে মমতায় বাঁধতে চাইল।
কিন্তু ঢেউ থামল না, তার মমতার হিল্লোলে সেই ঢেউ ডুব দিল না।
চলে গেল, একেবারে চলে গেল হারিয়ে;
আরেক এলো, আরেক গেলো।
তার আঁজলাতেও রইল না এক বিন্দু হয়ে,
কিছু ঝরে গেল, কিছু নিয়ে গেল বাতাস,
ঢেউ আর আপন হলো না তার,
হলো না সেই নৌকার।

অবশেষে বালিকার ধীর পায়ে ফিরতি পথ ধরা বিষণ্ন মনোরথে!
সে তখনও জানেনি,
তার পোষা ময়নাটিও-
খাঁচা ভেঙ্গে চলে গেছে পড়তি বিকেলে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29480404 http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29480404 2011-11-09 23:08:36
ভাবানুবাদিত গজলঃ কিছু না কিছু…

শিল্পীঃ স্বানি জুবায়ের

কিছু না কিছু অভিযোগ প্রতিদিন হয় এক মন এক মন থেকে ছিন্ন হয়। নিজের কাহিনী বলতে থেকো তুমি তোমার মনের ধারণাই তাতে ব্যক্ত হয়। এমনই হোক প্রভু তোমায় আশিস দেবে তোমার শপথই যেন শেষে প্রেম হয়।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29477772 http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29477772 2011-11-04 01:03:48
গতকাল হে ধূম্রবতী! তোমার ধূম্রাচ্ছন্ন সাম্রাজ্যের ছায়া থেকে আমি দূরে সরে গেছি- এই ভেবে বৃথা সান্তনা খুঁজছ হয়তো আরশীর সামনে, নিজেকে দেখে। হ্যাঁ, আমি তোমার সীমানার বাইরে। তবু আমি লুপ্ত হয়ে যাইনি, যাব না। তোমার জন্য আমি অনন্তকাল ধরে থাকব, আমি অনন্তকাল দহনে জ্বলব- শুধু তুমি অনন্ত-দহনের দাহে জ্বলছ বলে। চেয়ে দেখো- তোমার পানে তাকিয়ে আর কেউ নেই; আমিও নেই, শুধু আমার শ্লেষের হাসি তোমার প্রতিটি কদম কদম তোমাকে অনুসরণ করছে। আমি নই! আমার সেই শ্লেষের হাসিগুলোই বারবার আমাকে চিত্রিত করছে; যেমনটি দীঘির জল-আলোড়নে এক পূর্ণিমার চাঁদ নিমিষেই অযুত চাঁদ হয়ে যায়, চাঁদের কলঙ্ক অযুত হয়ে যায়। আবার নিমিষেই মিলিয়ে যায়, আবার আসে, আবার যায়। যত বার উতাল বায়ু আসে ততবার আসে, ততবার যায়। তোমার বেণী-ছুট চুলগুলোতে দেখো খেলে যাচ্ছে বাতাস, বাতাস নয়, সে তো আমি; না না, আমি নই, সে আমার শ্লেষের হাসি! ঠোঁট উলটানো শ্লেষের হাসি, বিদ্রুপে তোমার প্রতি বর্ষিত হচ্ছে ফুলের অঞ্জলির মত, আঁজলা-ভর জল-আচমনের মত। তবু, শ্রদ্ধা নয় ধূম্রবতী! বিদ্রুপ!

রাস্তার মোড়ে দাঁড়ানো শত-ছিন্ন বস্ত্রে অর্ধাবৃত এক লোক কথা বলে যাচ্ছিল। কাঁধ-ভরা চুল। মুখে তার শ্মশ্রু দীর্ঘকায় হয়েছে। চোখ তার ধ্রুব তারার মত জ্বলজ্বল করছে বিকেলের নুয়ে পড়া রোদে। চোখের সাদা প্রলেপটুকু তার পানি-ধুয়া রক্তের মত হয়ে আছে। আর তার কন্ঠ! তার ভরাট কন্ঠে কী এক ব্যঞ্জনা ছিল, আমি না দাঁড়িয়ে পারলাম না। সে চিতকার করে, সূর্যবংশীয় কোন রাজার মত দীর্ঘ-ভরাট গলায় যখন বলছিল- ‘হে ধূম্রবতী’! আমি না দাঁড়িয়ে পারলাম না। আমি আমার সমস্ত ইন্দ্রীয় তার কন্ঠ-নিঃসৃত শব্দমালায় নিবেদিত না করে পারলাম না। আমি শুনলাম। তন্ময় হয়ে শুনলাম। যেন, আমার চারপাশ শুনছে। পিন-পতন নিরবতা নিয়ে শুনছে। ‘বিদ্রুপ’ উচ্চারণ করে সে থেমে থাকল কিছুক্ষণ। সেই কিছুক্ষণ- আমার কাছে যুগের সমান মনে হচ্ছিল। আমি উদগ্রীব হয়ে প্রতীক্ষায় ছিলাম আরও কিছু শুনব বলে। আমার সেই প্রতীক্ষা বৃথা গেল না।

সে এবার হাঁটু গেড়ে বসল। দৃষ্টি আকাশের দিকে। এক হাত আকাশের দিকে তুলল, যেন কাউকে ইঙ্গিত করে কিছু বলবে। হ্যাঁ, সে আবার বলা শুরু করলঃ

আমিও দহনে জ্বলছি ধূম্রবতী! আমিও বড় দহনে জ্বলছি। এখানে বড় জ্বালা, বড় জ্বালা- কেউ এক বিন্দু পানি দেয়নি, কেউ এক বিন্দু অশ্রু ঢালেনি। আমিও দহনে আছি, অনন্ত দহনে, তোমার মত, ধূম্রবতী! ধূম্রবতী!

বলতে বলতে সে মাথা নিচু করল। তার হাত নিচে নেমে এল। শেষের কথাগুলোতে মনে হল তার গলা ধরে এসেছে। হয়তো সে কাঁদবে এখন। কিন্তু না, সে কাঁদল না। হাওয়ার তাণ্ডব যেমন উড়িয়ে নিয়ে যায় মেঘ, যে মেঘ বহু দূর থেকে ঝরবে বলে এসে আকাশে থরে থরে সাজে। তেমনি তার লালচে চোখে জ্বলা অন্তস্থ-বহ্নির কোপে পড়ে যেন মিলিয়ে গেছে তার চোখের আদ্রতা। ক্ষণিক যেতে না যেতেই সে মাথা ঋজু করল। স্থির হয়ে বসে রইল।

অভুক্ত মনে হচ্ছিল তাকে। শরীরে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট ছিল। তার স্থিরতার মাঝে চোখের ভাবটুকু একেবারে ঢলুঢলু ছিল। যেন, এখনই সে হারিয়ে যাবে ঘুমের অথই ডহরে।

সময় আমাকে তাড়া দিচ্ছিল। নুয়ে পড়া রোদ ঘরে ফেরার তাড়া দিচ্ছিল। তাকে কিছু জিজ্ঞেস করতে গিয়েও পিছিয়ে গেলাম। তার ধ্যান ভাঙ্গতে চাইলাম না। পক্যাটে হাত দিতেই একশত টাকার নোটটি হাতে এল। অফিস ছুটির আগেই উপরি পাওনা হিসেবে পেয়েছিলাম। কেন জানি টাকার সৎকার করতে ইচ্ছে হল। ফাইলে থাকা এক পাতা কাগজ নিয়ে তার উপরে টাকাটি রেখে দিলাম তার সামনে। যেন কিছু খেয়ে নিতে পারে। সে নিথর ছিল, হয়তো খেয়াল করল না। আমি পেছন ফিরে কয়েক পা এগিয়ে যেতে না যেতেই সে হয়তো খেয়াল করেছিল আমাকে। আমাকে উদ্দেশ্য করে বললঃ

ভিখারী নই আমি! ভিখারী নই! তোমাদের মতই আমি, তোমাদের মতই এই দুদিনের মঞ্চে এক অভিনেতা হয়েছি। তোমাদের নাটকে অনেক অঙ্ক বাকি রয়ে গেছে। আমার নাটকের অঙ্ক এই শেষ হবে বলে বাকি আছে যতসামান্য। তাই বলে আমাকে ভিখারী ভেব না, আমি ভিখারী নই। ভিখারী নই আমি! তোমরা সবাই শুনে রাখ। তোমরা সাক্ষী দিও। আমি ভিখারী নই!

তার কথাগুলো শেষ হল। চারপাশের সমস্ত কোলাহল যেন থেমে এল। যেন সবার দৃষ্টি পথের মোড়ের রাজ্য হারানো কোন রাজার বিলাপ শুনছে। আমি ঠিকই চারপাশে তাকিয়ে দেখেছি। বাতাসও গাছের পাতায় নাড়া দিচ্ছিল না, যেন- পাছে যদি কথা না শুনা যায়। …ততক্ষণে বেলা একেবারে পড়ে এসেছে। সূর্য লাল হয়ে গেছে। সে কথা শেষ করেই আবার সূর্যের দিকে তাকাল। আবার ধ্যানে মগ্ন হয়ে গেল। আমি চলে এলাম।

পরদিন সকাল হতে না হতেই ফোন এল।
সকাল সকাল এমন কিছু শুনার জন্য আমি তৈরি ছিলাম না। মোড়ের এক দোকানী আমাকে চিনত। গতকাল বিকেলে দেখেছিল আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কথা শুনছিলাম। তার কেন জানি মনে হয়েছিল আমাকে ফোন করে জানানো উচিত।

চোখে পানির ঝাপটা দিয়েই ছুটলাম। পথের বিশাল মোড় শিমুলের লাল ফুলের মত সেজেছে। যেন কারও লাল-গালিচা সংবর্ধনা। চির-ঘুমে শায়িত দেহের পাশে অস্পষ্ট কিছু লেখার মত দেখলাম। যেটুকু বুঝতে পারলাম তার মর্ম এই- ‘তোমাকে ধন্যবাদ, আমাকে গন্তব্য দিয়ে গেলে’। খবর পেয়ে পুলিশ এসেছিল। লাশ নিয়ে যেতে চাইলে বাধা দিলাম। লাশ কাটাকাটিতে যেন মানুষটির অপমান হবে। গভীর রাতে বিভোর হয়ে গাড়ী চালানো সেই ড্রাইভারকে সে ক্ষমা করে দিয়েছে। তাই তার শেষ ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানালাম। ইন্সপেক্টর পরিচিত ছিলেন। তিনি আর রা করলেন না।

মাটির ঢেলায় সাজানো নতুন কবরের উপরে একটি গোলাপ রাখলাম। আমি নিজেই গোলাপটি বাগান থেকে শাখা ছিন্ন করে নিয়ে এসেছি। চার কদম পিছন ফিরে আবার কবরের দিকে তাকাতেই গোলাপটিকে লাশ মনে হল। আজই এমন মনে হল। প্রথমবার মনে হল। মন বলল, জীবনের শাখা থেকে ছিন্ন বলে তাকে কবরে দিয়ে গেলে, গোলাপ কি তাহলে শব নয়? শব দিয়ে শবের শ্রদ্ধা কি করে হয়?

আমি আর মনের কথার কোন উত্তর পাইনি। খুঁজ করতেও চাইনি। আমি আবার বিগত বিকেলে শুনা কথাগুলোয় হারিয়ে যেতে থাকলাম। তন্ময় হয়ে গেলাম। কখন যে নিজেই রাস্তা ধরে হাঁটা ধরেছিলাম, নিজেই জানতাম না। হঠাত সবকিছু ঝাপসা দেখলাম, কোলাহল শুনলাম, তারপর কোথায় যেন হারিয়ে গেলাম।
—————————

আমার জীবন থেকে দীর্ঘ একটি বছর হারিয়ে গেছে। যদিও সবকিছু যেন কাল ঘটেছে বলেই মনে হচ্ছে। ডাক্তারের কাছে শুনলাম বিগত বছরেরব কথা। আমার কাছে সব ‘চাঁদ মামার গল্প’ বলে মনে হল। আমি ঠিকই মনে করতে পারছি সেদিন বিকেলের কথা। তার পরের দিন সকালের কথা। একটি গোলাপের কথা- না, গোলাপের লাশের কথা। অথচ আর কিছুই আমার হিসেবে নেই। ডাক্তারের হিসেবে আমি ৩৬৫ দিন ২৩ ঘন্টা ৩০ মিনিট ১৯ সেকেন্ড পরে নাকি লেখছি। আমার কাছে গতকালই তো ঘটল।
হ্যাঁ, সবকিছু তো গত-কালই ছিল!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29476525 http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29476525 2011-11-01 21:42:20
অ্যা জার্নি টু লোন্‌লিনেস্‌
অনেক দিন পরে জীবন থেকে একটু সময় মিললো একেবারে নিজের করে। সেই কবে এভাবে বসেছিলাম তা আর মনে নেই। আগের কোন জন্মে, না এই ইহ জন্মে, তা খুঁজে পেতে হলে বেশ খানিকটা হিসেবের পাতা খরচ করে ফেলতে হবে। কি দরকার, আজ না হয় কোন হিসেব নাই-বা হল। আজ সবচেয়ে অবাক লাগছে, অনেক দিন পরে আমার জলপাই গাছের কথা মনে পড়ল। আর একেবারে স্পষ্ট হয়ে, দুপুরের রোদ গায়ে মেখে কোমর জলে দাঁড়িয়ে থেকে কত কাব্য মনে মনে জপেছি তার লাল পাতা দেখে। মনের সেই কাব্যপাঠ হাতের জল-আলোড়নে সমাপ্ত হয়েছে, কখনও শৈল্পিক ক্রিড়া ছলে আঁজলার জল সমর্পণ ভঙ্গিতে আবার পুকুরকে ফেরত দিয়ে। পুকুরের জল পুকুরেই মিশত। মনের কাব্য মনেই রইত। তারপর ভুলে যাওয়া! সেই পঙ্কতি, সেই শব্দ- কিছু আর মনে নেই। এমনকি পরদিনও মনে থাকেনি। একেবারে নতুন করেই আসত, নতুন রইতেই মিলিয়ে যেত। ঠিক যেন বর্ষা রাতের বিজলির মত। তবে গর্জনে নয়, একেবারে নিঃশব্দে। আজ কেন এসেছি তা আমিও জানি না। কারণ আসব আসব করে আরও অনেক দিন আসা হয়নি। বের হয়েও পিছিয়ে গেছি অন্য পথ ধরে। একটা কারণ অবশ্য দাঁড় করিয়েছি। দূর থেকে মিহি-বাতাসে পাতার পতন দেখছিলাম। খুব টানছিল এই দৃশ্য। কেন জানি এই পাতা-ঝরা খুব ভাল লাগে। একেবারে নিজের মত মনে হয়। যেন, আমি ছবি আঁকলে ঠিক এমন দৃশ্যই আঁকব। যেন আমি কথা বললে ঠিক এমন কিছুর কথাই বলব। আমার হাতের কলম এমন কিছুই লেখবে। লাগামহীন মন কখন কি ভাবে, তার ধারণা মুশকিল, শুধু জানি মন এখন বিক্ষিপ্ত। আর এই সময়ে আমার হাতের কলম সাদা কাগজের পাতায় কি লেখে যাবে তার হদিস আমার জ্ঞানেন্দ্রিয়ের কাছেও নেই। কারণ, এখানে কোন থিসিস লেখা হবে না, যা ভাবনার পরে লেখা হয়। এখানে এমন কিছুই হয়তো লেখা হবে, যার আদৌ কোন অর্থ নেই, অথবা অর্থ আছে। কিন্তু ভাবনাটা আসবে কাগজের কালো দাগের পরে।

এই মাত্র আরেকটি পাতা সুন্দর করে বাতাসে বিলি কেটে কেটে আমার উপর দিয়ে পড়ল। সিগারেটের খুঁজে পক্যাট হাতড়াতেই একটি ছোট চিরকুট হাতে এল। হ্যাঁ, চিরকুটটি আজ সকালে পুরনো কাগজ ঘাঁটতে গিয়ে পেয়েছিলাম। প্রায় দশ বছর আগের চিঠি। সে ঘুমিয়েছিল, কখন ঘুমিয়েছিল জানি না। আজ যখন হাতে আসল, মনে হচ্ছে- সে জেগে গেছে। সে কথা বলা শুরু করেছে। এ’কথাও মনে হচ্ছে, তাকে না জাগানোই ভাল হত!

মেরি! চিঠিটি মেরিরই লেখা। শেষ চিঠিই ছিল! আর তার শেষ কথাগুলো সবচেয়ে সুন্দর। আজ যখন এত বছর পরে পড়লাম, মনে হলো এই কথাগুলো আমার মুখস্থ ছিল। অথচ আমি এত দিন ঠিকই ভুলে ছিলাম। মনে হচ্ছিল, এই কথাগুলো আমি বারবার জপে গেছি এত দিন। কিন্তু আমার মনে পড়া শব্দের মাঝে তাদের উপস্থিতি পাইনি। আমি একবার পড়লাম, তারপরে বারবার পড়লাম। শুধু শেষ কথাগুলো। এ যে শেষ বিদায়ের শেষ গান, শেষ রাতের আসরের শেষ সুরের তান, যাবার আগে মনের শেষ গভীর টান। আমি নিজেও ভুলেছিলাম, এই কথাগুলো এত দিন ধরে আমি বহন করে চলেছি। অথবা এই কথাগুলোর মর্ম কি হবে, এত দিন ধরে ভুলেছিলাম।

…অল দ্য ওয়ে আই হ্যাভ বিন ওয়াকিং থ্রু, মাই ঈচ এন’ এভরি ব্রেথ কল্‌স্‌ ইওর নেম। ইট ইজ- অ্যাজ আই অলওয়েজ ফীল ইউ ইন মাই ব্রেথ। টুডে’! আই’ম গোয়িং এফার। বাট আই ক্যান অ্যাস্যূর ইউ অনলি দ্যাট, আই উইল সে’ ইওর নেম ইন মাই অল দ্য প্রেয়ার্স আনটিল মাই লাস্ট ব্রেথ। লেট মাই ড্রীম বি অ্যা ড্রীম অনলি, মাই ড্রীম- ট্যু স্ট্যান্ড বিসাইড ইউ অল দ্যা ওয়ে, লেট ইট বি অ্যা মীয়ার ভিশন। লেট, ইউ এন’ মি দ্য ফেয়ারি টেইল; এন্ড ইউ এন’ মি- দ্যা লিটল কিডস লিসেনিং প্রোফাউন্ডলি ইন গ্র্যানি’স ল্যাপ, লিসেনিং দ্য স্টোরি দ্যাট নেভার কামস্‌ ট্রু, ওয়াজ এন’ উইল নেভার-এভার ট্রু। …টুডে’ আই ক্যান গিভ ইউ নাথিং; এলস্‌, আই ক্যান সে’ অনলি- আই লাভ ইউ! আই ওয়োন্ট সে’ গুড বাই, মে’বি দ্য টাইম হ্যাজ ইটস্‌ আদার প্ল্যানস। প্রমিজ মি, ইউ ওয়োন্ট শেড টিয়ার্স। সি ইউ এগেইন।…

মেরি ঠিকই বলেছিল, আমরা পরীদের কাহিনী হয়েই রইলাম। আমি দীর্ঘ ছয় মাস তার শেষ কথাটি রেখেছিলাম। শুধু একদিন রাখতে পারিনি! সেদিন মিশনারি ক্লিনিক থেকে একটি চিঠি এসেছিল। আর তার সাথে ছিল মেরির শেষ সম্বল কয়েকটা কয়ন দিয়ে কেনা একটি শুকানো গোলাপ।
………

পক্যাটের সিগারেট শেষ। হাতের ক্যানটাও শেষ। হয়তো আবার একদিন বসবো, আবার কথা হবে- কোন এক পাতা-ঝরা দিনের। এখন বড্ড ঘুম পাচ্ছে। হাত আর চলছে না। মেরির মত আমিও যদি ঘুমিয়ে যেতে পারতাম!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29473207 http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29473207 2011-10-27 16:42:56
ভগবান, তুমি গরুর মতন!
ভগবান মূল পেশাজীবিতে চা শ্রমিক। তারা বাংলাদেশে এসেছিল ইংরেজ আমলে। সেই সময়টা কবেকার তা একটি চা বাগানের পত্তন সময় থেকে ধরে নেওয়া যায়। আমার দেখা একটি চা বাগানের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল ১৮৭৮ সালে। ইংরেজদের দূরদর্শীতাই হয়তো মানুষের প্রকৃতি তাদের সামনে তুলে ধরেছিল, তাই তারা বেছে বেছে ভারতের কিছু অঞ্চল থেকে মানুষ নিয়ে এসেছিল যারা কুলুর বলদের মতই প্রকৃতিগতভাবে পরিশ্রম করে যাবে দাসের মত কিন্তু কখনও উচ্চবাচ্য করবে না। সিলেটের কথাই ধরুন, বাংলাদেশে সবচেয়ে চা বাগান বেশি এখানেই, কিন্তু সিলেটের কোন বাসিন্দা চা শ্রমিক নয়। শুনেছিলাম, চা শ্রমিকদের নিয়ে আসা হয়েছিল এই বলে যে- তারা গাছ থেকে সোনা পাড়বে। হ্যাঁ, তারা ঠিকই সোনা পেড়েছিল গাছ থেকে চায়ের পাতা রূপে আর তা ব্যবসাতে সোনার মোহর হয়েছিল ইংরেজদের রাজকোষে। সেই যে তারা এসেছিল আর ফিরে যেতে পারেনি, এখন তো ভুলে আছে তাদের শেকড়। আর এখন তো তারা যেখানেই আছে সেখানে মিশে গেছে। তারা এখনও সোনা পাড়ছে। তাদের বোকামি (বলা যায় সরলতা, তবে সরলতার সাথে না গিয়ে প্রকৃতির সাথেই যায়) এখনও রয়ে গেছে। ইদানিং লক্ষ্য করা যায়, কেউ কেউ বাঙ্গালী সং মিশ্রণে চালাক হয়ে উঠছে।

যাই হোক, আমার আজকের লেখার মূল বিষয় কিন্তু হাস্যরসের, তা শিরোনাম থেকে আশাকরি অনুমেয় হয়েছে। ভূমিকায় সিরিয়াস কথাবার্তায় কিছু যোগসূত্র টেনেছি, তার কারণ- এমন দেখাতে যে তাদের শেকড়ের সংস্কৃতি-প্রকৃতি; আমাদের থেকে ভিন্ন।

ভগবান বাংলা বলতে পারেন। তবে তা আমাদের বাংলা থেক এখনও খানিকটা (বেশিও বলা যায়) ভিন্ন। আমাদের কাছে এই বাংলা- শ্রবণে রসাত্মক মার্গের হয়। শুধু ভগবান নন, তার স্বগোত্রীয় সবারই মুখ-নিঃসৃত বাংলা এমনতর। ইদানিং তাদের নতুন প্রজন্মের মুখে শুধু ব্যাপক (পূর্বজদের সাথে তুলনায়) উন্নত ভাষা-শৈলীর অবস্থান পাওয়া যায়।

ভগবান বিভিন্ন গল্প বলতে গিয়ে মাঝে মাঝে 'গরু' উপমা ব্যবহার করেন। আগেই বলে রাখা ভাল, আমাদের বাঙ্গালী সমাজে 'গরু' উপমাটি গালি অর্থেই উপমিত হয়, অথবা কাউকে নিচু বুঝাতে, মেধাহীন- জ্ঞানহীন বুঝাতে। ভগবানের কাছে ঠিক তার উলটো। এই যেমন, উনি বললেন-
আমার বাপটা এক্কেবারে গরুর মত আছিলো।
তার মানে এই নয় যে, উনি তার বাপকে গালি দিয়েছেন। মানে দাঁড়ায়, তিনি প্রশংসা করেছেন। নিজের বাবাকে মাটির মানুষ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এরকম কারও প্রশংসা করতে গিয়ে ভগবান প্রায়ই বলেন- লোকটা বড়ই ভালা, এক্কেবারে গরুর মত আছে।

আমাদের বাড়িতে কয়েকটি গরু আছে। সবগুলোই আদরের। তাদের মাঝে কোন কোনটি একটু দুষ্ট। আর কোনটি খুব শান্ত। এরকম শান্ত একটি সাদা বলদ আছে, ঘাস নিয়ে বাছাবাছি নেই, হালচাষেও অক্লান্ত, দড়ি ছিঁড়াছিঁড়িতেও অংশগ্রহন নেই। ভগবান স্বয়ং গরুর রাখাল। তার কাছে সাদা বলদের গুণ ও প্রকৃতি সবার চেয়ে বেশি প্রস্ফুটিত। ভগবানের 'গরু' উপমার জের ধরে তাকে এই উপমায় উপমিত করতে সাদা বলদের আশ্রয় নেয়া হয়েছিল। গল্পের মাঝে, বাবা একদিন হেসে হেসে ভগবানকে বলেছিলেন- ভগবান তুমি একেবারে গরুর মত, একেবারে সাদা বলদের মত।
ভগবানের প্রতিক্রিয়া কি হয়- তা দেখা মূল লক্ষ্য ছিল। সচরাচর ভিন্ন অভিজ্ঞতায় অবাক করে দিয়ে ভগবান খুব খুশী হলেন। আসল ভগবান হলে, এমন খুশীতে নিশ্চই স্বর্গে পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট করে দিতেন। এই ভগবান একেবারে খালি হাতে ফেরাননি। খুশী হয়ে গরু উপমায় উপমিত করা যায় এমন আরও কিছু হাস্য-রসের (আমাদের কাছে হাস্যরস, তার কাছে সিরিয়াস) গল্প উপস্থাপন করেছিলেন।

আমাদের বাঙ্গালী ভাষা-সংস্কৃতিতে এমন উপমা উচ্চারিত হলে কতিপয় স্থানে একটা কিল-ঘুষি যে মাটিতে পড়বে না, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তবুও বলতে বড় সাধ হয়েছে, অপরাধ মার্জনা করবেন, পাঠক লেখকের কাছে ভগবান, তাই বলি- "ভগবানগণ, আপনারা একেবারে গরুর মতন"। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29470985 http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29470985 2011-10-23 03:16:54
চোরের মন্ত্রপাঠ
ওঁ আমি চুরি করতে এসেছি, নমো। ফুল, বেলপাতা, জল-তুলসী- কিছু আনি নাই; নমো। এষো চন্দনো, এখানে একটি চন্দনের টুকরো পেয়েছি, এটাও চুরি করে নিয়ে যাব, নমো। ওঁ অনেক অনেক কাঁসা-পিতলের বাসন আছে দেখছি, নমো। এগুলোও নিয়ে যাব নমো। আমি চোর চন্দ্র দেবদাসো চৌর্যবৃত্ত করোয়তি, এখানে এসেছি, নমো। ওঁ দক্ষিণার তালিতে অনেক টাকা আছে, নমো। ওঁ দেব, আমি সব নিয়ে যাই, নমো। ওঁ মনে কিছু নিবেন না দেবতা, নমো। আপনার গায়ে অনেক সোনার অলঙ্কার আছে নমো। সব আমাকে দিয়ে দিন নমো। ওঁ আপনাকে কষ্ট করতে হবে না, নমো। আমিই কষ্ট করে খোলে নেব নমো। ওঁ প্রসাদের জন্য অনেক ফল আছে দেখছি, নমো। আমি নিয়ে যাব, নমো। আমার বাচ্চারা খেয়ে খুশী হবে নমো। তারা অপুষ্টিতে ভুগছে নমো। জ্বর থাকায় গত এক মাস কাজ করিতে পারি নাই, নমো। ওঁ আপনার পুরোহিতকে বিছানার সাথে বেঁধে এসেছি নমো। কাল সকালে ঘুম থেকে উঠে সকাল পূজা করতে পারবে না, নমো। ওঁ তাই আমি পূজা করে যাচ্ছি, নমো। ওঁ হে দেবতা, আমাকে চোরি করার আরও ক্ষমতা দেন, নমো। আরও বড় বড় মন্দির চোরি করব, এই আশীর্বাদ দেন, নমো। ওঁ আপনার তো অনেক আছে, নমো। দেবতার ধনে কি প্রয়োজন, নমো। আমাকেই দিয়ে দেন নমো।

এভাবে অনেকক্ষণ ধরে চোর স্বরচিত মন্ত্রপাঠ করল। সকাল হবার বেশি বাকি নেই। তাই সে দেবতার কাছ থেকে বিদায় নিতে আবার শুরু করল মন্ত্রঃ

ওঁ দেবতা, আমি আপনার সবকিছু আমার বস্তায় ঢুকিয়েছি, নমো। ওঁ সকাল হতে বেশি বাকি নেই, নমো। সকাল হলে লোকজন আমাকে ধরে ফেলবে, নমো। ধরে ফেললে বাজারি কিল-ঘুষি দেবে, নমো। তাই আমি আগেই চলে যাচ্ছি, নমো। ওঁ আপনি মাইন্ড করবেন না, নমো। অপরাধ ক্ষমা করবেন, নমো। ভাল মানুষ হতে পারি নাই অভাবে তো কি করব, নমো। কেউ কাউকে সাহায্য করে না, নমো। তাই চোর হয়েছি, নমো। না হলে ভাল মানুষ হতাম নমো। ওঁ, সূর্যোদয় আগত, নমো। আমি এখন পালাই নমো। ওঁ যাবার আগে সাষ্টাঙে ভক্তি দিচ্ছি, নমো। ওঁ আমি এখন যাই, ওঁ নমো।
———————

* উচ্চারণঃ ওঁ = ওম্‌
(একটি কৌতুকের অডিও শুনেছিলাম। প্রভাবিত হয়ে, চোরের মন্ত্রপাঠ লেখলাম।)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29463850 http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29463850 2011-10-11 11:22:01
প্রণশ্যতি- উপসংহারের আগেই
যাবার বেলায় ফুল কেউ রেখে যায় কি না জানা নেই। তবে হাতে হাত রেখে বাগানের সম্প্রদানে প্রাপ্ত ফুল কর্তৃতে সম্প্রদান হয়ে কিছুদিন শুকাতে শুকাতে ডাইনোসরের জীবাশ্মের মত টিকে থাকে। তারপর বিলুপ্ত হয়ে যায় একদিন। আর তাই, কাউকে বলতে শুনেছিলাম, গোলাপ গাছটির সামনে দিয়ে সে যায় না কারণ ফুলের হিসেব সে রাখেনি- দিতে পারবে না।

যখন আমারই পূর্বপুরুষ কারও নাম ছিল ‘রাম’ আর বউ ছিল তাঁর ‘সীতা’ নামে; ঘটনার ঘনঘটায় এক অযোধ্যার কাহিনী পুনরাবৃত্তি হলে ভেবেছিলাম রামকে নিয়ে, অনেক অনেক বার। রামায়ন হোক আর শেকড়ায়ন হোক, মনে হয় আমিও ছিলাম সেদিন। আমিও দেখেছিলাম ভগবান হয়েও অসহায় চেয়ে থাকা কাউকে। আমি সেদিনও দেখেছিলাম- না বুঝেই উপসংহারের আগে বিনাশ ঘটায়, অথবা বুঝেই। পাতালেই হয়তো শান্তি! অথবা শান্তির খুঁজে পতঙ্গের মত আগুনে ঝাঁপ দেওয়া। কারণ সীতারও জানা ছিল ভাল করে- রামকথা-রামলীলা!

যাত্রাপালায় আড়াল থেকে কেউ বলে বলে দেয়। নট-নটী সে’কথাই বলে যায়। মাঝে মাঝে দুটোই শুনা যায়, তবু আবেদন ম্লান হয় না। ঠিক এমনইভাবে আবেদন ম্লান হয় না আগুনের। অথবা রাতের চাঁদের। কত সূর্যমুখী চেয়ে চেয়ে দিন শেষে শুকিয়ে গেছে জেনেও সূর্যকে দেবতা মানা বারণ হয়নি কখনও। কিশোরী ঝাপটা দেবে জেনেও যেমন দিঘী আরশী সাজে, রূপ দেখায় আর উতালে মাতাল হয়- কখনও হাতের ঝাপটায়, কখনও পায়ের আলোড়নে। আবার এই জলেই একদিন নামে যুবতী হওয়া সেই কিশোরীর আঁখিজল-কাজল। সেদিন হয়তো আকাশে মেঘ থাকে, নয়তো কাকচক্ষু জলের আড়ালেই সব ঢাকা পড়ে।

সুনামীর জল নেমে গেলে বালিতে পড়ে থাকা এক লাল শাড়ী দেখেছিলাম। মনে কত কাহিনীই জেগেছিল- সেই লাল শাড়ীর আবরণে থাকা না-চেনা না-জানা সে-ই কাউকে নিয়ে। তারও হয়তো শেষ হয়েছিল উপসংহারের আগেই। এই তো কাল-ই দেখলাম, দুষ্ট শিশুর হাতে ছিঁড়ে পড়ে আছে সকালের ফুল; এভাবেই।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29463395 http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29463395 2011-10-10 15:41:55
এক শহরের কথা
বাইরে তাকাতেই দেখলাম আসল রূপ। দেখলাম নগর-পথের জরাগ্রস্থ দেহ। গীতার শ্লোকের মতই তার দেহ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, শুধু সে যে রাস্তা- এটুকুই যেন ‘আত্মা’ হয়ে অব্যয় হিসেবে আছে।

দু’পায়ে হেঁটে যাওয়া পুরবাসীদের কারও মুখে হাসি দেখিনি। কারও চোখে সুখ-শান্তির ছায়া দেখিনি। ছুটছে সবাই- যেন ‘জিন্দা লাশ’। আর যেন ক্ষণেক্ষণে মাইয়তে মাতম শেষের মাইয়ুছিতে বিপর্যস্থ।

এই ছুটে চলাকে কি জীবন বলে? আমি অনেক ভেবেও বলতে পারিনি। আমার মনে হয়েছে- এ তো মৃত্যুযাত্রা। আমার অন্তরাত্মা বলল, আমি ভুল বলিনি। তার চেয়ে তো কুঁড়েঘরের দু’বেলা ভরপেট শাকান্ন ভোজন ঢের ভাল। সিনান শেষে ঘানির সর্ষে তেলে লিপ্ত দেহের শান্তির ঘুম ভাল। গাছতলার হাওয়ায় চাঁদের স্বপ্ন দেখা ভাল। সলতে জ্বলা রাতের চিত-কম্পন ভাল, চুর-চুম্বন ভাল। শ্যামলিমায় এক দিনের জীবনও ভাল।

ইচ্ছে হয় বলি- চলো, ফিরে যাই আবার আরণ্যক-জীবনে! ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29463096 http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29463096 2011-10-10 00:16:43
গজলঃ অভিমান করেছ… অভিমান করেছ তো লাগে সময় অভিমান করেছে যেমন জীবন এমন করে কাটে যে মনে হয় দোষের শাস্তি যেমন অনুরোধ-বন্দনা নয়- এ তো আমার প্রেম হে বন্ধু এমন অহম করো না তুমি- যেন এক ঈশ্বর যেমন সবার কাছে পৃথক পৃথক অর্থ আসে দুঃসময়ের যেন- আমি ভুল করে তোমার নাম নিয়েছি যেমন দূরে থাক তো আমাকে এ তোমার করুণা কেমন যেন পাচ্ছি- কত বছরের প্রেম-প্রতিদান যেমন ভোগান্তি পায়ে পায়ে এমন করে ছেয়ে আছে ‘শফি’ এ যেন- বেঁচে থেকে কোন অপরাধ করেছি যেমন
(ভাবানুবাদ)



মূল গজলঃ
তু খাফা হ্যাঁ তো জমানা ভি খাফা হো জ্যায়সে জিন্দেগী এয়সে গুজরতি হ্যা সাজা হো জ্যায়সে বন্দেগী তো নেহি ইয়ে মেরি মোহাব্বত হ্যা দোস্ত্‌ ইতনা মগরুর না বন তু কে খোদা হো জ্যায়সে বদলে বদলে নজর আতে হ্যা সবহি কে তেবর ম্যাঁ নে ভুলে সে তেরা নাম লিয়া হো জ্যায়সে বেরুখি মুজসে তেরি ইস তরহা এহসান ক্যায়সা মেরি বরসোঁ কি বফা কা সিলা হো জ্যায়সে গর্দিশেঁ এয়সে উলজ তি রহি কদমো সে শফি জি-কে ম্যাঁ নে তো কো-ই জুল্‌ম্‌ কিয়া হো জ্যায়সে

শিল্পীঃ রুনা লায়লা
শায়েরঃ শফি]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29434930 http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29434930 2011-08-19 14:55:21
ধূপ-আগরের সন্ধ্যা-রাতি “আমি আশা করি খুব শীঘ্রই তোমাকে পূর্ণ আলিঙ্গন করব সকল রীতি-নীতি জলাঞ্জলি দিয়ে- আমাদের জাগ্রত কামনায়, আমি নিশ্চিত আমরা রমনে হর্ষিত হবো আর পাব সীমাহীন সুখ”।

পতি স্যার উইলিয়াম হ্যামিলটনের গৃহবাসে কোন সন্ধ্যায় অভিসারিনী এমা ধূপ-আগরের মত জ্বলেছিল কি না বাতাসের কাছে তার খবর পৌঁছেনি কালের আবর্তে। কিন্তু প্যারিসের সন্ধ্যা-রাতি ধূপ-আগরের মত জ্বলেছিল যখন জ্বলছিল সব- চারদিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দাবানলে। সুর-সুরার খুনী-ঢং মাতাল করেছিল। বাতি নিভে গেলে কামার্ত কোলাহলের নিচে চাপা পড়েছিল ঘড়ির কাঁটার টিকটিক। আর্তনাদ ছিল, তবে ছিল সুখের, আহত-নিহত নয়- আহুত পতন ছিল স্ফুলিঙ্গের মত, -Flesh meets flesh, desire meets desire…Hungry farmland- like rainless desert…

এই কামার্ত কাহিনী নিন এর চোখে ভাসার আগেই, সন্ধ্যায় প্যারিস জ্বলার আগেই, অচলা-মহিমের গৃহ জ্বলেছিল গৃহদাহে। সুরেশের কামার্ত ঠোঁটের ডাকে কি ছিল, অচলার বুকে কি ছিল! সূর্যমুখী প্রজন্ম-প্রজন্ম সূর্যের বন্দেগী করে যায়, চন্দ্রমুখী কেন করেছিল বন্দেগী কারও! কিছুই না পেয়ে! তা জানা (হয়ত) গেলেও উপসংহার আসে না, ঠিক পার্বতীর মত, উপসংহার ঠিক যেমন আসে না নামকে মিথ্যা করে মৃত্যুঞ্জয় হারিয়ে গেলেও। বিলাসী, পার্বতী, চন্দ্রমুখী- তাদের পরিণতি আড়ালেই রয়ে যায়। আমি জানি, তাদের প্রতি সন্ধ্যা-রাতি ছিল ধূপ-আগরের। সকালে শুধু ছাই পাওয়া যেত অবশেষ।

অবশেষ-উপসংহার, হেমন্তের হৈমন্তী হারিয়ে গেলেও সংজ্ঞায়িত করা যায়নি উপসংহার। “না। কি দিয়েছে ভগবান আমাকে? স্বামীপুত্র ঘরসংসার কি দিয়েছে? না”- উপসংহার মেলেনি বসন মরে গেলেও, অধীর আক্ষেপে শূন্য বায়ুমণ্ডলে কিছু ধরতে গিয়ে নিতাইয়ের কোলে লুটানো দেহে যার উপসংহার ছিল না, ছিল না চিতায়। দীর্ঘশ্বাসে শুধু- “ভালবেসে মিটল না সাধ কুলাল না এ জীবনে”, অসমাধিত দীর্ঘশ্বাস ধ্রুব হয়েই রইল।

এ তো সেদিনের কথা, আর দূরাতীতের কথা! কান পাতলে এখনও শুনা যায়-

यां चिन्तयामि सततं मयि सा विरक्ता
साप्यन्यमिच्छति जनं स जनोऽन्यसक्तः ।
अस्मत्कृते च परिशुष्यति काचिदन्या
धिक्तां च तं च मदनं च इमां च मां च ॥*

-“যে নারীকে আমি ভাবি সর্বদা নিজের সাথে অভিন্নের মত, সে বিরক্ত হয় আমাতে। সে প্রেম খুঁজে যার কাছে সে প্রেম খুঁজে অন্য কারও কাছে। অতঃপর, আরেক নারী- যে আমার তরে কামনায় জ্বলে। ধীক্কার আমাকে, ধীক্কার এই নারীকে, ধীক্কার সেই নারীকে, ধীক্কার সেই পুরুষকে, ধীক্কার প্রেমের দেবতাকে”।

প্রতিদিন সকালে ধূলিতে পড়া ধূপের ছাইয়ে কোন আর্তনাদ শুনা হয় না। অথচ পঞ্চম শতাব্দীর ভর্তৃহরির পালক-লেখনিতে তালপাতায় কি লেখা হয়ে রইল! আরেকটু কান পেতে আরেকটু ভিন্ন সুর শুনি–

पृत्यासन्ने नभसि दयिताजीबितालम्बनार्थी
जीमूतेन स्बकुशलमयीं हरयिष्यन् प्रवृत्तिं।
स प्रत्यग्रै कुटजकुसुमै: कल्पितार्घाय तस्मै
प्रीत: पृीतिप्रमुखबचनं स्बागतं ब्याजहार।।*

-“বর্ষা আসছে, আকাশে মেঘ দেখে তার মনে শুধু জাগে- আমাকে ছেড়ে প্রিয়া কি করে বাঁচবে একাকী। সহসা তার মনে হল- যদি মেঘের কাছে দিতে পারে চিঠি, প্রাণ ফিরে পাবে সে। এই ভেবে সে ফুলের ঢালি সাজিয়ে মেঘের কাছে স্তুতি করে যায়, লেখে যায় প্রেমের কথা”।

এখানে মেঘ দেখেও কেউ তৃষ্ণায় মরে, আর পেয়ালায় এক বিন্দুতেও কেউ আরও মরুতৃষা-পিপাসা খুঁজে। পারস্যের নিকুঞ্জ-বিহারে আনারের ফুলে সাজা শ্যামলিমায় গোলাপের সুগন্ধে মাতোয়ারা হয়ে কেউ গায়-

মৃত্যু হোক ঐ দু’ চোখে দু’ ঠোঁটে,
মৃত্যু হোক এ প্রেম সুরে, মৃত্যু হোক অধরের সুরায়।
দীপ জ্বলুক, ধূপ জ্বলুক- নিঃশেষ হবে তারা,
আমারও শেষ হোক তার আসরের ধূলায়।।

এত হুতাশন, এত আর্তনাদ, এত কামনার জ্বলন- তারপরেও কেউ হাতে হাত রেখে শপথ করে যায় সাত পরিক্রমায়।- *আমার এই হৃদয় তোমার হোক – তোমার এই হৃদয় আমার হোক। তোমার সুখে-দুঃখে, তোমার ধন-দারিদ্রে, তোমার জীবনে-মরণে, পাশে রইবো তোমার। যুগপৎ, আসর সুহৃদের শুভাশিসে ভরে উঠে যখন ঘোমটার আড়ালে থেকে কেউ বলে- তোমাকে কবুল করলাম, তুমি আমাকে চেয়েছ- তোমার এই গুজারিশ কবুল করলাম, তুমি আমাকে কামনা করেছ- তোমার এই আরজুকে কবুল করলাম, আমি তোমার হলাম- আমার খায়াল-ও-খোয়াব তোমার নামে কবুল করলাম।

প্রতি সন্ধ্যায় ধূপের সুবাস আজও আসে। প্রতি রাতে প্রদীপ সলতার স্পন্দনে স্পন্দনে জ্বলে। প্রতি ভোরে এখনও ধূপ-আগরের শব পড়ে থাকে। যদিও শয্যায় তখনও উষ্ণতা থাকে আলিঙ্গনের। অথবা পেয়ালা-জলের ঘোরে কারও স্পন্দিত-নিথর দেহ পড়ে থাকে কোথাও অনাদরে। একাল-সেকাল, সব-কাল এক হয়ে রয়।

____________________________________

*
ইয়াম্‌ চিন্তয়ামি সততম্‌ ময়ি সা বিরক্তা
সা অপ্যন্যম্‌ ইচ্ছতি জনম্‌ স জনো অন্যসক্তঃ।
অস্মত কৃতে চ পরিশুষ্যতি কাচিদ অন্যা
ধিক্‌ তাম্‌ চ তম্‌ চ মদনম্‌ চ ইমাম্‌ চ মাম্‌ চ।।
-ভর্তৃহরির নীতিশটক

*
প্রত্যাসন্নে নভসি দযিতাজীবিতালম্বনার্থী
জীমূতেন স্বকুশলমযীং হরযিষ্যন্ প্রবৃত্তিম্
স প্রত্যগ্রৈঃ কুটজকুসুমৈঃ কল্পিতার্ঘায তস্মৈ
প্রীতঃ প্রীতিপ্রমুখবচনং স্বাগতং ব্যাজহার
-কালীদাসের মেঘদূত

*
যদেদৎ হৃদয়ং তব তদস্তু হৃদয়ং মম
যদিদং হৃদয়ং মম তদস্তু হৃদয়ং তব।।
-বিবাহের মন্ত্র]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29434324 http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29434324 2011-08-18 12:39:26
এক্সপেরিমেন্টালঃ সিলেটী ঠুমরী গাওয়ার চেষ্টা করলাম
আমাদের এত বৈচিত্র আর সৌন্দর্য থাকা সত্ত্বেও আমরা বিশ্বপরিমণ্ডলে পিছিয়ে আছি, যেখানে অনেক দেশই তাদের বিচিত্র সংস্কৃতি নিয়ে লীডিং পজিশনে আছে।

সেদিন সিলেটী ভাষায় একটি ঠুমরী অনুবাদ করেছিলাম। মূলত ঠুমরী কৌরবী ভাষায় সর্বজন বিদিত।লখনৌ নবাব ওয়াজিদ আলী শাহের দরবারে জন্ম লাভ করে ঠুমরী। সেমিক্লাসিক্যাল ঘরানা হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়। আমি ঠুমরীটি গাইতে চেষ্টা করলাম। রাফ রেকর্ডটি পরে নিজেই শুনলাম, এবং মূল্যায়ন করার চেষ্টা করলাম। আমার গায়কী অবশ্যই বেশি ভাল হবার কথা নয় কারণ আমি সংগীত অনুশীলন থেকে দূরেই আছি অনেক দিন থেকে। আমি ঠুমরীর ফ্লো-এর দিকে মূল্যায়ন করলাম, এবং আমার মনে হল সিলেটীতে ঠুমরীসহ বিভিন্ন ক্লাসিক্যাল ঘরানার গান খুব সহজেই নিয়ে আসা যাবে। বাংলা ভাষাতেও তা সম্ভব, কিন্তু বর্তমানে প্রচলিত বাংলা ভাষার শব্দ ও বাক্য গঠনের কারণে ফ্লো-টা আসে না। তবে বাংলা ভাষার শব্দ ও বাক্যের আরও কিছু বিশেষ রূপ ছিল, কাজী নজরুল ইসলাম যা ব্যবহার করেছেন, আগেকার গানেও(এই যেমন ঝুমুর গানে) এসবের অনেক ব্যবহার ছিল, যে বাক্যগুলো চপল, ক্লাসিক্যালের সাথে খুব সুন্দর মিলে যায়।বাংলা ভাষার বর্তমান প্রচলিত শব্দ ও বাক্যের ভারী গঠন ভাবগম্ভীর কবিতার জন্য পারফেক্ট কিন্তু সংগীতের অনেক ক্লাসিক্যাল ধারায় ফেলা বেশ কষ্টসাধ্য।

এগুলো আমার নিজস্ব মূল্যায়ন। অনেকের ভিন্নমত থাকতে পারে। তবে আমার কথা হল, আমরা বাংলাদেশী সংস্কৃতির চর্চা করে দেশের সংস্কৃতিকে অনেক বৈচিত্রময় করতে পারতাম, করতে পারি। বিশ্বকাপ ক্রিকেটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পরিবেশিত অংশে সংস্কৃতির বৈচিত্র আমরা দেখেছিলাম, কিন্তু দুঃখের বিষয় হল- বিশেষ আয়োজনের জন্যই উঠে এসেছে অনেক দিক অথচ ওগুলো সর্বদা চর্চিত নয় সার্বজনীনভাবে।

আমার খালি গলার গানটিঃ


সাথে ক্লোজআপ ওয়ানে গাওয়া সাধনার কয়েকটি গানঃ






-----------------------------
ঠুমরীটির গীত ও বাংলা অনুবাদ দেখতে হলে আগের পোস্টে ঘুরে আসতে পারেনঃলিংক
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29429665 http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29429665 2011-08-11 08:44:31
আমার শায়েরী পাঠ
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29428788 http://www.somewhereinblog.net/blog/sharmabangla/29428788 2011-08-09 21:30:27