প্রতিষ্ঠিত লেখকরা সত্যিই কি বিনয়কে হারিয়ে ফেলেন?
৩০ শে জুলাই, ২০১০ সকাল ১০:০৬
নিউইয়র্কে বইমেলায় ঢাকার বেশ কিছু নামিদামি লেখকের সমাগম হয়েছিলো। সঙ্গত কারনেই প্রবাসী লেখকরা তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করেছেন। সেটি করতে গিয়ে নানা ধরনের অভিজ্ঞতা হয়েছে প্রবাসে বসবাসরত লেখকদের। সেই সব বিষয় নিয়ে নিউইয়র্ক প্রবাসী লেখক মুনিয়া আহমদ নতুনদেশে একটি নিবন্ধ লিখেছেন ‘লেখকের বিনয়...’ শিরোনামে।
মুনিয়া লিখেছেন
'একজন উঠতি লেখক তার একটা সদ্য প্রকাশিত কবিতার বই প্রিয় লেখককে (সৈয়দ শামসুল হক) দিতে চেয়েছিলেন। তিনি তা নিতে সরাসরি অস্বীকার করে বলেছেন, বইটি বহন করার মতো তাঁর কাছে কিছু নেই।
এই লেখা পড়ে আমি স্তম্ভিত হয়েছি। ভীষণ দুঃখ পেয়েছি। কারণ বই বহন করার জন্য কি কিছু লাগে? দুই হাত আছে না আমাদের? সৈয়দ শামসুল হকের সাথে আমার দেখা হয়নি কারণ আমি সেদিন উপস্থিত থাকতে পারিনি। লেখক-প্রকাশক সম্মেলনের দিন বেশকিছু লেখকের সাথে দেখা ও কথা হয়েছে। আমার ব্যাগে আমার কিছু নতুন বই (উপন্যাস) ছিলো। অনেক লেখকের মধ্যে লেখক রশিদ হায়দারের কথা আমাকে মুগ্ধ করেছিল। সম্মেলন শেষে আমি উনার কাছে গেলাম। আমার একটা বই তিনি সাদরে গ্রহণ করলেন। উনার বিনয়ি ব্যবহারে যারপরনাই মুগ্ধ হয়েছি। ফিরে যখন আমি আমার আসন গ্রহণ করলাম, এখানকার (আমেরিকার) একজন লেখক আমাকে বলল, তুমি উনাকে বই দিলে, তুমি কি মনে করেছো তিনি সেটা বাংলাদেশে নিয়ে যাবেন? এখানেই গার্বেজ করে যাবেন। আমি বললাম, গার্বেজ করুক আর যাই করুক, তিনি বই নিয়েছেন, ভালো ব্যবহার করেছেন, এটাই আমার জন্য যথেষ্ঠ। পরে কি করলো, সেটা আমার দেখার বিষয় না। '
সত্যিই কি প্রতিষ্ঠিত লেখকরা বিনয়কে হারিয়ে ফেলেন?
Click This Link
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
স্বপ্নশিকারী বলেছেন:
ভাই, আনিসুল স্যার কে কয়েকটা মেইল দিয়েও তার কোন রিপ্লাই পাইনি।
কেএসআমীন বলেছেন:
syed hoque er achoron shune mormahoto
সুনীল সমুদ্র বলেছেন:
শুধু প্রতিষ্ঠিত লেখকদের নয়, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত গায়কদেরও বিনয়ের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। একবার আমি তার প্রমাণ পেয়েছিলাম। এবং পেয়ে বেশ অবাকও হয়েছিলাম।
একজন প্রতিষ্ঠিত লেখক/গায়ক/অভিনেতা বিষয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা আগ্রহ, নানা কল্পনা থাকে। পরে সামনা সামনি এসে সেই লেখক/গায়ক/অভিনেতা কে 'অন্যভাবে' দেখতে পেয়ে তাদের মোহভঙ্গ হয়! বোধহয় এ দেশের লেখক/গায়ক/অভিনেতাদের ক্ষেত্রেই এমনটি বেশী ঘটে!
অথচ যে কোন শিল্পী/লেখক/ কলা-কুশলীদের সামাজিক দায়বদ্ধতা বলে একটি বিষয় আছে। সেই দায়বদ্ধতা পালনের স্বার্থেই তাদের আরো বিনয়ী, আরো উদার হওযা প্রয়োজন।...
বি পজেটিভ বলেছেন:
শুনেন যে যত বড় মূখোশ পরে থাকে, সে তত বড় লেখক, নামি দামি বাংলাদেশে!মনে প্রানে বিনয়ী (মিডিয়ার বাইরে); খুবই কম চোখে পড়ে এখন।
তিতাস একটি নদীর নাম বলেছেন:
লেখক আনিসুল হককে একবার বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা বড় অনুষ্টানে আমন্ত্রন জানিয়েছিলাম। তিনি বলেছিলেন প্রধান অতিথি না করলে যাবেন না। আসলে উনারা এরকমি। যাদের বিনয়বোধ নেই তারা লেখাক বা গায়ক যাই হউক মানুষ নন আমার কাছে।
মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে এক বার চট্টগ্রামের এক কিশোর একটি পত্র লিখেছিলেন।
অথচ কি আশ্চর্যের বিষয় কবিগুরু সেই পত্রের জবাব দিয়েছিলেন।
তারাই ছিলেন লেখক এবং মানুষ।
মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:
"হাম্বা বলেছেন: ঠিক আছে- মনে রাখলাম। বড় লেখক হলে আমিও এমন ভাব নেব। "--- আপনি অমন ভাব নিলে আপনার খবর আছে! আমি আপনাকে ছাড়ব না।
মুরুববী বলেছেন:
শুনে কিন্চিত উদাস ভাব হইল।
তবে মুদ্রার দুই দিকেই দেখা দরকার। শুধু প্রতিষ্ঠিত লেখকের ফল্ট ধরাই ঠিক না। আজকাল রহিম, করিম, সোলায়মান সবাই বালছাল লিখে কবিতা বলে চালানোর চেষ্টা করে, আবার এদের মধ্যে কেউ কেউ পকেটে কাচা পয়সা থাকায় সেটা প্রিন্ট ও করে ফেলে বই আকারে। আসলে যাষ্ট একটা রেকর্ডের জন্যই বই আকারে প্রকাশ। কে পড়বে, কয়জন পড়বে এটা মুখ্য ব্যপার না। বই বের হয়েছে - এই নিউজ টাই আসল।
এক সামুর ব্লগেই তো কয়েককোটি কবিতা রচনা পোষ্টানো হইছে এযাবত। এর মধ্যে সিংহভাগই সিম্পলি "আবালীয়-পদ্যা-বলী"।
আর এইসব বালছাল রচনায় যারা সাহিত্য, কবিতা বুঝে না (যেমন আমি), তারাই বিরক্ত হয়ে যায়, তাহলে প্রতিষ্ঠিত লেখক কি পরিমান বিলা হইব এটা অনুমেয়।
নাহিয়ান বিন হোসেন বলেছেন:
সৈইয়দ শামসুল হকের কথাটা শুনে অবাক হই নি।তাদের ভেতর এমন ভন্ডামি আছে বলেই তারা প্রকৃত অর্থে আমাদের সাহিত্যকে কিছু দিতে পারেন নি।আর আনিসুল হক!উনার ত প্রধান কাজ হচ্ছে একটা পত্রিকার মাধ্যমে একটা রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করা এবং বিশেষ অনুষ্ঠানে অথিতি হওয়া! আফসোস, এই আনিসুল হক, শামসুল হকরাই নাকি আমাদের সুশীল সমাজ, এরাই আমাদের ভালো মানুষ হওয়ার উপদেশ দেন!!!! কি যে হাস্যকর!
মুরুববী বলেছেন:
একটা অফ টপিক কমেন্ট করি :
আমি পার্সোনালি এইসব উঠতি লেখকগুলারে ডিসলাইক করি। আমার খুব ক্লোজ এক বন্ধু লেখক ছিল, ইনফেক্ট সেও বই প্রকাশ করেছিল মেলা দিন আগে। আমি বলবনা যে খুব খারাপ হয়েছিল সেটা, বরং বেশ ভালোই ছিল। কিন্তু সে তার বই আমাদের পুরা বন্ধুমহলে প্রায় জোরপুর্বক ডিস্ট্রিবিউট করেছিল, আর দেখা হইলেই ঐ এক জিনিশ নিয়া পেচাল পারতো। ভালো জিনিস বেশি কচলাইলে একসময় তিতা লাগে। পরে ব্যাটারে দেখলে ওয়ালের আড়ালে গিয়া দাড়াইতাম।
আর একটা কথা হইল, এইসব লেখকগুলার মেন্টালিটি বাস্তবে খুব পিকিউলিয়ার। আমি নাম বলব না, কারন দেশের বেশীরভাগ মানুষেই চিনে, লেখক মানুষ, আড্ডা দেয় তার পুলার বয়সী ছেলেদের সাথে প্লাস কথা বার্তা বলে অশালীন (যদিও সাহিত্যিক ভাষায়)।
যেমন, একদিন তারে নিয়া আরেক লেখককে খুজতে বাসায় গিয়া নক করে না পাওয়ায় সে আমারে বলল :
" **** সাহেব, চলেন চলে যাই, উনারা হয়ত বাসায় নেই কিংবা স্বামী স্ত্রী সংগমে লিপ্ত !!"
বুঝেন ঠেলা
মেজো ছেলে বলেছেন:
ইগো, বাঙলাদেশের সাহিত্য সংস্কৃতিরে খাইলো এই আমি কি হনুরে মনোভাব
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
















