তিনি সেই ছোটবেলা থেকেই একটু চঞ্চল প্রকৃতির ও দুরন্ত স্বভাবের। সারাদিন হৈ চৈ করে বেড়াতে ভালবাসতেন। কারো বাড়ির আম চুরি, কারো বাড়ির মুরগি চুরি, কারো খাজুর গাছের রস চুরিসহ হেন কোন কাজ নেই তিনি চোট বেলায় করেনি। তার দুষ্ট বন্ধুদের মধ্যে তিনি সব সময় নেতার ভূমিকায় ছিলেন। তিনি নেতার ভূমিকায় থাকতে সব সময় ভাল বাসেন। তার ভাল উপস্থিত বুদ্ধি ছিল এবং কথার মার প্যাঁচে তিনি ছিলেন বন্ধু মহলে শ্রেষ্ঠ। এই সব করতে করতে পড়া লেখাটি আর করা হয়ে উঠেনি। টেনেটুনে হয়তো ৮ম , ১০ম অথবা এইচএসসি পাস করেছেন। ইতিমধ্যে তিনি ব্যবসা করে/ঠিকাদারী করে (দুষ্ট লোকেরা বলে কালোবাজারি করে) বেশ কয় পয়সা বানিয়ে পেলেছেন। তিনি মাশাল্লাহ বেশ ভাগ্যবান। যেখানে হাত দেন সেখানে সোনা ফলে। ইতিমধ্যে সারা এলাকায় তার বেশ নাম হয়ে গেছে। বন্ধু-বান্ধবেরও অভাব নাই। বন্ধুদের সাথে আড্ডা, পার্টি, একটু পান টানও করেন। অনেকেই বলে আরো কি কি দোষ নাকি তার আছে। যাইহোক, ইতিমধ্যে তিনি তার এলাকার স্থানীয় কিছু নেতার চোখে পড়েন। নেতার সাথে তার বেশ ভাব হয়ে যায়। প্রায় সময়ই নেতার আশ-পাশে থাকেন, মিটিং মিছিলেও যোগ দেন। মাঝে মাঝে মাঝে মঞ্চে উঠে বক্তিতাও রাখেন। সবাই মুগ্ধ হয়ে শোনেন, হাততালি দেন। সবাই বলে তার বক্তিতার গলা নাকি বেশ ভাল। তার নামডাক চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। শহরের বড় নেতার কানেও যায়। বড় নেতার সাথেও বেশ ভাব হয়ে যায়। তিনি বুঝতে পারেন তার কপাল আরো খুলে গেছে। নেতার আশ্রয় পশ্রয় পেলে তাকে আর কে পায়.... ব্যবসা বানিজ্যে দলিয় অনুকুল্য পেলে তিনি খুব সহজেই আরো ধনী হতে পারবেন। তিনিও তাকে ঘিরে থাকা দলের সর্মথক, ছোট নেতা, পাতি নেতা সবার জন্য দুহাত ভরে খরচ করেন। দলের জন্য নিয়মিত ডোনেশান দেন। তিনি মনে মনে মুচকি হাসেন। তিনি ভাবেন এইসব হলো পুঁজি। একদিন তিনি এইসব পুঁজি থেকে হাজার গুণ বেশী লাভ ঘরে তুলবেন।
ইতিমধ্যে তার কিছু প্রতিদ্বন্দ্বী জোটে যায়। উনি খুব কৌশলে তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের সামলান। প্রয়োজনে রাতের অন্ধকারে............। পরদিন সেই প্রতিদ্বন্দ্বীনেতার জানাজায় গিয়ে প্রয়োজনে জ্বালাময়ী বক্তব্য রাখেন। লাশ নিয়ে মিছিল করেন। আর প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের উপর এই হত্যার দোষ চাপাতে কোন ভুল করেন না।
এই ভাবে তিনি এগিয়ে যান। তার কথা আস্তে আস্তে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। রাজধানীর নেতাদের সাথে এখন তার নিয়মিত উঠাবসা। নেত্রীও তাকে চিনেন এবং ভালবাসেন। তার চোখ এখন আরো অনেক বড় স্বপ্ন দেখে। তার চোখ এখন লুই কানের সেই অমর সৃষ্টির দিকে। যে করেই হোন তাকে সেখানে প্রবেশ করতে হবে, যে কোন মূল্যে। সেখানেই যে জগতের সব সুখ। সেখানে একবার প্রবেশ করতে পারলেই স্বর্গসুখ। সরকারী দামী গাড়ি, দামী বাড়ি, গাড়ির সামনে পতপত করে উড়তে থাকা বাংলাদেশের পতাকা, আহ!!! ভাবতেই কেমন পাগল পাগল লাগে। ডিসি এসপিরা নিয়মিত সেলুট ঠুকবে, প্রশাসনের লোকজন তার কথায় উঠবস করবে, টিভি ক্যামেরা তার চেহারা মোবারক ধারণ করতে লাইন দিবে, টিভিতে সারাদেশের মানুষ তাকে দেখতে পাবে। কতো তদবির, পার্সেন্টিজ, উপঢোকন(দুষ্টলোকেরা বলে ঘুষ) । তার নিজের ব্যবসাও আরো প্রসার ঘটবে। ব্যাংক ব্যালেন্স মোটা হতে থাকবে। আহ! শান্তি শান্তি শান্তি!
একদিন সাহস করে নেত্রীকে তার মনোবাসনার কথা বলেই ফেললেন। নেত্রী মাথা নায়েন আর হাসেন। নেত্রী অন্য আরেকজন সিনিয়র নেতার সাথে কথা বলতে বলেন। সেই নেতা তাকে বলেন মনোনয়ন দেয়া সম্ভব তাকে তার জন্য ৫/৭ কোটি টাকা ডোনেশান দিতে হবে। তিনি শুনে হাসেন, বলেন এটা কোন ব্যপার না। আল্লাহ তাকে অনেক দিয়েছেন। তিনিও না হয় দলকে কিছু দিবেন। তিনি চাইলে তার এলাকার সব ভোট কিনে নিতে পারেন আল্লাহর রহমতে।
অনেক দিন পর......
তিনি এখন লুই কানের সেই বিখ্যাত প্রাসাদের গর্বিত সদস্য। এই প্রাসাদ তথা সংসদ ভবনের আয়োজন দেখে তার মাথা ঘুরে যায়। তবে সবাই যেটাকে সংসদের আসল জিনিস বলে সেটা তার এখন ভাল লাগেনা। সেটা হলো সংসদ অধিবেশন। স্পিকার কি জানি সংবিধান, আইন ইত্যাদি নিয়ে কথা বলেন। সেই সব তার মাথায় ঢুকে না। তিনি কি এই সব সংবিধান বা আইন কানুন জীবনে পড়ছেন নাকি?মাঝে মাঝে স্পিকার হ্যাঁ না ভোট করেন। তর দলের সংসদ সদস্যরা যে দিকে ভোট দেয় তিনিও সেদিকে ভোট দিতে হাত তোলেন। ইদানিং সংসদ অধিবেশনেও তার আসতে মন চায় না। বেশীর ভাগ সময়ই তার আসন শুণ্য পড়ে থাকে। মাঝে মাঝে আসেন সদস্যতা রক্ষা করতে আর পরিচিতদের সাথে একটু আড্ডা দিতে। তার থেকে গাড়ি নিয়ে ঘুরে বেড়ানোটাই উনার কাছে ভাল লাগে। সাথে কত চামচা, কতো হাততালি, কত সেলাম... আহ!
এই লেখা কাউকে উদ্দেশ্য করে লেখা হয়নি। তবে কারো সাথে মিলে গেলে লেখক দায়ী নয়। কারণ অনেকের সাথেই মিলে যেতে পারে
এই লেখার মূল উদ্দেশ্যঃ
সংসদ সদস্যদের মূল কাজ হলো সংসদে আইন প্রনয়ন করা। একজন সাংসদ সে যত ভাল, ভদ্র আর গরীবের বন্ধুই হোক সে যদি শিক্ষিত না হয় তাহলে সে কি করে সংসদে আইন প্রণয়ন, সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ন কাজ করবে? তাকে তো সংবিধান ও দেশের আইনকুনুন বোঝার মতো শিক্ষিত হতে হবে নাকি? অথচ আমাদের দেশে কি হচ্ছে? যার টাকা আছে, যার বাহুতে শক্তি আছে অথবা পরিবারতান্ত্রিক ভাবে সংসদে আসছে। তার আমাদের কি দিতে পারে? অথচ আমাদের দেশে যে কোন অশিক্ষিত ব্যাক্তি উপরোক্ত গুন(!) গুলো থাকলেই সংসদ সদস্য হয়ে যেতে পারেন।
**আমার মতে সংসদ সদস্য হতে হলে কমপক্ষে ডিগ্রী পাস হতে হবে।
**সংসদ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার আগে দেশের সংবিধান ও আইন কানুনের উপর ৬ মাসের একটি ডিপ্লোমা কোর্স করে আসতে হবে(যদিও এমন কোন কোর্স নাই, তবে চালু করা উচিত)। তাহলেই সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

