মোবাইল কোম্পানিগুলোর বাঁশ খাইয়া অনেকেই ব্লগে এসে কুঁইকুঁই করতে দেখি। কিন্তু মোবাইল কোম্পানিগুলোকে বাঁশ দিয়ে বগল বাজাতে কাউকে দেখি না। আমি মোবাইল কোম্পনিগুলোকে দুইবার বাঁশ দিয়েছিলাম। কি করে দিয়েছিলাম সেই গল্প শোনেন তবে। সবাই আয়োজন করে বসেন। শুরু করি।
ঘটনা-১: ২০০৫ সনের কথা। তখন আমি সিটিসেল পোস্টপেইড ব্যবহার করতাম। তখন একটি বাসায় আমার চাচাত ভাইসহ ভাড়া থাকতাম। প্রায় প্রতিদিন আমার চাচাত ভাই আমার মোবাইল থেকে যার তার সাথে গালগপ্পো করত। তখন প্রতি মিনিট বিল ছিল সকাল ৮টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ভ্যাটসহ ৪.৫৪ টাকা। প্রিপেইডে ৭টাকার মতো। আমার চাচাতো ভাই আমার মোবাইলে টাকা কম কাটে এই উসিলায় প্রতিদিন আমার ফোন থেকে গ্যাঁজাত। তিনি যেহেতু আমার বড় তাই কিছুই বলতে পারতাম না। শুধু নিজের মনে গ্যাঁজর গ্যাঁজর করতাম।
তখন সিটিসেল একটি প্যাকেজ দিয়েছিল ৪৫০০ টাকার টকটাইম কিনলে সেট ফ্রি। অর্থ্যাৎ সেটটির দাম ছিল ৪৫০০ টাকা। সাথে ৪৫০০ টাকার টক টাইম ফ্রি। একদিন ধুম করে কিনে পেললাম প্যাকেজটি। সেই সাথে পোষ্টপেইড প্যাকেজটি বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। চাচাতো ভাইয়ের অত্যাচারে প্রতিমাসে ৩/৪শত টাকা এমনিতেই বাড়তি দিতে হতো। তার থেকেও মুক্তির উপায় খুঁছিলাম। এখন যেহেতু আমারও প্রিপেইড সেহেতু আমার মোবাইল থেকে আর কম পয়সা খরচের উসিলায় ফাও আর গ্যাজাতে পারবে না।
পোষ্টপেইড লাইনটি বাতিল করার আগে চিন্তায় বসলাম যে সিটিসেল তো আমার থেকে বহুত টাকা মেরে কেটে নিয়েছে। সেখান থেকে কি করে কিছু টাকা ফেরত আনা যায়।
পোষ্টপেইডে আমার লিমিট ছিল ৫০০ টাকা। অর্থ্যাৎ ৫০০ টাকার কথা বলা হয়ে গেলে লাইন কেটে যাবে। কিন্তু আমি আগেই লক্ষ করেছিলাম যে কথা বলার সাথে সাথে ব্যালেন্স আপডেট হয় না। মনে করুন আমি ২০০ টাকার কথা বলার পর আরো ২০ টাকার কথা বললাম। ব্যালেন্স চেক করলে তখনও ২০০ টাকাই বলে। বাকি ২০ টাকা আপডেট হয় অনেক পরে। কখনো কখনো ১/২ ঘন্টা পরে। সুতরাং আমার মাথায় আসল যে আমার ব্যালেন্স যখনই ৫০০ টাকার কাছাকাছি যাবে তার পর থেকে বিরতিহীন কথা বলতে হবে। ব্যালেন্স ৫০০ টাকার কাছে আসার পরই শুরু করলাম সমানে ফোন করা। যত পরিচিত আত্মীয় ও বন্ধু আছে সবাইকে ফোন করি এবং মনের সুখে কথা বলি। সবাই তো মহাখুশি। তারা ভাবছে তাদের খোঁজখবর নেয়ার জন্য ফোন করেছি।
দেশের পরিচিত সবার সাথে মোটামুটি কথা শেষ করার পর দেখি তখনো লাইন কাটেনি। তখন লাগালাম বিদেশে ভাই ভাবির কাছে ফোন। তারা তো আমার ফোন পেয়ে অবাক!! কারণ বিদেশ থেকে তারা সব সময় ফোন করে। দেশ থেকে থেকে তারা বড়জোর মিস কল পায়। আজ স্বয়ং কল হাজির!! তারা ফোন ধরে ভেবেছে কোন জরুরী কারণে ফোন করেছি। আমাকে বলে ''তুমি লাইন কাটো, আমি ফোন দিচ্ছি।'' আমি তাড়াতাড়ি করে বলি তার দরকার নাই। আপনারা কথা বলতে পারেন। তাদের কাছে আচ্ছা মতো কথা বলার পর দেখি লাইন তখনো কাটেনি। এবার কল দিলাম বিদেশে দুলাভাইয়ের কাছে। আমার কল পেয়ে তিনিও অবাক। আমি কথা বলে ভাগিনাকে ফোন দিয়ে বললাম মনের সখ মিটিয়ে কথা বলেনে। সে কথা ৫/৬ মিনিট কথা বলার পর ফোন কেটে দিল। এরপর আবার কল করতে গিয়ে দেখি লাইন কেটে দিয়েছে।
কথা বলে শেষ করে ৩/৪ ঘন্টা পরে ব্যালেন্স চেক করে দিখি ১৬৬০ টাকার কথা বলা হয়েছে।
তারা কিছুদিন ফোন করে ঘ্যানর ঘ্যানর করে যখন দেখল আমাকে ফোন দেয়া মানে অযথা সময় ও এনার্জি নষ্ট তখন বাদ দিল। আমিও তাদের থেকে মুক্তি পেলাম।
মোবাইল কোম্পানিগুলো কোটি কোটি টাকা লুটে নিচ্ছে। আমি তাদের থেকে কিছু অংশ ফেরত নিলাম। এটাকে নিশ্চয় অপরাধ বলবেন না, তাই না???

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

