somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি যেভাবে গ্রামীন ফোন ও সিটিসেলকে বাঁশ দিয়েছিলাম। সিটিসেল পর্ব।

৩০ শে ডিসেম্বর, ২০১০ রাত ১২:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মোবাইল কোম্পানিগুলোর বাঁশ খাইয়া অনেকেই ব্লগে এসে কুঁইকুঁই করতে দেখি। কিন্তু মোবাইল কোম্পানিগুলোকে বাঁশ দিয়ে বগল বাজাতে কাউকে দেখি না। আমি মোবাইল কোম্পনিগুলোকে দুইবার বাঁশ দিয়েছিলাম। কি করে দিয়েছিলাম সেই গল্প শোনেন তবে। সবাই আয়োজন করে বসেন। শুরু করি।

ঘটনা-১: ২০০৫ সনের কথা। তখন আমি সিটিসেল পোস্টপেইড ব্যবহার করতাম। তখন একটি বাসায় আমার চাচাত ভাইসহ ভাড়া থাকতাম। প্রায় প্রতিদিন আমার চাচাত ভাই আমার মোবাইল থেকে যার তার সাথে গালগপ্পো করত। তখন প্রতি মিনিট বিল ছিল সকাল ৮টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ভ্যাটসহ ৪.৫৪ টাকা। প্রিপেইডে ৭টাকার মতো। আমার চাচাতো ভাই আমার মোবাইলে টাকা কম কাটে এই উসিলায় প্রতিদিন আমার ফোন থেকে গ্যাঁজাত। তিনি যেহেতু আমার বড় তাই কিছুই বলতে পারতাম না। শুধু নিজের মনে গ্যাঁজর গ্যাঁজর করতাম। X((

তখন সিটিসেল একটি প্যাকেজ দিয়েছিল ৪৫০০ টাকার টকটাইম কিনলে সেট ফ্রি। অর্থ্যাৎ সেটটির দাম ছিল ৪৫০০ টাকা। সাথে ৪৫০০ টাকার টক টাইম ফ্রি। একদিন ধুম করে কিনে পেললাম প্যাকেজটি। সেই সাথে পোষ্টপেইড প্যাকেজটি বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। চাচাতো ভাইয়ের অত্যাচারে প্রতিমাসে ৩/৪শত টাকা এমনিতেই বাড়তি দিতে হতো। তার থেকেও মুক্তির উপায় খুঁছিলাম। এখন যেহেতু আমারও প্রিপেইড সেহেতু আমার মোবাইল থেকে আর কম পয়সা খরচের উসিলায় ফাও আর গ্যাজাতে পারবে না। :)

পোষ্টপেইড লাইনটি বাতিল করার আগে চিন্তায় বসলাম যে সিটিসেল তো আমার থেকে বহুত টাকা মেরে কেটে নিয়েছে। সেখান থেকে কি করে কিছু টাকা ফেরত আনা যায়। :P যেই ভাবা সেই কাজ। মাথায় একটি দারুন আইডিয়া খেলে গেল। ;)

পোষ্টপেইডে আমার লিমিট ছিল ৫০০ টাকা। অর্থ্যাৎ ৫০০ টাকার কথা বলা হয়ে গেলে লাইন কেটে যাবে। কিন্তু আমি আগেই লক্ষ করেছিলাম যে কথা বলার সাথে সাথে ব্যালেন্স আপডেট হয় না। মনে করুন আমি ২০০ টাকার কথা বলার পর আরো ২০ টাকার কথা বললাম। ব্যালেন্স চেক করলে তখনও ২০০ টাকাই বলে। বাকি ২০ টাকা আপডেট হয় অনেক পরে। কখনো কখনো ১/২ ঘন্টা পরে। সুতরাং আমার মাথায় আসল যে আমার ব্যালেন্স যখনই ৫০০ টাকার কাছাকাছি যাবে তার পর থেকে বিরতিহীন কথা বলতে হবে। ব্যালেন্স ৫০০ টাকার কাছে আসার পরই শুরু করলাম সমানে ফোন করা। যত পরিচিত আত্মীয় ও বন্ধু আছে সবাইকে ফোন করি এবং মনের সুখে কথা বলি। সবাই তো মহাখুশি। তারা ভাবছে তাদের খোঁজখবর নেয়ার জন্য ফোন করেছি।:P আমিও খুশী ফ্রি গ্যাজাইতে পারছি বলে।

দেশের পরিচিত সবার সাথে মোটামুটি কথা শেষ করার পর দেখি তখনো লাইন কাটেনি। তখন লাগালাম বিদেশে ভাই ভাবির কাছে ফোন। তারা তো আমার ফোন পেয়ে অবাক!! কারণ বিদেশ থেকে তারা সব সময় ফোন করে। দেশ থেকে থেকে তারা বড়জোর মিস কল পায়। আজ স্বয়ং কল হাজির!! তারা ফোন ধরে ভেবেছে কোন জরুরী কারণে ফোন করেছি। আমাকে বলে ''তুমি লাইন কাটো, আমি ফোন দিচ্ছি।'' আমি তাড়াতাড়ি করে বলি তার দরকার নাই। আপনারা কথা বলতে পারেন। তাদের কাছে আচ্ছা মতো কথা বলার পর দেখি লাইন তখনো কাটেনি। এবার কল দিলাম বিদেশে দুলাভাইয়ের কাছে। আমার কল পেয়ে তিনিও অবাক। আমি কথা বলে ভাগিনাকে ফোন দিয়ে বললাম মনের সখ মিটিয়ে কথা বলেনে। সে কথা ৫/৬ মিনিট কথা বলার পর ফোন কেটে দিল। এরপর আবার কল করতে গিয়ে দেখি লাইন কেটে দিয়েছে। :|:|:| ভাগিনাকে দিলাম ঝাড়ি। বললাম আরে বেটা আরো কথা বলে নিলেই তো পারতি। কাটলি কেন? না কাটলে হয়তো আরো কিছুক্ষণ কথা বলা যেত।

কথা বলে শেষ করে ৩/৪ ঘন্টা পরে ব্যালেন্স চেক করে দিখি ১৬৬০ টাকার কথা বলা হয়েছে। :P কথা শেষে সিমটাকে উষ্ঠা মাইরা ফালাইয়া দিসি। সিম কেনার সময় কাগজপত্রে অন্য একটি পরিচিত ফোন নং দিতে হয়। তারা সেই নং এ ফোন করে আমাকে অনেকবার বিল পরিশোধ করার জন্য বলেছে। এতে কাজ হয়না দেখে আমাকে ১৬৬০ টাকা থেকে ২০০ টাকার মতো ডিসকাউন্ট দেয়ার লোভ দেখাইছে। আমি তাদের জবাব দিয়েছি আমি নতুন সিম কিনতে পারি ৫০০ টাকা দিয়ে আপনাদের এত টাকা দেব কেন? সব বকেয়া মওকুফ করে দিলে আবার ব্যবহার শুরু করতে পারি। :P

তারা কিছুদিন ফোন করে ঘ্যানর ঘ্যানর করে যখন দেখল আমাকে ফোন দেয়া মানে অযথা সময় ও এনার্জি নষ্ট তখন বাদ দিল। আমিও তাদের থেকে মুক্তি পেলাম। B-)B-)

মোবাইল কোম্পানিগুলো কোটি কোটি টাকা লুটে নিচ্ছে। আমি তাদের থেকে কিছু অংশ ফেরত নিলাম। এটাকে নিশ্চয় অপরাধ বলবেন না, তাই না???
৪৬টি মন্তব্য ৪৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×