somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার বিবাহ সমাচার......... সামুর বন্ধুদের কি না জানিয়ে পারি?

১৫ ই ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ৮:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বিয়েটা যেন একদম ধুম করে মাথার উপর এসে পড়ল। ভাবতেই পারিনি এমন একটা কান্ড হতে পারে। লেখাটা পুরো পড়লে বিয়ে-সমাচারের সাথে ভাল কিছু মজাও পাবেন আমি নিশ্চিত।
বিয়ের জন্য চাপ আসছিল আরো ৭/৮ বছর আগে থেকে। কিন্তু আমাকে কোন ভাবেই রাজি করাতে পারছিল না। এর মধ্যে আরো হাজার ঘটনা, সেদিকে নাহয় না গেলাম।
এই গত রোজার ঈদের পরপর বিয়ের জন্য রীতিমত হুলুস্থল পড়ে যায়। পরিবার থেকে আমাকে জানানো হয় আমি একদম নিশ্চুপ থাকতে হবে। আমার কোন কথাই পরিবার থেকে গ্রহনযোগ্য হবে না।
ঈদের ৪/৫ দিন পর বিকেল ৪টার দিকে ল্যাপটপ নিয়ে বসে আছি। হঠাৎ আমার মা-বাবা ও বোনের আলাপ থেকে বুঝতে পারলাম কনে পক্ষের দুজন লোক আমাদের বাড়িতে আসছেন। শুনেতো আমার আক্কেগুড়ুম! হাতের কাছে যে দুটো ময়লা শার্ট-প্যান্ট ছিল সেগুলো পরে নিলাম, একটি এক্সিডেন্টের কারনে বাম হাত গলার সাথে ঝুলানো। হাত ঢাকা দেয়ার জন্য ময়লা একটা চাদর গায়ে চাপালাম, আর গালে ৪/৫ দিন সেভ না করা দাড়ি। লম্বা লম্বা পা পেলে আমাদের গ্রামের বাজারের ছোট একটা দোকানে গিয়ে বসলাম। আমিও বসলাম আর সাথে সাথে একটি সিএনজি এসে দাঁড়াল সে দোকানের সামনে। সিএনজির লোক গুলো সেখানকার লোকদের আমার বাবার নাম ধরে বাড়ি কোন দিকে জিজ্ঞেস করছিল। আর সেখানকার লোকগুলো আমাকে দেখিয়ে দিল এবং বলল যে ‌‍'ঐযে উনার ছোট ছেলে'। আমিও বুঝলাম একেই বলে 'পড়বি তো পড় মালির ঘাড়ে'। অগত্য উনাদের মুখমোখী হতে হলো। এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম আপনারা কোথা থেকে এসেছেন? কার বাড়ি যাবেন.... ইত্যাদি। এরমধ্যে একজন আমার আব্বার নাম বলে বললেন উনার ছোট ছেলের নাম (.....আমার নাম নাহয় অপনারা নাই জানলেন....) আমি বললাম জি, আমিই সে........ তাদের সামনে পড়ে আমি যেমন বিব্রত, তারাও বিব্রত। তারপর উনারা আমাদের বাড়ি আসলেন, কথাবার্তা বলে চলে গেলেন।

এরপর আমি বাড়ি এসে সবাইকে বললাম তোমাদের বিয়ে ভেস্তে গেছে। কারণ তারা আমাকে যে অবস্থায় দেখেছে তাতে রাজি হওয়ার প্রশ্নই আসে না।

পরদিন বিকেলে আমার ''আক্কেলগুড়ুম'' করে দিয়ে তারা আমাদের বাড়িতে ফোন করে জানালো পাত্র উনাদের পছন্দ হয়েছে। উনাদের মনে হয়েছে পাত্র বেশ ভদ্র, নম্র, লাজুক এবং গুডিগুডি বয়।:P:P:P:P

দুইদিন পর আমাদের পক্ষ থেকে আমার মা, বোন, চাচা, চাচী সেঝ ভাইয়ের শশুর পাত্রী দেখতে গেল। এবং পাত্রী সবাই পছন্দ করে এসছে।:|:| মহামুশকিলে পড়ে গেলাম, একজনও যদি পছন্দ না করত তবে আমার কিছু বলার ছিল। বিশেষ করে আমার মায়ের ইচ্ছে ছোট ছেলেকে একদম নিজের পছন্দে বিয়ে করাবে। এখন আমি কি করে না বলি? এরপর আমার মতামত জানার জন্য সবাই চাপাচাপি শুরু করে। আমি দুই দিই নিশ্চপ ছিলাম। আমার জীবনের সবচে কঠিন দুটি দিন। ৩য় দিন আমার পরিবারের সাথে আমার দুই বন্ধুও এসে যোগ দিল, সবাই মিলে আমার মাথা নষ্ট করে দিচ্ছিল। আমি আসলে নিজে প্রতিষ্ঠিত না হয়ে বিয়ে করতে চাইছিলাম না। পরে বিরক্ত হয়ে বললাম পাত্রীর সাথে আমার কথা বলিয়ে দাও। পরে নাম্বার দিল, কল করার পর পাত্রীর ভাবী ফোন ধরল, এরপর পাত্রির সাথে কথা হলো। আমি পাত্রীর সাথে এমন ভাবে কথা বললাম যাতে পাত্রী নিজেই আমাকে বিয়ে করতে রাজি না হয়। ওমা! আমার কথা শুনে পাত্রীও পটে গেল:|:|
এরপর আমার আর কিছুই বলার থাকে না। পাত্রীকে বললাম আমি তাকে দেখতে চাইনা, কারণ আমার পরিবারের সবাই দেখেছে এবং পছন্দ করেছে সুতরাং এই বিয়ে হবেই সুতরাং আমার দেখা ও পছন্দ অপছন্দের মূল্য নাই। পাত্রী বলল আমি দেখতে না চাইলে সেও দেখবে না। ব্যাস.......... এভাবেই ঘটনা আগাতে থাকল এবং আগামী ২৩ তারিখ বিয়ের তারিখ ধার্য্য হলো। জীবনের প্রথম বারের মতো আমার জন্য কনে দেখা এবং প্রথম বারেই বিবাহ।

পদ্য
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ৯:০৪
৪১টি মন্তব্য ৩৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×