তাদের আসার কথা ছিল দুপুর ২টায়। জানাই ছিল, আসবেন না। তারপরও অপেক্ষা। এক-দুই মিনিট করে ঝাড়া দুই ঘন্টা। নিষ্ফল অপেক্ষার পালা শেষে ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির সভা। যার স্থায়িত্ব মাত্র ১০ মিনিট। সেখানে সিদ্ধান্তণ্ড ছয় ক্রিকেটারের অবসরের চিঠি গ্রহণ করা হচ্ছে না। আজ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) জরুরি সভায় এ নিয়ে আসতে পারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। তবে বিসিবি ফেরার দরজাটা খেলা রেখেছে ‘বিদ্রোহী’দের জন্য। এখনো!
বিসিবি তাদের কাজ করেছে। তবে তাতে খুব একটা লাভ হবে বলে আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে না। আইসিএল-এ আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি সাক্ষর করতে দু’দিন আগেই ভারত গেছেন হাবিবুল বাশার-ধীমান ঘোষ। গতকাল গেলেন শাহরিয়ার নাফিস ও অলক কাপালি। এর মধ্যে শেষজন ছাড়া বাকিরা বিসিবির চুক্তিভুক্ত ক্রিকেটার। তাদের সঙ্গী আফতাব আহমেদ, ফরহাদ রেজা ও মোশাররফ হোসেন রুবেল এখনো দেশ ছাড়েননি। কিন্তু বিসিবির আহবানে সাড়াও তো দেননি। উপরন্তু অনুমিতভাবেই গতকাল অবসরের মিছিলে যোগ দিয়েছেন নাজিমুদ্দিন। এদের কারো অবসরের চিঠিই গ্রহণ করেনি বিসিবি। কেন? কারণটা জানিয়েছেন ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান গাজী আশরাফ হোসেন লিপু, ‘আমাদের সঙ্গে তাদের যে চুক্তি রয়েছে, সেটি ভঙ্গ করে তারা একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এছাড়া তারা সবাই অবসরের চিঠিতে বলেছেন যে ব্যক্তিগত কারণে এই সিদ্ধান্ত। আবার মিডিয়ায় বলছেন ভিন্ন কথা। অর্থাৎ জাতীয় স্বার্থের কথা না ভেবে তারা নিজেদের কথাই কেবল ভাবছেন। এসব বিবেচনায় এনে আমরা এটা গ্রহণ করছি না।’
সেটা না হয় নাই করলেন। কিন্তু তাতেও কি বিপর্যয় ঠেকানো যাবে? কক্ষপথে ফেরানো যাবে বিদ্রোহীদের? জল বহুদূর গড়িয়ে যাবার পরও আশাবাদী শোনালো গাজী আশরাফের কণ্ঠ, ‘আমরা আমাদের দিক থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাব। নির্দিষ্ট দু-একজনকে নয়, আমরা সবাইকেই ফেরাতে চাই। কারণ এদের আমাদের প্রয়োজন। এখনকার জন্য, ভবিষ্যতের জন্যও। বর্তমানে খেলোয়াড় হিসেবে তাদের প্রয়োজনীয়তা আছে। ভবিষ্যতে কোচ, আম্পায়ার, সংগঠক হিসেবে তাদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা আমরা কাজে লাগাতে পারব। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগ পর্যন্ত তাই তাদের ফিরে আসার আহবানই জানাব।’ আর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবার পর বা আইসিএল-এ চুক্তি করার পর কেউ যদি ফিরে আসতে চায়? তাদের জন্যও বিসিবির দরজা খোলা বলে জানিয়েছেন গাজী আশরাফ, আমাদের হাত বাড়ানোই থাকবে। অন্য কেউ সেই হাত ধরতে চাইলে আমরা সবসময় স্বাগত জানাব।’
বিসিবির আজকের জরুরি সভায় ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটি পুরো পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করবে বোর্ডের সামনে। আইসিএল বিষয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) দিকনির্দেশনা জানাবে তারা। এই নিষিদ্ধ ক্রিকেট লিগে খেললে যেসব পদক্ষেপ নেবার সুপারিশ রয়েছে, সে সবই অবহিত করা হবে বোর্ডকে। আর তার সূত্র ধরেই আসবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
আইসিএল-উদ্ভূত এই সমস্যা যে এ বছরই শেষ হচ্ছে না, বিসিবি সেটা ভালোই বোঝে। এই প্রেক্ষিতে কি করা যায়, সেটি বিস্তৃত পরিসরে ভেবে দেখছে তারা। ক্রিকেট অপারেশন্সের চেয়ারম্যান দুটি পদক্ষেপ নেবার কথা তাৎক্ষণিকভাবেই জানালেন, ‘ঘরোয়া ক্রিকেট লিগে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক আরো বাড়ানোর কথা ভাবছি আমরা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও পারফরম্যান্স-ভিত্তিক পারিশ্রমিক বাড়ানো হবে।’ তিনি অবশ্য তথ্যপ্রমাণ দিয়ে দেখালেন যে, জাতীয় দল থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া এইসব ক্রিকেটাররা আর্থিকভাবে কতোটা সচ্ছল ছিলেন। হাবিবুল বাশার, শাহরিয়ার নাফিস, আফতাব আহমেদণ্ডএরা প্রত্যেকেই গত তিন বছরে পারিশ্রমিক হিসেবে বিসিবি থেকে এক কোটি টাকারও বেশি পেয়েছেন! তারপরও তারা আর্থিক অনিশ্চয়তার কথা বলায় বিস্মিতই হয়েছেন গাজী আশরাফ।
আইসিএল-এর সঙ্গে বাংলাদেশের অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুলের সম্পৃক্ততার খবরে অবশ্য তিনি বিস্মিত হননি। কারণ এই সংবাদটা ¯^qs আশরাফুলই নাকি জানিয়েছিলেন তাকে। ‘আশরাফুল এটা আমাকে অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবার আগেই জানিয়েছিলেন। যাদের কাছে প্রস্তাব এসেছিল, তার মধ্যে আশরাফুলের প্রস্তাবটাই তো আর্থিকভাবে সবচেয়ে লাভজনক ছিল। কিন্তু তিনি সেটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। অনেকে বলছেন আশরাফুল যে অন্য খেলোয়াড়দের প্রভাবিত করেছেন, পুরো প্রক্রিয়া যে তার হাত দিয়েই হয়েছিলণ্ডসে প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে। আমরা আহবান করব সেটা আমাদের কাছে হাজির করতে’ণ্ডবলেছেন গাজী আশরাফ । পুরো বিষয়টির একটি সুষ্ঠু তদন্ত করারও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
সূত্র: ইত্তেফাক

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



