নির্বাচন কমিশন ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী ডিসেম্বরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শতাধিক রাজনীতিবিদ প্রার্থী হতে পারছেন না। বিভিল্পু ফৌজদারি মামলায় সাজা হওয়ায় আইনগতভাবেই প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হয়ে পড়েছেন তাদের অর্ধশতাধিক। এছাড়া নেতিবাচক ভাবমহৃর্তির কারণেই নিজ নিজ দল থেকে বাদ পড়বেন আরো প্রায় অর্ধশত। বিএনপির সিনিয়র যুগ্গ্ম মহাসচিব তারেক রহমান ইতিমধ্যেই রাজনীতি ছেড়ে চিকিৎসার জন্য বিদেশে গিয়েছেন। নির্বাচনের আগে তার ফেরার সল্ফ্ভাবনা ক্ষীণ। যারা বাদ পড়ছেন সে তালিকায় বিভিল্পু দলের নেতাদের মধ্যে রয়েছেন- সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, ব্যারিসদ্বার নাজমুল হুদা, শাজাহান সিরাজ, মির্জা আব্বাস, মোহাল্ফ্মদ নাসিম, আবুল হাসানাত আবদুল্ক্নাহ, হারিছ চৌধুরী, জয়নাল হাজারী, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, লুৎফুজ্জামান বাবর, হাজী সেলিম, হাজী মকবুল, শামীম ওসমান, মোসাদ্দেক আলী ফালু, শাহজাহান চৌধুরী, ডা. আবদুল্ক্নাহ মোহাল্ফ্মদ তাহের প্রমুখ।
দেশের রাজনীতি থেকে নেতিবাচক ভাবমহৃর্তির রাজনীতিবিদদের বাদ দেওয়ার ব্যাপারে প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল বিএনপি ও আওয়ামী লীগের কাছ থেকে অঙ্গীকার আদায়ে সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে গত ১২ সেপটেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেছেন সরকারের চার উপদেষদ্বা। খালেদা জিয়া সরকারের এই সিদব্দান্লের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। বলেছেন, ধারাবাহিকভাবে সেটা করা হবে। এরই ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও বৈঠকে বসতে চায় সরকার। শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পরই এ বৈঠক হওয়ার সল্ফ্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া দেশের রাজনীতির গুণগত মান উল্পুয়নে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে এক টেবিলে বসাতে চায় সরকার। দু’নেত্রী একসঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই নেতিবাচক ভাবমহৃর্তির রাজনীতিবিদদের বাদ দেওয়ার ব্যাপারে সিদব্দান্ল নেবেন বলে সরকার আশাবাদী। তারা রাজনৈতিক দলগুলোকে দিয়ে নির্বাচনের আগে একটি জাতীয় সনদ স্বাক্ষক করিয়ে নিতে চায়।
দেশের গণতন্প টেকসই এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে সরকার নেতিবাচক ভাবমহৃর্তির রাজনীতিবিদদের নির্বাচন থেকে দহৃরে রাখতে চায়। যাদের নিয়ে জনমনে প্রশু আছে, এসব রাজনীতিবিদকে নির্বাচন থেকে মাইনাস করাই সরকারের লক্ষ্য। গত বছর দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ল অর্ধশতাধিক রাজনীতিবিদের সাজা হয়েছে বিভিল্পু মামলায়। সাজাপ্রাপ্ট্লদের মধ্যে সাবেক মন্পী-এমপির সংখ্যা ৪০। এছাড়া সল্ফ্ভাব্য এমপি প্রার্থীর সংখ্যা আরো ১০ জনের বেশি।
সংবিধানের ৬৬(২)(ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো ফৌজদারি মামলায় কমপক্ষে দুই বছর কারাদণ্ড হলে এবং এই সাজাভোগ করে মুক্তিলাভের পর পরবর্তী পাঁচ বছরের মধ্যে সাজাপ্রাপ্ট্ল ব্যক্তি নির্বাচনে অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন। একইসঙ্গে জরুরি ক্ষমতা বিধিমালার ১১(৫) ধারায় বলা হয়েছে, এই বিধিমালার অধীন কোনো অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ট্ল হলে এবং দণ্ডের বিরুদেব্দ উচ্চ আদালতে আপিল বিচারাধীন থাকলেও দণ্ডপ্রাপ্ট্ল ব্যক্তি জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ স্ট্থানীয় নির্বাচনে অযোগ্য বিবেচিত হবেন। সাজাপ্রাপ্ট্ল এসব রাজনীতিবিদ ও তাদের স্ট্পী-সন্লানরা জাতীয় সংসদ কিংবা স্ট্থানীয় নির্বাচনে অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। উচ্চ আদালত থেকে জরুরি ক্ষমতা বিধিমালার এ ধারাটি বাতিল না হওয়া পর্যন্ল শাস্ট্লিপ্রাপ্ট্লরা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হিসেবেই থেকে যাবেন।
সাজাপ্রাপ্ট্লদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির ব্যারিসদ্বার নাজমুল হুদা, মির্জা আব্বাস, ব্যারিসদ্বার আমিনুল হক, এম মোর্শেদ খান, শাজাহান সিরাজ, মিজানুর রহমান মিনু, তৈয়বুর রহমান, মীর নাছির উদ্দিন, ব্যারিসদ্বার শাহজাহান ওমর (বীরউত্তম), ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, আমানউল্ক্নাহ আমান, সালাহউদ্দিন আহমেদ, জিয়াউল হক জিয়া, লুৎফুজ্জামান বাবর, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সাবেক সাংসদদের মধ্যে মোসাদ্দেক আলী ফালু, আলী আসগার লবী, ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী, রশিদুজ্জামান মিল্ক্নাত, হাফিজ ইব্রাহিম, আবদুল ওয়াদুদ ভুঁইয়া, সাবেক অর্থমন্পী এম সাইফুর রহমানের ছেলে এম নাসের রহমান, খালেদা জিয়ার ভাগ্গেু ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম তুহিন। এছাড়া এবারের নির্বাচনে বিএনপি থেকে সল্ফ্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে হারিছ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার, গিয়াসউদ্দিন আল মামুন, বিএম বাকির হোসেনেরও সাজা হয়েছে।
সাজাপ্রাপ্ট্লদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ মোহাল্ফ্মদ নাসিম, আবুল হাসানাত আবদুল্ক্নাহ, ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, কাজী জাফরুল্ক্নাহ, মোঃ মহিউদ্দিন, শেখ হেলাল, ডা. এইচবিএম ইকবাল, এফএম মোস্ট্লফা রশিদী সুজা, হাজী মোহাল্ফ্মদ সেলিম, হাজী মকবুল আহমেদ, শামীম ওসমান, জয়নাল হাজারী, পগ্ধকজ দেবনাথ প্রমুখ রয়েছেন।
এছাড়া জেপির চেয়ারম্যান সাবেক যোগাযোগমন্পী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও তার স্ট্পী সাবেক সাংসদ তাসমীমা হোসেন, জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সাংসদ শাহজাহান চৌধুরী এবং ইসলামী ঐক্যজোটের মুফতি শহিদুল ইসলামের সাজা হওয়ায় তারা নির্বাচনে অযোগ্য হয়ে পড়েছেন।
সাজাপ্রাপ্ট্ল ব্যক্তিরা ছাড়াও দেশের রাজনীতিতে নেতিবাচক ভাবমহৃর্তি রয়েছে এমন ব্যক্তিরা হলেন তারেক রহমান, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, মজিবর রহমান সরোয়ার, জয়নাল আবেদীন ফারুক, ইলিয়াস আলী, নাসিরউদ্দিন আহল্ফ্মেদ পিন্টু, ডেমরার সালাহউদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের কামাল আহমেদ মজুমদার, আলতাফ হোসেন গোলন্দাজ, শাহজাহান খান, জামায়াতে ইসলামীর ডা. আবদুল্ক্নাহ মোহাল্ফ্মদ তাহের, জাতীয় পার্টির গোলাম ফারুক অভিসহ অনেকে।
এসব ব্যক্তির বিরুদেব্দ দুর্নীতিসহ একাধিক মামলা থাকলেও অনেক মামলার কার্যত্রক্রম স্ট্থগিত রয়েছে। তাদের বিরুদেব্দ দায়ের করা মামলায় আগামী নির্বাচনের আগে বিচার প্রত্রিক্রয়া শেষ না হলেও তাদের প্রার্থিতা থেকে দহৃরে রাখতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ রাজনৈতিক দলকে রাজি করাতে সরকার কাজ শুরু করেছে। নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার আগেই সরকারের পক্ষ থেকে রাজনীতিতে বিতর্কিত ব্যক্তিদের একটি করে তালিকা নিজ নিজ দলের চেয়ারপারসনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতে পারে বলে একাধিক সহৃত্রে জানা গেছে। গোয়েন্দা সংস্ট্থাগুলো ইতিমধ্যেই খসড়া তালিকা তৈরি করেছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



