আইসিএল-এর সঙ্গে চুক্তি করে বুধবার বিকালে দেশে ফিরেছেন হাবিবুল বাশারসহ অন্যরা। ফিরেই শুনেছেন ক্রিকেট বোর্ডের শাস্তির খবর। তারপর তার প্রতিক্রিয়া, আইসিএল-যাওয়ার পেছনের যুক্তি এসব অনেক কিছু নিয়েই বিডিনিউজ টোয়েন্টিাফোর ডটকমের ক্রীড়া প্রতিবেদক মাসুদ পারভেজ কথা বলেছেন তার সঙ্গে।
প্রশ্ন : ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্তটা নিশ্চয়ই শুনেছেন। প্রতিক্রিয়াটা তো খুব ভালো হওয়ার কথা নয়।
হাবিবুল বাশার : হ্যাঁ, শুনেছি। শুনে খুব খারাপই লাগছে। এতো বড় শাস্তি দেওয়ার মতো কোনো কাজ করেছি বলে মনে হয় না। আমরা তো কোনো অপরাধ করতে ভারতে যাইনি। কিংবা কোনো অনৈতিক কাজও করতে যাইনি। আমরা ওখানে ক্রিকেট খেলতেই গিয়েছিলাম।
প্রশ্ন : কিন্তু এরকম কিছূ যে হবে তা তো আপনাদের জানাই ছিল নাকি...
হাবিবুল : জানতাম যে কোনো একটা ব্যবস্থা হয়তো নেওয়া হবে। কিন্তু এতোটা কঠোর হবে একদমই আশা করিনি। যদি এমন হত যে বেটিংয়ের মতো ন্যাক্কারজনক কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িয়েছি, তাহলে মাথা নীচু করে এই শাস্তি মেনে নিতাম। কিন্তু আমরা কী সেরকম কিছূ করেছি? আমি আবারো বলছি আমরা কোনো ক্রাইম করতে যাইনি। গিয়েছিলাম ক্রিকেট খেলতে।
প্রশ্ন : আজ (বুধবার) বিকেলে ভারত থেকে ফেরার পরও খুব উৎফ্ল্লু ছিলেন। আর সন্ধ্যায় বিসিবির শাস্তির কথা শুনলেন। এ তো দেখছি সেঞ্চুরি করার পরের ম্যাচেই শূন্য রানে আউট হওয়ার মতো অভিজ্ঞতা।
হাবিবুল : নিষেধাজ্ঞার কথা শোনাটা মোটেই সুখকর কোনো অভিজ্ঞতা নয়। জানেন, ওইখানে কিন্তু আমাদের ভীষণ রেসপেক্ট করা হয়েছে। বাংলাদেশের একটা দল খেলতে গেছে, এটাকে ভারতের মিডিয়াও খুব পজিটিভলি নিয়েছে। মঙ্গলবার জমকালো একটা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে একশোর মতো সাংবাদিকও উপস্থিত ছিলেন। এসব কিছুই কিন্তু আমাদের জন্য।
প্রশ্ন : ওই অনুষ্ঠানে দেখলাম আপনাদের 'বিদ্রোহী' হিসেবে চিহ্নিত না করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
হাবিবুল : এখানে ভারতের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কপিল দেবের কথাগুলো আপনাদের শোনাতে চাই। তিনি পরিষ্কার বলেছেন, "আমরা চাই ওরা বাংলাদেশের হয়ে খেলুক। এখানে খেলতে এসে ওরা তো কোনো পাপ করেনি। জাতীয় দলের ডাক আসলে আমরা ওদের ছেড়ে দেব।" এমনকি আইসিএলের খেলা চলার সময়ও আমাদের ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
প্রশ্ন : কিন্তু এখন আপনাদের জাতীয় দল তো বটেই, দেশেরও কোনো টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ রাখা হয়নি।
হাবিবুল : এটা দুঃখজনক। দেশের হয়ে এতোদিন খেলার পর এধরনের নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হওয়াটা মেনে নেওয়া কঠিন। অথচ আইসিএলে কিন্তু বাংলাদেশেরই একটা দল খেলবে। আমরা সেখানে ভালো খেললে দেশেরই সুনাম। তাছাড়া এই টুর্নামেন্টকে তো আইসিসিও নিষিদ্ধ করেনি।
প্রশ্ন : তাই বলে আইসিসি অনুমোদনও দেয়নি।
হাবিবুল : কিন্তু আমাদের নিষিদ্ধ করতেই হবে এমন কথাও তো কেউ বলছে না। আজ (বুধবার) সকালে ভারতের হিন্দুস্তান টাইমস পত্রিকা পড়ে আসলাম। সেখানে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের একটা ভাষ্য তুলে ধরা হয়েছে। বিসিসিআইয়ের তরফ থেকে বলা হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড যদি আমাদের আইসিএলে খেলার অনুমতি দেয় তাহলে তাদের কোনো সমস্যা নেই। বিসিবি আমাদের নিষিদ্ধ না করলেও পারতো।
প্রশ্ন : এখন তাহলে কী করবেন বলে ঠিক করেছেন?
হাবিবুল : আমরা বোর্ডের সাথে কথা বলতে চাই। জানাতে চাই আমাদের কথা। আইসিএলের সঙ্গে কী ধরনের চুক্তি হয়েছে তা সবাইকে জানাতে চাই। জানানো গেলে দেখবেন অনেক ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়ে গেছে। আমাদের নিয়ে ধোঁয়াশাও তখন আর থাকবে না।
প্রশ্ন : বোর্ড তো আপনাদের আলোচনার টেবিলে স্বাগত জানিয়েছিলই। তখন না এসে এখন আবার বসতে চাইছেন।
হাবিবুল : বোর্ড যখন চিঠি পাঠায় তখন আমি দেশে ছিলাম না। এখন এসেছি। এখন বসতে চাই।
প্রশ্ন : আইসিএলে খেলার জন্য অন্য ক্রিকেটারদের অনুপ্রাণিত করার অভিযোগ উঠেছে কারো কারো বিরুদ্ধে। আপনি কী বলেন?
হাবিবুল : দেখুন, আমি সিনে (দৃশ্যপটে) এসেছি অনেক পরে। দল গড়ার কাজ অনেকদূর এগিয়ে যাওয়ার পর আমার সঙ্গে কথা হয়। ভারতীয় এজেন্ট আশরাফুলের রেফারেন্স দিয়ে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে।
প্রশ্ন : আপনি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে পৌছে গেছেন বলে ধরা হচ্ছে। কিন্তু আফতাব, নাফীসদের মতো তরুণদের আইসিএলে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আপনার কোনো ভূমিকা....
হাবিবুল : আমি নিশ্চিত করে বলতে চাই, আমার সঙ্গে কথা হওয়ার অনেক আগেই ওরা আফতাব ও নাফীসকে কনফার্ম করে ফেলেছিল। আসলে টিমটা হয়ে গিয়েছিল অনেক আগেই। আরো অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করে ওদের না পাওয়াতেই হয়তো আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। কেউ যদি আমার সামনে দাঁড়িয়ে বলতে পারে আমি তাকে আইসিএলে খেলার অফার করেছি, তাহলে সবকিছু ছেড়ে দিব।
প্রশ্ন : ক্রিকেটারদের সংগঠনও আপনাদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। মঙ্গলবার তাদের সংবাদ সম্মেলনে সাবেক ক্রিকেটাররা বলেছেন, বিভিন্ন সময়ে কোচরা তাদের সঙ্গেও অনেক বাজে ব্যবহার করেছেন। কিন্তু তারা সেগুলো প্রকাশ্যে নিয়ে আসেননি। আপনি জেমি সিডন্সের সঙ্গে দূরত্বের বিষয়টা সামনে নিয়ে এসে ভালো কাজ করেননি বলে মন্তব্য করেছেন তারা।
হাবিবুল : আমার সঙ্গেও এমন অনেক কিছূ ঘটেছে যা আমি কখনোই বলিনি। কিন্তু এবার যখন আমাকে ভিলেন বানানোর চেষ্টা করা হল তখন বাধ্য হয়েই এসব বলতে হয়েছে আমাকে।
প্রশ্ন : ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি আপনাদের আহ্বান জানিয়েছেন সিদ্ধান্তটা পুনর্বিবেচনার জন্য। সেরকম কোনো সম্ভাবনা আছে কি?
হাবিবুল : এখন তো বোধহয় আর সেরকম সুযোগ নেই। কারণ আমরা আইসিএল-এর সঙ্গে চুক্তিটা স্বাক্ষর করে ফেলেছি। তবে আইসিএল-এ খেলেও তো জাতীয় দলে খেলা সম্ভব।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এমপি/এমএম/২০৫৫ঘ.

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

