somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইলিশের পুকুরপ্রাপ্তি

১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ দুপুর ২:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম খবর দিয়েছে যে চাঁদপুরে মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের পুকুরে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করা ইলিশ পোনাগুলোর আকৃতি বেড়েছে। জাটকা থেকে পরিণত ইলিশে পরিণত হওয়ার পথে কয়েক মাস আগে ছাড়া পোনাগুলো। ইনস্টিটিউটের ইলিশ গবেষকরা নাকি ১৪ বছর ধরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এ সিদ্ধান্তে পৌছান যে বদ্ধ জলাশয়েও ইলিশের উৎপাদন সম্ভব। আমাদের মনে আছে, গত মে মাসে ইলিশের পোনা পুকুরে ছাড়ার খবর এ খবর দেশীয় সংবাদমাধ্যম তো বটেই, বিদেশেও বেশ মনোযোগ আকর্ষণ করেছিল।
হৈ চৈ পরবারই কথা। সন্দেহ নেই, এর আগেও পাঙ্গাসসহ নদীজীবি কয়েকটি মাছ পুকুরে চাষযোগ্য করে তোলার ক্ষেত্রে আমাদের গবেষকরা সাফল্য পেয়েছিলেন; কিন্তু ইলিশ বলে কথা। আমরা নদী থেকে ধরে আনলেও ইলিশ মহৃলত সামুদ্রিক মাছ। নেহায়েত ডিম ছাড়ার প্রয়োজনে সাগর ত্যাগ করে। কারণ ইলিশের ডিম ফোটার জন্য মিঠা পানি ও প্রবল স্রোত প্রয়োজন। এজন্য সাগরের ইলিশ স্রোতস্বিনীতে এসে ডিম ছাড়ে। ইলিশের পোনা বা জাটকা নদীতেই বেড়ে ওঠে এবং এক পর্যায়ে, যখন উজানের ঘোলা পানি ভাটিতে গড়াতে থাকে, মাতৃ বা পিতৃভূমি সাগরে ফিরে যায়। ডিম ছাড়ার উপযোগী হলে আবার উজানে পাড়ি জমায়। সুতরাং সামুদ্রিক ইলিশকে পুকুরে বন্দী করার খবর তো সাড়া ফেলবেই।
অবশ্য যত সহজে খবর তৈরি করা সম্ভব হয়েছে, উৎপাদনের বিষয়টি তত সহজ হবে বলে মনে হয় না। হাজার হাজার বছর ধরে ইলিশ সাগর-নদীর সমন্বয়ে যে জীবনচক্র গড়ে তুলেছে, সেটাকে পুকুরের উপযোগী করা খুবই কঠিন। যতটুকু বোঝা যাচ্ছে, ইলিশের ডিম ছাড়া ও বাচ্চা ফোটার কাজটি আগের মতোই থাকবে; নদী থেকে জাটকা ধরে এনে পুকুরে প্রতিপালন করা হবে। সেখান থেকে বাজার। বুদ্ধি মন্দ নয়। কেউ কেউ এ নিয়ে ‘পুকুরের ইলিশ’ সংক্রান্ত বহুল আলোচিত রসিকতাটির পুনরাবৃত্তিও করতে পারেন; কিন্তু নতুন উদ্যোগটি নিছক রসিকতার বিষয় নয়। নয় কেবল মৎস্য উৎপাদনের ব্যাপার।
প্রথমত, জাটকা থেকে আহরণযোগ্য ইলিশে পরিণত হতে মাছটিকে লোনা পানিতে বাস করতেই হবে। বদ্ধ জলায়শ বা পুকুরে কীভাবে লোনা পানি পাওয়া যাবে? উপকূলীয় অঞ্চলে চিংড়ি ঘের করার ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি বাইরে থেকে লোনা পানি ঢোকানো হয়েছে। এতে করে তথাকথিত সাদা সোনা পাওয়া গেছে বটে, ওই অঞ্চলে ভূমির বারটা বেজেছে। লবণাক্ত ভূমিতে আর কোন চাষাবাদ কঠিন হয়ে পড়েছে। ইলিশ চাষের ক্ষেত্রেও যদি পুকুরে লোনা পানি ঢোকানো হয়, তাহলে আমাদের জন্য অপক্ষা করছে আঠারো আনা বিপর্যয়।
দ্বিতীয়ত, সাগরের ইলিশকে পুকুরে টেনে আনার সঙ্গে প্রাণসম্পদ অধিকারের বিষয়টিও জড়িত। এ সংক্রান্ত বৈশ্বিক চুক্তি ট্রিপস-এ ভৌগলিকভাবে নির্দেশিত প্রাণ ও প্রক্রিয়া নিবন্ধনের সুযোগ রাখা হয়েছে। ইলিশ যদিও বঙ্গোপসাগর ও আশপাশের মাছ, গঙ্গা-যমুনা-মেঘনা নদীঅঞ্চলই এর মূল আহরণ কেন্দ্র। পদ্মার ইলিশকে এখনও শ্রেষ্ঠ মান্য করা হয়। ইলিশের সঙ্গে বাঙালির রসনার সম্পর্কটিও যেন অলিখিত প্যাটেন্ট হয়ে আছে। এখন পুকুরে যদি চাষ করা সম্ভব হয়, তাহলে সেটা সারা বিশ্বের বদ্ধ জলাশয়েই স্থানান্তর সম্ভব। তাহলে বিশ্বখ্যাত মাছটির ওপর আমাদের অধিকার কি অক্ষুন্ন থাকবে? প্রাকৃতিক স্বাদ ও গুনের প্রশ্নটিতো থাকলোই।
তৃতীয়ত, প্রাকৃতিক সম্পদের বাণিজ্যিকীকরণের বিরোধীতা যারা করেন, ইলিশের পুকুরপ্রাপ্তি তাদের জন্যও নিঃসন্দেহে দুঃসংবাদ। এখনও ইলিশ বাজারজাত হয়, রফতানি হয়; কিন্তু এর সঙ্গে দফায় দফায় বিপুল জনগোষ্ঠীর জীবিকার নিশ্চয়তা থাকে। পুকুরে উৎপাদন সম্ভব হলে যে কোন জাতীয় বা বহুজাতিক কোম্পানি অনায়াসে নিজের ব্রান্ডের ইলিশ উৎপাদন করে বাজার দখলে নিয়ে নিতে পারবে। ইলিশনির্ভর জনগোষ্ঠীর কী হবে?
চতুর্থত, জীববৈচিত্র্য শেকলে ইলিশের যে অবদান, মাছটিকে পুকুরে তোলা হলে তাই বা পূরণ হবে কী দিয়ে?
পুকুরে ইলিশ উৎপাদনের উদ্যোগের পেছনে নদীর নাব্যতা ও দূষণের কথা বলছেন গবেষকরা। কিন্তু সেজন্য নদীকে দহৃষণমুক্ত না করে বা নাব্যতা ফিরিয়ে না এনে খোদ ইলিশই সরিয়ে নেবার উদ্যোগ?
কী হাস্যকর!
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৩৯
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×