আমার বিষন্নতার কথা

২৩ শে মে, ২০০৮ দুপুর ১২:৩২

শেয়ারঃ
0 0 0

প্রবাস জীবনে যা হয় আর কি? একটু ফুরসত পেলেই গল্প করতে বসে যাই। আমার বাসা থেকে দু ব্লক দুরেই একটা গ্রোসারী। ওখানে এক বাঙ্গালী ছেলে কাজ করে, নাম মামুন । মামুন হলো গল্পের রাজা, ওর গল্প বলার ভঙ্গীটা মোহিত হবার মত। মামুন যখন গল্প বলতে শুরু করে আমি তা হা করে গিলে গিলে খাই। আজ রোববার, ছুটি। সন্ধার দিকে আমি হাটতে হাটতে মামু্নের গ্রোসারীতে চলে গেলাম। একটা কফি হাতে কিছুক্ষন পত্রিকার পাতা উল্টে-পাল্টে অঢেল উদ্ভট খবরগুলো গলাধঃকরন করে ক্রমশঃ মন হাঁপিয়ে উঠতে লাগলো। বাসায় ফিরতে মন টানছিলনা একেবারেই; হাতে তখনও অঢেল সময়, কিছুই করার নেই। মামুনকে বললাম “অনেকদিন তোমার গল্প শোনা হয়নি-একটা গল্প বল শুনি”

হাতের কাজগুলো শেষ করে মামুন বলল,

গল্প শুনবেন? তাহলে একটা পুরানো গল্প বলি।

বল।

এক ছিল চাষীপুত্র; চাষীপুত্রের পিতা অর্থাত চাষা মারা গেছেন অনেক আগেই। দুখিনী মায়ের সাথেই চাষীপুত্রের বসবাস। তো, চাষীপুত্র একবার ভয়ানক প্রেমে গেলো, আকাশ ছোয়া প্রেম।

কার প্রেমে?

কার আবার? রাজকন্যার। সে এমন প্রেম যে চাষীপুত্রের চোখে কোন ঘুম নেই, পেটে দানা পানি পড়েনা, কেঊ কি হয়েছে জিজ্ঞেস করলে উত্তরও দেয় না। দুখিনী মা এসে মাথায় হাত বুলিয়ে জিজ্ঞেস করে কি হয়েছে খোকা? ছেলে কোনো কথা বলেনা, কেবলি কাঁদে। ছেলের কষ্টে মায়ের বুক হাহাকার করে উঠে, মা-ও কাঁদে। অবশেষে ছেলে মাকে জানায় রাজকুমারীর কথা। মা ভেবে পায় না কি করে এই বোকা ছেলেকে সে সান্তনা দেবে। মা বলে আহারে খোকা আমার, যদি জানতাম কি পেলে রাজকুমারী তোকে ভালোবাসবে তাহলে তাই দিয়ে তাকে বউ করে নিয়ে আসতাম।

মায়ের সান্তনায় বোকা ছেলের মাথায় বুদ্ধির উদয় হয়; সে দৌড়ে যায় রাজকুমারীর কাছে। চাষীপুত্র রাজকুমারীকে তার মনোবাসনার কথা বর্ণনা করে এবং এও জানায় যে তার মা বলেছে যে রাজকুমারী যা চায় তাই তাকে দেয়া হবে। রাজকুমারী তখন সখীসঙ্গে ক্রীড়ায় মত্ত। পাগলের কথা শুনে সে হেসে কুটি কুটি, বলে তোমার মা তাই বলেছে বুঝি? যাও তবে তোমার মায়ের হৃতপিন্ডটি ছিড়ে নিয়ে এসো, ও দিয়ে আমি খেলা করব।

রাজকুমারী রাজী হয়েছে, এই তো সবচেয়ে বড় পাওয়া--এই ভেবে ছেলে দৌড়ে যায় মায়ের কাছে এবং মাকে রাজকুমারীর আব্দারের কথা বলে। মা’ তার বুক খুলে ছেলেকে বলে একটা কুড়োল দিয়ে এ বুকটা চিরে নিয়ে যা আমার হৃতপিন্ড, তাতে যদি তুই সুখী হোস আমার কোন কষ্ট নেই। ছেলে রাজকুমারীর প্রেমে কাতর, মায়ের কথা ভেবে দেখার ফুরসত তার নেই। তড়িত গতিতে, ঘরের বেড়ার ফাঁক থেকে কুড়োলটা নিয়ে এসে এক কোপে মায়ের বুকটাকে অর্ধেক করে ফেলে। তারপর, তাজা-রক্তে পিছল হয়ে যাওয়া হৃতপিন্ডটা দু হাতে খাবলে ধরে দৌড়াতে থাকে রাজকুমারীর বাড়ীর দিকে।.........পাহাড় পর্বত ডিঙ্গোতে যেয়ে ছেলে হোচট খেয়ে মাটিতে থুবরে পড়ে, হাত থেকে পিছলে দুরে ছিটকে পড়ে মায়ের তখনো জীবিত হৃতপিণ্ডটা। ব্যথা পেয়ে ছেলে কোঁকাতে থাকে আর মায়ের হৃতপিন্ডটা বলে ঊঠে “খুব ব্যথা পেলি রে খোকা?”

এ গল্পটা আমি আগেও শুনেছি কিন্তু মামুনকে তা বলার মতো শক্তি আমার ছিলনা, কেমন যেন পাথরের মতো দাঁড়িয়ে রইলাম। গল্প শেষ হলো আর আমার মনটা ভালো হওয়ার চেয়ে যেন হাজারওগুন বেশী খারাপ হয়ে গেলো। আমি বললাম মামুন আজ যাই তবে।

বাসায় এসে শুয়ে পড়লাম, রাতে আর কিছু খেতে ইচ্ছে হলোনা। বার বার মনে হতে থাকলো এ যেন আমার-ই জীবনের গল্প, কেন তা মনে হচ্ছে তার কোন হদিস পেলাম না। চিন্তাগুলো ক্রমশঃ জট পাকাতে লাগলো, জানালার ফাঁক দিয়ে এক চিলতে বিদেশী চাঁদ কেমন যেন এক কবরের নিঃশব্দতা বুনে চলছে আমার ঘরে।

হঠাত মনে হলো আমিও কি সেই ছেলে নই যে মায়ের নাড়ী ছিড়ে সহস্র মাইল দুরে পাড়ি জমিয়েছে কোনো এক অদেখা রাজকুমারীর লোভে? রাজকুমারী মিলবে বলেইতো আমি আজ মা-মাতৃভুমি ত্যাগ করে এই অদৃশ্য-মরীচিকাকে ধাওয়া করে চলেছি। আর কত দূর যেতে হবে আমায়? মা-মাটি-মাতৃভুমিকে নিজের স্মৃতিতে কবর দিয়েছি কোন অভীপ্সাকে সার্থক করব বলে? হায়! যদিবা চলার পথে কখনও মুখ থুবড়ে পড়ি এই বিদেশ বিভুয়ে, পৃথিবীর অন্যপ্রান্ত থেকে সেই চিরন্তন মা বুঝি আমার পতনধ্বনি শুনতে পেয়ে বলে উঠবে, “খুব ব্যথা পেলি রে খোকা?”

ধুত কি সব ভাবছি বলুন তো? আমার মাথাটাই বুঝি খারাপ হয়ে যাচ্ছে। সব ঠিক হয়ে যাবে কাল, কাজের চাপে এসব ভাবনার আর কোনো সুযোগ-ই পাওয়া যাবে না। তারচেয়ে বরং দুটো ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে নিই...............আয় ঘুম আয়। আয় আয় চাঁদ মামা টিপ দিয়ে যা, চাঁদের কপালে চাঁদ টিপ দিয়ে যা............

 

সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৭ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৩ শে মে, ২০০৮ দুপুর ১২:৩৫
ৈবেদশী বলেছেন: ভালা পড়তাছি>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>
২৩ শে মে, ২০০৮ দুপুর ১২:৩৯

লেখক বলেছেন: না পইড়াই ভালা?

২৩ শে মে, ২০০৮ দুপুর ১২:৪২

লেখক বলেছেন: অযোগ্য মানুষের লেখাকে সমুহ সম্মান দেয়ায় ধন্যবাদ।

৩. ২৩ শে মে, ২০০৮ দুপুর ১২:৪২
ৈবেদশী বলেছেন: মায়ের নাড়ী ছিড়ে সহস্র মাইল দুরে পাড়ি জমিয়েছে কোনো এক অদেখা রাজকুমারীর লোভে? রাজকুমারী মিলবে বলেইতো আমি আজ মা-মাতৃভুমি ত্যাগ কর এই অদৃশ্য-মরীচিকাকে ধাওয়া করে চলেছি। আর কত দূর যেতে হবে আমায়? মা-মাটি-মাতৃভুমিকে নিজের স্মৃতিতে কবর দিয়েছি কোন অভীপ্সাকে সার্থক করব বলে? হায়! যদিবা চলার পথে কখনও মুখ থুবড়ে পড়ি এই বিদেশ বিভুয়ে, পৃথিবীর অন্যপ্রান্ত থেকে সেই চিরন্তন মা বুঝি আমার পতনধ্বনি শুনতে পেয়ে বলে উঠবে, “খুব ব্যথা পেলি রে খোকা?”

অসাধারন অইছে। এক্কেবারে আমার মনের লাহান কথা। আিমও পরবাসে।
২৩ শে মে, ২০০৮ দুপুর ১২:৪৫

লেখক বলেছেন: এইডা ভাই আমার অচেতন মনের কথা, সচেতনে এইসব কথা জোর কইরা ভুইলা থাকি...............

৪. ২৩ শে মে, ২০০৮ দুপুর ১২:৫৩
ৈবেদশী বলেছেন: ভুইলা থাহনই ভালা

পরবাস বহুত কষ্টের ..................................
৫. ২৩ শে মে, ২০০৮ দুপুর ১২:৫৬
ৈবেদশী বলেছেন: আমার ভালা লাগেনা পরবাসে, মায়ের কাছে যাইবার মন চায়। কিন্তুক যাইবার পারছিনা। কখনযে মায়েরে দখুম , শান্তি পামু...................
২৩ শে মে, ২০০৮ দুপুর ১:৫০

লেখক বলেছেন: সেই আশাতেই হাল ধরে আছিরে ভাই............জীবনের হাল।

আমার কিন্তুক এও মনে হয় যে পরবাসেই বোধহয় দ্যাশ-প্রেমটা বেশী জাগে............

২৩ শে মে, ২০০৮ দুপুর ১:৪৭

লেখক বলেছেন: হুমমম......!!!

৭. ২৩ শে মে, ২০০৮ দুপুর ১:৫৪
বিপ্র বলেছেন: চোখটা ঝাপসা হয়ে এলো ঠাকুরদা...
২৩ শে মে, ২০০৮ দুপুর ২:৩৮

লেখক বলেছেন: এ কান্না একেবারে হৃদয়ের............

২৩ শে মে, ২০০৮ দুপুর ২:৩৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ প্রচেত্য.....................তবে আমি সত্যিই কুলাঙ্গার।

৯. ২৩ শে মে, ২০০৮ দুপুর ২:২০
রাফা বলেছেন: মনটা বিষন্ন হয়ে গেল ।তবুও তো মায়ের কাছে ফিরে যেতে পারবেন কিন্তু আমি তো কোন কিছুর বিনিময়েই মাকে ফিরে পাবোনা।
২৩ শে মে, ২০০৮ দুপুর ২:৫০

লেখক বলেছেন: মাঝেমাঝে আমি খুব ভাবি মা'রা কেন চলে যায়.........পৃথিবীর সব মা' বেঁচে থাকুক নদীর মতো আর আমাদের হৃদয় জরামুক্ত হোক তাদের ভালোবাসার প্রবাহে।

আপনার মা'এর প্রতি আমার অসীম শ্রদ্ধা রইল, তিনি যেখানেই থাকুননা কেন ভালো থাকুন অন্তত আমাদের মতো সন্তানদের মাথার উপর.....................

২৩ শে মে, ২০০৮ দুপুর ২:৫১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ অরুনাভ।

২৩ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৫:২৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ দুরন্ত।

তোমার লেখাগুলোও কিন্তু ভালো হচ্ছে, যদিও অনলাইনে খুব বেশী সময় না দিতে পারায় তোমার ব্লগে নিয়মত যেতে পারছিনা তবে সুযোগ পেলেই বাকীর খাতা পুরণ করে দেই একবারে পড়ে।

সামহোয়ার ব্লগটা কিন্তু আসলেই মজার জায়গা............ দেশ থেকে দূরে থেকেও বাংলা চর্চার সুযোগ ! এই বা কম কি বল?



১২. ২৩ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৫:৪২
দূরন্ত বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ। তা ঠিক। আমি আগামী দুই মাস ব্লগিং কমিয়ে দিবো। পড়াশোনার বারোটা বাজতেছে।
১৩. ২৩ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৫:৪৭
ঠাকুরদা বলেছেন: হে......হে............আর আমার পরীক্ষা আইজকা "বারোটায়"

বারোটার পরীক্ষারেতো মনে হয় ব্লগিং করতে করতেই বারোটা বাজায়া দিমু...............

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৮৬৯ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
দুইন্নাডা যেমুন ভালো তেমুনই খারাপ। হালার মানুষ আমরা পেত্যেকদিন কত্য হেডং দেহাই। রং বেরংগের তামশা চলে দুইন্নার অলিতে গলিতে।...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই