somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রচনা খান ,পড়ুন। না পড়লে জানবেন কেমনে?:):):):)

০৬ ই এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৩:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রচনা খান ,পড়ুন। না পড়লে জানবেন কেমনে?
অনেকেই রচনা লিখে অনেক পুরস্কার পেয়েছে।
আমি কোনদিন রচনা লিখতে পারি না। সেই জন্য আমি রচনা পড়তে ভালবাসি, তেমনি পড়তে গিয়ে একজায়গায় আটকে গেলাম!!!!
।.

।.


পড়লাম তাও আবার গরু রচনা। না এই রচনা মানুষে লিখে নাই লিখেছে "গরু"
তাই আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম রচনা খানি






বকনা বাছুরের লেখা রচনা
মানুষ একটা স্বার্থপর প্রজাতির জীব। কারণ সে সব সময় তক্কে তক্কে থাকে, কখন আমার মায়ের দুধ দুইয়ে খেয়ে ফেলতে পারবে। নিজেরা তো দুধ খায়ই, বাকিটা বিক্রি করে দেয় মোড়ের চায়ের দোকানদারের কাছে। মানুষের কান, নাক, গলা—সবই আছে। শুধু গলায় আমার মতো দড়ি থাকে না। তবে কেউ কেউ যে গলায় দড়ি পরে না, তা কিন্তু নয়। এই দড়িকে অবশ্য চেইন বা মালা বলা হয়। তবে এই দড়ি দিয়ে তাদের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয় না। মানুষের মাথায় কালো কালো লোম থাকে। তারা সেই লোম ছোট করার জন্য মাসে একবার সেলুনে যায়। মানুষ কানে আমাদের চেয়ে অনেক খাটো। তবে সেই কানে তারটার লাগিয়ে তাদের গান শুনতে দেখা যায়। মানুষ এমনিতে কথা বলতে পারলেও ঘুমালে আর কথা বলতে পারে না। মানুষের মধ্যে একটা জাত আছে, যাদের বলা হয় পশু ডাক্তার। তারা আমাদের কোনো অসুখবিসুখ হলেই সাইকেল নিয়ে দৌড়ে আসে। উপকারী প্রাণী হিসেবেও মানুষ মন্দ নয়। কারণ তারা প্রতিদিন সকালে আমাদের থাকার ঘর পরিষ্কার করে দেয়। এর জন্য কোনো প্রকার চাদা দাবি করে না।

গাভির লেখা রচনা
মানুষ একটা দুগ্ধলোভী প্রাণী। আমার দুধ দোহানোর জন্য তাদের সে কী তাড়না! তবে তারা বেশ রোমান্টিক জীবকুল। আমার গর্ভে বাচ্চা আসার আগে যখন রোমান্টিক ষাঁড়ের সংস্পর্শ পেতে ইচ্ছা করছিল, তখন তারা আমার জন্য অভিসারের ব্যবস্থা করে দিয়েছিল। মানুষ খুবই ভোজনরসিক। বিশেষ করে যখন সস্তায় এবং ফ্রিতে কোনো কিছু পায়। ফ্রিতে পেলে নাকি তারা আলকাতরাও খেয়ে ফেলতে পারে। তবে আমাদের খইল-কুঁড়া খেতে পারে কি না, সেটা অবশ্য এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। তারা ভোজনরসিক হওয়ার কারণে তাদের কারও কারও পেট আকার-আকৃতিতে আমাদের পেটের প্রায় কাছাকাছি চলে যায়। মানুষ পানি খাওয়ার জন্য আমাদের মতো গামলা ব্যবহার না করে গ্লাস বা বোতল ব্যবহার করে থাকে। পা থাকা সত্ত্বেও তারা গাড়ি ব্যবহার করে থাকে। তারা এমনিতে সব সময় দোপায়া সেজে থাকলেও হামাগুড়ি দিয়ে খাটের নিচে যাওয়ার সময় চারপায়া সাজে। মানুষকে নিয়ে আরও লেখার ছিল। কিন্তু বাচ্চাটা বড্ড ডিস্টার্ব করছে।

ষাঁড়ের লেখা রচনা
মানুষ গৃহপালিত কঠিন দিলবিশিষ্ট প্রাণী। কারণ এমন কঠিন কাজ নেই, যা তারা আমাকে দিয়ে করায় না। তারপর আবার যখন-তখন ফট করে বাড়ি বসিয়ে দেয় বেত দিয়ে। যা-ই হোক, মানুষের নাক, কান, মুখ— সবই আছে, শুধু আমাদের মতো ডাগর ডাগর চোখ নেই। যেগুলো আছে, তাও অত্যন্ত ক্ষুদ্র। মানুষ গান গাওয়ার ক্ষমতা রাখে। তবে তাদের মধ্যকার কারও কারও গান এতটাই আপত্তিকর যে আমরা সেই গান শুনে দড়ি ছিঁড়ে পালিয়ে যাওয়ার একটা রিস্ক নিয়ে ফেলি। মানুষ তাদের কথাবার্তায় রেফারেন্স হিসেবে গরুর কথা টেনে আনে। যেমন—এই, এমন ষাঁড়ের মতো চেঁচাচ্ছিস কেন, বলদের মতো কথা বলবি না তো ইত্যাদি। মানুষের কাছে টিভি নামের একটা যন্ত্র আছে, যা দেখতে দেখতে তারা ঘুমায়। আর তারা ঘুমানোর সময় খুবই সাবধানে ঘুমায়। যে কারণে এক মশারিতেই তাদের চলে যায় ম্যালা দিন। অথচ আমাদের মশারি রাতে টানিয়ে দিলে সকালেই শেষ। তাই আমাদের উচিত মানুষের যত্ন নেওয়া। অন্তত শিঙের আগায় ঝোলানোর অপচেষ্টা না করা।

গাড়িয়াল ভাইয়ের গরুর লেখা রচনা
মানুষ অত্যন্ত বিবাহপ্রবণ প্রাণী। আমাদের দিয়ে গাড়ি বানিয়ে সেই গাড়িতে করে শুধু নতুন বউ আনত। এখন অবশ্য একটু কমেছে। না না, বিবাহ কমেনি, কমেছে আমাদের ব্যবহার। তবে সমস্যা হলো, তারা আমাদের ভাষা বোঝে না। ভাষা শেখার জন্য তারা এত এত কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়, কিন্তু আমাদের মানে গরুর ভাষাটা কেন যে শিখে নেয় না! মানুষ কানকথা বলতে খুব পছন্দ করে। যে কারণে তারা যখন বউ নিয়ে আমার গাড়িতে যায়, তখন খালি কী সব কথা জানি বলত আর আস্তেধীরে হাসত। মানুষের মধ্যে কেউ কেউ আছে, যারা বাঁশের ফুটায় ঠোঁট লাগিয়ে ফুঁ দেয়। এই জিনিসটাকে অবশ্য বাঁশি বলা হয়। আর যারা ফুঁক দেয়, তাদের বলা হয় রাখাল। ‘রাখাল’ শব্দটা শুনে খালের মতো মনে হলেও এটা কোনো খাল নয়। এ ছাড়া খুশি মনে তাদের সঙ্গে কোলাকুলি করা যায় না। কারণ আমাদের বুক আর মানুষের বুক কেমন যেন খাপ খেতে চায় না। গঠনটাই কেমন যেন। বেখাপ্পা।

সদ্য জন্ম নেওয়া একটা বাছুরের লেখা রচনা
মানুষ অত্যন্ত ভালো জাতের প্রাণী। তার আমার মতো একটা শিংবিহীন মাথা রয়েছে। হাত-পা তো রয়েছেই। তবে সেগুলো আমার মতো নয়। কারণ সে পায়ে জুতা পরে। হাতে ঘড়ি লাগায়। মোবাইল ফোনও রাখে মাঝেমধ্যে। তার দুটি চোখ রয়েছে। এই চোখের ওপর কেউ কেউ ঢাকনা লাগায়। এই ঢাকনার নাম চশমা। সে আমাকে খুবই খাতির-যত্ন করে। তবে যতই খাতির-যত্ন করুক না কেন, রাতের বেলা আমাকে তার মতো বালিশে শুতে দেয় না। মানুষেরও আমাদের মতো একটা একটা করে বাচ্চা হয়। তবে তারা থাকে জম্মের অলস। আমরা হাঁটি এক ঘণ্টায়, আর তারা এক বছরেও হাঁটতে পারে না। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, মানুষের বাচ্চাদের জন্মের সময় তো লেজ থাকেই না, এমনকি পরবর্তী সময়েও আর গজায় না বলে জানা যায়। মানুষ আমাদের নিয়ে মাঠে গেলেও আমাদের সঙ্গে ঘাস খায় না। তবে কিছু কিছু ঘাস বাড়িতে এনে রান্না করে খায়, যাকে তারা শাক বলে। তাদের গায়ে জামা থাকায় তারা আমাদের মতো যেখানে-সেখানে হিসুটিসু করতে পারে না। এখন পর্যন্ত মানুষকে ভালো জীব বলেই ধারণা হচ্ছে। তবে মায়ের কাছ থেকে পুরো বায়োডাটা নিতে হবে।
_________________________________________
আগে পড়ে থাকলে কিছু করার নাই
অবশ্যই নেট থেকে পেয়েছি



১৬টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×