somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মস্কোতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর(অন্যরকম অনুভুতি)

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মস্কোতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
মস্কোর বিখ্যাত মেট্রোতে চড়ে যাচ্ছিলাম রিচ্-নোই বোখজাল(ট্রেন স্টেশন) থেকে প্রসপেক্ট মিরাতে।
আড়াআড়ি সিটের উল্টোদিকে মুখোমুখি বসে আছেন পক্ব-কেশী এক বৃদ্ধা মহিলা সাথে লাল জ্যাকেট পড়া ছোট্ট একটা ফুটফুটে মেয়ে।বৃদ্ধা মহিলা কেন যেন প্রথম থেকেই তার ঘন নীল চোখের দৃষ্টি মেলে পলকহীন চোখে তাকিয়ে আছেন আমার দিকে!
আর মাঝে মাঝে পাশে বসা মেয়েটির সাথে আমাকে লক্ষ্য করে কানে কানে কি যেন বলছিলেন।বাচ্চা মেয়েটাও অবাক চোখ মেলে তাকিয়ে ছিল আমার দিকে।
আমি স্বভাবতই একটু অস্বস্তি বোধ করছিলাম।দুটো স্টপেজ পরে আমার পাশ থেকে দুজন যাত্রী উঠে গেলে তিনি অতি সঙ্কোচে এসে মেয়েটিকে নিয়ে আমার গা ঘেঁষে বসলেন।
আমি দুবার আড়চোখে তাকালাম তার দিকে- বৃদ্ধার জিজ্ঞাসু দৃষ্টি আমার অস্বস্তি আরো বাড়িয়ে দিল কয়েকগুণ।
আচমকা তিনি বেশ বিনম্র-ভাবে আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললেন;
(এখানে প্রথম কয়েক লাইন আমি বাংলা অনুবাদ করে তার বলা কিছু রুশ শব্দ অবিকল বসিয়ে দিচ্ছি। রুশ শব্দগুলো নাহলে কেন যেন মনে হচ্ছে তার সত্যিকারে অনুভূতি প্রকাশ পাচ্ছেনা।)
-রিবিয়েতা ইজভিনিচে। আতকুদা ভি?(ভি অর্থাৎ তিনি আপনি করে বলেছেন আমাকে,
-জনাব কিছু মনে করবেন না!কোথা থেকে এসেছেন আপনি?)
-ইয়া? আত বাংগোলাদেশ।(আমি? বাংলাদেশ থেকে।)
-বাংলাদেশ গিজিয়ে নাখোজিৎসা? রিয়াদম ইন্দি স্তো-লে?
(বাংলাদেশের অবস্থান কোথায়? ইন্ডিয়ার কাছে নাকি?)
-দা-রিয়াদম ইন্দি।(জ্বী ইনডিয়ার কাছে)
-ও বজ্বা মোই!ভি ইজনায়েচে তাগোরা?(ও আমার ঈশ্বর!আপনি কি টাগোরকে চেনেন?)
-তাগোর কাকোই তাগোর?(তাগোর কোন তাগোর?)
-তাগোর পয়েত(কবি)রবিন্দ নাত তাগোর?
-ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথা বলছেন? জ্বী আমি চিনি তাকে। তিনিতো আমাদের মানে, বাঙ্গালী কবি- বিশ্বকবি।
মহিলা বিস্মিত নেত্রে আমার দিকে চেয় ভীষণ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন,
-তাই?সত্যি? আমি তার কবিতা খুব ভালবাসি। আমার মেয়ে মানে এর মা(সাথের ছোট্ট মেয়েটিকে দেখিয়ে বললেন)ও তাঁর খুব ভক্ত!
-তাই নাকি? আপনারা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা পড়েছেন?
-হ্যাঁ অনেক! এই যে আমার নাতনীও জানে তার নাম।নাতনী তার মিষ্টি হেসে সম্মতিসূচক ঘাড় নেড়ে জানাল-কথা সত্যি!
-খুব ভাল লাগল শুনে।
-আমি থাকি গ্রামে। নাতনীকে নিয়ে এসেছি মস্কো দেখাতে’। একটু থেমে রক্তিম মুখে লজ্জিত ভঙ্গীতে বললেন, আমি কোনদিন ভারতীয় কাউকে সামনাসামনি দেখিনি। এই প্রথম তোমাকে দেখলাম।যদি কিছু মনে না কর আমি কি তোমার হাতখানা ছুঁয়ে দেখতে পারি?
তার কথা শুনে এবার আমার বিস্ময়ের পালা! ভীষণ অবাক হয়ে বললাম,- কেন নয় অবশ্যই!’হাতখানা বাড়িয়ে দিলাম তার দিকে, নিন ছুঁয়ে দেখুন...
বৃদ্ধা পরম মমতায় তার শ্বেতশুভ্র হাতখানা বাড়িয়ে আলতো করে ধরে রাখলেন আমার হাতে।‘ তার চোখের দিকে চেয়ে আমি চমকে উঠলাম! চোখের পাতা ভিজে উঠেছে খুশীর আনন্দাশ্রুতে!
সেভাবেই তিনি আর্দ্র কণ্ঠে বললেন,-আমি বাড়িতে গিয়ে আমার মেয়ের কাছে বলব,
‘আজ আমি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দেশের লোকের হাত ছুঁয়ে এসেছি’।
(লাইব্রেরিয়ান আমাকে দেখে জিজ্ঞেস করলেন, আমি কোন দেশের লোক। আমি ভারতীয় এবং বাঙালি শুনে বললেন যে রবীন্দ্রনাথের তিনখানা বই ইংরিজি থেকে রুশ করে তর্জমা করা হয়েছে। তাদের চাহিদা এত দেখা গিয়েছে যে রুশ গভর্নমেন্ট নির্দেশ দিয়েছে রবীন্দ্রনাথের সব বই তর্জমা করা হবে বাংলা থেকে। সুবিধা হলেই উৎসাহী মহিলা কিংবা পুরুষকে পাঠানো হবে কলকাতায়। তারা ভালোভাবে শিখে মূল বাংলা থেকে রুশ ভাষায় তর্জমা করবে।
সুষ্ঠুভাবে এই কাজ শুরু করবার আগেই দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ লেগে গেল এবং রাশিয়ার ঘোর বিপর্যয়ের সময় এল। সামলে উঠে রুশীরা পূর্ব পরিকল্পিত কাজ সম্পূর্ণ করতে সক্ষম হয়েছে। এক ভদ্রমহিলা আমাদের দেশে আসেন রবীন্দ্রসাহিত্য অনুধাবনের জন্য এবং কিছুকাল এখানে থেকে তর্জমা করতে আরম্ভ করেন। মৈত্রেয়ী দেবী তাঁকে খুব সাহায্য করেন। তার ফলে আজ রাশিয়ায় সর্বত্র লক্ষ লক্ষ রবীন্দ্রসাহিত্যের বই ছাপিয়ে বিলি করা হয়েছে। খুব কম বিদেশি লেখকেরই এত বই রুশ ভাষায় ছাপা হয়েছে বলে শুনেছি।- বিমল মুখার্জীর দুচাকায় দুনিয়া~ ১৯২৮ সাল।)
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে অক্টোবর, ২০২২ সকাল ৯:০১
২৭টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×