আমার প্রিয় পোস্ট
- জগজিত সিং এর অমর কীর্তি - ৭৬ টি এ্যালবাম একসাথে (আমার আপলোড করা) - কবির চৌধুরী
- ব্যারেন্ট সাগরের কান্না (শেষ পর্ব) - জুন
- মোবাইল অপারেটররা নামমাত্র দামে ফ্রিকোয়েন্সি পাচ্ছে : গত ১৫ বছরে সরকারের গচ্চা গেছে ৫ হাজার ২শ’ কোটি টাকা - সাইমুম
- দর্শকের চোখে ১৯২০ সাল থেকে শুরু করে ২০১০ সালের মধ্যকার সর্বসেরা ২৫০ টি মুভির তালিকা - অনিগিরি
- সবচে' সহজ ও সার্বক্ষনিক সঙ্গী 'মোবাইল ফোন' থেকে একইসাথে 'বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজ' এবং 'আওয়াজ' ব্যবহারের সুযোগ তৈরী হলো। - নোটিশবোর্ড
- শুধুমাত্র বিবাহিতদের জন্য এই পোস্ট...অবিবাহিতদের
এখন কাজে না লাগলেও আগামীতে লাগবে!! - মনিরুল. হক. ফিরোজ
- বাংলাদেশীদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রীয় ৫০ টি ওয়েব সাইট - আকাশদেখি
- বাংলাদেশের প্রতারক মোবাইল কোম্পানিগুলোর বিশেষ লোগো উন্মোচন করা হল - ফিউশন ফাইভ
- ছোট্র বেলার একটা অনেক ভাল লাগা কবিতা

- নীল_পদ
- হেলাল হাফিজ-এর নিষিদ্ধ সম্পাদকীয় - মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন
- সৌদি আরবে বাংগালীদের দুর্দশার কারন-৪ঃহরেক রকম অবৈধ ব্যবসা - টুটুল বরকত
- Living Root Bridge ঃপ্রকৃতি ও মানুষের এক নিবিড় বন্ধুত্বের প্রতীক।। - ভিন্ন চিন্তা
- ইবনে সিনা: একজন কাফের? - উম্মু আবদুল্লাহ
- "আপনার লিখা"র কপি করা মানুষদের খুঁজে বের করার সহজ উপায় - সিউল রায়হান
- Rare Snaps - রানা
- রুশদেশের সত্যিকথা ১৩ - তিমুর
- দেখে আসুন লাক্ষা দ্বীপপুঞ্জঃ - জুল ভার্ন
- প্রকৃতির খেলা ১ - অপরিচিত_আবির
- স্বপ্নের চুড়া কেউক্রাড়াডং - "নিরব"
- রেইনবো... - রানা
মস্কোতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর(অন্যরকম অনুভুতি)
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:৩৫
মস্কোর বিখ্যাত মেট্রোতে চড়ে যাচ্ছিলাম রিচ্-নোই বোখজাল(ট্রেন স্টেশন) থেকে প্রসপেক্ট মিরাতে।
আড়াআড়ি সিটের উল্টোদিকে মুখোমুখি বসে আছেন পক্ককেশী এক বৃদ্ধা মহিলা সাথে লাল জ্যাকেট পড়া ছোট্ট একটা ফুটফুটে মেয়ে।বৃদ্ধা মহিলা কেন যেন প্রথম থেকেই তার ঘন নীল চোখের দৃষ্টি মেলে পলকহীন চোখে তাকিয়ে আছেন আমার দিকে!
আর মাঝে মাঝে পাশে বসা মেয়েটির সাথে আমাকে লক্ষ্য করে কানে কানে কি যেন বলছিলেন।বাচ্চা মেয়েটাও অবাক চোখ মেলে তাকিয়ে ছিল আমার দিকে।
আমি স্বভাবতই একটু অস্বস্তি বোধ করছিলাম।দুটো স্টপেজ পরে আমার পাশ থেকে দুজন যাত্রী উঠে গেলে তিনি অতি সঙ্কোচে এসে মেয়েটিকে নিয়ে আমার গা ঘেষে বসলেন।
আমি দুবার আড়চোখে তাকালাম তার দিকে- বৃদ্ধার জিজ্ঞাসু দৃষ্টি আমার অস্বস্তি আরো বাড়িয়ে দিল কয়েকগুন।
আচমকা তিনি বেশ বিনম্রভাবে আমার দৃস্টি আকর্ষন করে বললেন;
(এখানে প্রথম কয়েক লাইন আমি বাংলা অনুবাদ করে তার বলা কিছু রুশ শব্দ অবিকল বসিয়ে দিচ্ছি। রুশ শব্দগুলো নাহলে কেন যেন মনে হচছে তার সত্যিকারে অনুভুতি প্রকাশ পাচ্ছেনা।)
-রিবিয়েতা ইজভিনিচে। আতকুদা ভি?(ভি অর্থাৎ তিনি আপনি করে বলেছেন আমাকে,
-জনাব কিছু মনে করবেন না!কোথা থেকে এসেছন আপনি?)
-ইয়া? আত বাংলাদেশ।(আমি? বাংলাদেশ থেকে।)
-বাংলাদেশ গিজিয়ে নাখোজিৎসা? রিয়াদম ইন্দি স্তো-লে?
(বাংলাদেশের অবস্থান কোথায়? ইন্ডিয়ার কাছে নাকি?)
-দা-রিয়াদম ইন্দি।(জ্বী ইনডিয়ার কাছে)
-ও বজ্বা মোই!ভি ইজনায়েচে তাগোরা?( ও আমার ঈশ্বর!
আপনি কি তাগোরকে চেনেন?)
-তাগোর কাকোই তাগোর?(তাগোর কোন তাগোর?)
-তাগোর পয়েত(কবি)রবিন্দ নাত তাগোর?
-ও রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের কথা বলছেন? জ্বী আমি চিনি তাকে।তিনিতো আমাদের বিশ্বকবি।
মহিলা বিস্মত নেত্রে আমার দিকে চেয় ভীষন অবাক হয়ে বললেন,
-তাই?সত্যি? আমি তার কবিতা খুব ভালবাসি। আমার মেয়ে মানে এর মা(সাথের ছোট্ট মেয়েটিকে দেখিয়ে বললেন)ও তাঁর খুব ভক্ত!
-তাই নাকি? আপনারা রবিন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা পড়েছেন?
-হ্যা অনেক! এই যে আমার নাতনীও জানে তার নাম।নাতনী তার মিস্টি হেসে সম্মতিসুচক ঘাড় নেড়ে জানাল-কথা সত্যি!
-খুব ভাল লাগল শুনে।
-আমি থাকি গ্রামে। নাতনীকে নিয়ে এসেছি মস্কো দেখাতে’। একটু থেমে রক্তিম মুখে লজ্জিত ভঙ্গীতে বললেন, আমি কোনদিন ভারতীয় কাউকে সামনাসামনি দেখিনি। এই প্রথম তোমাকে দেখলাম।যদি কিছু মনে না কর আমি কি তোমার হাতখানা ছুয়ে দেখতে পারি?
তার কথা শুনে এবার আমার বিস্ময়ের পালা!ভীষন অবাক হয়ে বললাম, কেন নয়
অবশ্যই!’হাতখানা বাড়িয়ে দিলাম তার দিকে, নিন ছুয়ে দেখুন।
বৃদ্ধা পরম মমতায় তার শ্বেতশুভ্র হাতখানা বাড়িয়ে আলতো করে ধরে রাখলেন আমার হাতে।‘ তার চোখের দিকে চেয়ে আমি চমকে উঠলাম! চোখের পাতা ভিজে উঠেছে খুশীর আনন্দঅশ্রুতে!
সেভাবেই তিনি আদ্র কন্ঠে বললেন,-আমি বাড়িতে গিয়ে আমার মেয়ের কাছে বলব,
‘আজ আমি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দেশের লোকের হাত ছুয়ে এসেছি’।
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: হ্যা সত্যিই বিস্ময়কর। ধন্যবাদ আপনাকে ।
মৈথুনানন্দ বলেছেন:
ভালো লিখেছেন লেকিন বৃদ্ধার সাথে মিথ্যাচার করায় প্ল্যাসে-মায়নাসে কাটাকাটি হয়ে গ্যালো রেটিঙ করতে পারলুম নে
মৈথুনানন্দ বলেছেন:
আমি কোনদিন ভারতীয় কাউকে সামনাসামনি দেখিনি।...
শেরজা তপন বলেছেন:
সেটা আমার বক্তব্য নয়-আমি সেই মহিলার উক্তিটি বলেছি( তিনি থাকেন মস্কোর বাইরে-এক মফস্বল শহরে,তার কখনো সৌভাগ্য হয়নি কোন ভারতীয়র সাথে সাক্ষাতের)-আমি থাকি গ্রামে। নাতনীকে নিয়ে এসেছি মস্কো দেখাতে’। একটু থেমে রক্তিম মুখে লজ্জিত ভঙ্গীতে বললেন, আমি কোনদিন ভারতীয় কাউকে সামনাসামনি দেখিনি। এই প্রথম তোমাকে দেখলাম।যদি কিছু মনে না কর আমি কি তোমার হাতখানা ছুয়ে দেখতে পারি?
সহেলী বলেছেন:
অভিজ্ঞতা আপনার বিস্ময়কর ! তবে সত্য , কারন রবীন্দ্রনাথ বিশ্বের কবি ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।এ বিষয়ে দ্বীমতের অবকাশ নেই।
বিষাক্ত মানুষ বলেছেন:
ভাল্লাগলো
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।নিজেকে কেন বিষাক্ত বলে ভাবেন?
মৈথুনানন্দ বলেছেন:
ব্যাপারটা তো এক দম সোজা বস, আপনি ওনাকে নিজের হাতটা বাড়িয়ে দিলেন, আর সেটা ইম্প্লায় করলো আপনি ভারতীয় - হুইচিস জাস্ট আ ফাকেন লায়। আমি হলে হাত বাড়ালেও বলে দিতাম এটা প্রতিবেশীর হাত। আশা করি এই বার বুঝেছেন - স্টে হেল্দে।
শেরজা তপন বলেছেন:
আমার তখন বয়স ছিল কম। আপনার মত দেশকে গভীর ভালবাসার উপলদ্ধি তখনো হয়নি আমার। তাছাড়া কিছুটা আবেগ নির্ভরও ছিলাম তখন।ওটা মিথ্যে নয়-ছিল একটা ভুল। এখন হলে হয়ত এই কথাটিই বলতাম-আমি ভারতীয় নই ওদের প্রতিবেশী।
সেই ভুলটির জন্য দুঃখিত আমি। ধন্যবাদ আপনাকে।
মৈথুনানন্দ বলেছেন:
বুঝতে পারছি...তখন ব্যাপারটার ইন্ট্রিকেসিটা ঠিক বুঝতে পারেননি...যেটা বলতে চেয়েছি সেটা যে অবশেষে আপনি বুঝতে পেরেছেন সেটা বুঝতে পেরে ভালো লাগছে...রিফ্লেক্টেড গ্লোরি আর স্বকীয় স্বত্তা এই দুটো কথা কখনোই এক সাথে যায় না...এনিওয়ে কমেন্টে + দিলাম। লেখক বলেছেন: অবশেষে ভুল বুঝাবুঝির অবসান হওয়ায় আমি অবশ্যই প্রীত।
যক শেষ মেষ + পেলামতো। ধন্যবাদ
কৌশিক বলেছেন:
ওয়াও - সোজা ফেভারিটে
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ফেভারিট করার জন্য।
মে ঘ দূ ত বলেছেন:
আমি নিজেও রবীন্দ্রনাথের একজন পূজারী। লেখাটা কাম ঘটনাটা ভীষণ মুগ্ধ করেছে । ধন্যবাদ আপনাকে।
শেরজা তপন বলেছেন:
আপনাকেও ধন্যবাদ
সুদীপ চৌধুরী বলেছেন:
স্পর্শে কাতর হলাম।
শেরজা তপন বলেছেন:
জেনে ভাল লাগল
রাজ মো, আশরাফুল হক বারামদী বলেছেন:
মস্কো এহন পুরা ২ নাম্বারি হইয়া গেছে। শান্তি নাই।
লেখক বলেছেন: ওহ তার মানে আপনি এখনো মস্কো আছেন? ঠিক বলেছেন। আমার বন্ধুরা সব এখন দেশে ফিরে আসছে না হয় অন্য দেশে পালাচ্ছে।
এই দুই নম্বরের শুরু ৯২/৯৩ থেকেই
রাহা বলেছেন:
.. ভাল্লাগলো..
লেখক বলেছেন: জেনে প্রীত হলাম
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ আপনাকে
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন:
‘আজ আমি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দেশের লোকের হাত ছুয়ে এসেছি’।আমাদের গর্ব করার অনেক বিষয় আছে তাই-না।
লেখক বলেছেন: অবশ্যই আছে
তবুও মাঝে মাঝে ভীষন কষ্ট পাই...
ধন্যবাদ
রাজ মো, আশরাফুল হক বারামদী বলেছেন:
নারে ভাই আমি এখন পিতারবুর্গে আছি।
|জনারন্যে নিসংঙগ পথিক| বলেছেন:
আমার এইরকম এক মজার স্মৃতি আছে। টেলিটক প্রজেক্টে কাজ করি এক চৈনিক বহুজাতিক কম্পানিতে তখন। আমার এক কলিগ এলো, ওয়াং ওয়েন হুয়া নাম। দশাসই চেহারা, প্রোগ্রামার। একদিন ইন্দ্রাণী সেন এর গান শুনছি সাইটে, সে বলে এই সুর টেগোর এর না?
আমি ত আচানক তব্দা খেয়ে গেলাম। বলে কি এই চৈনিক (টেকি চৈনিকরা বেশ কাঠখোট্টা হয়
যাবার সময় মেলা গান নিয়ে গিয়েছিলো ওয়েনহুয়া। এখন ইন্দোনেশিয়াতে, গতবছর ওকে শাহানার 'নতুন করে পাবো বলে' এলবামটা পাঠানোর পর খুবই খুশী দেখলাম ...।
লেখক বলেছেন: তাই-বেশ মজারতো। চৈনিক রবীন্দ্র সংগীত আমি কখনো শুনিনি!ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে! ভাল থাকবেন
অন্যরকম বলেছেন:
ফেসবুকে শেয়ারিত!
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
















অনেক ভাল লাগল!