somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সময়

১১ ই জানুয়ারি, ২০১৭ সকাল ৯:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



এই নিন আপনার পানি , কি ব্যাপার বলুন তো, আপনাকে তো চিনতে পারলাম বলে মনে হয় না ৷ বলে ভ্রু টা একটু কুচকে তাকালেন আজির সাহেব ৷ আজিজ সাহেব বেশ অধৈর্য মানুষ বলা চলে ৷ তার মাঝে বয়স বাড়লে নাকি মানুষের মেজাজ খিট মিটে হয় আরও বেশি৷ তাই হবে হয়তো ৷ তার সামনে বসা একটা তরুণ, বয়স ১৮-১৯ হবে হয়তো ৷ ছেলেটার চোখে চশমা, পড়নে একটা পাঞ্জাবী ৷ এই বয়সে ছেলে পেলেরা তেমন একটা পাঞ্জাবী পড়ে না ৷ পা থেকে মাথা পর্যন্ত একবার চোখ বুলিয়ে – এই যে শুনছেন কি চাই ? বলে মোটা-মোটি একটা ধমক দিল আজির সাহেব ৷ আজির সাহেবের ধমক শুনে ছেলেটা কিছুটা থতমত খাবে বলে ভাবলে ও ছেলেটার মাঝে তেমন বলার তেমন কোনও লক্ষণ দেখতে পেল না আজির সাহেব ৷ মহা বিরক্ত হলেন তিনি, শুরু করলেন , দেখ আমি খুবই ব্যস্ত মানুষ তোমার সাথে বাবা ফালতু সময় নষ্ট করার পরিস্থিতি আমার নাই ৷ ১ মাস ও নাই ঈদ এর, এই ম্যাগাজিন সেই ম্যাগাজিন সবার এক কথা আমার লেখা তাদের ঈদ সংখ্যায় চাই ৷ আর তুমি…. কথা টা শেষ করতে পারলেন না আজির সাহেব ৷ ছেলেটা বলে উঠলেন ঠাণ্ডা পানি ! ভীষণ চটে উঠলেন আজির সাহেব , উচ্চ স্বরে বলে উঠলেন দেখ ছেলে তুমি আমার ছেলের বয়সী হবে বেয়াদপী করছ আমার সাথে ? বাসায় ধুকতে দেওয়াই ঠিক হয়নি দেখছি ৷ আজির সাহেব রাগলে কোনও কিছু থাপড়ান , উনার সামনে কোনও টেবিল নেই তাই সোফার হাতল থাপড়াতে থাপড়াতে কথা গুলো বললেন ৷


ছেলেটা বলে উঠল , দেখুন আপনি আমার ভীষণ শ্রদ্ধার পাত্র আপনাকে অপমান করার প্রশ্নই … কথা টা বলতে শেষ করার আগেই আজির সাহেব বলে উঠলেন আরে রাখ তোমার ধানাই পানাই , মতলব টা কি সেটা পরিষ্কার কর !


ছেলেটাকে বেশ স্বাভাবিক ই মনে হল, কোনও ভাব লেশ হীন একটা অভিব্যক্তি, সেটা আজির সাহেব কে আরও খেপিয়ে তুলছে ৷ অবশেষে ছেলেটা বলল আমি আপনার “রস” উপন্যাসটির একজন ভক্ত ৷ আজির সাহেব বলে উঠলেন তো এখন আমি করব টা কি ?

ছেলেটা বলল জি একটু ধৈর্য ধরুন বলছি ৷ আজির সাহেব মনে মনে ভাবলেন বলে কি ব্যাটা ধৈর্য ধরতে ?? ফাজলামির একটা সীমা থাকা দরকার ৷


ছেলেটা বলল, যেটা বলছিলাম আপনার উপন্যাস টি খুব ভাল লাগছে ৷ কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আপনি যেই পত্রিকায় এ উপন্যাসটি লিখেন সেই উপন্যাস তারা প্রতি সপ্তাহে একবার ছাপায় ৷ আজির সাহেব বললেন হু তাতে দোষের কি আছে ?

ছেলেটি যেন আজির সাহেবের কথায় গুরুত্ব দিল না, সে বলে গেল , যেহেতু তারা মাসে একবার ছাপায় উপন্যাস টি শেষ হতে আরও দুই মাস লাগবে ৷ আপনার কাছে আমার অনুরোধ আপনি আমাকে বাকি উপন্যাস টুকু পড়তে দিন ! আমি এখানে বসেই পড়ে যাব ৷ সেই পত্রিকা কিনতে যত টাকা লাগে আগামী দুই মাস এ , আমি আপনাকে তা ও দিয়ে যাব ৷ আপনি কি আমাকে এই উপকার টুকু করবেন ?


এবার আর পারলেন না আজির সাহেব ক্ষোভে ফেটে পড়লেন ! তার মাথার ভেতর যেন একটা বিস্ফোরণ হয়েছে ৷ তিনি তবু নিজেকে সংযত করলেন ৷ করে উঠে দাঁড়ালেন বললেন বের হও ৷ এখুনি বের হও আমার বাসা থেকে ৷ ছেলেটা সেই ভাবলেশহীন চেহারাটা নিয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকল ৷ তার পর বের হয়ে চলে যাওয়ার সময় লেখক কে বললেন, স্যার লেখকদের অনেক শক্তি, তারা সৃষ্টি করে, জীবন দেয় কখনো কখনো ধ্বংস করে, কখনো ভালবাসায় কখনো কাঁদায় ৷ একজন মানুষের কাছে এত ক্ষমতা থাকা বোধয় ঠিক না স্যার ৷ ছেলেটা চলে গেল, আজির সাহেব বেশ অপমানিত বোধ করছেন ৷ এত টুকুন পুচকে ছেলে কত বড় কথা ৷


ছেলেটা যখন বাসায় পৌঁছুল তখন সন্ধ্যা হয় হয় করছে ৷ ছেলেটা মা কে বলল মা তোমার কথাই ঠিক ৷ মা এর চোখে জল টল মল করছে ৷ মনে মনে ভাবলেন খোদা তুমি খুব নিষ্ঠুর ৷ খুব বেশি কিছু চাই না তোমার কাছে মাত্র দুটো মাস আর কিচ্ছু চাই না ৷

২৯ মার্চ, ২০১৪
মাহবুব জামান আশরাফী
http://bit.ly/2jqQgwM
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জানুয়ারি, ২০১৭ সকাল ৯:৫৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধনী হতে মানুষ আসে নিউইয়র্ক, নিউইয়র্কের দরিদ্ররা যায় কোথায়?

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৯ শে মার্চ, ২০১৭ সকাল ৭:৪৯



সন্ধ্যার পর, জ্যামাইকা থেকে বাসায় ফেরার সময় আমি সাবওয়ে ট্রেনের শেষ বগীতে উঠি; প্রায় সব সময়ই বগিটা খালি থাকে; ২৫ মিনিটের মত একা ভ্রমন করা যায়; আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আশায় আশায় দিন গুণে

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে মার্চ, ২০১৭ সকাল ৯:৫২

সব কিছু ঠিক—
তবু তার মন যেন বলে যায়,
‘তুমি এক দিকভ্রান্ত পথিক'।

শান্ত জলের তলে
চোরা স্রোত খেলা খেলে
কত পাক খায়, সকাল সন্ধ্যায়!

একটু একটু করে,
মনের তীরে ভাঙন ধরে,
কোন একদিন তীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আরিফ আজাদের প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ নামক অপাঠ্য কিতাব সমালোচনা পর্ব-৪

লিখেছেন নান্দনিক বুদ্ধিপ্রকর্ষ, ২৯ শে মার্চ, ২০১৭ সকাল ১০:০৯



'মুসলমানদের কোরবানি ঈদ এবং একজন মাতুব্বরের অযাচিত মাতব্বরি' অধ্যায়ের হিপোক্রিসি

ফেইক আইডিধারী ফেসবুকার আরিফ আজাদের প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ নামক অপাঠ্য কিতাবের 'মুসলমানদের কোরবানি ঈদ এবং একজন মাতুব্বরের অযাচিত মাতব্বরি' শীর্ষক লেখাটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রম্যগল্পঃ গচ্চা

লিখেছেন আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম, ২৯ শে মার্চ, ২০১৭ সকাল ১১:৫৫

উত্তরবঙ্গের কোন এক জেলার অধিবাসীদের কৃপণতার কথা সবাই জানে। তাদের এই কার্পণ্য নিয়ে অনেক মুখরোচক গল্প খোদ উত্তরবঙ্গেই চালু আছে। এই জেলার লোকজন নাকি পোস্ট অফিস ও রেল স্টেশনের কাউন্টারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বাধীনতার ৪৬ বছর:- কিছু ধন্যবাদ ও অন্যবাদের গল্প

লিখেছেন বিলিয়ার রহমান, ২৯ শে মার্চ, ২০১৭ দুপুর ১২:১৮


স্বাধীনতা শব্দটি আমাদের হয়েছে ৪৬ বছর হলো । পরাধীনতার সকল গ্লানি মুছে দেওয়া এই স্বাধীনতা যারা আমাদের দিয়েছেন তারা মহান আমাদের সত্যিকারের আইডল।এই মহান স্বাধীনতার স্বাদ আমাদের যারা দিয়েছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×