somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মৃত ব্যক্তির জন্য ক্রন্দন জায়েজ

০২ রা অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১০:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
কিতাবও সুন্নতের প্রসার



মৃত ব্যক্তির জন্য ক্রন্দন
আল্লাহর রাসূল (সঃ)- এর সুন্নত



লেখকঃ আল্লামা সাইয়্যেদ মূর্তজা আসকারী
অনুবাদঃ মোঃ মাঈনউদ্দিন তালুকদার

পরম দাতা দয়ালু আল্লাহর নামে
اَقَد کانَ لَکَم في رَسُولِ اللهِ اُسوَةُ حَسَنَةُ لِمَن کانَ يَرخُوا الله وَ اليَومَ الاَخِرَ وَ ذَکَرَ الله کَثيراً
-- তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি আশা করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে , তাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ । (আহযাব-২১)

“ কোরআন ও সুন্নাহকে কেন্দ্র করে ঐক্য”
بسم الله الرّحمن الرّحيم
اَلحَمدُ لِلَّه رَبَّ العا لَمينِ وَالصَّلاةُ وَ السَّلامُ عَلي مُحَمَّد وَ الِهِ الطّ هِرينَ وَ السَّلامُ عَلي اَصحابِهِ البَرَرَةِ المَيا مين..
আমরা ঐক্যবদ্ধ মুসলমানরা, ভেতর থেকে ও বিরোধপূর্ণ বিষয়ের পথে নিজের সাথে বিবাদে লিপ্ত হয়েছি এবং ইসলামের শক্ররা বাইরে থেকে ও আমাদের অজানা পথে আমাদের ঐক্যকে বিভক্তিতে পরিণত করেছে এবং আমাদের মর্যাদাকে দুর্বল করে দিয়েছি। আর প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে আমাদেরকে দুর্বল করে দিয়েছে ; আমাদের মধ্যে ফাঁটল ধরেছে । অথচ পবিত্র আল্লাহ বলেছেনঃ
وَ أطيعُوا الله وَرَ سُو لَهُ وَ لاتَنا زَعُوا فَتَفشَلُوا وَ تَذهبَ ريحُکُم
এবং আনুগত্য কর আল্লাহ ও তাঁর নবীর এবং পরস্পর বিবাদ করোনা, (করলে) সাহস হারাবে এবং তোমাদের শক্তি বিলুপ্ত হবে। ( আনফাল- ৪৬)
হ্যাঁ
ما أصا بَتکُم مِن مُصيبَةٍ فَبِما کَسَبَت أيديکُم وَيَعفُو عَن کَثيرٍ
যে মুসিবতই তোমাদের উপর আসুক না কেন, তা তোমাদের হাতে অর্জিত। আর আল্লাহ অধিকাংশই ক্ষমা করে দেন। ( শূরা-৩০)

সুতরাং এখন থেকে প্রতিদিন ‘কোরাান ও সুন্নতে ’’ ফিরে যাব এবং আমাদের ঐক্যকে “কোরআন ও সুন্নতের ” কেন্দ্রবিন্দ্রতে ফিরে পাব। তাই মহান আল্লাহ বলেনঃ
فَاءن تَنازَ عتُم في شَئٍ قَرُدُّوهُ اِلَي الله وَ الرَّ سُولِ
কোন বিষয়ে যদি তোমরা মতভেদ কর তবে তা আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূলের নিকট উপস্থাপণ কর। (নিসা-৫৯)
আমরা ও এ ধারাবাহিক আলোচনায় “ কোরআন ও সুন্নাহর” প্রতি প্রত্যাবর্তন করব এবং বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে আমাদের পথের স্পষ্টকারী উপকরণকে “ কোরআন ও সুন্নাহ” থেকে গ্রহণ করব যাতে (আল্লাহর অনুমতিতে) আমাদের মধ্যে পূর্ণ ঐক্য ও বন্ধনের কারণ হয়।
প্রত্যশা মুসলিম মনীষী ও চিন্তাবিদগণ এ ক্ষেত্রে আমাদের সাথে থাকবেন এবং নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করবেন।
----সাইয়্যেদ মুর্তাজা আসকারী



সূচীপত্র

মৃতব্যক্তির জন্য মহানবীর (সাঃ) ক্রন্দন এ ব্যাপারে উৎসাহিতকরণ সম্পর্কে প্রাপ্ত বর্ণনা সমূহ

১। সাদ ইবনে উবাদার অসুস্থতায় মহানবীর (সাঃ) ক্রন্দন
২। পুত্র ইব্রাহীমের জন্য মহানবীর (সাঃ) ক্রন্দন
৩। নিজ নাতির জন্য মহানবীর (সাঃ) ক্রন্দন
৪। চাচা হামযার জন্য মহানবীর (সাঃ) ক্রন্দন
৫। মুতার যুদ্ধের শহীদগনের জন্য মহানবীর (সাঃ) ক্রন্দন
৬। জাফর ইরনে আবি তালিবের জন্য মহানবীর (সাঃ) ক্রন্দন
৭। নিজ মায়ের মহানবীর (সাঃ) ক্রন্দন
৮। বিভন্ন উপলক্ষ্যে হুসাইন (আঃ)- এর জন্য মহানবীর (সাঃ) ক্রন্দন
৯। মহানবী (সাঃ) কর্তৃক নিষেধ সম্পর্কিত বর্ণনা সমূহ এবং এগুলোর উৎস
১০। হযরত আয়েশা থেকে বর্ণিত হাদীস থেকে হযরত ওমর ও তার পুত্রের ভুল দূর হওয়া এবং বোধোদয়
১১। রসূল (সাঃ) ওমরকে ক্রন্দনে বাধা দিতে নিষেধ করনে
১২। রেওয়ায়েত বা বর্ণনাসমূহের তুলনা ও এগুলো থেকে সিদ্ধানত্ম গ্রহণ।



ক- যে সকল বর্ণনার বলা হয়ঃ মহানবী (সাঃ) মৃত ব্যক্তির উপর ক্রন্দন করেছিলেন এবং ব্যাপারে উৎসাহ দিয়েছিলেন

১। সাদ ইবনে উবাদার অসুস্থতায় মহানবীর (সাঃ) ক্রন্দনঃ
সহীস মুসলিমে আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেনঃ সাদ ইবনে উবাদা অসুস্থ হয়েছিলেন। আল্লাহর রাসূল (সাঃ) তাকে দেখার জন্য আব্দুর রহমান ইবনে আউফ, সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস ও অব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদকে নিয়ে তার সাক্ষাতে গেলেন। সাদা ইবনে উবাদার শিয়রে পৌঁছলে তিনি বেহুস হয়ে পড়লেন। মহানবী (সাঃ) জিজ্ঞাসা করলেনঃ সে কি মৃত্যু বরণ করেছে ? কেউ বললেনঃ না, হে আল্লাহর রাসুল (সাঃ) । মহানবী (সাঃ) ক্রন্দন করলেন। রাসূল (সাঃ) -এর ক্রন্দন দেখে লোকজন ও কাঁদতে লাগলেন। তিনি (সাঃ) বলেনঃ ওহে তোমরা কি শুনতে পাওনা ? মহান আল্লাহ চোখের জলের উপর শাস্তি দেননা বা হৃদয়ভার হৃদয়ের উপর ও শাস্তি দেননা। কিন্তু এর ( নিজ জিহবার দিকে ইঙ্গিত করে) জন্য শাস্তি কিংবা পুরস্কার দেন।
২। পুত্র ইব্রাহীমের জন্য মহানবী (সাঃ)-এর ক্রন্দনঃ
সহী বোখারী, সহীহ মুসলিম, সুনানে ইবনে দাউদ ও সুনানে ইবনে মা‘জায় আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেনঃ
আল্লাহর রাসূলের (সাঃ) সাথে প্রবেশ করলাম -- ইব্রাহীম মৃত্যু পথ যাত্রী ছিল। মহানবীর চোখ অশ্রুসজল হল। আব্দুর রহমান বিন আউফ বললঃ হে আল্লাহর রাসূল আপনিও ? তিনি (সাঃ) বলেন আউফের পুত্র ! এটা হল রহমত। অতঃপর আরো বলেন ( তুমি কি ঠিক দেখতে পাচ্ছ? ) আমাদের নয়ন ক্রন্দনরত, হৃদয় ভারাক্রান্ত, কিন্তু কখনোই যা কিছু মহান আল্লাহকে তুষ্ট করে তা ব্যতীত অন্য কিছুই মুখে আনবনা । হে ইব্রাহীম ! সত্যিই আমরা তোমার বিরহে ব্যাথাতুর।
এ বর্ণনাটি সুনানে ইবনে মাজায় এরূপ বর্ণিত হয়েছেঃ
আনাস বিন মালেক বলেনঃ যখন রাসূলের (সাঃ) পুত্র ইব্রাহীম মৃত্যু বরণ করেন তখন তিনি (সাঃ) উপস্থিত লোকদেরকে বলেন। তাকে কাফনে ঢেকে দিও না ( শেষ বারের মত ) তাকে দেখব। এরপর তার শিয়রে এলেন ও তার উপর ঝুঁকে পড়ে তিনি (সাঃ) ক্রন্দন করলেন।
সুনানে তিরমিযিতে বর্ণিত হয়েছেঃ
জাবের বিন আব্দুল্লাহ বলেনঃ মহানবী (সাঃ) আব্দুর রহমান ইবনে আউফের হাত ধরে , তার সাথে নিজ পুত্র ইব্রাহীমের মাথার নিকট আসলেন এবং মৃত্যু পথযাত্রী পুত্রকে কোলে তুলে নিলেন এবং ক্রন্দন শুরু করলেন আব্দুর রহমান ইবনে আউফ বললঃ আপনি কি কাঁদছেন ? আপনি কি ক্রন্দন করতে নিষেধ করেন নি ?! তিনি (সাঃ) বললেনঃ “না’ আমি দু’দল পাপাচারী গর্দভ ও নির্বোধের আর্তনাদ ও আর্তচিৎ কারে বাধা দিয়েছিলামঃ যারা মুসিবতের সময় মুখ আঁচড়ায় এবং জামার কলার ছিড়ে ফেলে ও শয়তানী ক্রন্দনে লিপ্ত হয়।
৩। স্বীয় নাতির জন্য মহানবী (সাঃ)- এর ক্রন্দনঃ
সহী বোখারীতে , সহী মুসলিমে, সুনানে আবি দাউদ ও সুনানে নাসাঈয়ে বর্ণিত হয়েছেঃ মহানবীর (সাঃ) কন্যা তাঁর জন্য সংবাদ পাঠালেন যে আমাদের কাছে আসেন। আমার একটি ছেলে মৃত্যু পথযাত্রী । মহানবী (সাঃ) উঠে দাঁড়ালেন এবং সা’দ ইবনে উবাদা এবং সাহাবীদের মধ্যে কয়েকজনকে নিয়ে তাদের নিকট এলেন। মৃত্যু পথ যাত্রী শিশুকে হযরতের (সাঃ) নিকট নিয়ে আসলেন। মহানবীর দু’চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরতে লাগল । সা’দ বললোঃ হে আল্লাহর রাসূল ! আমরা কী দেখতে পাচ্ছি ? মহানবী (সাঃ) বলেন “ এটা হলো সেই রহমত ও মমতা যা মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের অন্তরে স্থাপন করেছেন। আর মহান আল্লাহ একমাত্র নিজের দয়ালু ও মেহেরবান বান্দদেরকেই রহমত ও ক্ষমা করে থাকেন।
৪। নিজ চাচা হযরত হামযার জন্য হযরত মহানবীর (সাঃ) ক্রন্দনঃ
তাবাকতে ইবনে সাদ, মাগযীয়ে ওয়াকেদী, মুসনাদে আহমদ ও মাকতাবে খোলাফার অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত হয়েছেঃ
আল্লাহর রাসূল (সাঃ)-ওহুদ যুদ্ধের পর- যখন আনসারদের ঘর থেকে তাদের শহীদদের জন্য ক্রন্দনের শব্দ শুনতে পেলেন তখন রাসূলের (সাঃ) চোখ ও অশ্রুসজল হলো। রাসূল (সাঃ) কেঁদে বললেনঃ কিন্তু হামযার জন্য তো কোন ক্রন্দনকারী নেই ! সা’দ ইবনে মায়ায একথা শুনতে পেলেন এবং বনি আব্দুল আশহালের নারীদের নিকট ছুটে গেলেন। তিনি তাদেরকে (মহানবীকে (সাঃ) সমবেদনা জানানো ও হামযার জন্য ক্রন্দন করতে ) আহবান জানালেন। মহানবী (সাঃ) তার জন্য দোয়া করলেন এবং তাদেরকে ফিরিয়ে দিলেন। এ ঘটনার পর আনসারদের কোন নারীই ক্রন্দন করতনা যদি না আগে হামযার জন্য কাঁদত এবং তারপর নিজেদের মৃতদের জন্য কাঁদত।
৫। মুতার যুদ্ধে শহীদদের জন্য মহানবীর (সাঃ) ক্রন্দন সহীহ বোখারীতেত বর্ণিত হয়েছে ঃ
মহানবী (সাঃ) যায়িদ, জাফর ও ইবনে রাওহা ( কিরূপে শহীদ হবেন) শহীদ হওয়ার পূর্বেই তাদের শাহাদাতের খবর মানুষকে দিয়েছিলেন। তিনি (সাঃ) বলেনঃ “যায়িদ পতাকা তুলে নিলেন, আঘাত পেলেন ও শহীদ হলেন! অতঃপর জা’ফর পতাকা তুলে নিলেন। তিনি ও শহীদ হলেন! অতঃপর ইবনে রাওহা পতাকা তুলে নিলেন ও শহীদ হলেন। মহানবী (সাঃ) এ কথাগুলো বলছিলেন যখন তার আঁখিযুগল থেকে অশ্রুধারা বইছিলো।
৬। জাফন ইবনে আবি তালিবের জন্য মহানবী (সাঃ)-এর ক্রন্দনঃ
ইসতিয়াব, উসদুল গাবা, আসাবা, তারিখে ইবনে আসির এবং অন্যান্য পুস্তকে বর্ণিত হয়েছে যে, ( সংক্ষেপে)ঃ
যখন জাফর এবং তাঁর সাহীরা শহীদ হলেন মহানবী (সাঃ) তাঁর গৃহে গেলেন ও তার সন্তানদেরকে ডাকলেন। তিনি (সাঃ) (অশ্রুসিক্ত অবস্থায়) জাফরের সন্তানদের সুগন্ধ নিলেন (ও মাথায় হাত বুলালেন)। জাফরের স্ত্রী আসমা বললেন ঃ
আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক, কিসে আপনাকে (সাঃ) কাঁদালো ? জাফর ও তাঁর বন্ধুদের কোন খবর কি আপনার নিকট পৌঁছেছে? তিনি (সাঃ) বললেনঃ হ্যাঁ, আজ শহীদ হয়েছেন।” আসমা বললেন ঃ আমি উঠে দাঁড়ালাম ও আর্তনাদ করলাম ও অন্যান্য মহিলাদেরকে একত্র করে ফাতেমার ঘরে গেলাম, দেখলাম ফাতেমা কাঁদছে এবং বলছেঃ হায় আমার চাচা! আল্লাহর রাসূল (সাঃ) (এ অবস্থা দেখে) বললেনঃ
প্রকৃতপক্ষে ক্রন্দনকারীরা জাফরের জন্য কাঁদার মত করে কাঁদা উচিৎ।
৭। মা অমিনার মাযারে মহানবী (সাঃ)-এর ক্রন্দন ঃ
সহীস মুসলিম, মুসনাদে আহমদ, সুনানে আবি দাউদ, নাসাঈ এবং ইবনে মাযা বর্ণনা করেন ১০ঃ
আবু হুরইরা বলেনঃ মহানবী (সাঃ) তাঁর মায়ের কবর যিয়ারত করলেন এবং আশেপাশের সকলকে কাঁদালেন।
নাতি হুসাইন (আঃ) -এর জন্য বিভিন্ন উপলক্ষ্যে মহানবী (সাঃ) -এর ক্রন্দন ঃ
১। উম্মুল ফায্‌লের হাদীস ঃ
মুসতাদরাকে সহীহাইন, তারিখে ইবনে আসাকির, মাকতালে খাওয়ারেযমী এবং অন্যান্য পুস্তকে এসেছে ঃ
হারেসের কন্যা উম্মুল ফাযল থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি মহানবীর (সাঃ) নিকট গেলেম ও বললেন ঃ হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) আমি গত রাতে দুঃখজনকে স্বপ্ন দেখলাম ! বললেন ঃ কী দেখেছ ? বলল ঃ খুব কঠিন ! বললেন ঃ কী? বললঃ আমি দেখলাম আপনার শরীরের এক টুকরা আপনার থেকে আলাদা হয়ে গিয়ে আমার আঁচলে এসে পড়লো! আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বললেন ঃ তুমি খুব ভাল স্বপ্ন দেখেছ ; আল্লাহর ইচ্ছায় ফাতেমার এক পুত্র সন্তান জন্ম নিবে এবং তোমার আঁচলে জায়গা নিবে।” ( বলা হয়) এরপর ফাতেমা ( যেরূপ মহানবী (সাঃ) বলেছেন) হুসাইনকে (আঃ) জন্ম দিলেন এবং তিনি আমার আঁচলে স্থান নিলেন। একদিন মহানবীর (সাঃ) নিকট গেলাম এবং হুসাইনকে (আঃ) তাঁর কোলে রাখলাম, এর কিছুক্ষণ পর আমার থেকে তাঁর (সাঃ) দৃষ্টি অন্যত্র গেল। হঠাৎ দেখলাম মহানবীর (সাঃ) দু’চোখ বেয়ে বণ্যার মত পানি ঝরছে ! তিনি বলেন, আমি বললাম :হে আল্লাহর নবী (সাঃ) ! আমার পিতামাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক, আপনার কী হয়েছে ? তিনি (সাঃ) বললেন ঃ “জিব্রাইল (আঃ) আমার সাক্ষাতে এলেন এবং আমাকে খবর দিলেন যে, আমার উম্মত খুব শীঘ্রই আমার এ বংশধরকে হত্যা করবে।” বললাম !‘একে ?! বললেন ঃ হ্যাঁ, সে (জিব্রাইল) আমার জন্য রক্তিম কিছু মাটিও এনেছে।”
মোস্তাদরাকে সহীহাইনের লেখক হাকিম বলেন ঃ এ হাদীসটি বোখারী ও মুসলিমের শর্তানুসারে সহীহ হাদীস রূপে পরিগণিত। কিন্তু তারা এটি বর্ণনা করেনি।
২। যয়নাব বিনতে যাহাশের বর্ণনা ঃ
তারিখে ইবনে আসাকের, মাজমাউল যাওয়ায়েদ, তারিখে ইবনে কাসির এবং মাকতাবে খোলাফর অন্যান্য গ্রন্থে
যয়নাব বলেন ঃ একদিন মহানবী (সাঃ) আমার ঘরে ছিলেন, সবে হাঁটতে সক্ষম হুসাইনকে (আঃ) আমি নজরে রাখছিলাম । হঠাৎ আমি অন্যমনস্ক হয়েছিলাম । এ সুযোগে হুসাইন (আঃ) আল্লাহর রাসূলের (সাঃ) নিকট গেলেম। তিনি বললেন ঃ তাকে ছেড়ে দাও। ( এর পর বলা হয় ) অতঃপর হাত উপরে তুললেন। এরপর মহানবী (সাঃ) যখন নামায শেষ করলেন বললাম ঃ হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) । আজ আমি আপনাকে একটি কাজ করতে দেখলাম যা এ পর্যন্ত কখনোই দেখিনি ? তিনি বললেন ঃ ” জিব্রাইল আমার নিকট আসলেন এবং বংশধরকে হত্যা করবে। বললাম ঃ অতঃএব আমার ঐ মাটি দেখান এবং তিনি রক্তিম মাটি আমার জন্য আনলেন।
৩। রেওয়াতে হযরত আয়েশাঃ
তারিখে ইবনে আসাকের মাকতালে খাওয়ারেযমী , মুহিমায়ূল যাওয়ায়িদ ও মাকতাবে খোলাফার অনুসারীদের অন্যান্য পুস্তকে আবি সালামা ইবনে আব্দুর রহমান থেকে বর্ণিত হয়েছেঃ
হযরত আয়শা বলেন আল্লাহর রাসূল (সাঃ) হুসাইন (আঃ) কে তাঁর উরুতে বসিয়েছিলেন। জিব্রাইল (আঃ) তাঁর (সাঃ) নিকট এসে বললেন ঃ “এ আপনার বংশধর ?” মহানবী (সাঃ) বললেন ঃ হ্যাঁ। জিব্রাইল বললেন ঃ কিন্তু শীঘ্রই আপনার উম্মত (আপনার পরে) তাঁকে (আঃ) হত্যা করবে। মহানবীর (সাঃ) চক্ষুযুগল অশ্রুসিক্ত হল। যদি আপনি চান তবে যে মাটিতে তিনি (ইমাম হুসাইন) শহীদ হবেন তা আপনাকে দেখাতে পারি । তিনি (সাঃ) বললেন ঃ হ্যাঁ তাই কর।” জিব্রাইলও (আঃ) তেফ (কারবালা) থেকে মাটি এনে হযরত (সাঃ) কে দেখালেন।
অপর বর্ণনায় এরূপ লেখা হয়েছে ঃ জিব্রাইল ইরাকের তেফের (কারবালা) দিকে ইঙ্গিত করলেন এবং লাল রংয়ের মাটি মাটি তাঁকে দেখালেন এবং বললেন ঃ এ হল তাঁর শাহাদাত স্থলের মাটি।
এ বিষয়ে অন্যান্য বর্ণনা ও এসেছে যাতে ফেরেশ্‌তারা আল্লাহর রাসূলকে (আঃ) ইমাম হুসাইন (আঃ)-এর শাহাদাতের খবরটি দিয়েছেন বলে সত্যায়িত হয়। যেমন ঃ
১। উম্মে সালমার রেওয়ারেত ঃ
মোসতাদরাকে সহীহাইন, তাবাকাতে ইবনে সা’দ, তারিখে ইবনে আসাকির ও মাকতাবে খোলাফার অনুসারীদের অন্যান্য কিতাবে বর্ণনা করা হয়েছে ১৮যে রাবি বলেনঃ
উম্মে সালমা (রাঃ) আমাকে সংবাদ দিলেন যে, একরাতে মহানবী (সাঃ) ঘুমের জন্য বিছানায় শুলেন এবং (কিছুক্ষন) পরে বিষন্ন অবস্থায় ঘুম থেকে উঠলেন, পুনরায় ঘুমিয়ে গেলেন ও নীরব হলেন। দ্বিতীয়বার প্রথমবারের চেয়ে আর ও বেশী বিষন্ন অবস্থায় ঘুম থেকে জেগে উঠলেন। আবার ঘুমিয়ে পড়লেন। পুনরায় হাতে রক্তিম বর্ণের মাটি হাতে নিয়ে তাতে চুম্বনরত অবস্থায়-জেগে উঠলেন। আমি বললাম ! হে আল্লাহর রাসূল! এ মাটি কিসের ? তিনি (সাঃ) বললেন! “ জিব্রাঈল আমাকে সংবাদ দিল যে, সে ( হুসাইন (আঃ)) ইরাকের মাটিতে শহীদ হবে। আমি জিব্রাঈলকে বললাম যে মাটিতে শহীদ হবে তা আমাকে দেখাও । আর এ হল সেখানকার মাটি।”
হাকিম বলেন ঃ এ হাদীস শেখদ্বয়ের (বোখারী ও মুসলিম ) শর্তানুসারে সহীহাদীস কিন্তু একে তাদের নিজেদের কিতাবে বর্ণনা করেনি।
২। হাদীসে আনাস ইবনে মালিক ঃ
মুসনাদে আহমাদ, আলমোজামূল কাবির তাবরামী, তারিখে ইবনে আসাকির ও অন্যান্য পুস্তকে মাকতাবে খোলাফার অনুসারীরা বর্ণনা করেন ঃ
আনাস ইবনে মালিক বলেন ঃ ‘ক্বাতর’ নামক এক ফেরেশ্তা আল্লাহর কাছে মহানবীর (সাঃ) সাথে দেখা করার অনুমতি চাইলেন । মহান আল্লাহ তাঁকে অনুমতি দিলেন। এবং সে ফেরেশতা ‘উম্মে সালমার’ দিবসে আসলেন। মহানবী (সাঃ) উম্মে সালমাকে বললেন ঃ সাবধান থেক, কেউ যেন আমাদের মজলিশে প্রবেশ না করে। এমন সময় তিনি যখন কক্ষে অবস্থান করছিলেন হ্যাঁ হুসাঈন ইবনে আলী (আঃ) দরজা খুলে ভিতরে প্রবেশ করলেন। রাসূল (সাঃ) ও তাকে তুলে নিয়ে চুম্বন করলেন। ঐ ফেরেশতা বলল ঃ তাঁকে (আঃ)ভালোবাসেক ? বললেন ঃ হ্যাঁ। বললো ঃ আপনার উম্মত খুব শীঘ্রই তাঁকে হত্যা কররে। যদি আপনি চান তবে যে স্থানে তিনি শহীদ হবেন তা আপনাকে দেখাতে পারি। তিনি বললেন ঃ হ্যাঁ দেখতে চাই। বলে ঃ ঐ ফেরেশতা ( ইমাম হুসাইনের (আঃ) ) শাহাদাত স্থল থেকে এক মুষ্ঠি মাটি এনে হযরত (সাঃ) কে দেখলেন। কিছুক্ষণ পর কিছু বালি বা রক্তিম মাটি আনলেন। উম্মে সালমা তা গ্রহণ করলেন এবং নিজের কাপড়ে রাখলেন। হাদীসের বর্ণনাকারী সাবিত বলেন ঃ আমরা (ঐ সময়) বলতাম ঃ এ হল কারবালা!
খ- যে সকল রেওয়ায়েতে বলা হয় ঃ মহানবী (সাঃ) ক্রন্দন করতে নিষেধ করেছেন এবং এ সকল রেওয়ায়েতের উৎস।
সহী মুসলিম ও সুনানে নাসাঈতে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, হাফসা ওমরের জন্য ক্রন্দন করেছিল। ওমর বললো ঃ শান্ত হও আমার কন্যা। তুমি কি জাননা যে, মহানবী (সাঃ) বলেছেন ঃ মৃতব্যক্তি তার জন্য আত্মীয়-স্বজনের ক্রন্দনের কারণে শাস্তি ভোগ করে ?!
অন্য এক রেওয়ায়েতে এসেছে ঃ
ওমর বলে ঃ মহানবী (সাঃ) বলেছিলেন ঃ মৃতব্যক্তি তার কবরে তার জন্য বিলাপ ও ক্রন্দনের জন্য শাস্তি পায়।
অন্য এক বর্ণনায় বলা হয় ঃ
আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর বলের ঃ যখন ওমর আঘাত প্রাপ্ত হয়েছিল তখন তিনি বেহুশ হয়ে পড়েছিলেন। এজন্য তার জন্য আর্তচিৎকার ও বিলাপ করছিলেন। যখন হুশ আসলো তখন বললো ঃ তোমরা কি জাননা যে, রাসূল (সাঃ) বলেছেন ঃ“মৃতব্যক্তি তার জন্য জীবিতদের ক্রন্দনের কারণে শাস্তি ভোগ করে।”?! হাদীসের উপর হযরত আয়েশার অনুধাবন এবং ওমরের ভ্রান্তি দূরকরণ এবং প্রশ্ন ঃ
সহীহ বোখারীতে, সহীহ মুসলিম ও সুনানে নাসায়ীতে বর্ণিত হয়েছে !
ইবনে আব্বাস বলেন ঃ মদিনায় যখন পৌঁছলাম আমীরুল মুমিনীন (হযরত ওমর) তখন ও আঘাত প্রাপ্তির পর সুস্থ হননি। সাহিব হায় আমার ভাই ! হায় আমার সাথী ! বলে আর্তনাদ করতে করতে তার শিয়রে আসলো। ওমর বললেন ! তোমরা কি শুননি যে, মহানবী (সাঃ) বলেছেন ঃ “ মৃতব্যক্তি তার জন্য আত্মীয়-স্বজনের কিছু কিছু ক্রন্দনের কারনে শাস্তি ভোগ করে?!”
ইবনে আব্বাস বলেন ঃ আমি উঠে দাঁড়ালাম ও আয়শার নিকট গেলাম এবং যা ঘটেছে সে সম্পর্কে হযরত আয়শাকে জানালাম। আয়শা বললেন ! না আল্লাহর কসম! আল্লাহর রাসূল কখনোই বলেননি যে, ‘মৃতব্যাক্তি কারো ক্রন্দনের জন্য শাস্তি ভোগ করে।’ বরং তিনি (সাঃ) বলেছেন ঃ
إنَّ الکافِرَ يَز يدُهُ اللهُ بِبُکاءِ اَهلِهِ عَذا باً وَ إنَّ اللهَ لَهُوَ اَضحَکَ وَ اَبکي.. وَ لا تَزِرَةُ وِزرَ
اُخري
মহান আল্লাহ কাফেরদেরকে তাদের আত্মীয়-স্বজনের কান্নার জন্য বেশী শাস্তি দেন এবং মহান আল্লাহই হাসান ও কাঁদান এবং কেউই অন্য কারো পাপের বোঝা বহন করে না ।”
কাসেম ইবনে মোহাম্মাদ বলেনঃ যখন ওমর ও তার পূত্রের কথপোকথন সম্পর্কে হযরত আয়শা জানতে পেলেন তখন বলেন ঃ তোমারা আমার নিকট এমন কারো খবর দিচ্ছ যিনি না মিথ্যাবাদী এবং না মিথ্যাচারী, তথাপি (সে যাই হোক) মানুষ ভুল শুনে থাকে।
সহীহ মুসলিম, সহীহ বোখারী, সুনানে তিরমিযি , মুয়াত্তা মালিক রেওয়ায়েত করেন ঃ
হিশাম বিন উরবাহ তার পিতার নিকট থেকে বর্ণনা করেন ঃ আয়শার নিকট বলা হলো যে, ইবনে ওমর বলেছেন ঃ মৃতব্যক্তি তার জন্য তার আত্মীয়-স্বজনের কান্নার ফলে শাস্তি ভোগ করে। আয়শা বললেন ঃ মহান আল্লাহ আবা আব্দুর রহমানকে ক্ষমা করুন ; তিনি কিছু শুনেছেন তবে ভাল করে ধরতে পারেননি। (ঘটনাটি ছিল এরকম হয়,) কোন এক ইহুদী ব্যক্তির জানাযা ( তার জন্য ক্রন্দনরত অবস্থায়) মহানবীর (সাঃ) নিকট দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। হযরত (সাঃ) বলেন ঃ “ তোমরা কাঁদছ, আর সে শাস্তি পাচ্ছে।”
ইমাম নাভাভী (মৃত্যু ৬৭৬ হিঃ) সহীহ মুসলিমের ব্যাখায়, ক্রন্দন নিষেধ করা সম্পর্কে রসূল (সাঃ) থেকে যে হাদীস গুলো বর্ণনা করা হয়েছে, সেগুলো সম্পর্কে বলেন ঃ এ রেওয়ায়েতটি শুধুমাত্র হযরত ওমর ও তার পুত্র আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত হয়েছে। হযরত আয়শা সেগুলোকে অস্বীকার করেছেন এবং এটাকে তাদের দু’জনের ভুল-ভ্রান্তি বলে মনে করেছেন। এছাড়া এমনটি মহানবীর (সাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে এমনটি অস্বীকার করেছেন। আল্লাহর রাসূল (সাঃ) ওমরকে (কান্নায় নিষেধ করতে বারন করেছেনঃ
সুনাকে নাসায়ী, সুনানে ইবনে মাযা। ও মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হয়েছে যে
সালমা বিন আযরাক বলেনঃ আল্লাহর রাসূলের (আঃ) কোন এ আত্নীয় পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছিলেন। নারীরা সমবেত হয়ে তার জন্য ক্রন্দন করছিলো। ওমর উঠে দাঁড়ালেন এবং তাদেরকে একাজে নিষেধ করছিলেন ও সভা ভেঙ্গে দিচ্ছিলেন। আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বলেন ঃ ওমর তাদেরকে তাদের অবস্থায় থাকতে দাও যে চক্ষুগুলো অশ্রুসিক্ত, হৃদয় মুসিবাত দেখেছে আর কষ্ট গুলো তাজা।২৯ মুসনাদে আহমাদে ওহাব ইবনে কায়সান থেকে, তিনি মোহাম্মাদ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেন যে,
সালমা ইবনে আরযাক আব্দুল্লাহ ইবনে ওমারের সাথে বাজারে বসেছিল। একদল লোক জানাযা নিয়ে যাচ্ছিলেন ও তার জন্য ক্রন্দন করছিলেন। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর এ কাজটিকে অপছন্দনীয় মনে করত ! তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করলেন। সালমা ইবনে আরযাক তাকে বললেন ঃ এমনটি বলনা ! কারণ আমি সাক্ষী ছিলাম ও আবু হোরায়রা থেকে শুনেছি -মারওয়ানের পরিবারের এক মহিলা মৃত্যু বরণ করেছিলো এবং মারওয়ান এ আদেশ দিচ্ছিলো যে, যেসমসম্ত মহিলানা তার জন্য ক্রন্দন করে তাদেরকে সেখান থেকে তাড়িয়ে দাও । আবু হোরায়রা সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং বললেন ঃ হে আব্দুল মালেকের পিতা। তাদেরকে তাদের অবস্থায় ছেড়ে দাও। কারণ একবার এক জানাযা মহানবীর (সাঃ) সম্মুখ দিয়ে অতিক্রম করছিল। আমি ও ওমর ইবনে খাত্তাব ও হযরত (সাঃ) এর পাশে ছিলাম। ওমর ঐ জানাযার নিকট থেকে ঐ সমস্ত মহিলাকে তাড়াচ্ছিলেন যারা তার জন্য ক্রন্দন করছিলেন। আল্লাহর রাসূল বললেন হে খাত্তাবের পুত্র ! তাদেরকে তাদের মত থাকতে দাও তাদের প্রাণ মুসিবত দেখেছে তাদের চক্ষুগুলে অশ্রুসিক্ত এবং তাদের কষ্ট তাজা।
বর্ণনা সমূহের তুলনা ও এর ফলাফল
প্রথম অংশের রেওয়াযেতে প্রমাণিত হয়েছে যে, মরনোম্মুখ ও মৃতের জন্য ক্রন্দন করা ; অনুরূপ মৃতদের মাযারে (শহীদ অথবা শহীদ নয়) ক্রন্দন করা মহানবী (সাঃ)-এর সিরাতে আছে।
দ্বিতীয় অংশের রেওয়ায়েতে প্রমাণিত হয়েছে যে, আল্লাহর রাসূল একাধিকবার তার শহীদ বংশধরের (হুসাইন (আঃ) জন্য ক্রন্দন করেছিলেন। আর এ প্রমাণের ভিত্তিতে হুসাইন (আঃ)-এর জন্য হযরতের (সাঃ) ক্রন্দন প্রথম অংশের সাথে মিলে যায় এবং মহানবীর (সাঃ) সুন্নত ও সিরাতের অর্ন্তভুক্ত বলে পরিগণিত হয়।
তৃতীয় অংশের রেওয়ায়েত সমূহে প্রমাণিত হয়েছে যে, মৃতব্যক্তির উপর ক্রন্দন নিষিদ্ধ সম্পর্কিত রেওয়ায়েত কেবলমাত্র দ্বিতীয় খলিফা ও তার পুত্র আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত হয়েছে। অপরদিকে উমমূল মু’মিনীম আয়শা কর্তৃক তাদেরকে বুঝিয়ে বলেছিলেন ঃ “ মহান আল্লাহ আবা আব্দুর রহমানকে ক্ষমা করুন, তারা কিছু শুনেছে, কিন্তু অনুধাবণ করতে পারেনি।” এবং অন্যান্য সাহাবার বক্তব্য যেমনঃ আবু হোরায়রা ও ইবনে আব্বাস এ বিষয়টি সম্পর্কে বলেন ঃ মৃতের উপর ক্রন্দন সম্পর্কে দ্বিতীয় খলিফা ও তদীয় পুত্র আদ্বুল্লাহ যা মহানবী (সাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন, তা ছিল ভুল।
অতত্রব, মৃত্যুপথযাত্রী কারো জন্য ক্রন্দন করা, মৃতের জন্য ক্রন্দন করা, মৃতের মাযারে ক্রন্দন করা মহানবীর (সাঃ) সুন্নত ও সিরাতেই আছে। ফলে হুসাইন (আঃ)-এর উপর ক্রন্দনও আল্লাহর রাসূলের (সাঃ) সিরাত ও সুন্নতের মধ্যে আছে।








































১১টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×