‘এমপি শাওনের অতীত খারাপ থাকতে পারে কিন্তু পুলিশ নিশ্চিত, ইব্রাহিম খুনের ঘটনায় তিনি কোনোভাবেই জড়িত নন।’ --- ডিএমপি কমিশনার এ কে এম শহীদুল ইসলাম।
ব্লগাররা লক্ষ্য করুন মালিবাগ হত্যাকান্ডের অন্যতম পৃষ্টপোষক, টেন্ডার সন্ত্রাসী এমপি শাওনকে বাঁচাতে ডিএমপি কমিশনার এ কে এম শহীদুল ইসলামের প্রাণান্তর চেষ্টার কথায় ফুটে উঠেছে তার বিবৃতিতে। কিন্তু কেন?
কেনইবা ডিএমপি কমিশনার ইব্রাহিম হত্যাকান্ডের ঠিক দুইদিনের মাথায় ১৫ আগস্ট রাজারবাগে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ ঘটনাটি দুর্ঘটনা বলে উল্লেখ করেন?
যেখানে আইন প্রতিমন্ত্রী হত্যাকান্ডে সাংসদ নুরুন্নবীর পিস্তল ব্যবহূত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে যানান সেখানে ডিএমপি কমিশনার বলেন - এ ঘটনায় সাংসদ নুরুন্নবীর পিস্তল ব্যবহূত হলেও তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করার কোনো সুযোগ নেই
সর্বশেষ গতকাল সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনারঃ
পুলিশ সাংসদ নুরুন্নবীকে খুনের মামলা থেকে রক্ষার চেষ্টা করছে কেন?
জবাবে কমিশনার বলেন, ‘আমরা কেন তাঁকে রক্ষার চেষ্টা করব। একটা অপমৃত্যু মামলা হয়েছে কিন্তু পুলিশ হত্যা মামলার মতোই তদন্ত করেছে। আমরা ক্লিয়ার, এই হত্যাকাণ্ডে নুরুন্নবী জড়িত নন। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। যিনি কোনোভাবেই ঘটনায় সম্পৃক্ত নন, তাঁকে আমরা জড়াব কেন। আগে তাঁর অনেক অপকর্মের ব্যাকগ্রাউন্ড থাকতে পারে কিন্তু এ ঘটনায় তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’
প্রশ্ন করা হয়, যদি সাংসদের সম্পৃক্ততাই না থাকে, আর এটা যদি পরিকল্পিত খুন না হয়, তাহলে সাংসদ কেন গুলিবিদ্ধ ইব্রাহিমকে আশপাশের কোনো হাসপাতালে না নিয়ে শহরের এক কোণে সদরঘাট এলাকার সুমনা ক্লিনিকে নিয়ে গেলেন? কেন সাংসদ ও তাঁর সহযোগীরা ইব্রাহিমের লাশ ঢাকা মেডিকেলে ফেলে পালালেন?
এসব প্রশ্নের কোনো জবাব দেননি কমিশনার।
ইব্রাহিমের বাবা-মা-স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও কেন চালকের অপমৃত্যু মামলা নিল পুলিশ?
এর জবাবে কমিশনার বলেন, ‘যে কাছাকাছি থাকবে সে মামলা করবে।’
সাংবাদিকদের পাল্টা প্রশ্ন, তাহলে তো একজন খুনি খুন করে থানায় গিয়ে মামলা করতে পারে।
কমিশনারের জবাব, ‘যদি খুনিই মামলার বাদী হয়, তবে তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে।’
সাংবাদিকেরা জানতে চান, তাহলে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কেন ভুয়া মামলার সূত্র ধরে মন্তব্য করলেন?
এ প্রশ্নেরও কোনো জবাব দেননি কমিশনার।
গাড়ি তাঁর, অস্ত্রও তাঁর তবুও নুরুন্নবীকে সন্দেহের বাইরে রাখা হচ্ছে কেন?
এ প্রশ্নের জবাবে কমিশনার বলেন, ‘আমি পুলিশ কমিশনার হয়েই ওসিদের নির্দেশ দিয়েছি সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে গ্রেপ্তার করা যাবে না। গাড়ি আর অস্ত্র নুরুন্নবীর হতে পারে কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। গাড়ি-অস্ত্র তাঁর হলেই তো প্রমাণ হয়ে যায় না যে তিনি খুনটা করেছেন। কেউ যদি উদ্দেশ্যমূলকভাবে বৈধ অস্ত্রের অপব্যবহার করেন, তাহলে সেটা অপরাধ হতে পারে। কেউ অস্ত্র ভাড়া দিলে, অস্ত্র দিয়ে কাউকে ভয় দেখালে সেটা অপরাধ হতে পারে।’ সাংবাদিকদের পাল্টা প্রশ্ন, তাহলে বিনা তথ্যপ্রমাণে শুধু সন্দেহের বশে পুলিশ কর্মকর্তা গৌতম হত্যা মামলায় কেন দুই জোড়া হায়দার-জাকিরকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হলো।
কিছুটা বিব্রত হয়ে কমিশনারের উত্তর, ‘পরবর্তীতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যদি মনে করেন, কাউকে গ্রেপ্তার করে রাখলে কিছু তথ্য পাওয়া যাবে, তাহলে তিনি সেটা করতেই পারেন। এ বিষয়টি আমার জানা নেই
সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে যদি এ রকম ঘটনা ঘটত, তাহলে পুলিশ কী করত?
সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে কমিশনারের পাল্টা প্রশ্ন, ‘আন্দাজে বললে তো আর হবে না। আপনারা এমন একটা উদাহরণ দেখান যে ঘটনার পর সন্দেহের বশে বৈধ অস্ত্রের মালিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।’
এ সময় সাংবাদিকেরা জানান, ওয়ার্ড কমিশনার মনোয়ার হোসেন ডিপজলের বাসায় লাইসেন্স করা অস্ত্র ছিল, তার পরও তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
সাংসদের গাড়িচালক কামালের করা অপমৃত্যু মামলা তো মিথ্যা মামলা ছিল এবং কামাল তাঁর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছেন, সাংসদের নির্দেশে তিনি এই মামলা করেছেন। তাহলে মিথ্যা মামলার নির্দেশদাতা হিসেবে সাংসদকে কেন অভিযুক্ত করা যাবে না?
এ প্রশ্নের জবাবে কমিশনার বলেন, ‘সাংসদকে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন কামাল। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই সাংসদ মামলা করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন।’
সাংসদের পিস্তল থেকে আঙুলের ছাপ কারা মুছে দিল?
কমিশনার বলেন, ‘পিস্তলটি নিয়ে টানাহেঁচড়া হয়েছে, এ কারণে ছাপ না-ও থাকতে পারে। তবে ছাপ মোছা হয়নি। গুলির ঘটনার পর সাংসদ গাড়িতে আসার আগেই চালক কামাল পিস্তলটি গাড়ির সিটের পেছনের পকেটে যে অবস্থায় ছিল, সেভাবে রেখে দেন। ফলে সাংসদ কিছু বোঝেননি।’
সাংসদ শাওনকে বাঁচাতে ডিএমপি কমিশনারের এ প্রাণান্তকর চেষ্টার ব্যাপারে অন্যরা কি বলে? পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক এএসএম শাহজাহান প্রথম আলোকে বলেন, ‘তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এভাবে মন্তব্য না করাই ভালো। অতীতে আমরা বহু রকম তদন্ত দেখেছি। এসব নিয়ে অনেক কিছু হয়েছে। এ কারণে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার ক্ষেত্রে তদন্ত শেষ না করে কোনো কিছু বলা ঠিক নয়।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একজন সাবেক পদস্থ কর্মকর্তা বলেন, সরাসরি খুনের মামলায় না জড়ালেও এ ঘটনায় সাংসদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১০৭ ধারায় অপরাধে সহায়তা করা এবং ২০১ ধারায় অপরাধীকে গোপন করার জন্য অপরাধের সাক্ষ্য অদৃশ্য করে দেওয়া বা মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করার অভিযোগ আনা যেতে পারে।
আওয়ামীলীগ কর্মী ইব্রাহিম হত্যাকান্ডের সুষ্ট তদন্তের স্বার্থে ডিএমপি কমিশনার এ কে এম শহীদুল ইসলামকে রিমান্ডে নেওয়ার জোড় আবেদন জানাচ্ছি।
সুশীল বেশদারী আওয়ামী ব্লগার তথা ভার্চুয়াল মুক্তিযোদ্ধারা আজ চুপ কেন?কেন একজন খুনী সাংসদ শাওনের বিরুদ্ধে ব্লগাররা প্রতিবাদে ফেটে পড়ছেনা?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


