লক্ষ্মীপুরের বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম বারবার প্রাণভিক্ষা চেয়েছিলেন বিপ্লবের কাছে। এমনকি প্রাণভিক্ষা পেয়ে চিরতরে লক্ষ্মীপুর ছেড়ে যাওয়ার প্রতিজ্ঞাও করেছিলেন। কিন্তু বাথরুমে ফেলে রামদা ও ছেনি দিয়ে নির্মমভাবে কুপিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল। নুরুল ইসলাম প্রাণভিক্ষা না পেলেও তাঁর ঘাতক বিপ্লব ঠিকই ক্ষমা পেয়ে গেলেন রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে।
২০০৩ সালের ৯ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম হাসান ইমাম ঘোষিত রায়ে সেই নির্মম হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা আছে। এমনকি আসামিদের কেন সাজা দেওয়া হবে তারও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন বিচারক।
রায়ের শেষ অংশে বিচারক উল্লেখ করেন, 'ঘটনার রাতে আসামি বিপ্লব, লাভু, জিকু, রিংকু ও শিপন এই পাঁচ আসামি বিপ্লবের বাথরুমে ফেলে রামদা ও ছেনি দিয়ে নির্মমভাবে ভিকটিম নুুরুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে আরো দেখা যাচ্ছে যে ভিকটিম নুরুল ইসলাম অপহৃত হওয়ার আগে আসামি বিপ্লবের কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়ে লক্ষ্মীপুর শহর ত্যাগ করার আকুতি জানিয়েছিল।'
রায়ে উল্লেখ করা হয়, 'বিপ্লবসহ বাকি চারজন খুনির মনে ভিকটিমের প্রাণে বাঁচার আবেদন এতটুকু প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। কারণ বিপ্লব, লাভু, জিকু, রিংকু ও শিপন ভিকটিমকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। ভিকটিমের দেহকে তারা নারকীয়ভাবে কুপিয়ে খণ্ড-বিখণ্ড করেছে। তাই এই আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া সমীচীন হবে। এ ছাড়া খালেক, গনি, মাহফুজ, মারজু, পরান, জাকির, মেহেদী, টিপু ও শিমুল ভিকটিম নুরুল ইসলামকে হত্যায় অংশ নিয়েছে। কিন্তু তারা ছেনি বা রামদা দিয়ে সরাসরি আঘাত করেনি কিংবা ভিকটিমকে কেটে টুকরো টুকরো করেনি। তাই তাদের সাজা দেওয়ার ব্যাপারে নমনীয় হওয়া সমীচীন হবে।'
রায়ে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, 'এই মামলার আসামি এইচ এম বিপ্লব, আবদুল জব্বার ওরফে লাভু, আলমগীর হোসেন ওরফে জিকু, তানভীর হায়দার ওরফে রিংকু ও জিয়াউর রহমান ওরফে শিপনের বিরুদ্ধে ৩০২/৩০১/৩৪ ধারার অপরাধ সন্দেহতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাদের ভিকটিম নুরুল ইসলামকে খুনের দায়ে এবং পরবর্তী সময়ে আলামত গোপন করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হলো। তাদের প্রত্যেককে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে। খালেক, গনি, মাহফুজ, মারজু, পরান, জাকির, মেহেদী, টিপু ও শিমুলের বিরুদ্ধে ৩০২/৩৪ ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হলো। আদায়কৃত অর্থের মধ্যে ৮০ শতাংশ ভিকটিম নুরুল ইসলামের স্ত্রী ও সন্তানরা মুসলিম বিধান অনুযায়ী পাবেন। এ ছাড়া বাকি ২০ শতাংশ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হবে।'
মামলায় তৎকালীন সরকার নিয়োজিত কেঁৗসুলি ও বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম সাজ্জাদ গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'রাষ্ট্রপতির এই ক্ষমা ঘোষণা বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করবে। কারণ যেখানে একজন আইনজীবী খুন হওয়ার ঘটনায় তাঁর পরিবার ন্যায়বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছে, তাহলে দেশের সাধারণ মানুষের কী অবস্থা হতে পারে তা এখান থেকে সহজেই অনুমান করা যায়।'
এদিকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক রবিউল হাসান রাষ্ট্রপতির ক্ষমা ঘোষণার কপি গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করেছেন। গতকাল সকালে তিনি ওই ক্ষমা ঘোষণার কপিতে 'দেখিলাম' উল্লেখ করে নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেন। গত মঙ্গলবার এই কপি আদালতে এসে পৌঁছায়। কিন্তু বিচারক বুধবার ছুটিতে যাওয়ায় তা আর নথিভুক্ত করা যায়নি। ছুটি থেকে এসে কাজে যোগ দিয়ে তিনি তা নথিভুক্ত করলেন।
কপি পেষ্ট লেখা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

