মানবতাবিরোধী অপরাধ তদন্তের সাক্ষ্যগ্রহণ নিয়ে পাবনাবাসী হতবাক
৭৮ সালে জন্মগ্রহণকারী কামরুজ্জামানকে ৭১ সালের ঘটনা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তলব
পাবনা সংবাদদাতা : ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধ তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা তলব করেছে ১৯৭৮ সালে জন্মগ্রহণকারী এক কলেজ শিক্ষককে। ঐ কলেজ শিক্ষক কামরুজ্জামানের বাড়ী সাঁথিয়া উপজেলার ঘুঘুদহ গ্রামে। তার পিতার নাম আব্দুল হাকিম। তিনি সাঁথিয়া ডিগ্রী কলেজের ইসলাম শিক্ষা বিষয়ের প্রভাষক। তাকে ট্রাইব্যুনালে ডাকায় পাবনার মানুষ বিস্মিত হয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি টক অব দা পাবনায় পরিনত হয়েছে।
১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী কর্মকান্ডে জড়িতদের বিচারের জন্য বর্তমান মহাজোট সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নামে একটি সংস্থা গঠন করে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার করে বিচারের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সেই প্রক্রিয়ার অংশহিসেবে জামায়াত আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ নিয়ে সাঁথিয়ার বিভিন্ন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রচেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যেই ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা একাধিকবার প্রকাশ্যে ও গোপনে সাঁথিয়া সফর করে আশানুরূপ স্বাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করতে না পেরে কিছু ব্যক্তিকে নির্বাচিত করে তাদেরকে ঢাকায় তলব করে জিজ্ঞাসাবাদের উদ্যোগ নিয়েছে। সেই প্রক্রিয়ার অংশহিসেবে গত ২৯ আগস্ট ২০১১ তারিখে ঐ সংস্থার তদন্তকারী কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক খান স্বাক্ষরিত একটি চিঠি কামরুজ্জামানের বরাবর পাঠানো হয়। চিঠিতে বলা হয় মামলার তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য উপাত্ত থেকে জানা যায় আপনি উক্ত মামলার ঘটনাবলী সম্পর্কে অবগত আছেন। এজন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল এ্যাক্ট ১৯৭৩ এর ধারা ৮ এর (৩ ও (৪ মোতাবেক আপনাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৮ সেপ্টেম্বর '১১ তারিখ সকাল ১০টায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা অফিসে হাজির হতে অনুরোধ করা হলো। অন্যথায় ১৯৭৩ এর ধারা ৮ এর (৭ অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে চিঠি পেয়ে জনাব কামরুজ্জামান বিচলিত হয়ে পড়েছেন।
কামরুজ্জামান জানান, ১৯৭৮ সালে আমার জন্ম অথচ ১৯৭১ সালের ঘটনা জানার জন্য আমাকে চিঠি দেয়া হয়েছে। বিষয়টি আমার কাছে মোটেও বোধগম্য নয়। এ সময় তিনি তার বয়স প্রমাণের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র ও ১৯৯২ সালে অনুষ্ঠিত মাদরাসা বোর্ডের দাখিল পাশের সনদপত্র প্রদর্শন করেন। এ ঘটনায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে তাহলে কি মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের নামে জাতির সাথে প্রহসন করা হচ্ছে? ঘটনাটি বর্তমানে টক অব দা পাবনায় পরিনত হয়েছে। যুদ্ধাপরাধ বিচারের কার্যক্রম যে একটি গোষ্ঠীকে ফাসানোর জন্য পরিচালিত হচ্ছে তা পাবনাবাসীর কাছে সত্যে পরিণত হলো। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিগণ এই ঘটনা জানার পর বিরোধীদলকে দমনের একটি হাতিয়ার হিসেবে সরকার ট্রাইব্যুনালকে ব্যবহার করছে বলে মন্তব্য করেছেন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


