সা...
কিছু কথা থাক অনুক্ত; অথচ
অনিবার্য অধিক
যেন
নিয়তি
কিংবা
নিয়তির সঙ...
হয়তো এমনি হঠাৎ; অকস্মাৎ আকাশ আধাঁর করে গম্ভীরা কি তানপুরায় আবাহন গীতি লাগতে না লাগতেই অঝোর বর্ষা কিবা কালবোশেখ নামে; ছুঁয়ে যায়, ধুয়ে যায়, ঝরঝর ঝরে যায়, হিজল তমাল তলা ভেসে যায়; হঠাৎ স্রোতে ভাসার আনন্দে অস্থির চঞ্চল নৃত্যে মাতে ঝরাপাতা, ছোট তৃণ, মৃত বালি। আর তখন বরিষন; মৃদুমন্দ বিগ্রহ স্মৃতি আঁচলে, মাথায়, সর্বাংগে। তখন উধাও খরার দিন, উধাও চৈত্র দিন, উধাও খাঁ খাঁ বিরান মাঠ, অজগরের পিঠ আঁকা গ্রীষ্মের জমিন। তখন কোথা হতে জল ঝরে - কে জানে? কোন মেঘ কাঁদে অমন - কে রাখে খোঁজ? কেবলি স্নানের পালা, ডানা ভাসাবার অবসর, অবসর ফিরে দেখার, টুপটাপ জলের ছন্দে একটা কোন ছড়া কাটবার।
কিছু দিন বুঝি এমনি নামে হুড়মুড়িয়ে, ধারে না প্রস্তুতির ধার, গলা সাধার, ধুপ ধুনো ছড়াবার। নামে অনিবার্য নিয়তির মতো সকালে দুপুরে সাঁঝে। রাত ভর জোছনা, জোছনা লেগে থাকে দিনভর - যেন মিষ্টি বালিকার ঘুমের ঘোরে ঠোঁট বাঁকা মিষ্টি হাসি। জোছনা তখন বিজাবন অরণ্যে, জল জোছনা তখন জলে, জলের শরীরে। কিছু দিন বুঝি শুধু জোছনা আনে?
কিছু দিন এমন অবোধ্য নতুন, যেন মরালীর তুলতুলে সদ্য গজানো ডানা। এমনি যাতে হোঁচঠ খায়, থমকে দাঁড়ায় তিরিশ লাখ বছরের মানব সভ্যতা, গুহা যুগের গ্রন্থিল কর্মমুখর শ্রমমুখর অভিজ্ঞতা, একবিংশ শতাব্দীর সব বর্ণ গ্রন্থ ধর্মপাঠ। অবোধ্য অথচ যেন আরাধ্য। যেমন কোটি আলোকবর্ষ পেরুনো আলো মহাশুণ্যের নিরুদ্দিষ্ট গহ্বরে চলতে চলতে হঠাৎ কোন মাহেন্দ্রক্ষণে নামে পৃথিবীর কোলে। যেমন তখন পৃথিবী ঝলমল প্রাণ প্রাচূর্যের কাহিনী শুনে অবাক বিস্ময়ে, দূর কোন গ্রহের স্বপ্নে মুহুর্মুহু উদ্বেল।
কিছু দিন কেবলি মুগ্ধ বিস্ময়ের। শীতের কম্বলে মুখ ডুবিয়ে শোনা দুরন্ত কিশোরের পাতালপুরির রাজকন্যা রাজকুমারের গল্পের আবেশ লেগে থাকে কপোলে। যেন অচিন ঘোরে দেখা চেনা পৃথিবী। পৃথিবীর রঙ, মানুষ, তার আলোক, জনপদ, সভ্যতা, সংস্কৃতি। এমনি বিস্ময় যেন শৈশবে ফেরা। ফেরা জন্মে, তারো আগে কে জানে কোন ঘোরে। আহা! কিছু দিন তবে বুঝি এমন বিস্ময় ঝরায়।
বালিতে কান পাতো, ঝিনুক বাজছে কিশোরী পায়ের ছন্দে। একাদশী চাঁদ ভরেছে মংগলালোক সৈকতে। বাতাসে রিনিঝিনি প্রণয়ালাপ। ঝাউশাখে একশো জোনাক দেউটি। তখন গ্রহে গ্রহে বাজছে কোমল বেহালা, তখন মধ্যরাত, তখন অক্লান্ত নিপুন অবসর, তখন হাস্নুহেনার মাতাল গন্ধ, তখন শুধু নির্জনতা, তখন অপার অপার আনন্দ ঘ্রানে- সমুদ্র স্নানে তখন অবগাহনের নিমন্ত্রন, তখন মাতাল শিহরণ স্নায়ুতে - পেশীতে, তখন শুণ্য স্মৃতি, শুণ্য অতীত, শুণ্য ভবিষ্যত, শুণ্য বর্তমান, তখন নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাসে অনুভব, তখন শুচি শুভ্র পৃথিবী, অনুভব তনুমনপ্রাণদেহ চৌহদ্দীতে, ঘিয়ে জ্বলা বাতি কেঁপে কেঁপে যায়; দেয়ালে নকশা তোলে, অপরূপ আঁধার জড়ায় কোমল আদরে, তখন শুধু দু'জন, তখন...
এমনি একেকটা দিন কখনও সূর্য আনে জীবনে।
হায় গো! অকিঞ্চিতকর জীবনে কোন প্রেয়সী পাঠায় অর্ঘ্য অমন।
এরকম'ই আমাদের।
এরকম'ই আমার।
এরকম'ই দিন তবু কিছু আসে।
(পরবর্তী পর্ব: রে...
ছবিটি ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


