পঞ্চম পর্ব
পা...
মেঘ নিয়েছে পৃথিবীর ছায়া তুলে
তাই
বুক হতে তার কেবলি
বেদনা ঝরে...
নাম দিয়েছি জলকোলাহল। তার তীরে ঘাসে, বিকেলের রাঙা আলোয় নীল আঁচল উড়িয়ে বাতাসে, কথা আছে বসবে পাশে। আসছি কি দিন অমন - দু'প্রহর নিরুদ্বেগের? এত এত স্রোত দু'পাশে, পদ্ম তোলার, শালুক খোঁজার অবসর কি হবে এতটুকু?
সেই যে ভোরে, নারকেল সুপোরীর ঘন মাথা পেরিয়ে সূর্যোচ্ছ্বটা দাওয়ায় লুটানোর কত আগে লাঙল কাঁধে, জোয়াল হাতে বেরিয়ে পড়া, তারপর তো বেলা হল বেশ। পাঠশালার নামতা পড়া শেষ কখন। বাতাসে ভাসছিল সুর -
দুয়েক্ কে দুই
দুই দু'গুনা চার-
তাও মিলালো বহুক্ষন। ক্লান্ত রাখাল বাঁশী বুকে চেপে অঘোর ঘুমে বর্ষীয়সী বৃক্ষের ছায়। আমি কপালের ঘাম বার বার মুছে বাড়ির পানে সতৃষ্ণ চেয়ে আছি। কই এলে নাতো তুমি এখনও? ভুলে বুঝি গেছ? এখনও হয়নি স্নান? ঘুমিয়েছ অবেলায়? নিভে গেছে ভেজা কাঠ? রান্না হয়নি বুঝি এখনও?
বেলা গড়ায়। হাতে পায়ে কাদা শুকিয়ে আসে। রোদ কমে, কমে তাপ। আকাশের ঈশান কোন জুড়ে জমে আসে কাল মেঘ। উলোট মেঘ। ধূলোট মেঘ। ছড়ায় সমস্ত আকাশে। হুড় মুড় ধেয়ে আসে হঠাৎ কালবৈশাখী। ঝরাপাতা ওড়ে, বালি ওড়ে। ওড়ে ডাল, পালক, খড়, দু টুকরো দীর্ঘশ্বাসের ডানা।
কালবোশেখ ঘিরে ধরে আমাকে। আমাকে ছোঁয় অবলীলায়, চুল ওড়ায়, পুব ভিটের জঙলা কাঁপতে থাকে পাশে, ধূলো এসে ঢেকে দেয় চোখ। দৃষ্টি তখন ঝাপসা। বুজে আসে প্রতীক্ষিত পথ চাওয়া, তবু প্রানপনে চেয়ে থাকি-
হায় !
বেলা গড়ায়
কই
তুমি তো এলেনা...
(পরবর্তী পর্ব: ধা...
(ছবিটি ইন্টারনেট হতে সংগৃহীত)
"বাসর নৈবদ্যগুচ্ছ - গদ্যছাঁচে পদ্যলীলা ,প্রথম পর্ব : সা..." এখানে
"বাসর নৈবদ্যগুচ্ছ - গদ্যছাঁচে পদ্যলীলা , দ্বিতীয় পর্ব : রে..." এখানে
"বাসর নৈবদ্যগুচ্ছ - গদ্যছাঁচে পদ্যলীলা , তৃতীয় পর্ব : গা..." এখানে
"বাসর নৈবদ্যগুচ্ছ - গদ্যছাঁচে পদ্যলীলা , চতূর্থ পর্ব : মা..." এখানে
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


