----------------------------------
শরতের মিষ্টি রোদে সবুজ ঘাসে গা এলিয়ে শুয়ে থাকি। বিবশ।
আমি কবি না। কবিতা লিখতে জানি না শব্দের পর শব্দ বসিয়ে, অনুভূতিকে অক্ষরে বন্দী করে। পারলে লিখে ফেলতাম। এই ভালো, মনের খাঁচা থেকে তো মুক্তি পেত। আমার মত অগোছালো উদ্ভ্রান্ত কথার মালায় তো ঘটনাপ্রবাহ লিখতে হয়।
একটা "আপাত: গোছালো" ভাব সেঁটে।
অথচ এখানে তো কোন ঘটনা নেই। শুধু একটাই অনুভূতি--বড় ক্লান্তি লাগে।
"আর পারি না আর পারি না আমার ভীষণ ক্লান্ত লাগে
আর জমে না আর জমে না রঙিন স্বপ্ন মনের তলে
যা আছে আর যা কিছু নেই যাচ্ছে ধুয়ে বৃষ্টি ধারায়"
স্বপ্নের বীজ বুনতে ভয় করে। বীজ বুনলেও বৃষ্টি ধারা ধুঁয়ে নিয়ে যায়। স্বপ্নের গোলানো রঙগুলো এক সাথে মিলে মিশে বিদঘুটে হয়ে যায়।
আমি দিশেহারা হয়ে যাই বার বার। অর্থহীন জেনেও। রাগ করতে পারি না, একটা অপরাধ বোধে মন ছেঁয়ে যায়। আয়নায় উজ্জ্বল চোখের শ্যামলা বিষণ্ন মেয়েটা কেমন অদ্ভূত চোখে তাকিয়ে থাকে। নি:শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। জোড় করে ভাবনাদের দূরে ঠেলে দিতে চাই। নিজেকে স্বেচ্ছানির্বাসন দিতে ইচ্ছা হয়। জেনেটিক প্রোগ্রামিঙের সুদিনের জন্য আর অপেক্ষা করতে মন চায় না, বড় অধীর হয়ে যাই।
আমি পড়তে পারি। সবাইকে পড়তে ইচ্ছা করে না। যাদের পড়তে ইচ্ছা করে খুব, তাদের পড়তে পারি। মাঝে মাঝে মনে হয় অবশ্য, ভুল ভাল পড়ছি। সব কিছু যে খুব রঙীন লাগে! এত রং আসবে কোথুকে?
'আমি মাদার তেরেসা না'।
আমাকে পড়তে পারা মানুষ খুঁজি আমি হয়রান হয়ে। মাঝে মাঝে বিভ্রম হয়। পড়তে পারা মানুষ পেয়ে গেছি হয়তো। তাই এত নিখুঁত ভাবে বাগ খুঁজে বের করে যন্ত্রনা দিতে পারে। অস্থির যন্ত্রনা।
অন্ত:হীন, একা আমার এই পথ চলা। স্বপ্নগুলো বহুমাত্রিক, বহুনৌকিক। আমি তাই তলিয়ে যাই বার বার। দিশেহারা হয়ে যাই।
নষ্ট হচ্ছি, কষ্ট পাচ্ছি, জমছে ধূলো ভালবাসায়...
সাপ লুুডু খেলেছি কম। কয়জন খেলোয়ার লাগে? একটাই গুটি, 'চাল' দেয়ার শিল্প দেখানোর চানস কই?
হেল হ্যাথ নো ফিউরি লাইক আ উইমেন স্কর্নড।
সত্যি কথা।
আগুন না নিভিয়ে আমি ঘুমাতে পারি না। নিজেই জ্বলি।
অস্থির আমার ঠান্ডা হাতগুলোর মত নিরুত্তাপ, নির্বিকার হয়ে যেতে চাই।
বার বার ঝুঁকলে পিঠ ব্যাথা করবে।
রোদ থেকে ফিরে এসে ক্লান্তি ঝেড়ে পড়তে বসতে হবে। নিয়ম ভেঙে আজ কফি খাওয়া যায়।
আমাকে যেতে হবে বহুদূর... মেঘেদের ক্লান্তি মানায় না...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

