আমার প্রিয় পোস্ট

জীবন গঠনে নিজেস্ব প্রতিক্রিয়ার দায় বেশি, ঘটে যাওয়া ঘটনার ভূমিকা সামান্য।

গল্প: পথ চলা - ৫

১৭ ই মে, ২০০৭ বিকাল ৫:৩৮

শেয়ারঃ
0 0 0

ঢাকার পরিচিত রাস্তায় হাঁটছিল ও। কেমন মনে হচ্ছে, চলে যাবে সব ছেড়ে কিছুদিনের মধ্যেই। বুক ভরা হাহাকার নিয়ে ঢাকার রাস্তায় হেঁটে চলছে ও একা। একটু আগেই শর্মায় খেয়ে এল বন্ধুদের সাথে। মনে হচ্ছে ঢাকায় এটাই ওর শেষ শর্মা খাওয়া। সিএনজির ভটভটি শব্দটাও বেশ লাগছে, আরও কতদিন পরে শুনতে পাবে? সিএনজিটা সরে যেতেও ভটভট শব্দটা মিলিয়ে যাচ্ছে না। পাশ দিয়ে গিয়ে আবার ঘুরে এসেছে যেন, ঠিক একই ভাবে আবার গেল পাশ দিয়ে। এবং আবার, এবং আবারও...
আরে, ব্যাটা কি ফাইজলামি পেয়েছে নাকি? ভাল করে তাকাতেই চোখের সামনে নিকষ অন্ধকার। সুজন শুয়ে আছে ওর ঘরে। পাশের সাইড টেবিলে ভাইব্রেশনে রাখা ফোনটা সিএনজির মত বিদঘুটে শব্দ করে বেজেই চলছে। ধাতস্থ হয়ে হাত বাড়াতেই শব্দ বন্ধ হয়ে গেল। এত রাতে কে ফোন করল? ফোন হাতে নিয়ে চমকে উঠল সুজন। '১৩ মিসড কলস'। কোন নাম্বার নেই। 'নো কলার আই ডি'। আশ্চর্য! দেশ থেকে ফোন আসল নাকি? চট করে সময় দেখল--রাত ২.৪০। এত রাতে এত বার ফোন করেছে যখন, খুব জরুরি কিছু নিশ্চয়ই। তাড়াতাড়ি টেবিল ল্যাম্প জ্বালিয়ে ফোর্ড কাজ খুঁজতে লাগল সুজন। আব্বুর কিছু হয় নি তো? কয়েকদিন ধরে শরীর ভাল যাচ্ছে না। আম্মুকে তো বলেও ডাক্তারের কাছে নেয়া যায় না। আম্মু ঠিক আছে? ভাইয়া বিজনেস নিয়ে কি সমস্যায় ছিল বলছিল। পাড়ার ছেলেরা ঝামেলা করছে। শেষ মেষ ঝামেলা হয়েই গেল না তো? ছি ছি, এগুলো কি ভাবছে ও? তাড়াতাড়ি আঙ্গুল চালায় সুজন।

ওপাশে হ্যালো শুনতেই উদ্বেগ ঢেলে দিল সুজন, 'আম্মু, তোমরা ফোন করেছিলা?'
জবাব শুনে মিইয়ে গেল। উহু, বাসা থেকে কেউ না। তাহলে কে হবে? বন্ধুদের কারও তো প্রশ্নই আসে না। সবাই জানে ওকে কখন পাওয়া যায়। তাছাড়া ওরা কখনই তেমন ফোন করে না। করলে ও-ই করে। এখন কার এমন দরদ পড়বে এই মধ্যরাতের ফোন করবে। তাও একবার না, দু'বার না, তের বার? অদ্ভূত। ভাবতে ভাবতে চোখ লেগে এসেছিল মোটে, তখনই ফোন বিকট শব্দে বেজে উঠল আবার। এবার দেরি না করেই ফোন তুলল। 'হ্যালো'।
কোন কথা নেই।
'হ্যালো?' গলা তুলল সুজন।
এবারও কোন কথা নেই।
'হ্যালো, শুনতে পাচ্ছি না।' একটু জোরেই বলল।
তখনই কিশোরী গলার রিনরিনে ছোট্ট কণ্ঠটা ভেসে আসল--'হ্যালো।'
এবার থতমত খেল সুজন। কি আশ্চর্য, এই রাতের বেলা, কোন কিশোরী ওকে ফোন করবে? 'হ্যালো, কে বলছেন?'
কিছুক্ষন কোন কথা নেই, তারপরেই কিশোরী কণ্ঠের গলায় উত্তাপ ঝরে পড়ল--'এতক্ষন ধরে ফোন করছি, ফোন ধরছিলেন না কেন শুনি?'

মিলি! সেদিনের পরে আর কোন খোঁজ খবর নেই। সপ্তাহ দু'য়েক তো হবেই। প্রথমে কয়েক দিন মেয়েটার সেদিনের ব্যবহারের অর্থ খুঁজে বের করার চেষ্টা করে হাল ছেড়ে দিয়েছিল। মিলি নিজেই চেয়ে ফোন নাম্বার নিয়ে গিয়েছিল সেদিন। ভেবেছিল ফোন করবে। করে নি। তিন চার দিন অপেক্ষায় থেকে বিরক্ত হয়ে গিয়েছিল। এতদিন পরে, এত রাতে?
১৩টা মিসড কল!
'আছেন নাকি ফোন রেখে দিব?' কান্না মেশানো ঝাঁঝে বলে উঠে কিশোরী কণ্ঠ।
'কি আশ্চর্য, ফোন রাখবেন কেন। চিনার চেষ্টা করছিলাম। কেমন আছেন? এত রাতে?'
'আপনি ধরতে এত দেরি করলেন কেন?' মিলির কণ্ঠ শুনে চমকে উঠল সুজন। এত অভিমান কাকে দেখাচ্ছে?
'স্যরি। ভাইব্রেশনে ছিল। খুব টায়ার্ড ছিলাম। ঘুম ভাঙতে সময় লেগেছে।' সাবধানে বলল সুজন।
'তাও, এত দেরি হবে কেন? আমি খুঁজছিলাম না আপনাকে?'
'স্যরি মিলি। বললাম তো শুনতে পাই নি। কেমন আছেন আপনি?'
'ভাল না। আমার মন খুব খারাপ। খুব। মনটা একটু ভাল করে দিবেন প্লীজ?'

পুরাই হতভম্ব হয়ে গেল সুজন। এ কি পাগলামি, রাত পোনে তিনটায় তের বার ফোন করে একদিনের চেনা একজনের কাছে এ কি আবদার? হতভম্ব ভাব কাটার আগেই টের পেয়েছিল কাঁদছে মিলি। ওই যে, শ্বাসটা নিয়েছিল, সেটা অনেক গভীর থেকে নেয়া। শ্বাস ছাড়ছিল খুব সাবধানে, হু হু করছিল প্রায় নি:শব্দে। কিন্তু সে কান্নায় অনেক কষ্ট। দেশ থেকে এসে হঠাৎ হঠাৎ মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গিয়ে যেভাবে নি:শব্দে বুক উজার করে কাঁদতে ইচ্ছা করতো, সেরকম।

বুঝতে দেয় নি সুজন ও বুঝেছে। 'এই রে, মন খারাপ কেন? শোনেনই না কি স্বপ্ন দেখছিলাম...' এভাবেই শুরু করে দিল সুজন। কিছুক্ষণের মধ্যেই মিলি একটু একটু হাসা শুরু করল। কথা বলতে বলতেই মনে মনে হিসাব চালায় সুজন, আজ রাতের ঘুম না থাকা মানে আগামী কাল কাজে গিয়ে মরণ। সন্ধ্যার ক্লাসে ঘুমাবে ঠিক নাক ডেকে। কি জ্বালায় পড়া গেল রে বাবা!

(চলবে)

 

সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, -০০০১ রাত ১২:০০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৭ ই মে, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:১৬
ত্রিভুজ বলেছেন: হা হা হা.... ..মন কি শেষ পর্যন্ত ভাল করতে পেরেছিলো?
... হুমম.... ..
২. ১৭ ই মে, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:২১
সমুদ্রের উত্তাল তরঙ্গ বলেছেন: চলুক..
তবে গল্প অনেক লম্বা হচ্ছে। আমার আবার লম্বা গল্প পড়ার তেমন ধৈর্য্য নাই। শেষ পর্ব কখন পাবো?
৩. ১৭ ই মে, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:২৩
ফরিদ বলেছেন: কাউয়ার গল্পও হেবি চলছেঃ)
৪. ১৭ ই মে, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:২৯
সন্ধ্যাবাতি বলেছেন: সমুদ্র, এখন মজা বুঝেন! কমপ্লিকেশন সহজ সরল একটা চাইছিলাম। কেউ তো দিতে পারলেন না। এখন জটিল আর প
৫. ১৭ ই মে, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:০৫
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: ভাল হচ্ছে ...স্বপ্নের সি.এন.জি ভটভট আর বাস্তবের মোবাইলের শব্দের মিশ্রণটা চমৎকার হয়েছে ...
কি কথা বলে মিলির মন ভাল হলো সেই কথোপকথনটা থাকলে আরও ভাল লাগত
৬. ১৭ ই মে, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:০৭
আবু সালেহ বলেছেন: এত ভাব মেশানো লেখা পড়লেই আমার ভেতরটা নড়ে উঠে.......
৭. ১৭ ই মে, ২০০৭ রাত ১০:৩২
অজান্তা বলেছেন: তারপরে কয়দিন খুব ভাল যাবে আর তারপরে একদিন মিলি ফোন করা বন্ধ করে দিবে।বেচারা সুজন তখন কি করবে?গল্পটা ভালই।চালিয়ে যান।
৮. ১৮ ই মে, ২০০৭ সকাল ১১:৫০
সন্ধ্যাবাতি বলেছেন: জ্বিনের বাদশা,
বেশি একঘেয়ে হয়ে যায় কি না ভেবে অংশটুকু বাদ দিয়েছি। দিলে ভাল হতো না? আচ্ছা পরের বার মনে থাকবে!

আবু সালেহ,
হা হা হা। তখন ভাব করতে ইচ্ছা করে কারও সাথে?

অজান্তা,
কে জানে, তা নাও হতে পারে! ধন্যবাদ উৎসাহ দেয়ার জন্য।
৯. ১৮ ই মে, ২০০৭ বিকাল ৪:৫১
পাশা বলেছেন: আপু,
অস্ট্রেলিয়ায় যখন রাত ২:৪০, বাংলাদেশে তখন রাত ১০:৪০। মানে বেশি রাত না(বাংলাদেশের জন্য)।

মোবাইলে কোন নাম্বার দেখাল না কেন? কালার আইডি অফ করে কি ফোন করা যায়?

সুন্দর গল্প চালিয়ে যান।:)
১০. ১৯ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১২:২৬
মারফ হোসেন বলেছেন: কলার আইডি অফ করা লাগে না। মাঝে মাঝে নাম্বার শো করে না।
আফা পান্খা হইছে আফনের গফ ডা।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৪৮৫ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ