নতুন ড্রাইভার তাই এমনিই তটস্থ থাকি, সবাইকে রাখিও। পাশ দিয়ে বড় কোন ট্রাক যাওয়ার সময় নিজের অজান্তেই গাড়ি কেঁপে উঠে, ভাইয়া স্টিয়ারিং হুইল ধরে বলে, 'স্টেডি, স্টেডি...'। কিংবা আশির জায়গায় সত্তরে না হয় একশ'তে চালাতে থাকি অবলীলায়। লেইন বদলানোর সময় পিছনে তাকাতেই গাড়ি যায় নড়ে। গাড়ির ভিতরে মানুষ জন সশব্দে দোআ দরূদ পড়া শুরু করে।
এর উপর যদি পিছন থেকে এসে কেউ ধাক্কা দেয়, কেমন লাগে তাইলে? স্ট্র্যাথফিল্ডের কাছেই, একটা বাঁক ঘুরার সময় থেমেছিলাম গাড়ি আছে কি না দেখার জন্য, পিছনের গাড়ি এসে বিকট ধাতব শব্দে লেগে গেল আমার গাড়ির বাম্পারে। আমি তখন গাড়ি থামাবো কি, একবার ব্রেইক তো একবার এসকেলেটরে চাপ দিয়ে অবশেষে শক্ত করে ব্রেইক চেপে ধরে পার্ক করতে গিয়ে দেখি আমার হাত কাঁপছে। ভাইয়া ততক্ষনে গিয়ে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থা করছে, কিন্তু আমি ভীষণ নার্ভাস হয়ে গিয়েছিলাম। আরে বাবা শিখছি মোটে গাড়ি চালানো, আজ অব্দি নিজেই কারও গাড়িতে ঢুশ খাওয়ালাম না, আর অন্যরা এসে ঢুশ দিয়ে যায়? ভয় পাব না?
অবশেষে দাওয়াতে যখন গেলাম তখন মনের অবস্থা মোটেই ভাল না। কিন্তু ফকফকে হয়ে গেল যখন পরে আসা মেয়ে দু'টোর সাথে কথা শুরু হলো।
আপুটা এখানে আইটিতে ব্যাচেলরস করছে, ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট। আইটির বদনাম করলাম কিছুক্ষন, কি করে দৌঁড়ে পালিয়েছি সে গল্প করলাম। ওর কাজিনটা এখানেই বড় হওয়া। হঠাৎ কি কথায় কথায় বের হলো, ওরা একটা বাংলা সাইট পড়ে নিয়মিত। ব্লগ সাইট। নাম হচ্ছে সামহোয়ার ইন।
আমি আর মীরা চিৎকার!
খুবই অদ্ভূত ভাল লাগছিল, এই বিদেশের মাটিতে, কোন রকম পূর্ব পরিচয় ছাড়াই কত্ত কত্ত কমন রিলেটিভ নিয়ে আলাপ বিলাপ হলো। কৌশিক, রাগ ইমন, প্রত্যুৎপন্নপতি, মাহবুব সুমন আরও অনেকে। মিথিলাকে নিয়ে নতুন করে হাসাহাসি। কে কি বোকামী করেছে সেই ফিরিস্তি। কত্ত দিনের পরিচিত মানুষের সাথে গল্প হচ্ছিল যেন!
দু:খের সংবাদ হলো ইনারা ব্লগের নি:শব্দ পাঠক। নিজেরা লিখেন না। লিখলে বেশ হতো, ইদানিং ব্লগে নিজের বলার তেমন কিছু পাই না। নতুন মুখের নতুন কথা শুনতাম আগ্রহ ভরে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

