আমি দেখেছি অনেক মুসলিমের প্রবনতা আছে বাইবেল নিয়ে রাত দিন গবেষণা করার। বাইবেল কোথায় কোথায় চরম ভুল সেগুলো খুঁজতে সারাদিন পড়ে থাকে, যদিও নিজেরা বাইবেল পড়ে দেখে নি। কুরআনও না! এই নিয়ে শুধু রিসার্চ করে তা না, সামনে কোন খ্রীষ্টান পেলে, তাকে আক্রমন করে বসে বাইবেল সম্পর্কে নানা কথা বলে, বাইবেল প্রসঙ্গে চ্যালেঞ্জ করে বসে। ডু য়ু নো ইটস এন আটার লাই?
আমার খুব বিরক্ত লাগে সেই অ্যাটিচুড। কেন রে বাবা? বাইবেল যে পড়ে নি, সেই খ্রীষ্টানকেও যখন বলা হয়, বাইবেল ভর্তি গাঁজাখুড়ি, তার খারাপ লাগবে না? কারণ বুঝাটা কি খুব কঠিন? ব্যাপারটা এখানে 'তোমার আর আমার'। আক্রমন করাটাই মূল উদ্দেশ্য।
আমি কখনও কোন খ্রীষ্টানকে বাইবেল নিয়ে আক্রমন করি নি। আমার অনেক হিন্দু বন্ধু, তামিল এবং ভারতীয়। কারও ধর্মের যৌক্তিকতা নিয়ে তাদের বিন্দুমাত্র প্রশ্ন তুলি নি কখনও। সেটা স্রেফ ইতরামি মনে হয় তাই। আমার যুক্তিসঙ্গত মনে হয় না, আমি মানব না। ব্যাস।
'ধন ধান্যে পুষ্পে ভরা,
আমাদেরই বসুন্ধরা,
তাহার মাঝে আছে দেশ এক
সকল দেশের সেরা...
সকল দেশের রাণী সে যে আমার জন্মভূমি...'
এই গান যখন গান, তখন কি কেউ আহত হয়?
না কেউ হয় না। সবাই নিজের দেশকে সেরা ভাবে। সবাই নিজের ধর্মকে সেরা ভাবে (না হলে ওই ধর্মে থাকবে কেন? নাস্তিকেরা বুঝি অন্য কোন ধর্মকে সেরা ভাবতেই নাস্তিকতার পূজারী?)
'ঠিক আছে, তোমার কাছে তোমার দেশ সেরা, আমার কাছে আমার দেশ', এতটুকু বলে কাটিয়ে নেয়া যায়। এগ্রি টু ডিজেগ্রী করা যায়। কিন্তু 'তোমার দেশটা ফালতু বা তোমার মা খুব বিচ্ছিরি' বললে কিন্তু আমরা আহত হবোই। দুইটার মধ্যে পার্থক্য কি বুঝাতে পারছি?
যারা চলে যেতে চাইছেন...
শুধু এই এনালজিটা দিয়ে চিন্তা করে দেখুন, কেন কিছু মানুষের ধর্মানুভূতিতে আঘাত লাগবে না?
আমার মনে হচ্ছে, আপনাদের অনেকেই যুঞ্চিক্ত'র পোস্টগুলো পড়েন নি। এখন তালে পড়ে আন্দোলন করছেন। যারা পড়েন নি, তাদের বলি, পোস্টগুলো তে বিভিন্ন ভুল ভাল রেফারেন্স টেনে প্রমান করা হয়েছে ইসলামের নবী মুহাম্মদ মিথ্যুক, মুহাম্মদ কামুক, মুহাম্মদ সুবিধাবাদী।
আচ্ছা, আমার 'ভুল ভাল' কথাটার সাথে একমত না হয়েও, আরেকটু ভাবুন নিজের অবস্থান নিয়ে।
যেই মানুষটা আমাদের, মুসলিমদের খুব প্রিয়, যেই মানুষটা মানবিক দুর্বলতার উর্ধ্বে ছিল না হ্যা, সেটা বিশ্বাস করি, কিন্তু লেবেল সাঁটাতে হলে 'কামুক, মিথ্যুক, আর সুবিধাবাদী' খুব অন্যায় মনে হয়, সেই মানুষটা সম্পর্কে এমন কথা বললে কেন আহত হবো না?
জেবতিক আরিফ, কৌশিক, তাসনিম নুসরাত, অমিত আহমেদ, মোহাম্মদ জোবায়ের, জামাল ভাস্কর আপনাদের সিদ্ধান্তের কথা জানলাম, চলে যেতে চাইছেন।
দেখলাম অনেক চ্যালেঞ্জ ছুঁড়া হয়েছে, 'এ অস্ত্র কেন আহত করবে' এই মর্মে প্রশ্ন করে। পাছে 'ডিক্টেটরশিপের' অপরাধে অপরাধী হয়ে যায়, তাই অনেক ব্লগার এই ব্যাপারে চুপ আছি। কিন্তু আমার মনে হলো বলা উচিত, বড় অন্যায় হচ্ছে। ব্লগে সব কিছুই দেয় লোকে, তাই ডিলিট করা কতটুকু যৌক্তিক হয়েছে আমি জানি না। কিন্তু এও সত্য, আহত হওয়ার যথেষ্ট কারণ ছিল, সেটাই শুধু তুলে ধরতে চাইলাম।
যাওয়া না যাওয়ার পুরো সিদ্ধান্তটা আপনাদের, কিন্তু যা বললাম সেটা একটু ভেবে দেখবেন--
আপনি কি আপনার হিন্দু বন্ধুটাকে গিয়ে বলেন, তার পাথরের প্রানহীন মূর্তির কথা? নাকি পূজার সময় তার আনন্দে শরীক হওয়ার চেষ্টা করেন সেই তর্ক না তুলে? কেন করেন?
ক্রীসমাসের সময় একজনকেও কি 'মেরি ক্রিসমাস' বলেন না? নাকি ওদের জিজ্ঞাসা করে বসেন, তিন প্রভুর কথা বলে আবার একেশ্বরী কেমনে দাবী করো নিজেদের?
যদি করে থাকেন, তাহলে ঠিকাছে। আপনাদের সাথে আমার মিলবে না। করেন না মনে হলো, তাই এত কথা। থাকার অনুরোধ সেই জন্যই...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

