গন্না নামের রাক্ষসটা প্রায়েই চাঁদ ধরে ফেলে। চাঁদ ধরা দিতে চায় না, কাঁপতে কাঁপতে পালাতে চায়। টম যেভাবে জেরির থেকে পালায়, সেভাবে। কিন্তু শেষ রক্ষ হয় না। একটু একটু করে গ্রাস করে নেয় চাঁদকে। চাঁদ অবশ্য একটু পরেই মুক্তি পেয়ে যায়। উল্টা দিক দিয়ে একটু একটু করে বেরিয়ে আসে।
আমাদের গ্রামের মুখে মুখে এই গল্প প্রচলিত ছিল 'গন্না' অর্থ্যাৎ চন্দ্র গ্রহন নিয়ে। শুনছিলাম, চন্দ্র গ্রহণ দেখতে দেখতে। চন্দ্র গ্রহন আগে দেখি নি কখনও। সূর্য্য গ্রহন দেখেছি অবশ্য। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই আমার ধারণা ছিল পুরা প্রসেসটা খুবই দ্রুত হয়। কিন্তু চন্দ্র গ্রহন নাকি অনেক লম্বা সময় নিয়ে হয়। মেইকস সেন্স, চাঁদ তো আরও কাছে। পুরা গ্রহণ হতে সময় লাগবে দুই ঘন্টা। কিছুদিন আগে একটা ইমেইল পেয়েছিলাম, আজকে নাকি আকাশে দুইটা চাঁদ থাকবে। ফরওয়ার্ডেড ইমেইল। পাত্তা দেই নি। সোজা ডিলিট করলাম। কয়েক দিন পরে দেখি আবার আরেকটা ইমেইল, আগের ইমেইলটা ভুল সেটা বলে। যাক। কিন্তু খবরে যখন বললো আজ চন্দ্র গ্রহন হবে, সময়টাও সুবিধাজনক, তখন ভাবলাম, দেখা যাক। একটু রিসার্চ করে নিলাম। বলছিল, চাঁদ হবে লাল রঙের। পৃথিবী থেকে প্রতিফলিত আলোকরশ্মি চাঁদে পড়বে তাই। বিশাল বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও দেয়া, সেটাও পড়ে বুঝার চেষ্টা করলাম। কারণটা হচ্ছে, পৃথিবীর বায়ুমন্ডল সব স্বল্প দৈর্ঘ্যের আলোক রশ্মি আটকে রাখবে, ওগুলোর রঙই নীল। তাই আকাশ নীল। চাঁদে নীল রং ছাড়া আলো যাবে, যা দেখতে লাল দেখাবে। আচ্ছা! তো অধীর আগ্রহে বসে ছিলাম লাল চাঁদ দেখতে। কিসের কি! চাঁদ সেই সাদা। হালকা হলদেটেই কেবল। প্রথমে যখন নিচের দিকটায় হালকা ছায়া লাগল, তখন হুট করে সুকান্তের কথা মনে হতো। সুকান্তের কবিতাটা হয়তো আরেকটু লম্বা হতো এই দৃশ্য দেখে। ঝলসানো পোড়া পোড়া রুটিতে কেউ কামড়ও বসিয়েছে বিশাল।
ইমু আজকে ধরেছিল ওদের বাসায় গিয়ে চন্দ্র গ্রহন দেখতে। বাসার সামনের বিশাল পার্কে ফ্লাস্ক ভর্তি চা নিয়ে নাকি চন্দ্র গ্রহন দেখা হবে। যাব না বললাম, আজ ইউনিতে যাচ্ছি না, বাসায় বসে সারাদিন ঘুমাতে চাই। মনে করিয়ে দিলাম, ম্যাসেজ করে, মনে আছে তো? জবাব এলো--'মনে আছে মানে, বাইনোকুলার নিয়ে বসে আছি'। বাইনোকুলার দেখে চন্দ্র গ্রহন দেখে কি লাভ তা অবশ্য জানি না!
প্রথমে ভুল ভেবেছিলাম, ভেবেছিলাম, চন্দ্র গ্রহনের আগেই চাঁদ লাল দেখাবে। গ্রহিত চন্দ্রটুকুর আসলে লাল হওয়ার কথা। এখন দেখাচ্ছে বেশ লাল। কারণ, প্রায় পুরোটুকুকেই গ্রহন করে নিয়েছে পৃথিবী, ছায়া দিচ্ছে আদরের। অগ্রহিত অংশটুকু ঈদের নতুন চাঁদের মত। সূক্ষ্ম, বাঁকা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

