কুরআনকে আমার মনে হয় অথই সাগরের মত। এই অথই সাগর থেকে কেউ যদি লবণের চামচের এক চামচ পানি খেতে চায়, তাইলে খেতে পারবে। আর কেউ যদি ডুবুরি হয়ে সাঁতার কাঁটতে চায় সারা জীবন, সাগর তল থেকে সম্পদ তুলতে চায়, তবুও সে পারবে।
একজন নিতান্ত অশিক্ষিত, গন্ডমূর্খ মানুষও তাই কুরআন থেকে অমূল্য রতন নিতে পারবে, তার সীমাবদ্ধতা আর ক্ষমতা অনুযায়ীই। আর একজন বিজ্ঞানী বা জীবন সম্পর্কে সত্যিকারের জ্ঞানী মানুষও একই কুরআন পড়ে 'বোরড' হবে না। কুরআন সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান লাভটা হবে সম্পূর্ণ অন্য লেভেলে, আরও অনেক বেশি।
আমার আগ্রহ নিউরোসাইন্স, সাইকোলজি নিয়ে। কুরআন পড়তে পড়তে হঠাৎ হঠাৎ খুঁজে পাই এমন এক থেরাপেটিক সল্যুশন, যা কগনিটিভ সাইন্টিস্টরা এত দিনে আবিষ্কার করছে। এই কগনিটিভ স্টাইলটা বিশ্বাসীরা নিজের অজান্তেই মেনে চলে, তাই বিশ্বাসী হওয়ার সাথে মানসিক প্রশান্তিতে থাকার একটা সরাসরি কোরেলেশন আছে। একটা ছোট উদারহন দেই, ডিপ্রেশনের একটা বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় ভাবনা চিন্তার একটা বিশেষ ধারা। যারা 'কেন এরকম হলো, কেন আমারই হলো, কি করলে অন্য রকম হতো' এই ভাবে চিন্তা করে, তাদের বলা হয় 'রিউমিনেটিভ', ডিপ্রেশনের সমস্যা নিয়ে সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে যান, তিনি ওষুধ দেয়ার পাশাপাশি চেষ্টা করবেন আপনার ভাবনা চিন্তার এই অর্থহীন 'কেন, কেন' ধারাটা বদলে দিতে। কুরআন পড়ে কেউ মেনে চললে কিন্তু তার এই ভাবনার ধারাটা থাকে না.. কারন সে কয়েকটা ব্যাপারে এক সাথে বিশ্বাস করে-- মানুষ নিজের কর্মফল পায়, মাঝে মাঝে পরীক্ষার আকারে খারাপ কিছু আসতেও পারে, তবে সেই হিসেব এখন বকেয়া থাকলেও দয়াময় আল্লাহ এক সময় মিটিয়ে দিবেন সমানে সমানে। তাই 'পরিতৃপ্তি' থাকে, অর্থহীন অভিযোগ আর জীবন সম্পর্কে হতাশা নয়। সেই ১৪শ বছর আগের থেরাপী।
আমি এম্ব্রিওলজি নিয়ে কিছু পেয়ে চমৎকৃত হই। যার এই ব্যাপারে পড়াশোনা নেই, সে আলগোছে চোখ বুলিয়ে যাবে। এই ব্যাপারগুলো সাগরতলে লুকানো মুক্তার মত, যেগুলো আবিষ্কার করতে পারে যে খুঁজে সে। যে কখনও মুক্তা দেখে নি, তার পক্ষে মুক্তা বলে মূল্যবান বস্তুটাকে চেনা কি সম্ভব? জ্ঞান বিজ্ঞানের অনেক কিছুই আল্লাহ কুরআনে বলেছেন, যার পরেই বলে দিয়েছেন, 'এগুলো চিন্তাশীলদের জন্য নিদর্শন'।
আমাকে একবার আমার এক জুনিয়র ইউনি ফ্রেন্ড বলছিল, ও কুরআন পড়ে চমৎকৃত হচ্ছিল, কারন আশে পাশে ধার্মিকদের এপ্রোচ আর কুরআনের এপ্রোচ সম্পূর্ণ আলাদা। মানুষকে সীমাবদ্ধ বানায় সমাজই। কুরআন সেই সীমাবদ্ধ থেকে মুক্ত। এত অসাধারন একটা গ্রন্থ সে আগে পড়ে নি কেন ভেবে আফসোস করছিল। শুনছিলাম একজন আইনজীবি বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার সম্পর্কেই। ইসলাম সম্পর্কে পড়াশোনার চেষ্টাতেই কিছু বই পড়েছেন কিন্তু তাঁর ভাষ্য মতে, কুরআনের মত সুন্দর আর একটাও বই পান নি। শুনলে অদ্ভূত লাগবে আমাদের কাছে, কারণ, কুরআন আমাদের সামনে অবহেলায় পড়ে আছে অনেক লম্বা সময় ধরে।
আমার কুরআন পড়া যেমন হবে, আর একজন মানুষেরও কুরআন পড়ার অনুভূতি একই রকম হবে না। অন্য সব বইয়ের মতই। তবে, কুরআনটা সাগরের মত অথই, ধনবান আর বিশাল ব্যপ্তির বলে এই অনুভূতিগুলোর পরিধিও বেশি। আজ থেকে ১৪শ বছর আগে মানুষ স্রেফ কুরআন শুনে মুসলিম হয়ে যেত, এখনও হচ্ছে। অথচ জ্ঞান বিজ্ঞান প্রযুক্তির পরিবর্তন তো কম হলো না!
যদি বিশ্বাসী নাও হন, তাহলেও কুরআনের অর্থ একটু হাতে নিয়ে দেখতে পারেন রমজান মাসকে উপলক্ষ করে। বাংলা অনুবাদ পাবেন এখানে--
http://www.quraanshareef.org/
তাছাড়া শুনেছি হাবিবুর রহমানের বাংলা অনুবাদ বেশ সাবলীল আর পড়তে আরামদায়ক। যোগাড় করে পড়ে নিতে পারেন।
পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর গ্রন্থটা বুঝার প্রথম কদমটুকু হয়ে যাক তাহলে এই রমজানেই!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



