somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভালোবাসা? হাহ!

০৪ ঠা অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ৭:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ন এর মত এত দারুণ, সরল, লক্ষী মেয়েটা এমন ঝামেলায় পড়বে... আমার মানতে ইচ্ছা করছে না!

ভীষণ পাগলাটে মেয়ে... বন্ধুদের জন্য জান দিয়ে দিবে, সব সময় সবাইকে ধমকাচ্ছে, বকছে, গালি দিচ্ছে। কিন্তু তারপরেও, নিষ্পাপ সরল বাচ্চাদের মত একটা মন আছে, সেটা সব সময় বের হয়ে পড়ে। তাই ওকে ভালো না বেসে কেউ থাকতে পারে না।

এ পর্যন্ত তিনবার নিজের পড়াশোনার লাইন বদলালো। ভীষণ অস্থির। যা ইচ্ছা তাই করবে টাইপের অস্থির।

ও আশে পাশে থাকলে কেউ গোমড়া মুখে থাকতে পারে না। হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খেতে হয় সারাক্ষন।

এত চমৎকার মেয়েটা এমন ঝামেলায় পড়ে গেল... আমি মানতে পারছি না। এক বাঙালি ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট ওকে প্রেম নিবেদন করছে। প্রথমে কিছুদিন কথা বলেছিল, বান্ধবীর ফিয়ন্সের বন্ধু বলে। কিন্তু তারপর, প্রেম নিবেদন করলো ছেলেটা। ন প্রত্যাখান করলো, সব দিক ভেবে।

ছেলেটা প্রত্যাখান মেনে নিবে কেন?

মদ খেয়ে মাতলামি করলো মাঝ রাতে... পুরা টাল হয়ে জানালো.. তুমি 'না' বললে আমি বাঁচব না! শহরের বড় রাস্তায় সে কি আহাজারি! তার পরের কয়েক রাতও সেটার জের চললো, 'না বললে আবার ওরকম করবো....'

ন তখন খুব কনফিউজড, বিহ্বল হয়ে গেল।
'ছেলেটা যেমনই হোক, আমাকে অনেক পছন্দ করে, কেয়ার করে। আমার জন্য সব করতে পারবে। আর কেউ আমার জন্য কখনও এই ভাবে কেয়ার করবে, পাগলামি করবে, বল্?'

বুঝলাম, এই ধারনাটার জন্যই মরবে।

এই সব দেবদাস টাইপের ছেলেগুলাকে যদি পারতাম এক এক করে গুলি করতাম!
চুড়ান্ত স্বার্থপর।
বিরক্তিকর।
অসহ্যকর।

নিজেকে ধ্বংস করে, নষ্ট করে, সেটা দিয়ে ব্ল্যাক মেইল! 'তোমার জন্য...'!
নিজের নষ্টামি, প্যাংটামির জন্য আরেকজনকে দোষারোপ করা! অপরাধ বোধ খুঁচিয়ে দিয়ে করুণা আদায় হয়, ভালোবাসা না।

এদের কিছু কিছু সাবসেট আবার আত্মহত্যা করে বসে।
বুঝে পাই না আমি, সত্যি ভালোবেসে থাকলে কি করে একটা মেয়েকে সারা জীবনের জন্য ধ্বংস করে, অপরাধবোধের আগুনে জ্বালিয়ে নিজে নিশ্চিন্তে চলে যায় পৃথিবী থেকে।

দেবদাসের মত ছেলেরা দুর্ভাগ্যক্রমে প্রেমিকদের হিরো। অথচ... সে তো পার্বতী আর চন্দ্রমুখী দুই দুইটা মেয়ের জীবন ছাড়খাড় করে লিচ্চিন্তে ভাগা দিল।

দেবদাসের একটা ব্যাপার আমি বুঝি না, মরবিই যখন, চুপ চাপ মরতে পারলি না? পাবর্তীর দুয়ারে গিয়ে মরলি কেন? তখনকার সমাজে একটা মেয়ের সাংসারিক জীবনে অন্ত:ত স্বস্তির যেই সম্ভবনা ছিল, সেটাও তো নষ্ট করে দিলি।

নিজেকে নষ্ট করতে হলে, মাতলামি করতে হলে, পঁচতে হলে, মরতে হলে, দূরে গিয়ে মর! আরেকজনকে ডুবানো কেন!

সম্পর্ক শুরু আগেই যে এমন করতে পারে, সে সম্পর্কে, বিয়ের পরে, সারা জীবনে কখনও সত্যি সত্যি 'না' হজম করবে কেন? সব 'না' ওভাররাইট করে দিবে নিজের ইচ্ছা মত। স্বেচ্ছাচারী হবে।

ভালোবাসাতে অধিকারবোধ আসবেই। কিন্তু সেই অধিকার বোধই সব হয়ে গেলে তো মুশকিল। কারণ, ভালোবাসারও বিবর্তন হয়। কখনও খুব আবেগী, কখনও পাগলামী, কখনও মায়া। কখনও অনেক বাস্তবতা এসে ভর করে। সারা জীবন এক সাথে ভাগাভাগি করতে হলে বাস্তবতাকে হিসেবের বাইরে রাখা যাবে কি? এই পুরা সময়টাতেই কেবল 'অধিকার বোধের' আধিপত্যে থাকলে সেটা খারাপ লক্ষন... ভালোবাসা কি কেবল 'আমি চাই' দিয়ে হয়? অন্য জনের ব্যক্তিত্ব, অস্তিত্বকে শ্রদ্ধা করার মত বুকের পাটা লাগে... এই বোধটা পুরুষ সাহিত্যিকরা দিতে চান না।

খুব সুন্দর ভালোবাসাময় যে কয়েক দম্পত্তি দেখেছি, তাদের মধ্যে একে অপরকে পাওয়ার জন্য আর ধরে রাখার জন্য সাধনা দেখেছি।

মদ খাওয়া আর বিল্ডিং থেকে লাফ দেয়া তো সাধনা না। দেখেছি, প্রেমে পড়ার পরে যাকে ভালোবেসেছে, তার জন্যই নিজের সব কিছু কি করে একে একে শুধরে নিয়েছে, শুদ্ধ করে ফেলেছে সাধনা করে, তারপরে সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। আগলে রাখতে আকুল হয়েছে, শুধু নিজে পেতে না।

তা না।
'আমাকে গ্রহন করতেই হবে, ঠিক যেভাবে আছি, সেভাবেই গ্রহন করতে হবে।'
মহা মহা বিরক্তিকর।

ন পাগলের মত খেটে যাচ্ছে একটা রিটেইল শপে। টাকার জন্য না। যতক্ষন ওখানে থাকে, মন ব্যস্ত থাকে, বিক্ষিপ্ততা ভুলে থাকে। ও নাকি ভালো থাকে।
এক বিভ্রান্ত, বিহ্বল, কনফিউজড অবস্থায় হাবুডুবু খাচ্ছে। মরছে। ধুঁকছে।
আমার ভালো লাগছে না একদম।

----------------------
ছবি:
বন্দী আকাশ।
নিজের তোলা।
মন:
খুব খারাপ।
৮৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×