আমার প্রিয় পোস্ট
- কার্টুন গ্যাঞ্জাম (সন্ধ্যাবাতি) - সন্ধ্যাবাতি
- সেন্ট মার্টিন দ্বীপের কোরাল/প্রবাল: পানির নীচে অন্য এক জগত - রাব্বি !
- ৭১ এর ঘটনা : এক ঝুড়ি কামরাঙা ,আল্লাহর কাছে আমার যত কৃতজ্ঞতা - মেহরাব শাহরিয়ার
- কারকোল চিকেন এবং সাগরের সাথে কিছুক্ষন - আস্তমেয়ে
- তারা বলে ইহা ভালোবাসার 'দিবস'! - এই আমি মীরা
- পণ্য নারী - সন্ধ্যাবাতি
- বেস্ট ফ্রেন্ড - মুনিয়া
- স্বপ্নবাজি - কিংকর্তব্যবিমূঢ়
- আজ তোমার মেঘে মেঘে রংধনু- - কনফুসিয়াস
- :: সে রাতে পূর্ণিমার সাথে আমি তোমাকেও দেখেছি :: - নজমুল আলবাব
- শেকড়ের টানে,স্মৃতির না'য়ে - ফারহান দাউদ
- আলু ভর্তা এবং একটি অর্ধ আঁতেলীয় ভাবনা (প্রকাশ করতে গিয়ে) শংকিত আমি - মাহবুবা আখতার
- ব্যবসায়ী মন ব্যবসায়ী স্বপ্ন - ফারজানা মাহবুবা
- বই পড়তে চাই, নাম দিন প্লীজ! - সন্ধ্যাবাতি
- আমরা দিন দিন খুনী হয়ে যাচ্ছি... - সন্ধ্যাবাতি
- টু বি অর নট টু বি - এই আমি মীরা
সকালের নাস্তা
১৬ ই অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ৮:৩৭
রোজা শেষ হলো, শুরু হলো নতুন যন্ত্রনা--সকালের নাস্তা। সেহরী খাওয়া হয় পেট ভরে, বাসার সবার সাথে। সেটা আমার কাছে অন্য রকম মজা লাগে, একটা উৎসব উৎসব ভাব আছে। ভীষণ ব্যস্ত জীবনে আমাদের এক সাথে কাটানোর সময়গুলো কমে আসছে। সেহরীর সময় এক সাথে কিছু উষ্ণ সময় কাটানো হয়। কিন্তু রোজা না রাখা মানে, সেই সাত সকালে ক্লাসে যাওয়ার আগে শীতল, অন্ধকার রান্নাঘরে একা একা গিয়ে জানালার পর্দা খোলা। আমার মত এত আগে কারও বেরুতে হয় না, তখনও সবাই ঘুমিয়ে থাকে। অতএব, ফ্রীজ থেকে দুধের ক্যান বের করে, বিদঘুটে স্বাদের সিরিয়ালের সাথে একা একা গিলা। টেবিল বসতেই ইচ্ছা করে। ব্রেক ফাস্ট বারের উপর উঠে বসে খেয়ে নেই। বেশির ভাগ সময়ই নাস্তার জন্য বরাদ্দ সময় থাকে তিন মিনিটে। যেই তিন মিনিটে সেই পিচ্ছিল বস্তুটাকে গলা দিয়ে নামাই, সেই তিন মিনিট আমার সারা দিনের সবচয়ে বিচ্ছিরি তিন মিনিট।
সকালের নাস্তা না খেতে পারলে আমার মত সুখী কেউ থাকে না। কিন্তু না খেয়েও উপায় নেই, সারা রাত উপোসের পরে সকালের নাস্তাও না খেলে কি হতে পারে, হঠাৎ হঠাৎ দীর্ঘ সময় উপোসের পরে পেট ব্যাথা উঠলে টের পাই। তাছাড়া আমাদের বাসার পুলিশটা তো আছেই। আমার মা। রেডি হয়ে মায়ের দরজায় নক করে তড়ি ঘড়ি করে বলে যাই, 'মা-আসি-আসস্লামুলাইকুম'। মা নিয়ম করে দু'টো প্রশ্ন করে, 'নাস্তা খাইসো? লাঞ্চ নিসো?' দু'টোর জবাবে 'হ্যা' আসলে তবেই 'আচ্ছা যাও, ওয়ালাইকুম সালাম'। 'না' আসলে যেই ঝড় শুরু হয়, সেটা থেকে বাঁচার জন্য হলেও নাস্তাটা গিলে নেই।
আমার সেই পিচ্চি কাল থেকেই সকালের নাস্তার ব্যাপারে তীব্র অনীহা। ছোটবেলা মায়ের নিয়ম ছিল আরও কড়া। ঠিক সোওয়া সাতটায় টেবিলে আসতে হবে। তারপরে কাজের মেয়ের আধা পোড়া, আধা কাঁচা আটার রুটি আর লবনে চুবানো আলু ভাজি গলায় ঢালা। কি যে কষ্ট হতো নাস্তাটুকু খেতে! কিন্তু, মুক্তি নেই। নাস্তা না খেয়ে বাসা থেকে যাওয়া যাওয়ি নেই। বাসায় না খেতে পারলে টিফিন বক্সে ভরে নিয়ে যেতে হবে। ওই বিদঘুটে রুটি টিফিনে নিয়ে যাওয়ার চেয়ে বাসায় খাওয়া অনেক ভালো। পানি দিয়ে শক্ত আটার দলা গলা দিয়ে নামাতে নামাতে এক এক দিন কান্না পেয়ে যেত।
আস্তে আস্তে বুদ্ধিমতী হয়ে উঠলাম। মুক্তির জন্য আমাদের বাসায় যেই মেয়েটা থাকতো, আফিয়া, ওর সাথে এক গোপন চুক্তি করলাম। আমাদের কাঠের ডাইনিং টেবিলের চেয়ারে বসে, টেবিলের নিচে হাত দিলে একটা কাঠের প্লাটফর্মে হাত ঠেকতো। টেবিলের আকৃতি আর মজবুতির জন্যই থেকে থাকবে ওখানে। আমি খাওয়ার সময় আস্তে করে রুটি রেখে দিতাম ওখানে। আফিয়া এসে পরে নিয়ে যেত, খেয়ে নিত। সেভাবেই চলছিল আমাদের সুখের দিনগুলো।
কিন্তু হায়, এত সুখ কপালে সইলো না! একদিন ঠিক ধরা পরে গেলাম!
সে কি দু:স্বপ্ন! স্কুলে যাওয়ার আগে সবগুলো রুটির টুকরো আমাকে গিলতে হলো! চোখের পানি নাকের পানি এক হলো!
এখনও মনে পড়লে হাসি পায়, বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিদঘুটে খাবার থেকে বাঁচার জন্য কত্ত সংগ্রাম করেছি। সে সিদ্ধ ডিম হোক, বেলের সরবত হোক আর দুধ হোক। আফিয়া এখন কেমন আছে জানি না, আমাকে নানা সময়ে বাঁচিয়ে দিয়েছিল মেয়েটা।
সবচেয়ে বেশি বাঁচিয়েছিল সকালের নাস্তা থেকে। এখন বাঁচানোর জন্য আফিয়াকে কই পাই? তার চেয়ে সারা বছর রোজা রাখলেই ভালো
(
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
মাহবুব সুমন বলেছেন:
১টা সিগারেট হইলেই চলে।
মানবী বলেছেন:
মজার পোস্ট, ধন্যবাদ।সন্ধ্যাবাতি, খুব সম্ভবত: আপনার একটি পোস্টে প্রথম দেখেছিলাম, শিরোনামে (সন্ধ্যাবাতি) লেখা! ইদানীং অনেকেই এমন করছেন! আপনি যেহেতু ট্রেন্ড সেটার, তাই কিছু মনে না করলে জানতে চাইবো এর পিছনে যুক্তি কি!!! :-)
নিছক কৌতুহল, অন্য কোন কারন নেই।
কালপুরুষ বলেছেন:
সকালের নাস্তা এখনও খাইনি। খাব। লুচি, নিরামিস, খাসীর রেজালা। ফিনিসিং-এ দই। নাস্তা করলে চলে আয়। লেখা নাস্তা খেয়ে পড়বো।
কেমিক্যাল আলী বলেছেন:
এই ট্রেন্ড চালু করেছে ত্রিভুজ, এক প্রকার কমারশিয়াল @ মানবী। নিজের নাম দেখানোর একটা তরিকা বিশেষ।অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্যের জন্য দুঃখিত - আস্তমেয়ে
কেমিক্যাল আলী বলেছেন:
সকালের নাস্তা খেতে আমার বিশেষ আপত্তি আছে। তবে একা থাকার কারনে কোন সমস্যা হচ্ছে না।
মানবী বলেছেন:
ধন্যবাদ কেমিক্যাল আলী(কেমিকেল আর কেমিক্যাল একই ব্যক্তি মনে করছি), মাছের ডিজিজ প্রতিরোধে শক্তিশালী রাসায়নিক দ্রব্য নিয়ে পোস্ট দিতে চেয়েছিলেন! এখনও কোথাও দেখেছি বলে মনে পড়ছেনা।
ঝড়ো হাওয়া বলেছেন:
রোজার মজা হইল খাওয়া দাওয়ার টেনশন নাই।সকালের নাস্তা না খেয়ে উপায় নাই

তুমি দেখি ছোট বেলা থেকেই ভেজাল আছিলা
কেমিক্যাল আলী বলেছেন:
আমি ব্যানের উপরে আছি তাই এইটা নতুন আইডি আর কি!!, আমি একই লোক (দুই কেমিকেলই আমি)। আপনার ধারনা সঠিক - মানবীএই ট্রেন্ড সেটার আমি না, ত্রিভুজও না। অনেক আগে থেকেই এটা চলে আসছে। তবে সব পোস্টে নামগুলো থাকতো না, থাকতো 'একশতম পোস্ট' জাতীয় পোস্টগুলোতে। পুরানো ব্লগারদের আগের পোস্ট ঘাটলে পাবেন। একটা বিশেষ পোস্ট খুজতে পারেন, 'অজানা পাঁচ'। একটা সময় শুরু হয়েছিল যখন ব্লগাররা নিজেদের ব্যাপারে অজানা পাঁচটা জিনিস সবাইকে জানাচ্ছিল। তখন সবগুলো পোস্টের নাম গণহারে 'অজানা পাঁচ' হয়ে যাচ্ছিল। সাম্প্রতিক মন্তব্যে দেখা যেত ৫ টা পোস্টের টাইটেল একই, কিন্তু কোনটা কার, কোথায় আপনি মাত্র মন্তব্য করে এসেছেন, সেটা বুঝা যাচ্ছে না। তখনই নামের ট্যাগ লাগানো শুরু হয়েছে। কেমিকেল আলী, এবার বুঝতে পেরেছেন কেন ব্লকড হন বার বার? আপনি তখন ছিলেন কিন্তু, কিন্তু এই মন্তব্যটা আপনাকে ঠেস দিয়ে দিতেই হলো
আমি পোস্টের নামকরণে খুব খারাপ। মোটামোটি ইউনিক ব্যাপার নিয়ে যদি না লিখি, তাহলে পোস্টের নাম আমার ইউনিক হয় না। একশতম পোস্টের টাইটেল হবে 'একশতম পোস্ট', ঈদের পোস্টের টাইটেল হবে 'ঈদ মোবারক', রোজার পোস্টের টাইটেল 'রোজা এলো'... এই রকম। আমি অনেক মাথা কুটেও ভালো নাম পাই না
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন:
বাত্তি মনটা ভালা না মনে হয়, জ্যাম হইয়া রইছে অনেকক্ষন ধইরা, কি করন যায়?
সকালের নাস্তা নিয়েই আমার মায়ের সাথে সবচেয়ে বেশি ঝগড়া হয়
সুমন ভাই,
ডাক্তার ভাবী কিছু বলে না?
কালপুরুষ,
ঈদের পরের দিন ওরকম মজার নাস্তা ছিল। তারপরের দিনও। আজকেও ছিল। কিন্তু আর থাকবে না, এটা মনে হতেই দু:খী মনে লেখাটা লিখলাম আর কি!
কেমিকেল আলী,
মা দেশের বাইরে থাকলে আমিও খাই না। খুব শান্তি শান্তি লাগে।
ঝড়ো ভাই,
তা আর বলতে
তীরন্দাজ বলেছেন:
উইকএন্ডের দু'দিন সকালে ভাল করে নাস্তা না করলে চলবেই না।
শিলা বলেছেন:
ভালো অইছে। ৫ দিলাম।
মাহবুব সুমন ভাই,ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর
মানবী বলেছেন:
সন্ধ্যাবাতি, চমৎকার ভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য। ডুপ্লিকেট শিরোনামের ক্ষেত্রে বিষয়টির যৌক্তিকতা আছে, তবে ইউনিকের ক্ষেত্রে কি কারন তা এখনও ধোঁয়াটে! যাই হোক, যার যেমন ভালো লাগে...!শাওয়াল মাসে ছয় রোজা রাখা শুরু করলে, সকালের নাস্তা আপাতত: এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হতে পারে
ফারহাদ ভাই,
এক মাত্র সন্তান তো আমি না, মা মুখে তুলে খাওয়ানো বন্ধ করে দিয়েছে সেই দুই বছর বয়সে
মানবী,
বিষয়বস্তু ইউনিক হলে তো করি না। বিষয়বস্তু যখন খুব জেনেরিক হয়, তখন করি। যেমন, রোজা, ঈদ, একশতম পোস্ট, কাউকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানো ইত্যাদি।
হ্যা, সেই আশায় শুরু করেছি
মানবী বলেছেন:
ইউনিক পোস্টে আপনি করেন এমন বলিনিতো! ভেবেছিলাম আপনি ট্রেন্ড সেটার, তাই আপনাকেই জিজ্ঞেস করা। ইদানীং অনেকেই করছেন, তাই এই কৌতুহল। আপনাকে প্রথমে দেখলেও এপর্যন্ত একটিতেই করতে দেখেছি, আর তা ছিলো সেম টপিকে অগুনিত পোস্টের ভীড়ে। তাই, ডুপ্লিকেট শিরনামের যুক্তি গ্রহনযোগ্য মনে হয়েছে শুরু করেছেন জেনে ভালো লাগলো, আমার জন্য দোয়া করবেন
মানবী,
থ্যাঙ্ক ইউ আপু। আমার জন্যও দোআ করবেন
অজানা অচেনা বলেছেন:
হুম। আমি দেখি ব্যাতিক্রম!! আমার তো ঐটাই সবচেয়ে ভালভাবে খাওয়া হয়। কারন কোথায় জানি পড়েছিলামHave your breakfast like a king
Have your lunch like a queen
Have your supper like a pauper
সকালের নাস্তা = break + fast
= ইফতার/ফুতুর (আরবীতে সকালের নাস্তা কে ফুতুর বলে)
আমার মতে ব্যাপারটার যৌক্তিকতা আছে, কারন আসলেই অনেকক্ষন উপুস করার পর আমরা সকালের নাস্তাটা খাই। তা যদি ভালভাবে না হয়, স্বাস্থ্যের ক্ষতি হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।তাই সন্ধ্যাবাতি, জীবনের বাতিটা বেশীদিন উজ্জ্বলভাবে জ্বালিয়ে রাখতে চাই কালপুরুষদার মতো জবরদ্স্ত শাহী সকালের নাস্তা।
হিহিহি (কেমন লেকচার দিলাম?)
নূর-ই-হাফসা বলেছেন:
সকালের নাস্তা খেতে মাঝে মাঝে ভাল লাগে।কারন যেই জিনিসটা বলি খেতে ভাল লাগে না।পরে জোর করলেও, আম্মু সেটা বানায় না।আর বানালে আমাদের জন্য আলাদা অন্য কিছু বানায়।আর ১ খাবার প্রত্যেক সকালে খাই না।
মাহবুবা আখতার বলেছেন:
খাওয়া দাওয়া দুইন্যার ঝামেলা..... তবে আমাকে দেখে যখন সবাই মনে করে আমি দিন দিন ছোট হচ্ছি কিংবা আমি ক্লাস ৫ এ পড়ি..... তখন মনে হয় খাওয়া দাওয়ারও দরকার আছে!!লেখা পড়ে মজা পেলাম (এবং ৫ দিলাম)।
আমারও রোজা ভালো লাগে, খাওয়ার ঝামেলা নাই।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...


















তবে সকালের নাস্তার ব্যাপারে আমার তেমন বাধ্যবাধকতা নেই!