আমার প্রিয় পোস্ট
- কার্টুন গ্যাঞ্জাম (সন্ধ্যাবাতি) - সন্ধ্যাবাতি
- সেন্ট মার্টিন দ্বীপের কোরাল/প্রবাল: পানির নীচে অন্য এক জগত - রাব্বি !
- ৭১ এর ঘটনা : এক ঝুড়ি কামরাঙা ,আল্লাহর কাছে আমার যত কৃতজ্ঞতা - মেহরাব শাহরিয়ার
- কারকোল চিকেন এবং সাগরের সাথে কিছুক্ষন - আস্তমেয়ে
- তারা বলে ইহা ভালোবাসার 'দিবস'! - এই আমি মীরা
- পণ্য নারী - সন্ধ্যাবাতি
- বেস্ট ফ্রেন্ড - মুনিয়া
- স্বপ্নবাজি - কিংকর্তব্যবিমূঢ়
- আজ তোমার মেঘে মেঘে রংধনু- - কনফুসিয়াস
- :: সে রাতে পূর্ণিমার সাথে আমি তোমাকেও দেখেছি :: - নজমুল আলবাব
- শেকড়ের টানে,স্মৃতির না'য়ে - ফারহান দাউদ
- আলু ভর্তা এবং একটি অর্ধ আঁতেলীয় ভাবনা (প্রকাশ করতে গিয়ে) শংকিত আমি - মাহবুবা আখতার
- ব্যবসায়ী মন ব্যবসায়ী স্বপ্ন - ফারজানা মাহবুবা
- বই পড়তে চাই, নাম দিন প্লীজ! - সন্ধ্যাবাতি
- আমরা দিন দিন খুনী হয়ে যাচ্ছি... - সন্ধ্যাবাতি
- টু বি অর নট টু বি - এই আমি মীরা
বন্ধু
১১ ই নভেম্বর, ২০০৭ ভোর ৬:১৫
বন্ধু বাছাই সব সময় ঠিক হয় না। অনেক সময় ঠিক বন্ধু বাছাই করেও ঘটনাপ্রবাহের তোড়ে বাছাই-পর্বকে ভুল মনে হয়। বন্ধুদের নিয়ে ভাবতে বসে সেই নার্সারীর নীলার কথা মনে পড়ে। ওর সাথে ক্লাস থ্রী পর্যন্ত গলায় গলায় দোস্ত ছিলাম। ক্লাস ফোরে উঠে হঠাৎ মনে হলো, কোথাও ভুল হচ্ছে। নিজে থেকেই বন্ধুত্বের বাঁধন কাটলাম। ও আস্তে আস্তে তলিয়ে যাচ্ছিল কেন জানি না, আমাকেও নিয়ে যাচ্ছিল সাথে। আমাকে কেউ বলে নি, কিন্তু সেই বয়সেই বুঝে গেলাম। বাঁধন কাটা সে জন্যই। তারপরে মুক্ত হয়ে বদলেও গেলাম। স্কুলও বদলালাম। পৃথিবীর সেরা মেয়েগুলোকে বন্ধু হিসেবে পেলাম নতুন স্কুলে। মাঝে মাঝে মনে হয় ওই বাঁধন কাটার পরেই আমি বেড়ে উঠেছি সত্যি সত্যি, আজকের আমি হয়েছি। না হলে হতে পারতাম না। নীলার খবর পেয়েছিলাম অনেকগুলো বছর পরে। এস এস সি দিতে পারে নি একবারে, টেস্টে ফেল করে পরের বছর দিতে হয়েছিল। এই মেয়েটাই ছোট ক্লাসে ফার্স্ট হতো, হিংসা করার মত ঝকঝকে হাতের লেখা ছিল। আমার হাতের লেখা দেখে মা বলতো 'কাকের ঠ্যাং, বকের ঠ্যাং', নীলার হাতের লেখা দেখে বরাবার ঈর্ষান্বিত হতাম। কত দিকে যে ওর মতো হতে ইচ্ছা হতো! এখন মাঝে মাঝে খুব মনে পড়ে ওর কথা। দু'জন দু'টো আলাদা পথে না গেলে কেমন হতো, ভাবনা হয়।
এরকম করি আমি, মাঝে মাঝে খুব স্বার্থপরের মত বাঁধন কেটে দেই নিজ হাতে। এর কারণ হতে পারে, আমি যাকে ভালোবাসি, তাকে খুব ভালোবাসি। তাকে জড়িয়ে, খুব শক্ত করে জড়িয়ে, আমার জীবন গড়ে উঠে। আমার ভালো লাগারা বড় হয়। আমি ছোট চারাটা থেকে ধীরে ধীরে গুল্ম হয়ে উঠি, বৃক্ষ হয়ে উঠা হয় না আমার আর। নীলার সাথে যখন থাকতাম, ক্লাস থ্রী পর্যন্ত আমার সত্যিই দ্বিতীয় কোন বন্ধু ছিল না স্কুলে। বন্ধুত্বের অপমান মনে হতো দ্বিতীয় বন্ধুত্বকে। এতটা ভালোবাসতাম বলেই আমার আকাশটা ঢেকে রেখেছিল ও, টের পেতাম না। যখন টের পেলাম, তখন কেউ বলে দেয় নি, নিজ থেকেই সরে গিয়েছিলাম। আমার ভালোবাসার খুব অন্ধ একটা দিক আছে, সেই ছোট বয়সেই বুঝেছিলাম। আর, যাকে ভালোবাসি, আমি বদলে যাই তার মত করে। তাকে বদলে নিতে পারি না কখনই নিজের মত করে।
সেজন্যই এখন ক্রমবর্ধমান আকাশের বন্ধুদের খুঁজি, নিজেকে যেন কখনও বন্দী, আবদ্ধ, ক্ষুদ্র, অপরিনত মনে না হয়। যে পাত্রে থাকব, সেই আকার নিবো জানি। তাই, নিজেকে ঢেলে দেয়ার আগে বিশাল পাত্র খুঁজে ফিরি!
আজকের দিনটা খুব সুন্দর। আকাশ পরিষ্কার। ঘাসগুলো বড় সবুজ। আজ একজনের জন্মদিন। মনে পড়তেই কেন যেন স্মৃতিরা ধুপ ধাপ ধাক্কা দিচ্ছিল মনের দরজায়। যে স্মৃতিচারণ করলাম, তার সাথে খুব একটা সম্পর্ক নেই, হালকা কিছু সম্পর্ক আছে, যা আমি বুঝতে পারব, আর হয়তো সে। মিলটা কোথায় বুঝার চেষ্টা করছি। মিলটা গভীর কিছুতে, ও মোটেই নীলার মত না। অগভীরতায় মিল খুঁজলে তাই হতাশ হতে হবে। মিলের জায়গাটুকু এতটুকু হতে পারে--কখনও কখনও বুঝতে পারি না, পথগুলো ক্ষনিকের যে সময়টুকুতে এক সাথে মিলেছিল, সেই ব্যাপারটা ভালো ছিল, না খারাপ ছিল। তবে, এতটুকু বুঝি, রাস্তাগুলো এক সাথে থাকার মত না হলেও, পথের মালিক খারাপ না মোটেই। তবু, কেউ বৃক্ষ হয়ে না উঠলে পথের চিহ্ন বৃষ্টিতে ধুয়ে মুছে যায়। নানা রঙের, নানাবিধ বৃষ্টি। ধুয়ে যাওয়া পিচ্ছিল পথে হোঁচট খেতে হয় শুধু।
সুখে থাকুক সে। সব সময়।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই নভেম্বর, ২০০৭ ভোর ৬:২৭ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
সৌপ্তিক বলেছেন:
সুখে থাক। সবাই সুখে থাক। তবে যারা কষ্ট পেয়েছে তারা যেন কষ্ট কাটিয়ে উঠতে পারে...
বন্ধুরা ভালো থাকুক, ক্ষনিকের,অনেকের,দূরের,কাছের,সবসময়ের।
বরফ বলেছেন:
মন খারাপ করে দিলেন। যেখানেই থাকুক, যাদের সাথেই থাকুক, সেই অমলিন হাসিটি তার অমনটিই থাকুক।
তাই যেন হয়।
ফারহান দাউদ,
আমি নিজেই কতবার বদলালাম লেখাটা! খালি মনে হয়, হালকার উপর ঝাপসা লিখতে গিয়ে নিজেই বুঝতেসি না
আপনি কি আজও নীলাকে মিস্ করছেন? আমার কিন্তু তাই মনে হয়েছে@সন্ধ্যাবাতি
আবূসামীহা বলেছেন:
যাদের সাথে জীবনের গড়ে উঠার [ইংলিশ][ভড়ৎসধঃরাব ধমব][/ইংলিশ] বয়সটা পার করেছি, তাদের বেশীর ভাগই এখন অনেক দূরে। অনেকের সাথে হঠাত্
ভাসমান বলেছেন:
হুম আমার কিছুই বলার নাই
আবূসামীহা বলেছেন:
ইংরেজীটা লিখেছিলাম formative age। কোন যথার্থ বাংলা মনে করতে পারছিলামনা বলে।
মাহমুদ রহমান বলেছেন:
সত্যিই, ছোট বয়সের বন্ধুদের কথায় সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে। ছোট বেলায় আমার বন্ধু কামরুলের লেখা নকল করতাম। ছেলেটা ছিল এতিম, এতিমখানায় থাকত। আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু ছিল..... হাতের লেখা ছিল চমৎকার। এখন কই যে আছে!........ পুরাতন স্মৃতি মনে পড়ে গেল।
ভাল লাগল.......
মুকুট বলেছেন:
আপনাদের দু'জনের জন্যই শুভকামনা রইল!
নাভদ বলেছেন:
১
নাভদ বলেছেন:
লেখার স্টাইল পছন্দ হয় নাই..তাই ১..
অজানা একজন বলেছেন:
আজকাল জেনুইন ফ্রেন্ডশীপ পাওয়া সৌভাগ্যের ব্যাপার।
সুমি বলেছেন:
আমার তেমন কোন বন্ধু নেই----আমার সবচেয়ে ভাল বন্ধু আমার মা-- মা কে আমি সব বলি----
বন্ধু কঠিন জিনিস---
৫ +
ফজলে এলাহি বলেছেন:
"বন্ধু" -শব্দটাই অনন্য। অবশ্য যদি সম্পর্কটা যথার্থ হয়। অন্যথা, পথের উদাহরণের মত হয়ে যায় 'বন্ধুর'।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...














