আমার প্রিয় পোস্ট
- কার্টুন গ্যাঞ্জাম (সন্ধ্যাবাতি) - সন্ধ্যাবাতি
- সেন্ট মার্টিন দ্বীপের কোরাল/প্রবাল: পানির নীচে অন্য এক জগত - রাব্বি !
- ৭১ এর ঘটনা : এক ঝুড়ি কামরাঙা ,আল্লাহর কাছে আমার যত কৃতজ্ঞতা - মেহরাব শাহরিয়ার
- কারকোল চিকেন এবং সাগরের সাথে কিছুক্ষন - আস্তমেয়ে
- তারা বলে ইহা ভালোবাসার 'দিবস'! - এই আমি মীরা
- পণ্য নারী - সন্ধ্যাবাতি
- বেস্ট ফ্রেন্ড - মুনিয়া
- স্বপ্নবাজি - কিংকর্তব্যবিমূঢ়
- আজ তোমার মেঘে মেঘে রংধনু- - কনফুসিয়াস
- :: সে রাতে পূর্ণিমার সাথে আমি তোমাকেও দেখেছি :: - নজমুল আলবাব
- শেকড়ের টানে,স্মৃতির না'য়ে - ফারহান দাউদ
- আলু ভর্তা এবং একটি অর্ধ আঁতেলীয় ভাবনা (প্রকাশ করতে গিয়ে) শংকিত আমি - মাহবুবা আখতার
- ব্যবসায়ী মন ব্যবসায়ী স্বপ্ন - ফারজানা মাহবুবা
- বই পড়তে চাই, নাম দিন প্লীজ! - সন্ধ্যাবাতি
- আমরা দিন দিন খুনী হয়ে যাচ্ছি... - সন্ধ্যাবাতি
- টু বি অর নট টু বি - এই আমি মীরা
আমরা দিন দিন খুনী হয়ে যাচ্ছি...
২৯ শে নভেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৫:৩৭
একজন মানুষের ভিতরেরও একজন মানুষ থাকে। আমরা শুধু বাইরের খোলসটাকেই দেখি। দুধ ডিম খাইয়ে বড় করি। ক্রীম, রূপটান মেখে ঝলমলে করি। বাহারী কাপড়ে সাজিয়ে রাখি। সুগন্ধীতে মোহময় করে রাখি।
কিন্তু এ তো আসলে কেবলই খোলস। না হলে কি কখনও মৃত মানুষকে মাটি চাপা দিয়ে ঘরে ফিরে নিজেস্ব জীবনে ফিরতে পারতাম আমরা? আগুনে ঘি ঢেলে প্রিয় মানুষটার শরীর পুড়াতে পারতাম গন্ধ থেকে বাঁচতে? ল্যাবরেটরিতে কেমিকেলে চুবিয়ে কাটা কাটি করতে পারতাম সে খোলস?
মৃত্যু কি বুঝার পর থেকেই আমরা জানি বাইরের দেহটা কেবল খোলস। ভিতরের সত্ত্বাটুকুই আসল। অথচ, সেই সত্ত্বাটাকে চোখে দেখা যায় না সহজে। কারও খুব কাছে গেলে, তখন দেখা যায়। চোখের গভীরে চোখ রেখে দেখা যায়। কাউকে অনুভব করতে পারলে দেখা যায়। কারও জীবনে ঢুকে গেলে একটু একটু বুঝা যায়। সে সত্ত্বার বড় হতেও পুষ্টি লাগে, আদর লাগে, যত্ন লাগে। অথচ, কি বিভ্রমে, আমরা কেবল বাইরের শরীরটাকে খাইয়ে, পড়িয়ে যাই। ভিতরের সত্ত্বাটুকু অভুক্ত রাখি। আবর্জনা, অখাদ্য খাইয়ে ছাড়ি।
ভিতরের আমিত্বের বেড়ে উঠায় আশে পাশের মানুষগুলোর ভূমিকা অনেক। বাইরের সত্ত্বাটাকে ধরে, বেঁধে, বন্দী করে রাখলে কি তা বাড়তে পারে? চাইনীজ মেয়েদের পা এভাবেই অষ্টে পিষ্টে বেঁধে রাখা হতো। ফলাফল কি হতো? হাড় বাঁকা হয়ে, সারা জীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে যেত। ওরা পালকিতে চড়ে বেড়াতো। বাড়তে 'বাঁধা' দিলে এমনই হয়।
ভিতরের সত্ত্বাটাকে বাড়তে দিতে হয়। বাড়ার জন্য জায়গা দিতে হয়। সময় দিতে হয়। সুযোগ দিতে হয়। পুষ্টি আর আদর দিতে হয়।
আমাদের সমাজ তা দেয় কই? প্রতিটা মানুষের কত কত বাঁধা। পয়সা নেই বিধায় বই কেনায় বাঁধা। মধ্যবিত্তের সন্তান তাই নিজে খেঁটে অন্যের মুখে অন্ন তোলার চিন্তা বিলাসিতা। নিজেদের সীমাবদ্ধতার বাঁধা তো আছেই। নিরাশা, হতাশা সব কিছুতে ডুবে থাকতে থাকতে আমরা বড় তিতকুটে হয়ে যাই। আমাদের দিন দিন ক্ষুদ্র হতে থাকা অন্ত:করীনে আমরা শুধুই 'বাঁধা' দিতে শিখি। নিজেরা বাড়তে পারি না, তাই অন্যকেও বাড়তে দিতে চাই না। "আরোপিত বাঁধা" দিয়ে চলি। চাইনীজ মেয়েদের মত আঁকাবাঁকা হাড্ডির পঙ্গু পা সৃষ্টিতে ব্যস্ত থাকি, সকাল বিকাল।
ব্লগ দেখে প্রথমে স্বপ্ন দেখেছিলাম। সত্যি জীবনের অনেক অনেক বাঁধা, সীমাবদ্ধতা। আমরা যতটুকু বাড়ার স্বপ্ন দেখি, ততটুকু বাড়তে পারি না। ভেবেছিলাম, ব্লগ, হয়তো বড় করে দিবে। কিন্তু হায়, এখানেও আরেক সমাজ হয়ে গিয়েছে, যেখানে অষ্টে পিষ্টে বেঁধে ফেলার, সামান্য বাড়তেই ছেঁটে ফেলার পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়ে গিয়েছে। সম্পূর্ণ মানুষটাকে বুঝার বিন্দুমাত্র প্রচেষ্টা নেই। এসবে কি লাভ হয়?
আমরা কি বুঝতে পারি না, আমরা বাইরের খোলসকে খুন করছি না ঠিকই, কিন্তু প্রতিনিয়ত একজন মানুষের আসল সত্ত্বাকে রক্তাক্ত করছি, ক্ষত বিক্ষত করছি, সব সময়ের জন্য পঙ্গু করে দিচ্ছি। নিহত করছি। পাপী যে আমরা খোলস খুনীর চেয়েও বেশি!
একটা মানুষকে নিজেস্ব গতিতে বড় হতে দিলে সমাজে আরেকজন পরিপূর্ণ মানুষ বাড়তো হয়তো। একজন মানুষের মনে লোহার শিকল পড়িয়ে দিলে, মনটাকে খুন করলে, "আমাদের সমাজেই" যে আরেকজন পঙ্গু মানুষ বাড়বে! মৃত অন্ত:করনের হেঁটে বেড়ানো মৃত মানুষ বাড়বে! আমরা পড়ালেখা শিখা মানুষেরা এতটা অবুঝ হলে চলবে?
------------------------------
ছবি: অষ্টে পৃষ্টে বাঁধা চাইনীজ মেয়েদের পা
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে নভেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৫:৩৯ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
অজানা অচেনা বলেছেন:
এই খুনাখুনি দেখতে দেখতে বড়ই বিষিয়ে উঠেছে মন। আমি সহজে আর এদিকে আসিনা। তোমাকে অনলাইন দেখলে তোমার ব্লগে ঢুকলাম। আর এই পোস্ট একদম মনের কথাটা বলে দিল। তাই এই কমেন্টটুক করার জন্য লগ ইন করলাম।ভাল থেকো...। যদিও এসবের মধ্যে ভাল থাকা যায় কিনা...আই ডাউট।
৫ তো দিতেই হয়। সেই সাথে প্রিয়তে যোগ করছি।
শান্ত বলেছেন:
ভালো লেখা, ৫। আজকাল যারা ভালো লেখেন, তারা মানসিক বিকারগ্রস্থ কিছু ব্লগারের কারণে তেমন একটা লিখেন না। নিয়মিত লেখার অনুরোধ রইল।
"কুদরত আলী" বলেছেন:
ভাল লিখেছেন। ছবি দেখে ভাবলাম রগকাটা পা।
জোনাকি বলেছেন:
আপনারে আপনি চিনি নে!!
নিপুপাওয়ারফুল বলেছেন:
কুদরত আলী" বলেছেন :২০০৭-১১-২৯ ১৮:২৪:১৪
ভাল লিখেছেন। ছবি দেখে ভাবলাম রগকাটা পা
-চোরের মনে পুলিশ-পুলিশ
##################
আপনার পোষ্ট বেশি বড়, উহ।।
মৃন্ময় আহমেদ বলেছেন:
মুখোশ নয়।।থাকে মুখোশের আড়ালে
কখনো মুখোশের পিছনে।
মুখোশের 'পর মুখোশ
কোনটা আসল
কোনটা নকল
যায় না চেনা
তবুও সে
থাকেনা অচেনা-
অজানায়...
মামু বলেছেন:
ংঁহফড়ৎ যড়ুবধংব
নিজের মত করে লিখে যাওয়াই মনে হয় একমাত্র সমাধান। তুমি কি করবে বলো, পৃথিবীর কোন প্রান্তে গিয়ে শান্তি পাবে? প্রতিটা জায়গাতেই ভীষণ অবুঝ মানুষ, বা বুঝদার মানুষেরা অবুঝ হচ্ছে খুব। দোআ করতে পারো, এছাড়া কাজ হবে এমন অন্য কোন অষুধ মনে পড়ছে না!
শান্ত,
অসুস্থ বিকারগ্রস্ত মানুষগুলোর ভিতরেও কোথাও চাপা পড়ে আছে সুস্থতা, এই আশায় তবু মাঝে মাঝে কী-বোর্ডে হাত দিতে ইচ্ছা করে!
নাজিরুল হক,
নাহ, তা হয় না। শর্ট টার্মে হতে পারে, কিন্তু লং টার্মে হয় না।
কুদরত আলী,
আমি অবশ্য প্রথমে দেখে বুঝতেই পারি নি, এটা যে পা। আপনার আশে পাশের পায়ের আকৃতি এরকম হলে একটু চিন্তায় পড়ে গেলাম
নিপু, দু:খিত। আমার পুরানো বদভ্যাস। ছোট করতে পারি না...
ফারহান দাউদ,
উভয়ার্থ মানে কি?
বাকি মন্তব্যকারীদের বিশেষ ধন্যবাদ। আর পড়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।
ফারজানা১৬ বলেছেন:
প্রিয় পোষ্ট। ঠিক কথা। ৫।
শাস্তি বলেছেন:
this is good post
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

















৫ দিলাম মহিলা আইনস্টাইন......হা হা