somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি কেন কবিতা পড়ি না

০২ রা ডিসেম্বর, ২০০৭ ভোর ৬:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি কবিতা পড়ি না। বলি ঠিকই বুঝি না, নিজেও লিখতে পারি না, তাই পড়ি না। কিন্তু আসল কারণ অন্য খানে। আমাকে কবিতার শব্দরা খুব প্রভাবিত করে।

গল্পেও শব্দ আছে, কিন্তু শব্দগুলো এত শক্তিশালী না। অনুভূতিগুলো পুরা গল্পে ছড়িয়ে থাকে। একটা বড় অংশ অনুভূতি ছড়িয়ে যাওয়ায় একটু একটু করে বুঝ আসে মানুষের মনস্তত্ত সম্পর্কে। একটা জীবন, কয়েকটা জীবন সম্পর্কে।

কিন্তু কবিতা? কবিতার অল্প কিছু অক্ষরে গাঢ় ঘনত্বের অনুভূতি। এত অনুভূতি আমাকে দিশেহারা করে দেয়। আমি ধারণ করতে পারি না।

কবিতার তীব্র দু:খ মাখা দু:খী শব্দেরা আমাকে অজানা দু:খে ডুবিয়ে দেয়, তেজী শব্দেরা ক্রোধে অন্ধ করে দেয়। খুব হাসি খুশি আমি তীব্র বিষন্নতায় মাখা কবিতা পড়া শেষে টের পাই আমার বুক জুড়ে সে কি শূণ্যতা!

কিন্তু, ওরকম তো হওয়ার কথা না। আমি হিসাব করতে বসলে আমার জীবনে ভালো ঘটনাগুলো খারাপ ঘটনার চেয়ে অনেক বেশি। ভালোবাসা পেয়েছি অফুরন্ত। দূরে থেকে মানুষ ভুল বুঝলেও, কাছের মানুষগুলো আগলে রাখে। কিন্তু কবিতা পড়ে, কি অজানা ক্রোধে আমিও বিদ্রোহী হয়ে উঠি।

মেয়েদের লেখা কবিতায় শুধু চাপা ক্ষোভ। আর থোকা থোকা রক্ত মাখা কষ্ট।
ছেলেদের লেখা কবিতায় ব্যর্থতার ফিরিস্তি। কিংবা আহত আর্তনাদ। গাঢ় বিষন্নতা।
আর সবার কবিতাতেই অনেক কিছু করতে না পারার হতাশা।
কেউ সুখ নিয়ে কবিতা লিখে না। কবিরা বড় স্বার্থপর। সুখ সব নিজের কাছে রেখে দেয়, দু:খ বিলিয়ে দিতে কবিতার লাল কালো অক্ষরে সাজিয়ে রাখে।

ওসব কারণেই, আমি সব সময় জেনে এসেছিলাম, কবিদের প্রতিভায় মুগ্ধ হই ঠিকই, কিন্তু আমি আসলে কবিতা ভালোবাসি না। ইয়ার টুয়েলভে পড়ার সময় তীব্র বিষ্ময়ে খেয়াল করলাম, আমি গোইন হারউডের কবিতার প্রেমে পড়ে যাচ্ছি।

গোইন একজন অস্ট্রেলিয়ান, নারী কবি। ফুলের গন্ধ ওঁকে শৈশবে নিয়ে যায়। ছোটবেলায় ফুলের গন্ধ মাখা ক্লান্ত দুপুরের শেষে ঘুম ভাংতে সাঁঝের আলো আধারিকে সকাল ভেবে মায়ের কাছে দৌঁড়ে যায় সকালের নাস্তার জন্য। মা হেসে বলে, "ধুরু বোকা মেয়ে, একটু পরে রাত হবে যে!"
ও তখন ভীষণ কান্না, "সকাল গেল কোথায়?"
তখনই বাবা অফিস থেকে ফিরে। ওর কান্নার কারণ শুনে হেসে ওকে কোলে নিয়ে সকালকে খুব করে বকে দেয়। গেল কেন সকাল ওকে ফেলে?
ওর মনে পড়ে ঘুমোনোর আগের সময়টুকু। ওকে গল্প পড়ে শোনানোর সময় বাবা ঝুঁকে বুক ভরে ফুলের গন্ধ নেয়, আর মায়ের কোমর ছাড়ানো লম্বা, সোনালী চুলে মায়া ভরে হাত বুলিয়ে দেয়।

দ্যা ভায়োলেটস কবিতা থেকে বলছি। আমার প্রিয় কবিতা। নিচে দিলাম।

বৃদ্ধ বয়সে লিখেছিল ও কবিতাগুলো। নিজের জীবনে ফিরে দেখে, এক বুক তৃপ্তি নিয়ে। যেখানে হারানো সময়ের কথা আছে, কিন্তু হাহাকার নেই। জ্বলজ্বলে স্মৃতিরা আছে, কিন্তু রক্তের কথা নেই। ল্যাম্পলিট প্রেজেন্স মাখা কবিতাগুলো পড়লে, উষ্ণ অনুভূতিতে বুক ছেঁয়ে যায়।

আমি কবিতার প্রতিটা শব্দে ভীষণ ডুবে যেতাম। হাজার মাইল দূরে, কয়েক যুগ আগের ছোট্ট মেয়েটার সাথে নিজের শৈশবের আশ্চর্য মিল খুঁজে পেতাম। মায়ের চুলের স্মৃতি, তার সাথে আমার ভালোবাসা, বেশ মমতার ছাপ রেখে গিয়েছে মনে। গোইনের কবিতায় মৃত্যুর কথা থাকতো, কিন্তু মৃত্যুর সাথে তার আশ্চর্য বোঝা পড়া ছিল। মৃত্যুকে ভয় নেই, মৃত্যু সম্পর্কে অপ্রয়োজনীয় অবসেশন নেই। গোইন সম্পর্কে পড়ে দেখি, তিনি নারীদের অধিকার নিয়ে অনেক কিছু বলতেন, কিন্তু একটুও তিতকুটে ছিলেন না। কারণটা তাঁর নিজের জীবনে। তিনি বড় হয়েছেন মা আর দাদীর ভালোবাসায়, মমতায়। তাঁর পরিবারের পুরুষেরা নারীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন, প্রতিটা ব্যাপারে নারীদের মতামতকে শ্রদ্ধা করতেন। তাই যদিও বৃহত্তর সমাজের নারীদের অবহেলা তাঁকে কষ্ট দিতো, তিনি নিজের জীবন নিয়ে হতাশাগ্রস্ত ছিলেন না, বিদ্রোহের আগুনে জ্বলতেন না। জানতেন, পুরুষ মাত্রই নারীর শত্রু না। আমি পড়তাম আর ভাবতাম, যদি বৃদ্ধ হয়ে মারা যাই, তাহলে ঠিক গোইনের মত পরিপক্কতা, ভারসম্য, তৃপ্তি আর সুখ স্মৃতি নিয়েই যেন ধীরে ধীরে বয়স হয়। ব্যর্থতার তিতকুটে স্বাদ মুখে নিয়ে ভারসম্যহীনতায় যেন পৃথিবী ছেড়ে না যাই।
কবিদের অনেক ক্ষমতা। শব্দ নিয়ে খেলতে জানেন তাঁরা। মানুষের বুকের ভিতর ঢুকে অনেক কিছু নেড়ে চেড়ে আসতে জানেন। যে সে কবিরা স্বেচ্ছাচারী হয়ে যা তা লিখবে, হাবিজাবি অনুভূতিতে চুবাবে নিজেদের শব্দদের, আর আমি সেসব কবির দু:খে মরব, না? কি শখ!
তার চেয়ে, এই ভালো। লিস্টি থেকে কবিতা বাদ।

গোইন হারউডের 'দ্যা ভায়োলেটস'
The Violets
b y G w e n H a r w o o d
It is dusk, and cold. I kneel to pick
frail melancholy flowers among
ashes and loam. The melting west
is striped like ice-cream. While I try
whistling a trill, close by his nest
our blackbird frets and strops his beak
indifferent to Scarlatti’s song.
Ambiguous light. Ambiguous sky

Towards nightfall waking from the fearful
half-sleep of a hot afternoon
at our first house, in Mitchelton,
I ran to find my mother, calling
for breakfast. Laughing, “It will soon
be night, you goose,” her long hair
falling down to her waist, she dried my tearful
face as I sobbed, “Where’s morning gone?”

and carried me downstairs to see
spring violets in their loamy bed.
Hungry and cross, I would not hold
their sweetness, or be comforted,
even when my father whistling, came
from work, but used my tears to scold
the thing I could not grasp or name
that, while I slept had stolen from me

those hours of unreturning light.
Into my father’s house we went,
young parents and their restless child,
to light the lamp and the wood stove
while dusk surrounded pink and white
to blurring darkness. Reconciled,
I took my supper and was sent
to innocent sleep.

Years cannot move
nor death’s disorienting scale
distort those lamplit presences:
a child with milk and story-book;
my father, bending to inhale
the gathered flowers, with tenderness
stroking my mother’s goldbrown hair.
Stone-curlews call from Kedron Brook.
Faint scent of violets drifts in air.
৪৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×