আমার প্রিয় পোস্ট
- কার্টুন গ্যাঞ্জাম (সন্ধ্যাবাতি) - সন্ধ্যাবাতি
- সেন্ট মার্টিন দ্বীপের কোরাল/প্রবাল: পানির নীচে অন্য এক জগত - রাব্বি !
- ধাম ধাম ধাম! - অনাহুত আগন্তুক
- ৭১ এর ঘটনা : এক ঝুড়ি কামরাঙা ,আল্লাহর কাছে আমার যত কৃতজ্ঞতা - মেহরাব শাহরিয়ার
- কারকোল চিকেন এবং সাগরের সাথে কিছুক্ষন - আস্তমেয়ে
- উইশ লিস্ট - অনাহুত আগন্তুক
- তারা বলে ইহা ভালোবাসার 'দিবস'! - এই আমি মীরা
- পণ্য নারী - সন্ধ্যাবাতি
- বেস্ট ফ্রেন্ড - মুনিয়া
- স্বপ্নবাজি - কিংকর্তব্যবিমূঢ়
- আজ তোমার মেঘে মেঘে রংধনু- - কনফুসিয়াস
- :: সে রাতে পূর্ণিমার সাথে আমি তোমাকেও দেখেছি :: - নজমুল আলবাব
- শেকড়ের টানে,স্মৃতির না'য়ে - ফারহান দাউদ
- আলু ভর্তা এবং একটি অর্ধ আঁতেলীয় ভাবনা (প্রকাশ করতে গিয়ে) শংকিত আমি - মাহবুবা আখতার
- ব্যবসায়ী মন ব্যবসায়ী স্বপ্ন - ফারজানা মাহবুবা
- বই পড়তে চাই, নাম দিন প্লীজ! - সন্ধ্যাবাতি
- আমরা দিন দিন খুনী হয়ে যাচ্ছি... - সন্ধ্যাবাতি
- টু বি অর নট টু বি - এই আমি মীরা
টানেলের শেষেও শুধু অন্ধকারের গান
০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:৫৫
সেন্ট্রাল স্টেশনের টানেল দিয়ে হাঁটার সময় বিশ্ব দেখা যায়। টানেলের পাঁচ মিনিটের রাস্তা আমি দশ মিনিটে হাঁটি, বিশ্ব দেখতে দেখতে। দুই দিকের দেয়ালে নানা আঁকি বুঁকি। রাজ্যের ব্যস্ত মানুষ ত্রস্ত হয়ে ছুটছে। কেউ ট্রেইন ধরতে, কেউ ট্রেইন ছেড়ে বাস ধরতে, কেউ ক্লাস ধরতে, কেউ কাজ করতে। আমি আস্তে হাঁটতে থাকি, আর তাই সবাই আমাকে ছাড়িয়ে চলে যায়। ওদের কথার ছেঁড়া অংশ আমাকে ছুঁয়ে যায়। আমি শব্দ দিয়ে মানুষ চেনার চেষ্টা করি। শুনে শুনে সিডনী আর ইউটিএসের স্টুডেন্টদের আলাদা করি। 'আর বলিস না...' শুনে উৎকর্ন হই... বাঙালি। আর একটা বিশেষ ধ্বনির জন্য কান পেতে রই। টানেলে নানা কিসিমের মানুষ পয়সার ধান্ধায় বসে থাকে। কেউ পুরানো গিটার নিয়ে ক্যাট স্টিভেন্সের গান ধরে, সামনে গিটারের বাক্স বিছিয়ে। সেখানে ভাংতি পয়সার স্তুপ। কেউ আবার আরেকটু অরিজিনাল। কোন বাদ্যযন্ত্র ছাড়াই মুখ দিয়ে নানা কিসিমের শব্দ করে। ওগুলা শুনা বেশ মজার। কেউ আবার ক্যাসেট ছেড়ে দিয়ে সাথে সাথে গলা মিলায়, চরম ফাঁকিবাজি। আমি শুনি। দেখি। কখনও সখনও কোন সুর আমাকে খুব ছুঁয়ে যায়। হাঁটার গতি স্লথ হয়। মানিব্যাগে হাত চলে যায়।
সেদিন মেয়েটাকে দেখলাম। প্রথমে শুনেছিলাম। টানেলের এক প্রান্ত থেকে। মেয়েটা খালি গলায় গাইছিল। বিষাদ মাখা বিষন্নতার গান। খালি গলার গানের শক্তি যেন প্রথমবারের মত উপলব্ধি করলাম। এ গলার সাথে পৃথিবীর সব বাদ্যযন্ত্র পাল্লা দিয়েও একই ঝংকার তুলতে পারবে না বাতাসে। বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহারে গলার অপমান হবে। ওর তীক্ষ্ম, মিষ্টি গান সরু টানেলের পিচ্ছিল টাইলসের দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হয়ে ফিরছিল। যাদুকরী কণ্ঠ যদি কখনও শুনে থাকে, তাহলে এ-ই যে সেই! এক অমোঘ টানে কাছাকাছি পৌঁছতেই আমি থমকে গেলাম। ভূমধ্যসাগরীয় জলপাই রঙের মেয়েটা, মাথায় ঢেউ খেলানো সোনালী চুল। পা পর্যন্ত লম্বা এক গাউন পড়ে আছে। দুই হাত দু পাশে ছড়িয়ে গান গাচ্ছে। পুরা ব্যাপারটায় একটা দেবী দেবী ভাব আছে। কিন্তু এক এক জন যখন পাশ দিয়ে যাচ্ছে, আর ঝনঝন শব্দে পয়সা ফেলে যাচ্ছে, তখন মেয়েটা থেমে যাচ্ছে। উৎকর্ণ হয়ে কি যেন শুনে নরম কণ্ঠে বলছে, 'থ্যাংক য়ু'। শুনছে, নিজের গান আর পয়সার শব্দ। মেয়েটা দৃষ্টি শক্তি নেই।
আমি কয়েকবার টানেলের এ পাশ থেকে ওপাশে গেলাম। শুধু অন্ধ মেয়েটার ভিতরটা ছোঁয়া, ছিন্ন ভিন্ন, ওলোট পালোট করা গানটা আরেকটু শোনার জন্য। গলার কাছে কি যেন দলা পাকিয়ে ছিল, ঢোক গিলেও সরাতে পারলাম না। কি অদ্ভূত যাদুকরী গলা! এক দিকে বাড়াবাড়ি দিয়ে ফেলেছেন বলেই কি স্রষ্টা চোখের আলো দেন নি?
আবার সেদিন, টানেলের মুখে পৌঁছতেই শুনি ভায়োলিনের সুর। বড় নাটুকে সুর। খুব দু:খ দু:খ হয়ে ধীরে শুরু হয়। তারপর হঠাৎই উদ্দাম হয়ে উঠে সে সুর, সব কিছু ভেঙে ফেলতে চায় যেন। তারপর, ধীরে লয়ে আবার হঠাৎ স্বপ্নীল হয়ে উঠে সুরের বন্যা। আমাকে ভায়োলিনের সুর খুব টানে। উৎস খুঁজতে গিয়ে সুরের অর্থ বুঝে ফেললাম যেন। সোনালী চুলের একটা মেয়ে এক মনে ভায়োলিন বাজাচ্ছে। কালো ছোট টপ আর লম্বা কালো স্কার্ট পড়ে আছে। প্রথমেই চোখ চলে যায় ছোট্ট টপের পরে ফুলে থাকা ফর্সা পেটে। মা হবে মেয়েটা। অনাগত সন্তানের জন্য সেন্ট্রাল স্টেশনের টানেলে ভায়োলিন বাজিয়ে ভাংতি পয়সার স্তুপ বানাচ্ছে। আমি নিথর হয়ে যাই। ওর উদ্দাম জীবনের গান, সংগ্রামের গল্প আর অনাগত প্রান ঘিরে স্বপ্ন-কথা শুনি কান পেতে। ছোট্ট প্রানটা একটু একটু করে বড় হচ্ছে আর উষ্ণ তরলে ভায়োলিনের নরম সুরে ভাসছে। বুঝে কি সে, এ যে রক্তমাখা কান্নার সুর!
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ৩:৫৩
খুব আন্তিরক লেখা!
ভাষার বুনন চমতকার!
'ওদের কথার ছেঁড়া অংশ আমাকে ছুঁয়ে যায়। '-এই বাক্যটি অনিন্দ্যসুন্দর কাব্যিক চিত্রকল্প!
পুতুল বলেছেন:
অসাধারণ! ৫
গন্ডার' বলেছেন:
৫
সিহাব চৌধুরী বলেছেন:
প্রথম ধাক্কাঃ যেন এক প্রাজ্ঞ পর্যবেক্ষকের বাল্যখিল্য পর্যবেক্ষণ , বর্ণনায় যেন পর্যবেক্ষককে হারিয়ে দেওয়া এক মহিম মহাশ্বেতা ! দ্বিতীয় ধাক্কাঃ কিন্নোরতা ও অন্ধত্ব । প্রতিভার দেয়াল বেয়ে উঠতে চায় সূর্যমূখী বিষন্নতা । ঈশ্বরের সাপ লুডু খেলায় আমরা কিংকর্তব্যবিমূঢ় ।
অদ্ভুত ! আপনাকে এই নাদান , কবি আখ্যা দিয়ে দিল ।
তৃতীয় ধাক্কাঃ মা ! আমি আসছি !! খাবার রেখ মা, আমার জন্যে- তোমার দুগ্ধে - মমতার আস্ফালনে- নাটুকে ভায়োলিনে সন্ধ্যাবাতির বিষন্নতায় !
এতগুলো ধাক্কা একসাথে অনেক দিন খাইনি । ৫ দেয়া মানে লেখাটিকে আপমান করা । তবুও অক্ষমতাই সই ।
ঈর্ষার সাথে প্রিয়পোষ্টে ।
একেমন দেখা বলেছেন:
সাবলীল লিখা, সহজাত ভাবনার তুলিতে পূর্ন অবয়বে নিজেকে সুবিন্যস্ত করার অনুরণন। তাই সর্বোচ্চ পয়েন্ট দিলাম ৫। আরো সুন্দর আরো বড় মাপের পুর্নদৃষ্টির প্রত্যাশায়।
আরিফুল হোসেন তুহিন বলেছেন:
গদ্যের গতিময়তা অসাধারন।ছোট বাক্যে উত্তাপ লেগেছে পর্যায়ক্রমে।থামা যায় না.....গড়াতেই হয় লাইক এ রোলিং স্টোন!!কয়েকজায়গায় কিছু টুকরো নাটকীয়তা বাতাসে ঝুলিয়েছেন তা খুব ভালো লাগলো।যেমন মেয়েটির দৃষ্টিশক্তি নেই বলে প্যারার সমাপ্তি।
ডিটেইল বর্ননার স্টাইলে যেভাবে অনুভূতিগত স্পর্শময় বর্ননায়ই চুপিসারে থেকে গেছেন সেটাও অনিন্দ্য।
আর কিছু যায়গায় সারকাজম অসাধারন ভাবে ছড়িয়েছেন।
"ছোট্ট প্রানটা একটু একটু করে বড় হচ্ছে আর উষ্ণ তরলে ভায়োলিনের নরম সুরে ভাসছে" এই দুটোবাক্য অব্যয়যোগে অনন্য হয়েছে।
সবশেষে আপনার লেখা আগে পড়িনাই প্রথম পড়া।অসাধারন লাগলো।
কিন্তু রাজনৈতিক পরিচয়ের সন্দেহজনিত কারনে ১।
রুবেল শাহ বলেছেন:
৫
ৃৃমম বলেছেন:
ভালো লাগলো। শ্রমজীবি সব মায়েদেরকে সব সন্তানের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা-অভিবাদন। সহ ব্লগার হিসেবে আপনাকেও।
ফারজানা১৬ বলেছেন:
সন্ধ্যা,এত জীবন্ত জীবনধর্মী লেখা অনেকদিন পরে পড়লাম।লেখার শেষ হতে হতে মনটা খারাপ হচ্ছিল।
খারাপ হতে হতে একদম খারাপ হয়ে গেল আহোতু’র কমেন্ট পড়ে।
আহোতুকে আমি নিরপেক্ষ চিন্তাশীল মানুষ হিসেবে দেখেছি আমার ব্লগে। কিন্তু এখানে তিনি যে কমেন্ট করলেন, দুঃখ পেলাম।
আমাদেরকে যতই শরবত বানিয়ে গিলিয়ে দেয়া হোক না কেন, আমরা কিছুতেই শিখতে পারিনা- সবার উপরে মানুষ সত্য।
হাসিব বলেছেন:
টেস্ট
একেমন দেখা বলেছেন:
যঃঃঢ়://িি.িংড়সবযিবৎবরহনষড়ম.হবঃ/নষড়ম/ঊবশবসড়হফবশযধনষড়ম
একেমন দেখা বলেছেন:
যঃঃঢ়://িি.িংড়সবযিবৎবরহনষড়ম.হবঃ/নষড়ম/ঊবশবসড়হফবশযধনষড়ম
অজানা অচেনা বলেছেন:
টানেলের শেষ প্রান্তে বাইরের আলো হাতছানি দেয়, কিন্তু ভিতরের আঁধারের কাছে সব ম্লান হয়ে যায়।
অসাধারন।
ফজলে এলাহি বলেছেন:
আর ঈদের শেষে.............................? (আপনার ঈদের লেখা কই?)মদীনা মুনাওয়ারা থেকে ঈদ মোবারক।
চিত্রাঙ্গদা বলেছেন:
ছুঁয়ে গেল
কোলাহল বলেছেন:
জানি পুরাতন তবুও ভাল লাগার কথা বলে যেতে চাই। প্রিয় পোস্টে রইলো
কতবতবকতকত বলেছেন:
দেখতো সন্ধ্যা, জা'গা টাকে চিনতে পারো কিনা?অনেক আগে ছবিটা তুলেছিলাম। হঠাৎ আজ মনে হল।
কতবতবকতকত বলেছেন:
ছোট্ট প্রানটা একটু একটু করে বড় হচ্ছে আর উষ্ণ তরলে ভায়োলিনের নরম সুরে ভাসছে। বুঝে কি সে, এ যে রক্তমাখা কান্নার সুর! সন্ধ্যা, এই লাইন দুটো আমার সারাজীবন মনে থাকবে, ইনশাল্লাহ।
জনৈক আরাফাত বলেছেন:
সুন্দর!






















আপনি কোথায় থাকেন সিডনীর?