কয়েকদিন ধরে মনটা যাচ্ছেতাই রকমের অস্থির ছিল। আমার কিচ্ছু ভালো লাগছিল না। কত্ত কত্ত লিখব ভেবেছিলাম, অথচ মাথা শূণ্য। অস্থিরতা কাটাতে বই পড়ছিলাম। তিন দিনে মোটা মোটা দু'টো ইংরেজি ক্লাসিক শেষ করে ফেললাম। বই রাখতেই অস্থিরতা। আমার খুব অস্থিরতার সময় আমি শুধু ডুব দেই। কাউকে বুঝতে না দিলে কেউ কখখনও বুঝে না। এ-ই করতে করতে সব গোলমেলে হয়ে যায়! বিচ্ছিরি প্যাঁচ লাগে! নিদারুন অস্থিরতার কোন ফাঁক গলে কোচিঙে পড়াতে যেতে পর্যন্ত ভুলে গেলাম একদিন। কি লজ্জাস্কর ঘটনা! মাটিতে গর্ত করে ঢুকে পড়তে পারলে বাঁচতাম। কিন্তু দোষের সব দায় ভার নিতে আমি রাজি না। অনিশ্চয়তা আমার ভালো লাগে না। ঘুটঘুটে অন্ধকার আমি সহ্য করতে পারি না। ঘরে সব লাইট নিভিয়ে ঘুমাতে পারি না একদম, দম বদ্ধ হয়ে আসে, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। সব কিছু অনিশ্চিত থাকলে, সব কিছুই ভ্যারিয়েবল থাকলে অঙ্ক মিলবে কি করে? কিছু তো কনস্ট্যান্ট থাকতে হবে! সব ভ্যারিয়েবল হাতে ধরিয়ে দিলে বেহুঁশ বেহুঁশ লাগবে না?
আজ কিছু কনস্ট্যান্ট জুটলো হাতে, মনটা তাই আজ অনেক হালকা। মন ভালো। আমার বুকের ভার নেমে যাওয়ায় আকাশও বুঝি হালকা হলো। মন হালকা হতেই শরীর ভেঙে ঘুম আসছিল। আকাশ ভরা রোদ রেখে ঘুমাতে গেলাম। দু'ঘন্টা পরে চোখ খুলতেই চমক। আকাশ কালো করা ঝুম বৃষ্টি।
ছবিটা টেবিল ল্যাম্পের আলোয় তোলা। ফুলদানিটা আমার দুধ ভাইয়ের দেয়া। গেলবার বাংলাদেশ থেকে আসার দিন হাতে ধরিয়ে দিয়েছিল। সব সময় আমার সাইড টেবিলে, মাথার কাছে থাকে। আজকে কেন জানি ভাইয়ার সাথে ঘন্টার পর ঘন্টা বেহিসেবী গল্প করতে করতে রিকশাভ্রমন, পদভ্রমন সব মিস করছি খুব করে। ফুলগুলো মায়ের দেয়া, আসল ফুল কিন্তু শুকনো।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০৭