somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বোকা বোকা কথা

১৬ ই এপ্রিল, ২০০৮ ভোর ৬:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

- কেমন আছিস?
- উফ, তুই? কত্তদিন পরে... মনে মনে তোকে খুঁজতেছিলাম, সত্যি।
- হ্যা, তুই বল আর আমি বিশ্বাস করি আর কি।
- সত্যি, প্রমিস, কয়েকদিন ধরেই ভাবতেছিলাম তোকে ফোন করবো।
- এত চাপাবাজি করা লাগবে না। তুই বিদেশ থেকে ঘুরে আসলি চার মাস হইসে। এই চার মাসে আমাকে নিজে থেকে একবারও ফোন করলি না। যতবার কথা হইসে, প্রত্যেকবার আমি ফোন করলাম দেখে হইসে। এখন তুই বলোস ফোন করবি ভাবতেসিলি আর আমি বিশ্বাস করবো?
- না না সন্ধ্যা, এইটা ডিফারেন্ট... তোকে খুব ফোন করতে ইচ্ছা করতেসিলো, কিন্তু ভয় পাচ্ছিলাম।
- কিইইই??? আমাকে ভয়??? হি হি হি। কেন, কি করছিস?
- বলতে পারব না, তুই বকবি।
- শুনি না!
- আচ্ছা, তুই রাগ করিস না, হ্যা?
- উমমম... বল।
- আম্মু আব্বু তো এখনও রাজি হচ্ছে না, তাই আমরা ভাবছিলাম বিয়ে করে ফেলব।

- এই সন্ধ্যা, চুপ কেন??? কথা বল!
- তুই জানিস এই ব্যাপারে আমি কি ভাবি!
- জানি তো, জানি। শেষ বার ফোন করে যেই লেকচার দিলি, সে জন্যই ভয়ে আমি তোকে ফোন করে বলতে পারছিলাম না...
- মা বাবাকে রাজি করানো কি সত্যিই এত কঠিন সুমি? ওরা নিজেদের ছেলেমেয়েদের ব্যাপারে কত আর কঠিন হবে? ওদের খুশি করা কত্ত সহজ... একটু কাছে বসে থাকবি, টুক টাক কাজ করে দিবি, খুশি হয়ে যাবে। ওদের কাছে যেটা ভালো মনে হয় সেটা তো ওরা করবেই। ওদের বুঝা এটা তোর জন্য বেস্ট, বুঝিয়ে, নিজেকে দেখিয়ে, খুশি করে কাজ আদায় করে নিবি... খুব কঠিন?
- তুই বুঝিস না... ওরা তো রাজি... অন্তত: আমি কান্নাকাটি করলে তো তাই বলে... কিন্তু শর্তের পর শর্ত... আপুর বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত আমি বিয়ে করতে পারব না... তুই তো আপুর ব্যাপারে জানিস, বলে আগামী দুই বছর সে বিয়ে করবে না। আব্বু আম্মু তবু নিজের সিদ্ধান্ত থেকে নড়ে না... বলে, সুমন ভালো চাকরি না পেলে এটা আগাবে না। আচ্ছা এটা কি বাংলাদেশ? যে ভালো চাকরি পেতেই হবে? কত স্টুডেন্ট বিয়ে করছে না? সে তো আর আমাকে না খাওয়ায় রাখবে না! টুক টাক ইনকাম তো আছেই.. তা না, ওদের বড় মুখে বলতে তো হবে মেয়ে জামাই কি চাকরি করে!
- আচ্ছা রাজি তো হলো... এবার শর্তগুলো ওদের দে... সুমন চাকরি পাওয়া পর্যন্ত ধৈর্য্য ধর.. ওরা নিজের অবস্থান থেকে নড়লো, তোরাও নড়ে দেখ... ওদের এশুরিটি দে... বিয়ে করতে এত টুকু কর! আপু যদি তখনও বিয়ে না করে, তখন একটা ব্যবস্থা হবে নে..
- তোর জন্য বলা খুব সহজ... আব্বু আম্মু এটাকে এঙগেজমেন্ট বলতেও রাজি না। মুখে বলছে রাজি, কিন্তু কোনভাবেই বিন্দুমাত্র স্বীকৃতি দিতে চাচ্ছে না... জানিস আমার কি মনে হয়? ওরা ভুলে গেছে ওরাও যে একসময় এই বয়সে ছিল!
- হি হি হি। আমি নিজেও ভুলে যাই আমি এক সময় ছোট ছিলাম। আমার ছেলেমেয়েকে অনেক পেইন দিবো!
- দেখ আমার আর সুমনের দেখা হয়, কথা হয়। দুই জন দুই জনকে নিয়ে স্বপ্ন দেখি। চিন্তা করি। দুই জন মানুষের মধ্যে যখন আন্ডারস্ট্যান্ডিং হয়ে যায়, তখন কিন্তু ডিস্টেন্স মেইনটেইন করা কঠিন... ডিসটেন্স মেইনটেইন করতে পারছি না, আবার এঙগেজমেন্ট স্বীকৃতিও দিতে পারছি না... মানুষ জন আমাদের এক সাথে দেখে... সব মিলিয়ে একটা বিচ্ছিরি অবস্থা... গিল্টি লাগে... প্রচন্ড ফ্রাস্ট্রেশন হয়... তুই বুঝিস কি ভয়াবহ ফ্রাস্ট্রেশন???
- হি হি হি। স্যরি। হি হি হি। তোরা দু'জনই বাচ্চা, এটা হলো মেইন প্রবলেম। অন্তত: সুমন যদি তোর থেকে কয়েক বছরের বড় হতো, তাইলে এতটা প্রবলেম হতো না!
- হি হি হি। এইটা ঠিক বলেছিস। আমি তোকে যখন প্রথম দিকে ওর কথা বলতাম, তখন বলতাম কি গুরুগম্ভীর মানুষ... আর তুই বলতি, আসলে খুব বাচ্চা বাচ্চা, এইটা খোলস, মনে আছে?
- হ্যা মনে আছে। সত্য হইসে না?
- তুই যা যা বলেছিলি সব সত্য হইসে...
- হি হি হি। রিলেশনশিপ কাউন্সেলর হিসেবে নাম লিখিয়ে ফেলা উচিত কি বলিস?
- লিখাইস, এখন বল আমি কি করবো সন্ধ্যা...
- দেখ, তুই বিয়ে করলে তো আর বাবা মাকে বলবি না। তাতে কি তোরা গিল্টি ফিল করবি না?
- করবো। এখন্ও তো করি।
- তা করিস। আর একটা কথা কি জানিস? এখনের গিল্টটা সবচেয়ে ভয়াবহ। যখন কোন সম্পর্কে গিল্ট ঢুকে, তখন সেই সম্পর্কটা ভিতর থেকে পঁচে যেতে শুরু করে...
- কি ভয়াবহ কথা বলতেসিস... এভাবে বলিস না প্লীজ।
- সত্যি কথা বলছি... সবচেয়ে ভালো হতো, বাসায় চিল্লাচিল্লি কান্নাকাটি করে হলেও যদি বিয়ে দিতে রাজি করে ফেলতি বাবা মাকে। সুমনকে বল বাবা মাকে চাপ দিতে। এই দায়িত্ব তো সুমনের। হি হ্যাজ টু বি দ্যা ম্যান!
- সুমন ফ্যামিলির ছোট ছেলে... ও বলে ওর কথা কেউ গুরুত্ব দেয় না। বিয়ের কথা বললেই আন্টি রসিকতা করে। আর ও ওর বাবা মাকে কষ্ট দিতে চায় না।
- এক দিকে কষ্ট দিতে চায় না বলে চাপ দিবে না, অন্য দিকে মেয়ে ভাগায় বিয়ে করে ফেলবে!
- উফফ... আমাদের এখনকার অবস্থাটা তুই বুঝতে পারছিস না... খুব ডেস্পারেইট হয়ে এসব ভাবছি..
- হা হা হা। স্যরি, ইট ইজ কাইন্ড অফ ফানি। আচ্ছা শোন, আমার রিয়েল কনসার্নটা শোন। বাবা মা এক সময় মেনে নিবে। আশে পাশের কেউই মনে রাখবে না। কিন্তু তোদের মধ্যে যদি গিল্ট ঢুকে, ফ্রাস্ট্রেশন ঢুকে, বাবা মাকে কষ্ট দেয়ার দোষ তোরা একজন আরেকজনের উপর চাপানো শুরু করিস, তাহলে কিন্তু তোদের সম্পর্ক সিরিয়াসলি এফেক্টেড হবে...
- কি করব তুই বল? এই এফেক্টটা কমাতে এট লিস্ট বিয়ে করতে চাচ্ছি... সন্ধ্যা, তুই আমাদের সাক্ষী হবি?
- সাক্ষী!!! মেয়েরা সাক্ষী হতে পারে?
- হ্যা, একটা ছেলের বদলে দুই জন মেয়ে লাগে। তুই আর রুবি। এই দুইজনই জানিস... তোরা দুইজন আসবি।
- হি হি হি। সাক্ষী! গোপন বিয়েতে সাক্ষী! ওরে, জোস একটা অফার দিলি তো! দারুন একটা এক্সপেরিয়েন্স হবে!!!
- ধুর, হবি কি না বল।
- হি হি হি। শোন না, ছোট খালার বিয়েতে ফাজিল কতগুলো সাক্ষী জুটেছিল... খালা যত জোরেই বলে 'কবুল', সাক্ষীরা ততই বলে, শুনতে পারি না, জোরে বলেন! আমি কিন্তু ফাজিল সাক্ষী হবো!
- হি হি হি... সন্ধ্যা, তাইলে তুই সাক্ষী হবি সত্যিই?
- উমমমম আচ্ছা তোরা ব্যবস্থা কর। সাক্ষী যোগাড় হয়ে যাবে। আমি সাক্ষী না হলেও মানুষ জুটে যাবে। কিন্তু অন্য সব ব্যবস্থা তো কর... সুমন রাজি?
- ও প্রথমে রাজি ছিল না, এখন হয়েছে।
- সত্যিই হয়েছে তো? এরকম না তো যে তোকে না বলতে পারছে না?
- উমমম... প্রথমে রাজি হচ্ছিল না, তারপর আমি রাগ করলাম, এরপর ও নিজেই স্যরি বললো, বললো ভুল বুঝতে পারছে...
- দেখ, আবার কথা বলে দেখ। আমাকে জানা কি হয়।

-------------------------------
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সুমন সুমির কাছে গোপন বিয়েতে অরুচির কথা জানাতে সাহস পায় নি... কিন্তু সুমির সামনেই আরেক জিগিরি দোস্তের কাছে মুখ করুণ করে বলে ফেলেছে... 'আমি এভাবে করতে চাচ্ছি না, কিন্তু সুমি চাপ দিচ্ছে!'... সুমি ঘটনা বলে আর চোখ মুছে.. 'ও আমাকে বলতে পারলো না, আর আরেকজনের কাছে বলতে পারলো আমি নাকি চাপ দিচ্ছি??! আমাকে এইভাবে হিউমিলিয়েট করলো?' আমি কাষ্ঠ হাসি হাসি। গাইজ! সত্যিকারের সম্মান করা কাকে বলে, এতটুকুও জানে না? কলিজাটা আরেকটু শক্ত না হলে পুরুষ হওয়া যায়? আর মনে একটু বিষণ্নতা দোলা দেয়। এই সম্পর্কেও পোক ধরলো?
১৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×