আমার প্রিয় পোস্ট
- কার্টুন গ্যাঞ্জাম (সন্ধ্যাবাতি) - সন্ধ্যাবাতি
- সেন্ট মার্টিন দ্বীপের কোরাল/প্রবাল: পানির নীচে অন্য এক জগত - রাব্বি !
- ৭১ এর ঘটনা : এক ঝুড়ি কামরাঙা ,আল্লাহর কাছে আমার যত কৃতজ্ঞতা - মেহরাব শাহরিয়ার
- কারকোল চিকেন এবং সাগরের সাথে কিছুক্ষন - আস্তমেয়ে
- তারা বলে ইহা ভালোবাসার 'দিবস'! - এই আমি মীরা
- পণ্য নারী - সন্ধ্যাবাতি
- বেস্ট ফ্রেন্ড - মুনিয়া
- স্বপ্নবাজি - কিংকর্তব্যবিমূঢ়
- আজ তোমার মেঘে মেঘে রংধনু- - কনফুসিয়াস
- :: সে রাতে পূর্ণিমার সাথে আমি তোমাকেও দেখেছি :: - নজমুল আলবাব
- শেকড়ের টানে,স্মৃতির না'য়ে - ফারহান দাউদ
- আলু ভর্তা এবং একটি অর্ধ আঁতেলীয় ভাবনা (প্রকাশ করতে গিয়ে) শংকিত আমি - মাহবুবা আখতার
- ব্যবসায়ী মন ব্যবসায়ী স্বপ্ন - ফারজানা মাহবুবা
- বই পড়তে চাই, নাম দিন প্লীজ! - সন্ধ্যাবাতি
- আমরা দিন দিন খুনী হয়ে যাচ্ছি... - সন্ধ্যাবাতি
- টু বি অর নট টু বি - এই আমি মীরা
একজন মারওয়া আর একজন সাইকোপ্যাথ
১১ ই জুলাই, ২০০৯ সকাল ১০:০৩
অনেক দিন লিখি না। ইস্যুরা আসে, ইস্যুরা যায়। মাঝে মাঝে ওয়াননোট খুলে লিখতে শুরু করি। কয়েক লাইনের বেশি লেখা আগায় না। মনে হয়, যা বলব, সবই বলা হয়ে গিয়েছে। কিন্তু ৩২ বছর বয়সে পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়া মারওয়া আল শেরবিনির কথা পড়ে মনে হলো, এবার কাটিয়ে উঠা দরকার শীতনিদ্রা, কীবোর্ড তুলে কিছু বলতেই হয়…
মারওয়ার মৃত্যুর ঘটনা এক কথায় বিভৎস। খোদ কোর্টরুমে পুলিশ, আইনের ধারক বাহক আর চার বছরের ছোট্ট শিশুর সামনে বত্রিশ বছর বয়সী অন্ত:সত্তা মারওয়াকে আঠারো বার কুপিয়ে হত্যার দৃশ্যটা মুভ্যিতে দেখাতে হলে সেটাতে এমএ১৫+ রেটিং দিয়েও পার পাওয়া যেত কিনা সন্দেহ। অথচ, মারওয়ার জীবনটা খুব সাধারন ছিল, এত বেশি আটপৌরে যে মারওয়ার বদলে সাবিহা আর মিশরের বদলে বাংলাদেশ বসিয়ে দিলে জীবনটা অনায়েসে আমাদের দেশী কারও হতে পারত। মারওয়ার স্বামী মিশরের একটা ইউনিভার্সটিতে জেনেটিকসের লেকচারার ছিলেন। উচ্চশিক্ষার জন্য ২০০৫ সালে জার্মানী গমন, সাথে নিয়েছেন স্ত্রী মারওয়া আর এক বছরের শিশু পুত্রকে। জার্মানী বলে কথা, হিটলারের দেশ ছিল সেই কবে, এখন তো হিটলার আর নাজীদের শাস্তি দিয়ে দেশটা থেকে এন্টি-সেমিটিজম, রেসিজম সব ভূত তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এখন জার্মানী আমেরিকা, ইংল্যান্ড আর ফ্রান্সের সাথে তাল মিলিয়ে মানব-অধিকারের কথা বলে, জাত-বর্ণ-ধর্ম-স্ট্রেইট কি গে-কাপড়ওয়ালা কি ন্যাচারিস্ট--সব কিছুর উর্ধ্বে উঠে গিয়ে শুধু সমঅধিকারের কথা বলে। এমন যেই দেশের ফিলোসফি, সেই দেশ যে কোন মুক্তিকামী, স্বাধীন মানুষের স্বপ্নের দেশ। তৃতীয় বিশ্ব থেকে আসা মারওয়া আর সাবিহাদের জন্য তো অবশ্যই।
এমনই স্বপ্নের দেশের স্বপ্নের বাড়ির কাছের পার্কটায় মারওয়া তিন বছরের ছেলেকে নিয়ে প্রায়ে বিকেলেই ঘুরতে যেতেন, দোলনায় শিশুপুত্রকে তুলে দিয়ে ধাক্কা দিতে দিতে নিজের শৈশবের দিনগুলোতে চলে যেতেন। সেরকমই একদিন হঠাৎ আগমন আরেকটা ছোট মেয়ের, সাথে তার আংকেল। ছোট্ট মেয়েটাও দোলনা চড়বে। সেই নিয়ে কথা কাটাকাটি। সেই কথা কাটাকাটিতে হঠাৎ আংকেল ক্ষেপে উঠলেন। চিৎকার দিয়ে উঠলেন, 'ইসলামিস্ট' আর 'টেররিস্ট' বলে।
ওহ, বলতে ভুলে গিয়েছি, মারওয়া স্কার্ফ পরে।
ভালো কথা, এই পর্যন্তও ঘটনাটা খুব অপরিচিত না। বাংলাদেশী অনেকেই স্কার্ফ পড়েন দেশের বাইরে গিয়ে এবং অনেককেই এমন সব গালি শুনতে হয় যে সব কিছুর অর্থও বুঝা যায় না। তবে একটা গালি কমন, 'টেররিস্ট'। টেররিস্ট উপাধি পেতে আপনাকে বোমা বানাতে হবে না, আপনি স্কার্ফ পড়ে রাস্তা দিয়ে হাঁটবেন, আপনি টেররিস্ট। বাস স্টপে দাঁড়াবেন আর দশ জনের মতই, আপনি টেররিস্ট। রাস্তার পাশে বসে খাবেন, আপনি টেররিস্ট। মারওয়ার মত নিজের তিন বছরের শিশুপুত্রকে নিয়ে পার্কের দোলনায় উঠবেন, ঠিক তখন যদি আরেকজনের ভাগ্নীর দোলনায় চড়তে ইচ্ছা করে, তাহলে আপনি অতি অবশ্যই অবশ্যই টেররিস্ট।
এ সমস্ত ক্ষেত্রে বেশির ভাগ মানুষ চোখ উল্টে চলে আসে। কারণ, একটা কথা পরিষ্কার যে এখানে যুক্তি খাটবে না। কি যুক্তি দিবেন, বলেন! আপনি তাকে চ্যালেঞ্জ করবেন কেন টেররিস্ট বললো, ঠান্ডা মাথায় জিজ্ঞাসা করবেন আপনি কবে কোথায় টেররিজম করেছেন, টেররিজমের সংজ্ঞা কি ইত্যাদি বলে? অতক্ষন শুধু গালি শুনেছেন, এবার একটা ঘুষিও খেতে পারেন। সুতরাং চোখ উল্টে চলে আসা ছাড়া বেশির ভাগ মানুষই তেমন কিছু করে না।
কিন্তু মারওয়া করতে গিয়েছিল। চুপ করে থাকাটা হয়তো নিরাপদ হতো, কিন্তু মারওয়া করতে চেয়েছিল কিছু। কারণ হয়তো, যেই দেশটা স্বপ্ন দেখিয়ে নিয়ে এসেছে, সেই দেশের আইনের লিখিত অক্ষরে তো অন্তত: এমন কিছু করা ভীষণ রকমের বেআইনী। আইনের কাছে যদি তিনি আজকে না যান, তাহলে তাঁর তিন বছরের শিশু পুত্র জানবে, তার মা টেররিস্ট। কারণ, একদিন একটা লোকের থেকে সেই গালি শুনে সুর সুর করে চলে এসেছিল মা। যেই ছোট্ট মেয়েটার জন্য দোলনা খালি করে দেয়া হলো, সে শিখবে, ওই যে ওরকম হিজাব পড়া সব মেয়েরাই টেররিস্ট।তাদের থেকে কাজ আদায় করার একটাই উপায়, গগন কাঁপিয়ে তীব্র ঘৃনাসহ টেররিস্ট বলে গালি দেয়া। এত তীব্র সত্যের মুখে কেউ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না, মাথা নিচু করে চলে যেতে বাধ্য হবেই হবে।
দুইজন ভবিষ্যত জার্মান, এবং আরও অনেককে তীব্র ভুল থেকে বাঁচাতে মারওয়া প্রতিবাদ করতে গিয়েছিল, আইনের কাছে গিয়েছিল মারওয়া।
ঠিক এখান থেকেই ঘটনাটা অপরিচিত হয়ে যায়। কোর্টে দাঁড়িয়েও 'এই দেশে থাকার কোন অধিকার তোমার নাই, নিজের দেশে চলে যাও' বলে চিৎকার করেছিল লোকটা। তারপর তো আসলোই ছুরি নিয়ে, কুপিয়ে হত্যা করলো অন্ত:সত্তা মারওয়াকে, স্বামীকে করলো শারিরীক ভাবে আহত, আর তিন বছরের শিশুপুত্রকে? সারা জীবনের জন্য মানসিক ভাবে ক্ষত বিক্ষত।
কি করে যেন আমি মৃত্যুর কথাটা কালকের আগে শুনি নি। ঘটনাটা ঘটেছিল এই বছরই, জুলাই মাসে।
কালকে প্রথম শুনতে গিয়ে দেখি, মারওয়ার মৃত্যুর জন্য পুরা জার্মানী, তারপর পুরা পশ্চিমা দেশকেই দোষারোপ করা হচ্ছে। ইসলাম আর পশ্চিমের যুদ্ধ ইত্যাদি বলা হচ্ছে। অথচ, প্রথমে শুনেই আমার মনে হয়েছে, লোকটা একটা সাইকোপ্যাথ। মানসিক ভাবে অসুস্থ লোক। না হলে এতটা অযৌক্তিক ঘৃনা থাকতে পারে কারো বুকে? এতটা রেসিস্ট হতে পারে কেউ?
তারপর, আরেকটু ভাবতে বসলাম। তখন তিনটা উপলব্ধি হলো। প্রথমত, কোথাকার কোন আমি, কি তার পড়াশোনা, এই আমিই কি সহজেই লোকটাকে পুরা জার্মানী আর পশ্চিম থেকে আলাদা করে ফেললাম। একটা লোকের অপরাধের দায়ভার পুরা দেশটার উপর চাপাতে চাইলাম না। লোকটাকে আলাদা করে মানসিক রোগীও ভেবে ফেললাম, অথচ, দেড় বিলিয়নের মুসলিমদের ছোট্ট একটা অংশের অপরাধের দায়ভার সব মুসলিমদের আর মুসলিমদের নবীর উপর চাপানো হয় কি সহজেই! যে সব বুদ্ধিমানেরা এই কাজ করছে, তারা নিজেরাও কি ওই খুনী জার্মানের রক্তের দাগ নিজ হাতে নিতে চাইবে? কি হিপোক্রেসী!
দ্বিতীয়ত, আমি আঙ্গুল তুলতে বাধ্য হলাম জার্মান এবং অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলোর পলিটিশিয়ান এবং মিডিয়ার দিকে। নিউজে সারাক্ষন যদি মুসলিমদের টেররিস্ট হিসেবেই দেখে, তাহলে নিজের জীবনে যে কোন মুসলিমকে কখনও দেখে নি, সে কি করে জানবে যে এই মুসলিমেরা আসল মুসলিমদের খুব ক্ষুদ্র একটা অংশ? মুসলিমদের কখনই টিভিতে ভালো আলোতে দেখানো হয় না, সেরকমটা বললে অন্যায় হয়ে যাবে। দেখানো হয়, কিন্তু মুসলিমদের যখন টিভিতে আনা হয় মুসলিমদের পক্ষ নিয়ে কথা বলতে, তখন হিজাব ছাড়া মুসলিম মেয়ে আর ক্লীন শেভড মুসলিম পুরুষদের এনে তাদের 'মডারেট' সীল মেরে দেয়া হয়। তাতে যেই সাধারন মানুষেরা টিভি দেখছে, তারা শিখে নেয়, আচ্ছা, তার মানে মাথায় হিজাবী কিংবা দাড়িওয়ালা মুসলিমেরা নিশ্চয়ই 'মডারেট' না, তারা 'ইসলামিস্ট' এবং 'টেররিস্ট'। ফ্রেঞ্চ প্রেসিডেন্ট সারকোজি কি সহজেই বুরকা পড়া মেয়েদের নিজের দেশে অবাঞ্চিত ঘোষনা করেন! দেশের মানুষেরা কেন আরেক ধাপ এগিয়ে গিয়ে হিজাবী মেয়েদেরও অবাঞ্চিত ভাববে না? ফ্রেঞ্চ স্কুলগুলোতে, এমনকি জার্মানীর কিছু স্কুলেও হিজাব পড়া বেআইনী। দেশে যখন আইন করেই এমন মানুষদের অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়েছে, তখন কেন সাধারন মানুষেরা আরেক ধাপ এগিয়ে গিয়ে তাদের চিৎকার করে শুনিয়ে দিবে না যে তারা 'টেররিস্ট' আর 'ইসলামিস্ট' আর 'এই দেশে তাদের জায়গা নেই'? আর টেররিস্ট, অবাঞ্চিত কেউ যখন ভাগ্নীর জন্য দোলনা ছেড়ে দেয় না, উল্টা গালি শুনে মামলা করে, তখন কেনই বা তাকে কুপিয়ে মেরে ফেলা হবে না? "জাত-বর্ণ-ধর্ম-স্ট্রেইট কি গে-কাপড়ওয়ালা কি ন্যাচারিস্ট" সব কিছুর উর্ধ্বে উঠে যেই দেশ মানুষের সমঅধিকারের কথা বলে, সেই দেশের পলিটিশিয়ান আর মিডিয়ার থেকে আরেকটু বেশি কিছু আশা করা কি খুব বেশি কিছু?
তৃতীয়ত, আমি পশ্চিমা দেশগুলোর কি দোষ দিব, আমাদের দেশের নরমাল টিভি চ্যানেলগুলোতে কখনও হিজাবকে ভালো আলোতে দেখানো হয়? আমাদের নেত্রীরা ভন্ডামী করতে হিজাব মাথায় তুলে নেন। ঢাকার বড় বড় স্কুলগুলোতে, এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও হিজাব পরার জন্য শিক্ষিক শিক্ষিকাদের থেকে বাজে কথা শুনতে হয়… উপন্যাসগুলো পড়ে একশ' বছর পরের মানুষেরা নিশ্চয়ই ভাববে এই সময়ের হিজাব পরা আর দাড়িওয়ালা কেউ সুস্থ স্বাভাবিক ছিলো না… এসব থেকে শিখতে থাকা কোন এক সাইকোপ্যাথ কখনও ছুরি হাতে কিছু করে বসবে না, তার গ্যারান্টি কি?
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুলাই, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:০৬ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
মার্কেলের দু:খপ্রকাশ ঠিক আছে, আমি সেটার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, এরকম ভায়োলেন্সের সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু তারপরেও সারকোজির মত মানুষেরা এসে বোরখা নিয়ে এমন মন্তব্য করে। এখানে সেখানে হিজাব ব্যান করে। প্র্যাকটিকেল যেই স্টেপের কারণে এই রকম ঘটনাগুলো ঘটছে, সেই স্টেপগুলো এলিমিনেইট না করলে কি হবে? আর এমন ঘটনা ঘটছে দেখেও যে অতিরিক্ত কিছু স্টেপ নিয়ে এসব বন্ধ করবে, কই কেউই তো সেই চেষ্টা করছে না...
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ মেহরাব ভাই।
সাইফুর বলেছেন:
মুসলিম মানে টেররিষ্ট..এটা মিডিয়া প্রপাগান্ডার ফসল
লেখক বলেছেন: মুসলিমরা এমন ঘটনা ঘটাচ্ছে, সেগুলো খবরে আসবে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বিপরীতে কিছুই হচ্ছে না? দেড় বিলিয়নের কয়েক লাখও বাদ দিলে বাকি এক বিলিয়নের বেশি মুসলিম কি আংগুল চুষছে? ফেয়ার জার্নালিজম হলে এরকমটা হতো না। অবশ্য বুশের 'ইদার য়ু আর উইথ আস অর এগেইন্সট আস' এই তত্ত্বে জেনারালাইজ করা মিডিয়ার জন্য সুবিধাজনক।
সততার আলো বলেছেন:
গত ১৪শ বছরে সভ্যতা ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়েছে। এখন মনে হচ্ছে যেন, শেষ অবস্থা বিরাজ করছে। নাভীশ্বাস ইতিমধ্যে তীব্র আকার ধারন করেছে। এখন মৃত্যুর অপেক্ষা। মৃতপ্রায় সভ্যতাকে বাঁচাতে ইসলামই হতে পারে একমাত্র ঔষধ। ইসলামের ইতিহাস ধৈর্য ও সাম্যের।
সোহায়লা রিদওয়ান বলেছেন:
আমি কিছু একটা লিখতে চাচ্ছিলাম সন্ধ্যা............ পারছিনা ! অনেক চেষ্টা করেও কিছু লেখা যাচ্ছেনা......... শেরবিনি ......... আমার বোন !!
লেখক বলেছেন: আমার লেখাটা খুব ডিটাচড হয়ে গ্যাছে আপু, মারওয়ার জন্য আর দশজন মানুষ যতটা ফীলিং দেখাবে, আমি তার বেশি কিছুই লিখি নি। কেমন যেন ভোতা হয়ে গিয়েছি, ঠিক মত ফীলও করতে পারি না। লিখো তুমি...
আবু সালেহ বলেছেন:
অনেক দিন পর একটা লিখা পেলাম...
আমি অন্যদেশের কথা কি বলবো ...
নিজের দেশে আমাদেরেই নেতা নেত্রীরা যদি আমার দেশে জঙ্গী আছে এই বলে প্রচার করে অন্য দেশে তো কোন কথাই নেই...
আর পশ্চিমা মিডিয়া গুলো মুসলমানদের টেররিস্ট হিসাবে এত বেশী প্রচার করছে ....যা খু্বই উদ্বেগজনক.....
কিছু লিখবো ভাবছিলাম লিখাটা পড়ে...কিন্তু কি লিখবো ....লিখে অনুভুতির প্রকাশ কি করে করবো...??
আশরাফ রহমান বলেছেন:
বাংলাদেশ বিশ্বের তৃতীয় বৃহৎ মুসলিম রাষ্ট্র। ইসলামী অনুশাসন পালনে বিশেষ করে বোরখা পরে পর্দা করার ব্যাপারে এ দেশের মহিলাদের রয়েছে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। অথচ গত ৩ জুলাই শুক্রবার পিরোজপুরের জিয়ানগরে ঘটেছে এর সম্পূর্ণ বিপরীত ঘটনা। পর্দানশীন উচ্চ শিক্ষিত তিন ছাত্রীকে ছাত্রলীগের বখাটে কর্মীরা নানাভাবে উত্যক্ত করে জেএমবি বলে পুলিশে সোপর্দ করে। পুলিশ ছাত্রীদের কোন কথা না শুনে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাদের কোর্টে পাঠায়। ম্যাজিস্ট্রেট তাদের জামিন না মঞ্জুর করে জেলে পাঠায়। এ সময় তাদের বোরখা কেড়ে নেয়া হয়। অথচ জিয়ানগর থানার রিপোর্টে বলা হয় ঐ তিন মেয়ের কাছে সন্দেহজনক কোন কিছুই পাওয়া যায়নি। উচ্চ শিক্ষিত ঐ তিন মেয়ে বিনা অপরাধে আজ জেল হাজতেউল্লেখ্য, পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের অ্যাকাউন্টিং অনার্স ১ম বর্ষের ছাত্রী পিরোজপুর শহরের বাসিন্দা ফৌজিয়া আক্তার ও শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা তানিয়া আক্তার গত ৩ জুন শুক্রবার সকালে বাসযোগে জিয়ানগর উপজেলার বালিপাড়া বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে নামেন। পূর্ব সিদ্ধান্ত মোতাবেক তারা বালিপাড়ার চরবালেশ্বর গ্রামের বাìধবী জেসমিন নাহারের বাড়ি বেড়াতে যাচ্ছিলেন। বাìধবী জেসমিন নাহার স্খানীয় মোসলেম আলীর কন্যা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। তারা বাসস্ট্যান্ডে নামার পর এগিয়ে নিতে আসা জেসমিন নাহার তাদের সাথে যোগ দেন। এ সময় বৃষ্টির কারণে রাস্তা প্রায় জনশূন্য হওয়ায় ছাত্র লীগের বখাটে যুবক মনির শেখ ও অপর দুই তিনজন যুবক এগিয়ে এসে উত্যক্ত করার শুরুতে জানতে চায় আপনারা কোথায় যাবেন। জেসমিনদের বাড়ি বেড়াতে যাওয়ার কথা বলার পর তারা বলতে থাকে আপনারা আমাদের সাথে চলুন। এর সাথে সাথে বিভিন্ন অশ্লীল ভাষায় মন্তব্য করতে থাকে। একপর্যায়ে তানিয়া আক্তারের হাতে থাকা মোবাইলটি ছিনিয়ে নেয়। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা মাওলানা রফিকুল ইসলামের কাছে মেয়েরা মোবাইল ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা বর্ণনা করলে তিনি বিষয়টি দেখার আশ্বাস দেন।
এতে যুবকরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে বলে ওই মাইয়া পার্টি ক্ষমতায়, তোর এই মাওলানা বাবা কি করবো? এই বলে মেয়েদের দিকে তেড়ে আসলে মেয়েরা দৌড়ে গিয়ে বালিপাড়া মাদরাসায় কর্মরত কাঠমিস্ত্রিদের কাছে আশ্রয় নেয়।
এ সময় মোবাইল ছিনিয়ে নেয়ার বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য যুবকরা জেএমএবি, জেএমবি বলে চিৎকার করতে থাকে। এমনকি বিষয়টি তারা মোবাইল যোগে জিয়ানগর থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ এসে মেয়েদের থানায় নিয়ে যায়। থানা থেকে মেয়েদের কোর্টে পাঠালে কোর্ট জামিন না মঞ্জুর করে তাদের পিরোজপুর জেল হাজতে প্রেরণ করে। এ সময় তাদের বোরখা কেড়ে নেয়া হয়। এতে তিন পর্দানশীল মহিলা চরম বিব্রত বোধ করে এবং মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে।
ঐ তিন মহিলাকে নাকি রিমান্ডে নেয়া হয়েছে! এই যদি হয় আমাদের দেশের ধর্মনিরপেক্ষর ধ্বজাধারীদের অবস্থা, তাহলে ইউরোপে পর্দানশীল মহিলাদের অবস্থা কত ভয়াবহ হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়।
অচেনা সৈকত বলেছেন:
আবু সালেহ@ সম্ভবত আপনি চোখ-কান সবসময়ই বন্ধ করে রাখেন তাই মুসলিম মৌলবাদীরা আপনার নজরে পড়ে না। লেখিকা@ ইউরোপের কথা জানি না তবে আমেরিকায় মুসলিম পরিচয়ের জন্য কাউকে টেররিস্ট বলে গণ্য করা হয় না।
লেখক বলেছেন: অচেনা সৈকত,
'গণ্য করা হয় না', কথাটা আইনের অক্ষরে ঠিক আছে, শিক্ষিত মানুষদের ক্ষেত্রে ঠিক আছে, কিন্তু যারা গভীর ভাবে চিন্তা করে না, রিয়েলিটি টিভি শোগুলোকে বেদ বাক্যের মত সত্যি বলে ধরে নেয়, তাদের অনেকেই মনে করে। আপনি ব্লগ খুঁজে দেখুন, Click This Link
এরকম অনেক ব্লগ পাবেন যেখানে ব্যক্তিগত ক্ষতের কথা বলা আছে, সহকর্মী বা রাস্তাঘাটের মানুষের কাছে শুধুশুধুই টেররিস্ট বনে যাবার ক্ষতবোধ। এগুলো আমেরিকান আইন সাপোর্ট করে না, কনডোনও করে না, বরং কনডেমই করে, কিন্তু, মিডিয়ায় মুসলিমরা আসলেই একটা বিশেষ আলোতে আসে বলেই এই অবস্থা হয়েছে। এটা সুদীর্ঘ দিনের ফসল। আরেকটা উদাহরন বের করে আনতে পারলাম, অস্ট্রেলিয়ার। খুঁজলে কিছু পাওয়া যায় না, তাই এই মুহূর্তে অনেক খুঁজে পেলাম না।
Click This Link
মুসলিম মৌলবাদীরা আছে, কিন্তু সংখ্যাটা আসল মুসলিমদের কতটুকু, আর প্র্যাকটিসিং মুসলিমদের কতটুকু, সেটা একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
জানজাবিদ বলেছেন:
এক কাজ করা যায় গ্লোবাল ভিলেজ, বিশ্বায়ন সব কিছু বাদ দিয়ে সবাই যার যার নিজের দেশে বসে থাকুক। তাহলে আর কোন ঝামেলা থাকবেনা। একটা জিনিস অনেকেই বুঝেনা এই যে, মুসলিম দেশগুলো কোটি কোটি মানুষ পশ্চিমা দেশগুলোতে যাচ্ছে এটা শুধু যে নিজেদের প্রয়োজনে যাচ্ছে তা নয়। ঐ দেশগুলোরও প্রয়োজন আছে এদের। এদের শস্তা শ্রম বা মেধা তাদের অর্থনীতিতে অবদান রেখে চলেছে।
লেখক বলেছেন: আমি না হয় তাই করলাম, কিন্তু আমাদের ডিপার্টমেন্টে একটা মেয়ে আছে পুরা নিকাবী। সে কনভার্টেড মুসলিম। তার বাপ দাদা মা দাদী সব এদেশের। সারকোজির মত কোন ফ্যানাটিক এদেশে আসলে সে কোথায় হাত পা গুটিয়ে বসে থাকবে?
ফারজানা মাহবুবা বলেছেন:
যুক্তিপূর্ণ লিখা।
মারওয়া শারবিনীর ঘটনা মিডিয়া কী করে এভাবে চেপে রাখলো এতদিন, মাথাতেই আসছেনা। অথচ নিদা’র মৃত্যুর পর মিনিট-ও পেরুতে পারেনি, দুনিয়ায় ছড়িয়ে গিয়েছে।
আমি অবাক হয়ে খালি ভাবি- মানুষ নিজের “মত”র জন্যে কতটা বায়াসড হলে দু’টো মৃত্যুর একটাতে মুখে ফেনা তুলে ফেলে, আরেকটাতে ‘মিথ্যা/বানোয়াট/এক্সিডেন্ট” বলে পাশ কেটে যায়।
হায়, মানুষ সব কবে মানুষ হবে?!!
লেখক বলেছেন: মিডিয়া চেপে রাখে নি মনে হয়। মানুষ খায় নি, তাই প্রচার পায় নি। মানুষ যা চায়, মিডিয়া তাই খাওয়ায়।
দুইটা মৃত্যু অবশ্যই দু:খজনক, কিন্তু কিছু পার্থক্য মনে হয় আছে, নিডার মৃত্যুটা একজন বাই স্ট্যান্ডারের মৃত্যু। কিন্তু মারওয়ার মৃত্যুটা একটা ভায়োলেন্ট অ্যাটাকের ফলে ঘটা মৃত্যু। দ্বিতীয়টা হান্ড্রেড পারসেন্ট ইনটেনশনাল। আমি যা নিয়ে প্রশ্ন করেছি, তা হচ্ছে, মানুষের মোরালিটি কোন পর্যায়ে গেলে একটা সোসাইটির মানুষ এরকম ইন্টেনশনাল মৃত্যু ঘটাতে পারে, এবং পর্যালোচনা করা চেষ্টা করলাম কি কারণে সেই মোরাল ডিগ্রেডেশনটা হয়েছে। প্রথমটাতে একটা পলিটিক্সকে প্রশ্ন করা যায়, আর দ্বিতীয়টাতে একটা পুরা সোসাইটিকে এবং সোসাইটির মূল কর্ণধারদের প্রশ্নবিদ্ধ করতে হয়।
লেখক বলেছেন: উপরওয়ালার সম্মতিতে হয়েছে (আজরাইলের নিজেস্ব ইচ্ছা অনিচ্ছা নেই
), কিন্তু সম্মতি উপারওয়ালা শুধু শুধু দেন না, মানুষের নিজের অর্জন এসব।
সবাক বলেছেন:
জটিল বলেছেন: সবই উপর ওয়ালার ইচ্ছা !! আজরাইলের ইচ্ছে ছিল এইভাবে জান কবচ করার তাই হইসে আর কি
সকল অন্যায় হত্যার প্রতি ঘৃনা
হাসান মাহবুব বলেছেন:
এই পোস্টে ৯টা মাইনাস! সাইকোপ্যাথের অভাব নাই দেখি ব্লগে।
সুধাসদন বলেছেন:
" কি করে যেন আমি মৃত্যুর কথাটা কালকের আগে শুনি নি। ঘটনাটা ঘটেছিল এই বছরই, জানুয়ারী মাসে। "তথ্যটা ঠিক নয়। মারওয়া শেরবিনি নিহত হয়েছেন ১ জুলাই-২০০৯
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ, ঠিক করে নিয়েছি। তারিখটা পুরাপুরি ভুল পড়েছি কি করে যেন!
আওরঙ্গজেব বলেছেন:
লেখাটা মিস হয়ে গিয়েছিল। ধন্যবাদ।
কালপুরুষ বলেছেন:
অনেকদিন পর তোর লেখা পড়লাম। তাও একটা হৃদয়বিদারক ঘটনার বর্ণনা। ঘটনাটা দুঃখজনক ও মর্মান্তিক। খুব খারাপ লাগলো জেনে। তোর লেখা ও উপস্থাপনা ভাল লাগলো। ভাল থাকিস।
তরু বলেছেন:
এই লেখায় মাইনাস পড়লো???
দন্ডিত বলেছেন:
অনেকক্ষণ মাইনাসের আশে পাশে মাউস ঘুরাঘুরি করিয়ে প্লাস দিয়ে ফেললাম। প্রোপাগান্ডা হচ্ছে নির্দিষ্ট কিছু মতকে শক্তভিত্তির উপর দার করানোর বদলে ক্রমাগত দুর্বল যুক্তির প্রসার ঘটানো। ফ্রিকোয়েন্সির কিছু ব্যপার আছে, যা জনমানুষের মনে ভীষণ চাপ ফেলে। ৭৬ সালের অসাধারন মুভি "নেটওয়ার্ক" যদি দেখা না থাকে দেখে নিও। কিছু ব্যপারে মুভিটি অসাধারন আলোকপাত করেছে।
প্রোপাগান্ডা প্রকৃত বিজ্ঞানমনস্ক মন বা "সায়েন্টিফিক মেথড" মেনে চলা স্বত্তা কতৃক বাধাপ্রাপ্ত হয়। কিন্তু এখানে শিক্ষার যে প্রকৃত বিশ্লেষনী মনকে উৎসাহ দেয় তা কোথাও প্রচলিত নেই। (যদি ঘৃণাবোধ না হয়
লেখক বলেছেন: "প্রোপাগান্ডা হচ্ছে নির্দিষ্ট কিছু মতকে শক্তভিত্তির উপর দার করানোর বদলে ক্রমাগত দুর্বল যুক্তির প্রসার ঘটানো। ফ্রিকোয়েন্সির কিছু ব্যপার আছে, যা জনমানুষের মনে
ভীষণ চাপ ফেলে। "
"প্রোপাগান্ডা প্রকৃত বিজ্ঞানমনস্ক মন বা "সায়েন্টিফিক মেথড" মেনে চলা স্বত্তা কতৃক বাধাপ্রাপ্ত হয়। কিন্তু এখানে শিক্ষার যে প্রকৃত বিশ্লেষনী মনকে উৎসাহ দেয় তা কোথাও প্রচলিত নেই। "
"এজন্যে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। অবশ্যই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির শিক্ষা যা অনুসন্ধিৎসু মন এবং সংশয়ী বিবেক তৈরী করে। যে মানুষ সংশয়ী এবং প্রশ্ন বা যাচাইএর প্রক্রীয়ায় যেতে অভ্যস্ত সে কিন্তু এসকল প্রোপাগান্ডার থেকে তুলনামুলক নিরাপদ। "
ভালো লেগেছে মন্তব্যটা। বিশেষত ভালো লেগেছে, 'তুলনামূলক' শব্দটা শেষ লাইনে বসিয়েছেন তাই, শিক্ষার পরেও যে একজন মানুষ পুরাপুরি নিরাপদ না, সেটা বুঝা শিক্ষা অর্জনের পরের ধাপ--জ্ঞান আর বিনয় অর্জন!
বইটার নাম মাথায় থাকবে, পড়ি নি আগে।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...


















মারওয়ার ব্যাপারে দেখলাম মার্কেল মোবারকের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে । ফ্রান্সের ব্যাপারটা সবচেয়ে বেশি অবাক করে , যে দেশে এত বেশি আলজেরিয়ান আর মারাক্কান , তারা কি করে এতটা কঠোরতার দিকে যাচ্ছে ?
অনেকদিন পর আপনার কোন লেখায় কমেন্ট করছি