ব্রিটিশ নাগরিক জামিল রহমান অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী জঙ্গি সন্দেহে তাকে দুই বছর নির্যাতন করেছে এবং সেই নির্যাতনের সময় ব্রিটিশ গোয়েন্দা বাহিনীর দুই সদস্যও নাকি তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। ব্রিটিশ নাগরিকের ওপর নির্যাতনের খবর পাওয়া সত্ত্বেও সরকার কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় এবার ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধেই মামলা ঠোকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জামিল রহমান এর আইনজীবি।
বুধবার ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী জ্যাকি স্মিথ-এর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে যে, তারা জামিল রহমানের আইনজীবির কাছ থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পেয়েছেন এবং যথাযথভাবে চিঠির উত্তর দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
৩১ বছর বয়সী জামিল রহমান ব্রিটেনে বড় হয়েছেন। ২০০৫ সালে বাংলাদেশের এক মেয়েক বিয়ে করার পর তিনি বাংলাদেশে বসবাস শুরু করেন। কিন্তু ২০০৫ সালের জুলাইয়ে লন্ডনে বোমা হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তাকে একই বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে স্বস্ত্রীক আটক করে নিরাপত্তা বাহিনী।
জামিল রহমানের দাবি, আটকে রাখার পর টানা তিন সপ্তাহ তার উপর অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। এরপর তিনি বাধ্য হয়ে ভিডিও জবানবন্দি দিতে রাজি হন এবং লন্ডনে বোমা হামলার মূল পরিকল্পনাসহ তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ স্বীকার করে নেন। রহমান জানান, এরপর তাকে দুই ব্রিটিশ নাগরিক জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ সময় তার চোখ বাধা ছিল। তবে দুই ব্রিটিশ নাগরিক নিজেদের এমআইফাইভ-এর কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেয় বলে তার দাবি। রহমান তাদেরকে জানান যে, তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ মিথ্যা। তিনি বলছেন, এ কথা শোনার পর এমআইফাইভ কর্মকর্তারা বেরিয়ে গেলে তার উপর পুনরায় নির্যাতন চালানো হয় এবং তার স্ত্রীকে ধর্ষণ এবং হত্যাসহ তাদের শিশুসন্তানকে পুড়িয়ে মারারও ভয় দেখায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। রহমানের দাবি, দুই বছর তাকে শারীরিকও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। এরমধ্যে একাধিকবার এমআইফাইভ-এর কর্মকর্তারাও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বলে তিনি জানান৷
২০০৫ সালে জুলাইয়ে লন্ডনে বোমা হামলার মুল পরিকল্পনাকারী হিসেবে সন্দেহ করা হয়েছিল ব্রিটেনবাসী জামিল রহমানকে। তবে সেই সন্দেহ এখনো প্রমাণিত হয়নি। রহমান-এর আইনজীবি জানিয়েছেন, তারা ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী জ্যাকি স্মিথ এর বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কারণ একজন ব্রিটিশ নাগরিককে হয়রানি, আইনবহির্ভুত আটক, মিথ্যা অভিযোগ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন করে নির্যাতনে পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এদিকে, ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ব্রিটিশ নিরাপত্তা বা গোয়েন্দা বাহিনী কোন ধরণের নির্যাতন বা অমানবিক আচরণ বা কর্মকাণ্ডে অংশ নেয় না বা এ ধরণের কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিতও করে না। প্রসঙ্গত, ভিন্ন দেশে নির্যাতনের সময় ব্রিটিশ গোয়েন্দা বাহিনী এমআইফাইভ-এর উপস্থিত থাকার অভিযোগ এটাই প্রথম নয়। এর আগে গত মার্চে গুয়ান্তানামো বে থেকে মুক্তি পাওয়া বিনায়েম মোহামদ অভিযোগ করেন, পাকিস্তানে তার উপর নির্যাতনের সময় এমআইফাইভ-এর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিল। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে ব্রিটিশ সরকার।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



