গতকাল থেকে আমার মাথায় একটা মাছি ভন ভন করছে। কানের কাছে একটা মশা শব্দ করছে। পুরা শরীরে এসিডের যন্ত্রণা। দাউ দাউ করে আমার কলিজা জ্বলছে। এইসবগুলোর মূল কারন হলো...
ঘটনা ১: আমার আপন মামা বিয়ার বয়স পার হয়ে যাচ্ছে। তাই তাড়াতাড়ি করে মেয়ে দেখার জন্য সব জায়গায় খবর দেয়া হলো। কিছু জায়গা থেকে কিছু খবরও এলো। সকল খবর একসাথ করে যাচাই বাছাই করে মোট তিনটি মেয়ে দেখতে যাবার পরিকল্পনা হলো। আমার মামা আবার এ ব্যাপারে তেমন কিছু বলে নাই পরিবারের সবাই যা বলবে তাতেই তিনি রাজি।
প্রথম পাত্রী: সুন্দরী। শিক্ষিতা। মিশুক। বাসার সবার পছন্দ হলো। মামাকে পছন্দ হয়েছে কিনা প্রশ্ন করতেই তিনি বললেন 'হ্যা'। কিন্তু একটাই সমস্যা মেয়ের ভাই যিনি দেশের বাইরে থাকেন তিনি ছেলেকে দেখতে চায়। তিনি আর কিছু দিনের মধ্যই দেশে আসবেন। আমাদের পরিবার মেনে নিলেন এবং মনে মনে স্থির করলেন বাকী দুটি মেয়েও তাহলে এই সুযোগে দেখা হবে।
দ্বিতীয় পাত্রী: সুন্দরী। শিক্ষিতা। রির্জাভ। বাসার কম সংখ্যক লোকেদের তাকে পছন্দ হলো তার আচরণ দেখে। মামাকে পছন্দ হয়েছে কিনা প্রশ্ন করতেই তিনি বললেন 'তাঁর বাবা মা যা বলবেন তা তিনি মেনে নেবেন'। এতে আমাদের মুরব্বীরা একটু মনক্ষুন্ন হলো এ ভেবে যে মেয়ের কোনো পছন্দ নেই। মেয়ের বাবা মা মামা কে বেশ পছন্দ করলেন। কিন্তু কি এসে যায় কেউ সাড়া দিলেন না।
তৃতীয় পাত্রী: শ্যামলা। শিক্ষিতা। মিশুক। চাকুরীজীবি। মামা শুধু উনার ছবি দেখেছিলেন কাজ থাকার কারনে তিনি মেয়ে দেখতে আসেননি। বাসার মুরব্বীরা এসেছে। বিয়ের পর চাকরী করবে কিনা প্রশ্ন করাতে তিনি বললেন শ্বশুর বাড়ীর সবাই চাইলে করবে না চাইলে করবে না। এতে আমার পরিবার খুশি হলো। মামাকে পছন্দ হয়েছে কিনা প্রশ্ন করতেই তিনি বললেন 'হ্যা'। তবে একটা সমস্যা মেয়ে কিছুদিনের জন্য তাঁর বোনের কাছে বেড়াতে যাবে বিদেশে তাই তারা মেয়ে ফিরে আসার পর কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন। আমার পরিবার রাজি হলেন।
পাত্রী দেখার ফলাফল
প্রথম পাত্রী: মেয়ের ভাই বিদেশ থেকে এসেছেন ঠিকই কিন্তু সাথে করে নিয়ে এসেছেন একটা রেডিমেড দুলা। মেয়ের ভাইয়ের কথার উপর আবার কেউ কথা বলতে পারে না। তাই তারা আমাদের কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে তাদের মেয়েকে ওই রেডিমেড ছেলের কাছে বিয়ে দেবেন বলে ঠিক করলেন।
দ্বিতীয় পাত্রী: কিছুদিন পর আমাদের বাসা থেকেই মানা করা হলো দ্বিতীয় পাত্রীকে।
তৃতীয় পাত্রী: মেয়ে বিদেশ গেছে আসার নাম নেই। কিছুদিন পর জানতে পারলাম তাঁর বোন তাঁকে একটি প্রবাসী ছেলের সাথে বিয়ে দিয়ে প্রবাসী বানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাই এখানে কেউ আর এগোলেন না।
ফলাফলের পর মামার আচরণ
মামা সকল সিদ্ধান্ত শুনার পর তাৎক্ষণিক কিছু বললেন না। রাতে কাজ থেকে ফিরে এসে 'আগামী একবছর আমার বিয়ের ব্যাপারে কোনো কথা শুনতে চাইনা'।
ঘটনা ২: আমার বয়স পার(!) হয়ে যাচ্ছে বলে বাসার প্রায় সবাই বিয়ে নিয়ে একটা ষড়যন্ত্র করার চেষ্টারত ছিলেন। মাঝে মাঝে আমাকে সাজিয়ে গুছিয়ে উমুক আন্টি তমুক আন্টির বাসায় নিয়ে যেতেন। যদিও আমি কখনোই উনাদের বাসা যেতাম না। যাবার পর পরিচয় পর্ব চলতো এ হলো তমুক আন্টির মেয়ে তমুক জায়গায় পড়ে। আমিও বেশ আনন্দ পাচ্ছিলাম। মনে মনে খুশিই ছিলাম বিয়ে করলে ক্ষতি কি বাবার হোটেলে আরেকটা সিট বাড়বে। হানিমুনে যাবো। রোমান্টিক ছবি তুলবো। মুভি দেখবো কর্ণার সীটে। বাচ্ছা হবে। তাদের নিয়ে আমার বাবা মা খেলা করবে। আহ ভাবতে কি যে ভালো লাগছে! কিন্তু পড়ালেখারত একটা ছেলেকে কেনো বিয়ে দেয়া হবে এই ভেবে অনেকেই তাঁদের মেয়ের ভবিষ্যত অন্ধকারে ঠেলে দিলেন না। আমার পরিবার একটু মনে চোট পেলেন। মামাকে অনুসরন করে আমিও বাসায় একচোট শুনিয়ে দিলাম 'আগে আমার পড়ালেখা তার পর বিয়ে, আর এতই সখ থাকলে পাশের বাসার পাভেলকে বিয়ে করিয়ে ওর বউকে নিয়ে আসো আমাদের বাসায়!'।
(ঘটনা ১ও২ স্মৃতির বিড়বিড়ানি.....)
ঘটনা ৩: মামার এক বছর বিরতির পর বাসার সবাই আবার মেয়ে দেখা শুরু করলেন। ওদিকে মামুজান কার সাথে যেনো এই একবছর প্রেম করে বেড়িয়েছেন। মেয়ে নাকি প্রাইভেট ইউনিতে পড়ে। বাসার সবাই আবার মেয়ের ছবি নিয়ে হাজির। মামা এবার একটু আমতা আমতা শুরু করলেন। কিন্তু বাসার লোকজন নাছোড়বান্দা। আবারো সেই পাত্রী দেখা। রাতে কাজ থেকে ফিরে এসে মামা তাঁর প্রেম কাহীনি বললেন সবাইকে। বাসার সবাই তাঁর এই কথা শুনে চমকিত না হয়ে পারলেন না। সবাই স্থির করলো তাঁরা মেয়ের বাড়ীতে প্রস্তাব দেবেন। ইতিমধ্য মেয়ের ছবি সবাই দেখেছেন। কিন্তু মামার পছন্দ দেখে সবাই একটু অবাক। মেয়েটা কালো। যে কিনা সব সময় বলতো সাদা সুন্দর মেয়ে ছাড়া বিয়ে করবে না সে এখন কালো মেয়ের সাথে প্রেম করতেছে। বাসা থেকে মেয়ের বাড়ীতে ফোন করা হলো মেয়ের বাবা আমাদের পরিবারের একজনের সাথে আগে একটু কথা বলতে চায়। ওদিকে পাত্রী নাম্বার ১ এর বাসা থেকে ফোন(এক বছর পর!)!। তাদের মেয়ের বিয়ে হয়নি রেডিমেড দুলার দুলাভাই তাকে ধরে নিয়ে গিয়েছে তাঁর বোনের সাথে বিয়ের কথা দিয়ে এসে সে এখানে আরেক মেয়ের জীবন নষ্ট করতে এসেছে এই অপরাধে। আমাদের বাসার সবাই এবার দোটানায় পড়ে গেলো। মামার প্রেমিকার বাবার সাথে সাক্ষাত শেষে যা বোঝা গেল তারা তাদের মেয়েকে এখনি বিয়ে দিতে চায়না, আর মেয়ের মামার ছেলে বিদেশ প্রবাসী তাঁর সাথে মেয়ের বিয়ে নাকি ছোট বেলা থেকে ঠিক!। এ কথার সুযোগ পেয়ে বাসার সবাই মামাকে চাপাচাপি করলেন পাত্রী ১ কে বিয়ে করতে। কিন্তু তিনি বির্মষ হয়ে পড়েছেন। আবারো রাতে বাসায় ফিরে এসে বললেন 'আমি একটু সময় চাই....'
ঘটনা ৪: এরপর থেকে আমার মেজাজটা অনেক খারাপ। কারন মামা হয়ত পরিবারকে আরো চার পাঁচ বছরের সময় দেবে। আর আমার বিয়েটা এবার আরো চার পাঁচ বছর পিছাবে

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



