মায়ের কাছে শেষ কি আবদার ছিলো মনে পড়ছে না। তবে আবদারগুলো তাঁর কাছে প্রয়োজনীয় মনে না হলে সেটা পূরণ হতো না। পূরণ না হলে বাবার কাছে যাওয়া হতো। কিন্তু তিনিও একই। তাই বাধ্য হয়ে আমার কিছু কিছু আবদার সারা জীবনের জন্য আর পূরণ হয়নি। মায়ের কাছে যেটা অপ্রয়োজনীয় মনে হতো সেটা আমার কাছে জরুরী। একটা গীটার কিনা, হুন্ডা, বন্ধুদের সাথে বাইরে থাকা। এসব কথা শুনলেই সাথে সাথে না করে দিতেন। যদিও আমি না শুনার পর সেটাকে হ্যা করার সাহস আর পাইনি। তবে প্রয়োজনীয় জিনিস না বলার আগেই হাজির। পবিত্র কুরআন, জায়নামাজ, টুকটাক হাত খরচ, ইদের জামা কাপড়(শুধু রোজার ইদে)। মায়ের সাধ্যর বাইরের কোনো জিনিস মধ্য শুধু একবার হুন্ডা কিনতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এটাতে প্রাণহানীর সম্ভবনা থাকাতে আর কিনা হয়নি।
মাত্র দু'বছর আগের কথা মায়ের কাছে সকল আবদার, সকল না পাওয়া, সকল ভালবাসা ছিলো। এই ব্যবধানে এখন প্রায়ই আমি উনার প্রয়োজনীয় আবদার পূরণ করি। অমুকের বিয়েতে কিছু টাকা লাগবে, মসজিদের জন্য কিছু টাকা লাগবে, মায়ের গরীব কোনো বন্ধুকে সাহায্য, আরো টুকটাক আবদার। ভালোই লাগে যখন ফোনে আমাকে বলে এটা দরকার ওটা দরকার, আরো ভালো লাগে যখন আমি তা পূরণ করতে পারি। দু'বছর আগেও ভাবিনি কখনো আমার এমন সৌভাগ্য হবে আমার জননীর কোনো আবদার পূরণ করতে পারবো। মায়ের জন্য অনেক কিছু দিতে চেয়েছি বহুবার কিন্তু উনি নেয়নি। ফোন করে কিছু দিতে চাইলে তিনি মানা করেন, অবশ্য উনার না শুনার পর আমিও সাহস পাই না জোর করে দেবার।
তবে উনি আমার আবদার পূরণ করুক আর না করুক সব সময় আমার খেয়াল রাখতেন। আজো মনে পড়ে ঘুমাতে যাবার পর আমার জননীর চুপি চুপি রুমে আসা, মাথায় হাত বুলানো, শয়নের দ্বারে বসে গায়ে দোয়া দরুদের ফু দেয়া। প্রায়ই আমি ঘুমের ভান করে এগুলো উপলব্ধি করতাম...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


