somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আজ আমি বাবা হলাম!

১২ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ৮:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সক্কাল বেলা ঘুমেত্তে উইটাই ভাবলাম আজ নাস্তা করুম। যদিও প্রত্তিকদিন দুপুর একটা দুইটায় উটার পর সকালের নাস্তার মুড আর ধাহে না। মাগার কি নাস্তা করন যায়? পাউরুটি নাকি বিসকুট নাকি পিন্নি? কিছৃতেই মন বইতাছে না। চান্দি গরম কইরা গেলাম টিভি দেকতে। উমা হারাদিন খালি খবর ই দেহায়। মিজাজাটা আরো খারাপ হইলো। মনে মনে কইলাম সক্কাল বেলা উঠাটাই ঠিক হয় নাই। কি করণ যায় এই চিন্তা করতে করতে হঠাৎ কইরা বন্দুর ফুন আইলো, সে তার বউ লইয়া আমাগো এলাকায় আইতাছে। তারে আইতে কইয়া আমি জলদি কইরা দুকানে গিয়া কিছু খাবার কিন্না আনলাম। ৩০ মিনিট পর উনারা হাজির। নানা বিষয়ে আজাইরা প্যাচালের পর ভাবী কইলো উনি আজকা রান্না করবো। আমার তো জান জায় জায়। জলদি কইরা মুরগী নামাইলাম, আর দরকারী মাল মসলা কিন্না আনলাম। ভাবী রান্না করতাছে, ওইদিকে আমার বন্দু হঠাৎ কইরা আইয়া পড়াতে সরি টরি কইলো। কিন্তু তারা হঠাৎ কইরা কেনো আইলো এটাই বুজবার পারতাছি না। ভাবীর কাছে গেলাম রান্না এহনো অইতাছে। আমার বাথটপ দেইক্যা আমার বন্দুর আবার গুসল করার সক চাপছে। মুবাইলটা থুইয়া উপরে দুস্তরে লইয়া গিয়া তারে আমার গামছা আর লুঙ্গি দিলাম। চামে ভাবী যেন না দেহে তাই দুইজনে সিগারেট জালাইলাম। দুস্ত আবার আমার বাথরুমের প্রসংশা করলো, সব কিছু ক্লিন করা আরো হাংকি বাংকি। দুস্তরে গুসলে পাঠাইয়া আমি আবার একটু দেশের কিছু ছবি বাইর করতাছিলাম ভাবী দেকতে চাইছিলো তাই। এর মইধ্য দুস্ত গুসল শেষ। ভাবী ডাক দিলো খানা রেডি। আমরা দুই বন্ধু মিল্লা খানা খাইতে গেলাম। তিনজন খানার টেবিলে বইয়া খাইতাছি, হঠাৎ ভাবীর এক কথা হুইনা আমার মুকের থেইক্যা পানি পইরা কার্পেট ভিজ্জা গেলো, আমার বন্ধুর নাকে মুকে ভাত উইটা গেলো, ওইদিকে ভাবী আমাগো দুইজনের অবস্থা দেইক্যা কিচুটা ভয় পাইয়া গেলো। ভাবী কইলো কতাঠা কি বেশি আর্শ্চযজনক নাকি? আমি কইলাম ভাবী কেমনে কি? দুস্ত কয় তুমার মাতা ঠিক আছে? ভাবী একটু চিল্লায়া কইলো আরে উনি 'বাবা হইছে চুপিচুপি'। আমার দুস্ত ভাবীরে বুজাইতে লাগলো, আরে উর তু বিয়াই হয় নাই, কারো লগে সর্ম্পক ও নাই ও আবার বাবা হইবো কেমনে? আমি তখন একটু সার্পোট পাইয়া কইলাম ভাবী আপনেরে এই কথা কেডা কইছে যে আমি বাবা হইছি। ভাবী মনে হইতাছে একটু সিউর তিনি কইলেন আপনারা যখন উপরে আছিলেন তখন সাইফা (ভাবীর বান্ধবী) ফুন কইরা আমারে কইছে আজ সে একটা ফুটফুটে মেয়ে জন্ম দিছে যার বাপ হইলেন আপনি। আমার মাতা ভন ভন করতাছে ওইদিকে আমার দুস্ত এবার আমার দিকে কেমনে জানি চায়! ২ মিনিটের নীরবতা। আমার দুস্ত আমারে কয় তলে তলে এইসব করছো। আমি তারে বুজাইতে পারতাছিনা আমি পুরাই সাধু। ভাবী আমারে কয় করছনে একটু আমাদের জানাতেন। বেচারী বান্ধবী আমার একন সে এই বাচ্ছা নিয়ে কুথায় যাবে? ওর বাসা থেকে ওকে মেরেই ফেলবে, আর ভাবেন একবার বাচ্ছাটার কি হবে? দুস্ত কয় আহারে তুই সাইফার লগে এমন কাম করলি? আমি তো পুরা ফ্যাসাদে। কুনু মতেই তারা আমারে বিশ্বাস করে না। কইলাম সাইফার সাথে আমার কিছুই নাই, আর বেচারী গত দশ মাস ধইরা ম্যানচেস্টার গিয়া তার নানীর লগে থাহে, আর এ দশ মাসে আমি একবারো শহরের বাইরে যাই নাই, কেম্নে কি? শালার খানা দানা হইলো না। ভাবীর সোফার এক কোনায়, আমার দুস্ত এক কোনায়, আমি খানার টেবিলে বইয়া রইছি। হঠাৎ কইরা দরজায় শব্দ। উঠবার পারুম না... দুরে গিয়া মর। আমার দুস্ত দরজায় খুললো। দরজা খুইল্লাই লাপাত্তা... আর আহে না। হঠাৎ কইরা দরজা দিয়া আমার বন্ধু আইলো, তার পিছনে কেউ আছে মনে হয় দেহা যাইতাছে না, আর্রে এ যে সাইফা। ওমনি ভাবী লাফ দিয়া আইয়া কয় হ্যাপি বাড ডে টু ইউ.......... হ্যাপি বাড ডে টু ইউ............. ওমনি দুস্ত আর সাইফা ও গাইয়া উঠলো। আমি তু অবাক। হালার নিজের বাড ডে ভুইল্যা গেলাম।

কি সহজ উপায়ে তারা আমারে বুকা বানাইলো আমার ঘরে আইয়া, আর সাইফাও পাজী আছে, আর আমার দুস্ত... হগ্গলে মিল্লা প্ল্যান কইরা আমারে বুকা বানাইছে।

ঘটনা ২০০৭ এর। আমার বাড ডের দিন বুকা হইলাম, বাবা হইলাম ;)
২৬টি মন্তব্য ২৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×