somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আগামীর ইতিহাস আজ থেকেই শুরু হোক (সকল ব্লগারদের অংশগ্রহন একান্তভাবে কাম্য)

১৬ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ৩:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নতুন বছরের প্রথম দিনে কে কি করলেন, এই পোস্টের কমেন্টের ঘরে তা বলবার জন্য ব্লগারদের অনুরোধ করা যাচ্ছে। দেখি, ঘোল কতটুকু স্বাদের হয়। একটি শব্দ, দুটি শব্দ, এক লাইন, দুই লাইন, তিনলাইন, শত শত লাইন, নিজের পোস্টের লিংক, অন্যের পোস্টের লিংক, যে যেভাবে পারেন জানান।আর হ্যা, আরেকটা কথা, নিদের পক্ষে বিশজন স্বাতন্ত্র ব্লগারের স্বাতন্ত্র কমেন্ট পেলে পোস্টটা আমার আর্কাইভে রেখে দেয়া হবে। অন্যথায় মুছে ফেলা হবে।

প্রথমে আমার কথা বলি। এমনিতেই আমার দৈনন্দিন জীবন খুবই বোরিং কাটে। নববর্ষের দিনটা যেন আরো বোরিং কাটল। সপ্তাহের প্রথম দিন। তাই ঘুম থেকে উঠে ট্রেনের মধ্যে ঝিমাতে ঝিমাতে অফিসে গেলাম, লান্চ ব্রেকে যথারীতি লান্চ, তারপর লবিতে বসে টিভি দেখা নয়তো খবরের কাগজ পড়া। (আমাদের অফিসে দেখার মত একটা টিভিসেট আছে। তাই মাঝে মাঝে আমি টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠান দেখি বাদ দিয়ে বসে বসে টিভিটাকে দেখি।:)) অফিস ছুটির পর আবার ট্রেনের মধ্যে ঝিমাতে ঝিমাতে বাসায় ফিরি। ফিরে শাওয়ার নিয়ে ভাত খেয়ে এশার নামায পড়ে ল্যাপটপটা কোলে নিয়ে বসি। টানা কয়েক ঘন্টা নেট সার্ফি করে শোয়ার আগে হালকা কিছু খেয়ে দাত ব্রাশ করে ট্রাউজার আর টি শার্ট পড়ে বিছানায় চলে গেলাম। সকালে আবার অফিস। আবার ট্রেনের মধ্যে ঝিমুনি। নববর্ষের দিনেও এই রুটিনের এতটুকু ব্যতয় ঘটেনি! কি দারুন বর্ষউদযাপন করলাম, দেখেছেন!:)
দেশ থেকে শুধু দুয়েকটা ম্যাসেজ এসেছে। তাও আবার আমাকে ডেটিকেটেড করে না। ইউনিভাসার্ল ম্যাসেজ। মাল্টিপল রিসেপেন্টে পাঠানো। নতুন বছরের শুভেচ্ছা, তোমাকে শুভ নববর্ষ, এই টাইপের! আমিও একটা হাই তুলে, এস এম এসগুলো দেখে মোবাইল পকেটে পুরে রেখে দিয়েছি। :(
ইউনিভাসার্ল ম্যাসেজের একটি সুবিধা আছে। রিপ্লাই না দিলেও ঝাড়ি খেতে হয় না বা সেন্ডার মাইন্ড করে না। :)




আমার এই পোস্টটা একটা বিশেষ পোস্ট। একটা বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে পোস্ট করা। সেটা হলো: আজ থেকে ঠিক এক বছর পর, ১৪১৬ তে এসে আমার এই পোস্ট পড়ে ব্লগাররা প্রচন্ড নস্টালজিক হয়ে পড়বেন। এই পোস্টটা এখন থেকে একটা ছোট খাট রেফারেন্স হয়ে থাকবে। আর আমিও মাঝে মাঝে বের করে পড়বো আর স্মূতির ভারে নুজ্ব্য হবো।
এক সপ্তাহ পরে এই পোস্টের সব কমেন্ট আর পোস্টটা আমি আমার পার্সোনাল অনলাইন স্টোরেজে আপলোড করে রাখবো। আজ থেকে অনেক অনেক পর আল্লাহ যদি সে সুযোগ দেন, আমার ছেলে-পুলে, নাতি পুতিদের এই পোস্টটা দেখাবো। ওরা পড়বে আর অবাক হবে! অবাক হবে আর পড়বে!

ভাবছি, এর পর থেকে বিভিন্ন জাতীয় দিবসে এরকম একটি করে পোস্টের আয়োজন করবো। এক একটাকে আমাদের; বাংলাদেশীদের জীবনের ইতিহাসের ফলক করে রাখবো। আমার এই প্রয়াসটা আজগুবি মনে হতে পারে, তা হলেও, ভবিৎষত প্রজন্ম হয়তো এসব থেকেই অনেক কিছু শিখে ফেলতে পারবে। অনেক দিন আগে কোন একটা ওয়েব সাইটে যেন দেখেছিলাম, একটা প্রজেক্ট হাতে নেয়া হয়েছিলো, এমন একটা কিছু বানানো হবে, পৃথিবী ধ্বংস হবার পর যার মাধম্যে এই পৃথিবী সমন্ধে অনেক কিছুই ভবিৎষতের মানুষেরা জানতে পারবে। ওয়েব সাইটটি এক বছরের মধ্যে বিভ্ন্নি দেশের মানুষের কাছ থেকে প্রচুর পরিমান ডেটা আর সিগনেচার নিয়ে, পৃথিবীতে একটা ব্যাকআপ কপি রেখে, একটা ডিজিটাল স্টোরেজে করে সেটাকে মহাশূন্যে পাঠিয়ে দেয়া হয়। তবে আমার এ আইডিয়াটি সেই ওয়েব সাইট থেকে নয়, বরং এই পোস্টটা লিখতে গিয়েই সেটার কথা মনে পড়লো।
রাশিয়ার একটা কিশোরীর ছোট্ট একটা লেখা; একটা চিরকুট পড়ে তো আমার চোখে পানি চলে এসেছিলো।
এটা কোন কল্পবিজ্ঞান কাহিনী নয়। ব্লগের হয়ত অনেকেই জানেন বিষয়টা। পত্রিকায় অনেক লেখালেখি হয়েছে এ নিয়ে। অনেকে সমালোচনা করেছে। বলেছে বিজ্ঞাপন, সাইটে হিট বাড়ানোর ধান্ধা, আরো কত কি! কিন্তু তাতে কারো কিছু যায় আসেনি। একটা স্পেসশীপে এখনও সেই লেখা, কোটি কোটি মানুষের করা সেই স্বাক্ষরগুলো আজও মহাশুন্যে ভাসছে। কি অদ্ভুত তাই না?
মনে করুন, আজ থেকে এক হাজার বছর পরে, এই ব্লগটাকে একদল মানুষ কোন না কোন ভাবে আবিস্কার করলো, এখানকার মানুষের করা পোস্টগুলো পড়লো, তাদের মনের অনুভুতি, আশা-ভালোবাসা, আনন্দ, বেদনা, কষ্ট, মুক্তিযুদ্ধ, রাজাকার, ইতিহাস, রম্য, মানুষে মানুষে প্রেম ভালোবাসার ধরন, সব স-ব কিছু সমন্ধে তারা জানতে পারবে। হয়ত আমার এই পোস্টটা পড়েও বলবে, "দেখেছিস, বেটা কত সুদুরপ্রসারী চিন্তা করতো! আজকের কথা এক হাজার বছর আগে লিখে রেখে গিয়েছে।" হা হা হা। কলিগরা প্রায়ই বলে, প্রলয়, ইউ আর সো সিলি! এই প্রথম ওদের কথাটা বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করছে।

আরো অনেক কিছু লেখার ইচ্ছে ছিলো। কিন্তু উপায় নাই গোলাম হোসেন। ঘড়িতে ভোর সাড়ে ছয়টা বাজে। সকালে অফিস আছে। ৫ ঘন্টাও ঘুমাতে পারবো কিনা সন্দেহ। কাল রাতে কিছু আপডেট করে দিতে পারি।

(ধান ভানতে শিবের গীত গাইলাম। আসলে পোস্টসংখ্যা বাড়ানোর ধান্ধা!;))



আজ ১৪১৫, বুধবার, সিডনী সময় বেলা ৬.৫৭। বাংলা নতুন বছরের ২য় দিন। আগামীর ইতিহাস তাহলে এখান থেকেই শুরু হোক। "ভবিৎষতের শুরু এখানেই!" কি বলেন?

আমার আজকের এই ছোট্ট পোস্টটা, আগামীর আমাদের জন্য একটা ইতিহাস হয়ে থাকুক।

সবাইকে ধন্যবাদ। ভাল থাকবেন। :)
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:২৭
৪৯টি মন্তব্য ৪২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×