নতুন বছরের প্রথম দিনে কে কি করলেন, এই পোস্টের কমেন্টের ঘরে তা বলবার জন্য ব্লগারদের অনুরোধ করা যাচ্ছে। দেখি, ঘোল কতটুকু স্বাদের হয়। একটি শব্দ, দুটি শব্দ, এক লাইন, দুই লাইন, তিনলাইন, শত শত লাইন, নিজের পোস্টের লিংক, অন্যের পোস্টের লিংক, যে যেভাবে পারেন জানান।আর হ্যা, আরেকটা কথা, নিদের পক্ষে বিশজন স্বাতন্ত্র ব্লগারের স্বাতন্ত্র কমেন্ট পেলে পোস্টটা আমার আর্কাইভে রেখে দেয়া হবে। অন্যথায় মুছে ফেলা হবে।
প্রথমে আমার কথা বলি। এমনিতেই আমার দৈনন্দিন জীবন খুবই বোরিং কাটে। নববর্ষের দিনটা যেন আরো বোরিং কাটল। সপ্তাহের প্রথম দিন। তাই ঘুম থেকে উঠে ট্রেনের মধ্যে ঝিমাতে ঝিমাতে অফিসে গেলাম, লান্চ ব্রেকে যথারীতি লান্চ, তারপর লবিতে বসে টিভি দেখা নয়তো খবরের কাগজ পড়া। (আমাদের অফিসে দেখার মত একটা টিভিসেট আছে। তাই মাঝে মাঝে আমি টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠান দেখি বাদ দিয়ে বসে বসে টিভিটাকে দেখি।
দেশ থেকে শুধু দুয়েকটা ম্যাসেজ এসেছে। তাও আবার আমাকে ডেটিকেটেড করে না। ইউনিভাসার্ল ম্যাসেজ। মাল্টিপল রিসেপেন্টে পাঠানো। নতুন বছরের শুভেচ্ছা, তোমাকে শুভ নববর্ষ, এই টাইপের! আমিও একটা হাই তুলে, এস এম এসগুলো দেখে মোবাইল পকেটে পুরে রেখে দিয়েছি।
ইউনিভাসার্ল ম্যাসেজের একটি সুবিধা আছে। রিপ্লাই না দিলেও ঝাড়ি খেতে হয় না বা সেন্ডার মাইন্ড করে না।
আমার এই পোস্টটা একটা বিশেষ পোস্ট। একটা বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে পোস্ট করা। সেটা হলো: আজ থেকে ঠিক এক বছর পর, ১৪১৬ তে এসে আমার এই পোস্ট পড়ে ব্লগাররা প্রচন্ড নস্টালজিক হয়ে পড়বেন। এই পোস্টটা এখন থেকে একটা ছোট খাট রেফারেন্স হয়ে থাকবে। আর আমিও মাঝে মাঝে বের করে পড়বো আর স্মূতির ভারে নুজ্ব্য হবো।
এক সপ্তাহ পরে এই পোস্টের সব কমেন্ট আর পোস্টটা আমি আমার পার্সোনাল অনলাইন স্টোরেজে আপলোড করে রাখবো। আজ থেকে অনেক অনেক পর আল্লাহ যদি সে সুযোগ দেন, আমার ছেলে-পুলে, নাতি পুতিদের এই পোস্টটা দেখাবো। ওরা পড়বে আর অবাক হবে! অবাক হবে আর পড়বে!
ভাবছি, এর পর থেকে বিভিন্ন জাতীয় দিবসে এরকম একটি করে পোস্টের আয়োজন করবো। এক একটাকে আমাদের; বাংলাদেশীদের জীবনের ইতিহাসের ফলক করে রাখবো। আমার এই প্রয়াসটা আজগুবি মনে হতে পারে, তা হলেও, ভবিৎষত প্রজন্ম হয়তো এসব থেকেই অনেক কিছু শিখে ফেলতে পারবে। অনেক দিন আগে কোন একটা ওয়েব সাইটে যেন দেখেছিলাম, একটা প্রজেক্ট হাতে নেয়া হয়েছিলো, এমন একটা কিছু বানানো হবে, পৃথিবী ধ্বংস হবার পর যার মাধম্যে এই পৃথিবী সমন্ধে অনেক কিছুই ভবিৎষতের মানুষেরা জানতে পারবে। ওয়েব সাইটটি এক বছরের মধ্যে বিভ্ন্নি দেশের মানুষের কাছ থেকে প্রচুর পরিমান ডেটা আর সিগনেচার নিয়ে, পৃথিবীতে একটা ব্যাকআপ কপি রেখে, একটা ডিজিটাল স্টোরেজে করে সেটাকে মহাশূন্যে পাঠিয়ে দেয়া হয়। তবে আমার এ আইডিয়াটি সেই ওয়েব সাইট থেকে নয়, বরং এই পোস্টটা লিখতে গিয়েই সেটার কথা মনে পড়লো।
রাশিয়ার একটা কিশোরীর ছোট্ট একটা লেখা; একটা চিরকুট পড়ে তো আমার চোখে পানি চলে এসেছিলো।
এটা কোন কল্পবিজ্ঞান কাহিনী নয়। ব্লগের হয়ত অনেকেই জানেন বিষয়টা। পত্রিকায় অনেক লেখালেখি হয়েছে এ নিয়ে। অনেকে সমালোচনা করেছে। বলেছে বিজ্ঞাপন, সাইটে হিট বাড়ানোর ধান্ধা, আরো কত কি! কিন্তু তাতে কারো কিছু যায় আসেনি। একটা স্পেসশীপে এখনও সেই লেখা, কোটি কোটি মানুষের করা সেই স্বাক্ষরগুলো আজও মহাশুন্যে ভাসছে। কি অদ্ভুত তাই না?
মনে করুন, আজ থেকে এক হাজার বছর পরে, এই ব্লগটাকে একদল মানুষ কোন না কোন ভাবে আবিস্কার করলো, এখানকার মানুষের করা পোস্টগুলো পড়লো, তাদের মনের অনুভুতি, আশা-ভালোবাসা, আনন্দ, বেদনা, কষ্ট, মুক্তিযুদ্ধ, রাজাকার, ইতিহাস, রম্য, মানুষে মানুষে প্রেম ভালোবাসার ধরন, সব স-ব কিছু সমন্ধে তারা জানতে পারবে। হয়ত আমার এই পোস্টটা পড়েও বলবে, "দেখেছিস, বেটা কত সুদুরপ্রসারী চিন্তা করতো! আজকের কথা এক হাজার বছর আগে লিখে রেখে গিয়েছে।" হা হা হা। কলিগরা প্রায়ই বলে, প্রলয়, ইউ আর সো সিলি! এই প্রথম ওদের কথাটা বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করছে।
আরো অনেক কিছু লেখার ইচ্ছে ছিলো। কিন্তু উপায় নাই গোলাম হোসেন। ঘড়িতে ভোর সাড়ে ছয়টা বাজে। সকালে অফিস আছে। ৫ ঘন্টাও ঘুমাতে পারবো কিনা সন্দেহ। কাল রাতে কিছু আপডেট করে দিতে পারি।
(ধান ভানতে শিবের গীত গাইলাম। আসলে পোস্টসংখ্যা বাড়ানোর ধান্ধা!
আজ ১৪১৫, বুধবার, সিডনী সময় বেলা ৬.৫৭। বাংলা নতুন বছরের ২য় দিন। আগামীর ইতিহাস তাহলে এখান থেকেই শুরু হোক। "ভবিৎষতের শুরু এখানেই!" কি বলেন?
আমার আজকের এই ছোট্ট পোস্টটা, আগামীর আমাদের জন্য একটা ইতিহাস হয়ে থাকুক।
সবাইকে ধন্যবাদ। ভাল থাকবেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

