somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সুনীলের কবিতা এবং আমার স্বপ্ন

২৮ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১২:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বুকের মধ্যে সুগন্ধী রুমাল রেখে বরুনা বলেছিলো
যেদিন আমায় সত্যিকার ভালবাসবে
সেদিন আমার বুকেও এরকম আতরের গন্ধ হবে।
ভালবাসার জন্য আমি হাতের মুঠোয় প্রান নিয়েছি।
দুরন্ত ষাড়েরঁ চোখে বেধেঁছি লাল কাপড়।
বিশ্ব সংসার তন্ন তন্ন করে খুজেঁ এনেছি ১০৮ টা নীল পদ্ম।
তবুও কথা রাখেনি বরুনা...।
এখন তার বুকে শুধুই মাংসের গন্ধ!
এখন সে যে কোন নারী।
------------------------------------ কেউ কথা রাখেনি / সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়।


আমার অসম্ভব প্রিয় একটা কবিতা। ক্লাস এইটে থাকতেই পুরোটা মুখস্ত করে ফেলেছিলাম। এখন শুধু এইটুকু মনে আছে। তাও হয়ত ঠিকভাবে নেই।

ফোনে কথা বলা শুরু হবার এক সপ্তাহের মাথায় প্রপোজ করলাম। প্রথম যেদিন স্বপ্নকে আমার ভালবাসার কথা জানিয়েছিলাম;
"আমি তোমাকে ভালবেসেছি।" ও অনেক্ষন চুপ ছিলো। পুরো নির্বাক। এদিকে আমার হৃৎপিন্ডের শব্দ বাইরে থেকে স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছিলাম। জীবনের প্রথম অভিজ্ঞতা। তাই এর পর কি করতে হবে তাও বুঝতে পারছিলাম না। সময়ের কাছে তখন কি এক অসহায় আত্নসমপর্ন আমার! সেই সাথে মনে মনে প্রস্তুত হচ্ছিলাম ফেরানোটাকে মেনে নেয়ার জন্য। হঠাৎ দেখলাম স্ক্রীনে ভেসে উঠল "Shopnochari is typing..."। আমি প্রচন্ড উৎকন্ঠা নিয়ে তাকিয়ে থাকলাম সেদিকে। স্বপ্ন বল্ল: "তুমি সত্যি বলছো তো প্রলয়?" পাশে আবার একটা হাসির ইমো! আমার উত্তর পেয়ে গেছি! আমি খুশীতে পাগলপারা হয়ে ল্যাপটপটাকে বুকের সাথে চেপে ধরলাম। যেন আমার স্বপ্নকেই জড়িয়ে ধরেছি!
প্রথম কয়েকদিন কথা বলার পরই আমি বেশ বুঝতে পারছিলাম ও আমাকে ভালবেসে ফেলেছে। একসময় আমিও যে কখন বেসে ফেল্লাম নিজেও টের পেলাম না!:(

আমি বল্লাম- "তাহলে তুমি আমাকে বলবে না?"
ও একুট ভেবে বল্ল: "ফোনে বলি?"

পরের একটা দিন কে মনে হল ২৪ যুগ। রাতে অফিস থেকে ফিরে ১৫ মিনিটের ভেতর কাপড় চেন্জ করে, গোসল আর ডিনার সেরে ফোন দিলাম। আমার স্বপ্ন আমাকে শোনাল সে কথাটি, যার জন্য আমার দুকান নয়, পুরোটা শরীর অপেক্ষা করেছিলো পচিশঁটি বছর। আমাকে প্রথম সুযোগেই গ্রহন করে নেয়া হলো। জীবনের প্রথম ভালবাসায়ই এমন সফলতা, তাও আবার মাত্র দিনের ব্যবধানে, এমন কপাল নিয়ে ক'জন এসেছে পৃথিবীতে? সত্যি সত্যিই নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে হচ্ছিল।
প্রথমবার বলার আগেও ও অনেক্ষন চুপ ছিলো। তারপর ধীরে ধীরে অনেক সময় নিয়ে বল্ল: "আমি তোমাকে...ভীষন ভীষন ভালবাসি প্রলয়!"

আমার বুক দিয়ে এরপর প্রবল একটা দীর্ঘশ্বাস চিরে বের হয়ে যায়।


স্বপ্ন যতবারই কথাটি বলেছে, অপূর্ব সুন্দর করে বলেছে। হুট করে, এক নিশ্বাসে নয়, বরং প্রতিবারই একটু সময় নিয়ে, অনেক্ষন চুপ থেকে বলে- "ঠিক আছে বলছি".....(প্রতিবারই বলার আগে এরকম ঘোষনা দিয়ে নেয়)...তারপর হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে সবটুকু আবেগ আর ভালবাসা গলায় এনে জড়ো করে। তারপর প্রথমে বলে "আমি তোমাকে," এটুকু বলে একটু থেমে তারপর বলে- "ভীষন ভালবাসি।" ভীষন শব্দটি ছাড়া ও কখনোই বাক্যটি বলেনি। এবং বলার সময় সেটার উপরই জোর থাকে সবচে বেশী।

স্বপ্ন কবিতা আবৃত্তি করে। রীতিমত ক্লাসে গিয়ে আবৃত্তি শিখে। ওর কন্ঠস্বর এমনিতেই মারাত্নক রকমের মিষ্টি। তার উপর আবার অতিব চমৎকার বাচনভঙ্গি। কিন্তু আমাকে একটাবারও শুনায়নি এখন পর্যন্ত! প্রতিবার পিছলে তো গেছেই উল্টো একরাতে সুনীলের এই কবিতাটি আমার হেড়ে গলায় আমাকে দিয়ে আবৃত্তি করিয়ে নেয়! :(
আমার মনে হয়, কথাটি বলার সময় ও মনে করে ও বুঝি ওর ক্লাসের কবিতার কোন লাইন পড়ছে। ওর কবিতা আবৃত্তি যে কত সুন্দর, তাতেই বেশ বোঝা যায়। আর আমার সেই লাইনটাই বার বার শুনতে ইচ্ছা হয়, শতবার-হাজারবার শুনতে ইচ্ছে হয়। তবুও হয়ত কোনদিন সাধ মিটবে না।
সেদিন রাতে স্বপ্নকে বল্লাম - "কথাটা বলতে তুমি এত দেরী কর কেন?" ও খুব শান্ত স্বরে বল্ল- "এটা অনুভূতির ব্যাপার। বলার সময় আমি সেই অনুভূতিটা পুরোপুরি অনুভব করার চেষ্টা করি। তাই একটু দেরী হয়ে যায়!" আমি ওর উত্তরে অভিভূত হয়ে গেলাম। মাঝে মাঝে মনে হয় ওর হাতে হাত রাখার কোন যোগ্যতাই আমার নেই।

এরপর থেকে ও যতবারই বলেছে, আমার চোখ ভিজে গেছে। মেয়েটি কি আবেগ আর ভালবাসা দিয়েই না বলে কথাটা!

....স্বপ্ন, তোমার হীরক বন্ধুর জন্য তোমার ভালবাসা, তোমার কথার প্রতিটি অক্ষরে, ফোনে শোনা তোমার প্রতিটি শ্বাস-প্রশ্বাসে সে অনুভব করে...!

ফোনে কথা বলার অনেক আগে থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নেটে আমাদের তুমুল ঝগড়া হতো। ম্যাসেন্জারে সাইন ইন করেই ওর একগাদা অফলাইন মেসেজ পড়তে হত। এভাবেই আমার নেট সার্ফিংয়ের শুরু হতো প্রতিরাতে। তাই এখন আর নতুন কোন ইস্যু খুজেঁ পাই না। মুটামুটি সব বিষয় নিয়েই আমাদের ঝগড়া করা শেষ। এখন ভাবছি, "কে আগে কার প্রেমে পড়েছিলো" এই ইস্যুতে আবার নতুন করে ঝগড়ায় মেতে উঠবো।

আমি:....আরে বাবা, তোমাকে বলেছে কে আমাকে ভালবাসতে...?
স্বপ্ন: ইশশিরে! আমার ভালবাসা না পেলে আরেকটু হলেই তো মারা যেতে বসেছিলে!
আমি: কি! এটা তোমাকে কে বল্ল? তোমার মত ঝগড়াটে মেয়ের ভালবাসা পেতে আমার বয়েই গেছে!
স্বপ্ন: হ্যা, তাইতো অনেক মিনমিন করে বল্লে: "আমি তোমাকে ভালবেসেছি!'
আমি: বলবো না? আমার প্রেমে দেখি ম্যাডাম হাবুডুবু খাচ্ছে।--- "তোমাকে সারাদিন অসম্ভব মিস করেছি। তোমার সাথে কথা বল্লে নিজকে জগতের সবচে সুখী মানুষ বলে মনে হয়, তোমার সাথে কথা বল্লে সময় যে কিভাবে চলে যায়!" বল, এসব বস্তাপঁচা কথাবার্তা বলনি তুমি আমাকে? (এ জাগাটায় হলে যে কোন মেয়েই হয়ত রেগে যেত, কিন্তু স্বপ্ন কখনো ঝগড়ার সময় রাগে না , খুব ঠান্ডা মাথায় একটার পর একটা খোচাঁ মেরে যায়)
সপ্ন: হুমম, আর তাই তো মশাই ভোর রাতে ফোন করে ফিসফিস করে কথা বলতেন! যেন আর তর সইছিলো না!8-|
আমি: কি করব? যখন দেখলাম তুমি আমাকে একতরফা ভালবেসে যাচ্ছ, তখন তোমাকে জন্য খুব মায়া হলো!:D
স্বপ্ন: আর অমনি মশাই আল্হাদে গদগদ হয়ে ভালবাসার কথা বলে ফেল্লেন?8-|
আমি: কি? আল্হাদে গদগদ হয়ে বলেছিলাম! X((
স্বপ্ন: তা নয় তো কি? তারপরই তো আপনি কত মিঠা মিঠা কথা বল্লেন। “আরেকটু থাকো না, আরেকটু পর গেলে কি হয়? তুমি এত অবুঝ কেন?” আর এর পরের ঘটনা তো নাই বল্লাম!8-|
আমি: কি!... @#%^ঁ*()...X(
স্বপ্ন: হুহ...)(*ঁ^%৳#@!....8-|
আমি:....................................................................X((
স্বপ্ন:......................................................................8-|


সুনীলের বরুনা তার দেয়া কথা রাখতে পারেনি। আমার স্বপ্ন যেন পারে তার কথা রাখতে....আমার সপ্নের বুকে যেন কোনদিনও আমি মাংসের গন্ধ খুজেঁ না পাই....আর কারো বরুনা, আর কারো স্বপ্ন যেন এমন করে কথা না রেখে হাত ছেড়ে কখনো চলে না যায়.....বিধাতার কাছে এতটুকু প্রার্থনা।

সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:২৫
৫১টি মন্তব্য ৫৫টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×