উপায় নাইকা গোলাম আজম ... থুক্কু ... গোলাম হোসেন, এই হেডিং না দিয়া পারলামনা। এই কথা শুনার পর আর অন্য কোন হেডিং মাথায় আসেনাই, তাই এইটাই দিলাম। তা ... কষ্ট কইরা আমার বোলগে যখন আইসাই পড়ছেন, তখন আর ইট্টু কষ্ট করেন, লেখা গুলা পড়েন, যে রাগে আমার শরীর জ্বলতেছে, সেই রাগের কিছু অংশ আপনেও মাথাতেও চালান হইয়া যাক
গতকালকে সন্ধ্যাবেলা গেছিলাম বাজার করতে। বাংলা দোকানে যামু, তাই ভাবলাম "যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মসূচী" ফর্মটা সাথে নিয়া যাই, কাজে লাগবো। তো ... দোকানে মাছ মাংস কাটার অর্ডার দিয়া বাইরে দাড়াইয়া দুইটা সিগ্নেচার নিছি, তখন দেখি দুই চাচায় আহে। লম্বা একখান সালামাল্কি দিয়া কইলাম যে এই বিষয়। কেউ তো মানা করেনা, তাই কলমডাও আগায় দিলাম, কিন্তু চাচায় কলম নেয়না :-* আমারে কয় আপনার বয়স কত? কইলাম চাচা, স্বাধীনতার ৫ বচ্ছর পর জন্মাইছি। চাচা কয় "এই জন্যেই তো কিছু জানেননা আপনারা"।
মনের মইদ্ধে ঝিলিক দিয়া উঠলো - পাইছি মনে হয় - এদ্দিন পর। আল্লায় সানগ্লাস খুইলা, মুখ তুইলা সরাসরি চাইছে আমার দিকে, রাজাকার দেখনের আজন্ম সখটা মনে হয় পুরা হইলো
"আপনে জানেন ...... রাজাকাররা না থাকলে দেশে ৫ কোটি মানুষ মরতো? মিলিটারিরা সব মানুষ মাইরা ফালাইতো, একজনেরেও রেহাই দিতোনা। রাজাকাররা নিজে মইরা আপনাদের বাপ মা রে বাচায় গেছে দেইখাই আজকে আপনে এইখানে আসতে পারছেন। ...... বাসায় যান, গন্ডোগোলের সময়ের আসল ইতিহাস জাইনা পরে এইসব করতে আইসেন ..."
মাঝে আরও কিছু কথা আছিল, সব তো মনেও নাইকা, মর জ্বালা
আমি নির্বাক, হতবাক, বাক বাক ... কি কমু বুইঝা উঠতে পারতেছিনা, কারুন চাচা গেছে চেইতা। হাতের লাঠি দিয়া আমার মাথায় জোড়ে একটা বাড়ি দিলে আমার ছোট্ট মাথা দুইভাগ হইয়া যাইতে পারে, আবার চাইর ভাগও হইতে পারে
তখন অন্য চাচায় কয় "হালিম ভাই ... এদের সাথে কথা বলে লাভ নাই, এরা বেয়াদব সব, চলেন আমরা যাই। ৮টা বাজে, মাগরিবের সময় হইছে প্রায়।" সাহস করা কইলাম যে নামাজ তো আমিও পড়বো, কাছে কোথাও নামায পড়ার মত জায়গা আছে নাকি?
আমার কথা শুইনা বড় চাচা তেলে পিয়াজে জ্বইলা উঠলো
আমি পুরা চুপ, চাচায় আমার ঠিকানা পর্যন্ত জানে
চাচায় তখনও শেষ করেনাই। কয় - "শুনো, এইগুলা বাদ দেও, পড়াশুনা করতে আইছো, পড়াশুনা করো, ভালো মানুষ হও। এইসব কইরা সময় নষ্ট কইরোনা। রাজাকারদের গাল দিওনা, অরাই দেশের আসল বন্ধু। আর বাংলাদেশ হইয়াই বা কি হইছে? এইযে তুমি, বাপ মা ফালায় থুইয়া বিদেশে পইরা আছো, পাকিস্তান থাকলে এমন হইতোনা, নিজের দেশেই কাজ পাইতা। কাফিরগো দেশে গু সাফ করা লাগতোনা
মাথাটা কেন জানি হঠাৎ বেজায় ঠান্ডা হইয়া গেল। কইলাম - চাচা, তাইলে ফর্মটা ছিড়া ফালাই, কি কন? "হু ... ছিড়া ফালাও, আর এইসব কইরোনা।" কইলাম - চাচা ... আপনাকে ধন্যবাদ, আমার বাপের পিঠে যে কুত্তার বাচ্চা পিছন থিকা ৩টা গুলি করছিলো, সেই রাজাকারের চেহারা বাপেও দেখেনাই, আমি তো না ই, কিন্তু আজকে আপনারে দেইখা মনে হইল যে সে দেখতে আপনার মতই দেখতে আছিলো।
কইয়াই দিছি দৌড়, পিছনথিকা শুনি চাচায় ডাকে "ওই হারামজাদা ...... ওই হারামজাদা ... ...... ...", আমি ততোক্ষনে রাস্তা পাড় হইয়া কারপার্কে, ১ মিনিটের মদ্ধে হাওয়া।
(১৭ ই জানুয়ারি ২০০৯'এ প্রকাশিত)
ছবিসুত্রঃ গুগোল মামা
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



