somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অদৃশ্য দানব (প্রথম পর্ব)

২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


১৯৯১ সালের ৩রা মার্চ, সকাল ৯টা বেজে ৪০ মিনিট। ২০ জন যাত্রী ও ৫ জন ক্রু নিয়ে বিমানটি ডেনভার থেকে ১৭ মিনিটের যাত্রা শেষে ইউনাইডেড এয়ারলাইন্স ফ্লাইট ৫৮৫ বোয়িং ৭৩৭ বিমানটি কলোরাডো স্প্রিংসে অবতরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। জ্বালানী সাশ্রয়ী ও নিরাপদ বিমান হিসেবে বোয়িং ৭৩৭ একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় যাত্রীবাহী বিমান হিসেবে সুপরিচিত। সারা পৃথিবীতে এই জাতীয় বিমান বছরে ১২ বিলিয়নেরও বেশী যাত্রী পরিবহন করে থাকে।

পরিস্কার ঝকঝকে আলোকোজ্জ্বল দিনটি বিমান ভ্রমণের জন্য দিনটি দৃশ্যতঃ আদর্শ হলেও বাতাস বলছিলো অন্য কথা। সেদিন স্বাভাবিকের চাইতে বাতাসের বেগ অনেক বেশী ছিলো, বিমানটি থেকে থেকে দুলে উঠছিলো উত্তাল সাগরের মাঝে ছোট্ট ডিঙ্গি নৌকার মত।

"এমন একটা সুন্দর দিনেও আবহাওয়ার এমন অবস্থা, ভাবা যায়?" - কো-পাইলট প্যাট্রিসা আইডসনকে বললেন ক্যাপ্টেন হ্যারল্ড গ্রীন। "কলোরাডো স্প্রিংস কি আমাদের অসুস্থ করে ফেলবে নাকি এবার?"

৫২ বছর বয়স্ক ক্যাপ্টেন গ্রীন গত ২০ বছর থেকে বিমান চালনায় নিজের দক্ষতার প্রমান দিয়ে আসছেন। কো-পাইলট প্যাট্রিসা আইডসন ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের প্রথম সারির একজন মহিলা পাইলট।

কলোরাডো স্প্রিংস মিউনিসিপাল এয়ারপোর্টে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার জেমস রেইফিল্ড ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স ৫৮৫ কে অবতরনে সাহায্য করতে তৈরী হলেন। "ইউনাইটেড ৫৮৫, তোমাদের রানওয়ে ৩৫'এ অবতরনের অনুমতি দেয়া হলো" রেডিওতে বললেন জেমস। ক্যাপ্টেন গ্রীন তখন তার সহকারীকে ল্যান্ডিং গিয়ার নামিয়ে দেবার সংকেত দিলেন, প্যাট্রিসা ব্যাস্ত হলেন তার কাজে।

রানওয়েতে অবতরনের জন্য বিমানটি যতই নীচে নামছিলো ততই ঝাঁকি বেড়ে যাচ্ছিলো। তাই প্যাট্রিসা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের কাছে জানতে চাইলেন অন্য বিমানগুলোও ল্যান্ডিংয়ের সময় এই ধরনের সমস্যায় পড়েছে কি না। জেমস জানালেন ৫০০ ফিট উচ্চতায় ৫০ নট গতি কমে গেছিলো, ৪০০ ফিট উচ্চতায় ৫০ নট গতি বেড়ে গেছিলো আর ১৫০ ফিট উচ্চতায় ২০ নট গতি বেড়ে গিয়েছিলো কোন কোন বিমানের।

"এডভেঞ্চারাস লাগছে - কি বলেন?" হাসিমুখে ক্যাপ্টেনকে বললেন প্যাট্রিসা।

এয়ারপোর্ট থেকে ৩ কিলোমিটারের মত দূরে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার হ্যারল্ড ডোনাল্ড তার গাড়ীতে করে কাছের বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। এক কিলোমিটার ওপরে থাকা ইউনাইটেড ৫৮৫ বিমানের ক্রুরা বাতাসের বেগ সামলে বিমানের গতি স্থিতিশীল রাখার চেষ্টায় ব্যাস্ত ছিলেন। "বাতাসের বেগ আগের মতই আছে দেখছি" ক্যাপ্টেনের দিকে তাকিয়ে বললেন প্যাট্রিসা। "হুম ... আমি জানি। তাই ইঞ্জিনের গতি বাড়িয়ে দিচ্ছি" - অভিজ্ঞ ক্যাপ্টেন থ্রোটলটা সামনে ঠেলে দিলেন একটু।

ইউনাইটেড ৫৮৫ রানওয়ের যখন রানওয়ের ওপর, তখন নীচে গাড়ীতে থাকা হ্যারল্ড ডোনাল্ড অনুভব করলেন প্রচন্ড বাতাসের ধাক্কায় তার গাড়ী রাস্তা থেকে ছিটকে পড়ে যাবে যেন "এত বাতাস কোথা থেকে এলো হঠাৎ?"। দ্রুত ব্রেক কষে গাড়ীটি থামিয়ে ফেললেন তিনি।

কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে জেমস রেইফিল্ড বাইনোকুলার দিয়ে বিমানটিকে দেখছিলেন। তার দৃষ্টিতে স্বাভাবিক ভাবেই বিমানটি এগিয়ে আসছিলো রানওয়েতে অবতরণের জন্য। কিন্তু বিমানটি যতই নীচে নামছিলো, ঝাঁকির পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছিলো ততই। তারপর হঠাৎ করেই বিমানটি ডান দিকে কাত হয়ে যেতে লাগলো। পাইলট প্রানপণে বিমানের নিয়ন্ত্রন ফিরিয়ে নেবার চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু কোন এক অদৃশ্য শক্তির টানে বিমানটি কয়েক পাক ঘুরে সোজা মাটির দিকে নেমে এলো ও বিধ্বস্ত হলো।

এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার জেমস রেইফিল্ডের চোখে তখনও বাইনোকুলার, তিনি চেঁচিয়ে উঠলেন - "ক্রাশ ক্রাশ!!!" তার গাড়ি থেকে কিছু দূরে হ্যারল্ড ডোনাল্ড প্রত্যক্ষ করলেন একটি প্লেন ক্রাশ।

উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে গেলেন দ্রুতই। কিন্তু মাটিতে বিমানের কাঠামোর তেমন কোন বড় খন্ড তখন আর চোখে পড়ছিলো না। ৩৮ টন ওজনের বিমানটি ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে মাটিতে পড়ার সাথে সাথেই। ২০ জন যাত্রী ও ৫ জন ক্রুর সকলেই নিহত হয়েছিলেন সংঘর্ষ এবং জেট ফুয়েলের বিষ্ফোরনে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ননায় বেড়িয়ে আসে দুর্ঘটনার ভায়াবহ চিত্র। তারা বলেন - বিমানটি খাড়া ভাবে আকাশ থেকে নীচে নেমে আসে এবং বিধ্বস্ত হয়।

মাত্র ১০ সেকেন্ডের ব্যাবধানে কলোরাডো স্প্রিংস বিমান দুর্ঘটনার ইতিহাসের একটি রহস্যময় স্থানে পরিনত হয়।



{ ক্রমশ ... }
====================================
ন্যাশনাল জিওগ্রাফী চ্যানেলের জনপ্রিয় সিরিজ "এয়ার ক্র্যাশ ইনভেষ্টিগেশনের" একটি পর্বের ধারাবর্ননা।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা মার্চ, ২০১০ ভোর ৪:৪৫
১৯টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×