নতুন ল্যাপটপ বা পিসির সাথে এখন সবাই উইন্ডোজ সেভেন দিচ্ছে। আবার অনেকেই নতুন অপারেটিং সিষ্টেম হিসেবে ইন্সটল করে দেখছেন উইন্ডোজ ৭। অনেকের মতেই এটার দৃষ্টিনন্দন গ্রাফিকাল ইউজার ইন্টারফেস এবং টেকনিকাল ফিচারগুলো বেশ আকর্ষনীয়। ধারণা করা হচ্ছে যে উইন্ডোজ ৯৮, উইন্ডোজ এক্সপির পর উইন্ডোজ ৭ হবে মাইক্রোসফটের ব্যাপক জনপ্রিয় অপারেটিং সিষ্টেম। উইন্ডোজ ভিস্তা রিলিজের তিন বছরের কম সময়ের মধ্যেই মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ৭ রিলিজ করে, যা বাজারে আসে গত বছর ২২শে অক্টোবর।
নতুন অপারেটিং সিষ্টেমটি ইন্সটলের পর ব্যাবহারকারীরা কিছু কিছু ফিচার নিয়ে ঝামেলায় পরেন। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে টাস্কবারে (ডেস্কটপের নীচে যেখানে চলমান প্রোগ্রামগুলো এবং শর্টকাট আইকনগুলো দেখা যায়) গ্রুপ করা আইকন। অনেকেই এটা ব্যাবহার করতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করছেন না। তেমনি কিছু জিনিস নিয়ে আমার আজকের লেখা।
১) টাস্কবারের গ্রুপ করা আইকন উইন্ডোজ এক্সপির মত করা যায়ঃ
ক) পদ্ধতি ১ -
মিডিয়াফায়ার থেকে এই জিপ ফাইলটি ডাউনলোড করে আনজিপ করে নিন। Taskbar_Buttons.reg ও Taskbar_Icon_Buttons.reg নামের দুটি ফাইল পাবেন। Taskbar_Buttons.reg ফাইলটিতে রাইট ক্লিক করে Merge সিলেক্ট করুন। রেজিষ্ট্রি এডিটর কনফার্মেশন চাইবে, ইয়েস করে দিন। লগ অফ করে লগ অন করুন অথবা রিষ্টার্ট করুন, পরিবর্তন দেখতে পাবেন
খ) পদ্ধতি ২ -
স্টার্ট বাটনে রাইট ক্লিক করে প্রোপার্টিজে যান, টাস্কবার ট্যাব থেকে টাস্কবার বাটন লেখার পাশে ড্রপডাউন লিষ্ট থেকে নেভার কম্বাইন সিলেক্ট করে এপ্লাই এবং ওকে করুন।
২) টাস্কবার থেকে বিরক্তিকর উইন্ডোজ লাইভ ম্যাসেঞ্জার আইকন সরিয়ে দিনঃ
টাস্কবারে বিরক্তিকর উইন্ডোজ লাইভ ম্যাসেঞ্জার আইকন সব সময় এসে থাকে, আন পিন করলেও সেটা যায় না, ক্লোজ করে দিলে ম্যাসেঞ্জার এক্সিট হয়ে যায়। কিন্তু এটাকেও ব্যাকগ্রাউন্ডে নেয়া যায়। সে জন্য আপনাকে স্টার্ট মেনু থেকে অল প্রোগামসে যেতে হবে, সেখান থেকে উইন্ডোজ লাইভ ফোল্ডারে যান ও উইন্ডোজ লাইভ ম্যাসেঞ্জার আইকনে রাইট ক্লিক করে প্রোপার্টিজ ক্লিক করুন। তারপর কম্পাটিবিলিটি ট্যাবটি সিলেক্ট করে Run this program in compatibility mode for: লেখার নীচে ড্রপডাউন লিস্ট থেকে Windows Vista (Service Pack 2) সিলেক্ট করে দিন। উইন্ডোজ লাইভ ম্যাসেঞ্জার এক্সিট করে আবার চালু করুন, টাস্কবারের আইকনটি এখন ডান দিকে ওপেন প্রোগ্রামস আইকনের সাথে দেখাবে।
৩) স্পীড আপ উইন্ডোজ ৭ পিসিঃ
প্রথম কাজঃ ডিস্ক ক্লিন আপ
মেইনটেনেন্সের প্রথম ধাপেই যা করতে হবে তা হলো হার্ড ডিস্কে জমে যাওয়া জঞ্জাল অর্থাৎ অপ্রয়োজনীয় ফাইলগুলো মুছে ফেলতে হবে। এটি করার জন্য আমরা উইন্ডোজের ডিস্ক ক্লিন আপ টুলটি ব্যবহার করবো।
১) ডেস্কটপ অথবা অল প্রোগ্রামস থেকে মাই কম্পিউটারে ক্লিক করতে হবে। তখন যে উইন্ডোটি আসবে তা অনেকটা নীচের ছবিটির মত। আপনার হার্ড ডিস্কে পার্টিশন বেশি হলে C ড্রাইভের পর D,E,F ... এভাবে আরও অনেক ড্রাইভ দেখাবে। কিন্তু আমরা শুধু C ড্রাইভটি নিয়ে কাজ করবো।
২) C ড্রাইভে রাইট ক্লিক করলে যে মেনুটি আসবে তার সব চাইতে নীচে থাকবে Properties. ওখানে ক্লিক করুন, নীচের ছবির মত একটি উইন্ডো আসবে।
৩) উইন্ডোজের মাঝামাঝি থাকা ডিস্কের গোল ছবিটার পাশে Disk Cleanup লেখা বাটনটিতে ক্লিক করুন, নীচের ছবির মত উইন্ডো আসবে।
৪) Files to Delete এর নীচে যত গুলো চেক বক্স আছে সব গুলোতে টিক দিয়ে দিন। তারপর Disk Cleanup এর পাশে More Options ট্যাবে ক্লিক করুন, নীচের উইন্ডোটি আসবে।
৫) এই ট্যাবে তিনটা ভাগ, সব চাইতে নীচে আছে System Restore। এর পাশে একটা বাটন Clean up... ক্লিক করুন। একটা ছোট পপ আপ উইন্ডো আসবে, যার দুইটা বাটন Delete আর Cancel. এখান থেকে Delete এ ক্লিক করুন। খানিকটা সময় নেবে ফাইল গুলো ডিলিট করতে। হয়ে গেলে একেবারে নীচে দুটি বাটন OK আর Cancel থেকে OK বাটনে ক্লিক করুন। আরেকটা পপ আপ উইন্ডো আসবে, সেখান থেকে Delete Files বাটনে ক্লিক করুন। ফাইল ক্লিন আপ শুরু হবে। শেষ হয়ে গেলে ডিস্কের গোল ছবিটা সহ যে উইন্ডোটা প্রথমে খুলেছিলেন, সেটার নীচে OK লেখা বাটনে ক্লিক করুন।
দ্বিতীয় কাজঃ ডিস্ক ডিফ্র্যাগমেন্ট
উইন্ডোজের বিল্টইন ডিফ্র্যাগমেন্ট টুল থেকে নীচের লিঙ্কের সফটওয়ারটি অনেক ভাল কাজে দেবে, এটি ফ্রী সফ্ট, কাজেই কোন ক্র্যাক লাগবে না।
Click This Link
সফটওয়ারইটি ইন্সটল করে রান করুন।
ব্যস, আপনার বেসিক ক্লিনিং পার্ট শেষ। পিসি রিষ্টার্ট করুন ও স্পিডের পরিবর্তন লক্ষ্য করুন। অবস্যই আগের চাইতে ভাল স্পীড পাবেন।
** কেবলমাত্র এডভান্স কম্পিউটার ইউজারদের জন্য -
নীচের সার্ভিসগুলো ডিজেবল করে দিয়ে উইন্ডোজ সেভেনকে আরও কিছুটা যায়। এজন্য msconfig ইউটিলিটি ব্যাবহার করতে পারেন (Run --> msconfig)।
1. Application Experience
2. Computer Browser
3. Error Reporting Service
4. Desktop Window Manager Session Manager
5. Diagnostic Policy Service
6. IP Helper
7. Offline Files
8. Portable Device Enumerator Service
9. Print Spooler
10. Distributed Link Tracking Client
11. Protected Storage
12. Secondary Logon
13. Server (If your computer do not connect with any network)
14. Tablet PC Input Service
15. Themes
16. TCP/IP NetBIOS Helper
17. Windows Media Center Service Launcher
18. Windows Search
19. Remote Registry
20. Windows Time
21. Windows security center
22. Windows updates
23. Windows firewall (Provided you have a security software installed)
৪) উইন্ডোজ ৭ এ Quick Launch এনাবল করা যায়ঃ
ক) টাস্কবারের ফাঁকা জায়গায় রাইট ক্লিক করুন, একদম উপরের টুলবারস্ থেকে নিউ টুলবার... সিলেক্ট করুন, ফোল্ডার লেখা টেক্সট বক্সে টাইপ করুন %userprofile%AppDataRoamingMicrosoftInternet ExplorerQuick Launch অথবা সি ড্রাইভের কোন জায়গায় একটি নতুন ফোল্ডার তৈরী করে তার নাম দিন Quick Launch, সেই ফোল্ডারটি সিলেক্ট করে সিলেক্ট ফোল্ডার বাটনে ক্লিক করুন। টাস্কবারের ডান দিকে এখন Quick Launch দেখাবে যেটাকে মাউসের বাটন চেপে টেনে ডান থেকে বা দিকে নিয়ে আসবেন। এখন প্রোগাম আইকনগুলোকে টেনে Quick Launch লেখা অংশে ছেড়ে দিন, আইকনগুলো সেখানেই দেখা যাবে। তবে আইকনের নীচে আর নাম ও আইকনগুলো আকারে বড় হবে। কাজেই Quick Launch এর ওপর রাইট কিক করুন, একদম ওপরের ভিউ লেখা থেকে স্মল আইকন্স সিলেক্ট করুন, ভিউএর নীচে থাকা সো টেক্সট ও সো টাইটেল লেখার পাশে থেকে টিক চিহ্ন তুলে দিন
৫) আমার রিকমেন্ড করা কিছু সফটওয়ারঃ
ক) অবজেক্ট ডক
খ) জেট অডিও
গ) ESET স্মার্ট সিকিউরিটি
ঘ) মজিলা ফায়ারফক্স এড অনঃ
** Fox Tab (দৃষ্টিনন্দন ভাবে সকল খোলা ট্যাব দেখা যাবে)
** Fireshot (পেইজের স্ক্রিনশট নেয়ার জন্য)
** AdBlock Plus (ওয়েব পেইজের বিরিক্তিকর বিজ্ঞাপন সরিয়ে দেবে)
** Download Helper (ওয়েব পেইজে থাকা যে কোন অডিও বা ভিডিও ডাউনলোড করতে পারবেন)
** Google Redesigned (জিমেইল দেখাবে সুন্দর টেম্পলেটে)
** Tab Mix Plus (ফায়ারফক্সের ট্যাবগুলো অর্গানাইজ করতে পারবেন)
** Youtube to MP3 (ইউটিউবের গান সরাসরি এমপিথ্রিতে ডাউনলোড করতে পারবেন)
আজ এ পর্যন্তই, সবাই ভাল থাকবেন ...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

