somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জীবনের কিছু ভৌতিক অভিজ্ঞতা :|

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সবার জীবনেই হয়তো প্রচণ্ড ভয়ের কিছু কিছু ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষনিক ভাবে ভয় পেলেও পরে চিন্তা ভাবনা করে অনেক সময়েই এই সব ঘটনার গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা পাওয়া যায়, কিন্তু কিছু ঘটনার কোন ব্যাখ্যা মেলেনা। অনেকেই জেনে অবাক হবেন যে, এই সিডনীতেও এমন কিছু জায়গা রয়েছে যেখানে রীতিমত টিকেট কেটে মানুষ ভুত দেখতে যায়। হ্যাঁ ... আপনার আমার মতই অনেকেই আছেন যারা এসবের পেছনের মূল ঘটনা অথবা ফাঁকিটা ধরার চেষ্টা করেন। কাজেই ধোঁকা দিয়ে সে সব ব্যবসা বেশী দিন চলতে পারতো না, কিন্তু তারা বছরের পর বছর শত শত মানুষকে ভুত দেখিয়ে আসছে। যাক সেসব কথা। আমি আমার জীবনের কিছু কথা বলি আজকে ...



সময়: জুন অথবা জুলাই মাস, ১৯৯২ স্থান: কুড়িগ্রাম

আমার এইচএসসি পরীক্ষা চলছিলো। হোস্টেলে ঝামেলা হয়, তাই পড়াশুনার সুবিধার জন্য একটা বাসায় উঠেছি। বাসাটা কলেজের কাছেই। সে সময় প্রতিদিন সকালে ফজরের নামাজ পড়তে মসজিদে যেতাম। মসজিদটা ছিল পুলিশের এসপি সাহেবের বাসার ঠিক বিপরীতে (কুড়িগ্রামের কেউ থাকলে চিনতে পারবেন)। তো ... সেদিন ভোরবেলাতে অভ্যাস মত উঠে নামাজ পরতে যাচ্ছি। বাসা থেকে মসজিদে যেতে দুই তিন মিনিট সময় লাগে। মাঝে একটা রেললাইন পার হতে হয়। রেললাইন পার হবার পরে আমার বেশ কিছুটা সামনে একজন আলখাল্লা পড়া মুসুল্লিকে দেখলাম নামাজ পড়তে যাচ্ছেন। হটাত খেয়াল করলাম লোকটা অস্বাভাবিক রকম লম্বা। গড়পড়তা মানুষের চাইতে অনেক বেশী উচ্চতা তার। কাছাকাছি হতেই মনে হলো লোকটি ডানে ঘুরে কোথায় যেন চলে গেল। অথচ মসজিদ আরও কিছুটা সামনে, আর যেখানে সেই লোক ডানে ঘুরেছেন, সেখানে রাস্তার পাশে মোটামুটি বড় একটা ডোবা, বৃষ্টির পানি জমে পুকুরের আকার ধারণ করেছে। কিন্তু কোন বাড়িঘর নেই। অবাক হয়ে গেলাম, একটা মানুষ এভাবে কোথায় চলে গেল? ভাবলাম হয়তো তাড়াতাড়ি হেঁটে মসজিদে চলে গেছেন। যখন মসজিদের গেটে পৌছুলাম, তখন দেখি মসজিদের ভেতর এক মুয়াজ্জিন ছাড়া আর কেউ নেই। রাস্তার অপরদিকে এসপি সাহেবের বাড়ীর বিশাল লোহার গেট। সেখান থেকেও একজন সেন্ট্রি রোজ সকালে আসেন নামাজ পড়তে, কিন্তু সে গেট খুলতে লাগাতে যে শব্দ হয়, তা বেশ কিছুটা দূর থেকেই শোনা যায়। কাজেই লোকটি সেখানেও ঢুকে যায়নি এটা নিশ্চিত। যা হোক, নামাজ আদায় করে বাসায় আসবার পথে বুড়ো বাড়ীওয়ালা চাচাকে বললাম ঘটনা। উনি বললেন যে, আমি একা না, আরও অনেকেই না কি দেখেছে এমন একজন বিশাল লম্বা লোককে মসজিদের আশেপাশে :| :|



সময়: ফেব্রুয়ারি মাস, ১৯৯৫ স্থান: সিডনী

তখন নতুন এসেছি সিডনীতে। কাজ করি সিডনীর সবচাইতে উঁচু অফিস কমপ্লেক্সে। কমপ্লেক্সটি ৬৭ তলা। আমি মূলত নীচের তলায় কাজ করতাম। সে সময় মাঝে মাঝেই কোন না কোন ফ্লোর রিনোভেশন হতো। মানে একটা অফিস চলে যেত, অন্য অফিস আসতো। এদের অফিস স্পেসগুলো আমাদের দেশের মত নয়। অফিসের জন্য ফ্লোর ভাড়া নেয়া মানে শুধুই ফ্লোরটুকু নেয়া, তারপর ওয়াল, সিলিং, দরজা, জানালা, কিচেন - যার যেমন দরকার সে সেভাবে তৈরি করিয়ে নেয়। আমাদের দেশের মত তৈরি করা ঘরে এসে ওঠেনা ওরা। একটা অফিসে হয়তো ৫টা ছোট ঘর ছিল, পরের অফিস এসে বানিয়ে নেবে ২ টা ছোট ঘর আর একটা বড় ঘর। একটা অফিস চলে যাবার পর অনেক জিনিস ফেলে যাবে, কনস্ট্রাকশনটাও ভেঙ্গে ফেলবে। আমরা সেসব অফিসে যেতাম আসলে ব্যবহারযোগ্য জিনিসপত্রের খোঁজে। কম্পিউটার থেকে শুরু করে ভাল ভাল চেয়ার (যেগুলোর বাজার মূল্য ১০০ ডলারের ওপর), মাইক্রোওয়েভ, মনিটর, টিভি, বাসন কোসন, কার্পেট, ফ্রিজ ... হেন জিনিস নেই যা ওসব ফ্লোরে পাওয়া যেত না। তো ... সেদিন তখন রাত ১২টার বেশী বাজে। আমার কাজ শেষ করে বন্ধুর কাজ শেষের অপেক্ষায় আছি, ওর কাজ শেষ হলে সে আমাকে বাসায় নামিয়ে দেবে বলে। বন্ধুটির কাজ শেষ হলে সে বললো - "চল ৫৩ তলায় যাই, দেখি কিছু পাওয়া যায় কিনা"। আমি সানন্দে রাজি হলাম। গ্রাউন্ড ফ্লোরে সিকিউরিটির অনুমতি নিয়ে আমরা গেলাম ৫৩ তলায়। কিন্তু সেদিন কপাল ভাল ছিল না। কিছুই পেলামনা খুঁজে নেবার মত। তো ভাবলাম - এসেছি যখন, তখন কিছু দিয়েই যাই, দুই বন্ধু তাই ঢুকে পড়লাম টয়লেটে। ছোট টয়লেট সেরে বের হবার সময়ই শুনলাম টয়লেটের দরজার সামনে দিয়ে কে যেন হেঁটে যাচ্ছেন। সিকিউরিটি হতে পারে, কিন্তু দরজা খুলে দেখলাম কোট প্যান্ট আর ধুসর হ্যাট পরা একটা লোক করিডোরে বাঁক নিয়ে চলে গেল। এত রাতেও অফিসে কেউ কেউ কাজ করেন, কিন্তু ফাকা ফ্লোরে তো কারও থাকার কথা নয়। তাই সিকিউরিটিকে ওয়ারলেস রেডিওতে বললাম যে ৫৩ তলায় লোক দেখেছি। সিকিউরিটি সাথে সাথে আমাদের নীচে নেমে আসতে বললো, আমরা নেমে এলে সে চোখ মুখ অন্ধকার করে (এমনিতে লোকটা খুব হাসিখুশি থাকে) পুরো ঘটনার বর্ণনা লিখে নিলো ও আমাদের চলে যেতে বললো। পরদিন রাতে কাজে এলে চাবি নেবার সময় সিকিউরিটি বললো আমরা যেন এর পর থেকে বেশী রাতে কোন ফাঁকা ফ্লোরে গেলে সাথে একজন সিকিউরিটি নিয়ে যাই। এই ঘটনার অনেকদিন পর আরেকজন সিকিউরিটির মুখে যা শুনলাম, তাতে ভয় পেলাম। ওই ফ্লোরে ঢোকার বা বের হবার দুটি পথ আছে, এক হলো লিফট, আরেকটা ফায়ার ডোর। করিডোরে, লিফটের ভেতর, ফায়ার ডোরে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা আছে। তারা সবগুলো ক্যামেরা চেক করেও কাউকে সে ফ্লোরে যেতে দেখেনি, এবং আমাদের ঠিকই দেখেছে যে আমরা দুজন অবাক চোখে করিডোরের অপর প্রান্তে কিছু দেখছি। অথচ একই ক্যামেরার ছবিতে আমরা যে সময় লোকটাকে হেঁটে যেতে দেখেছি, সেখানে কিছুই নেই :| :|



সময়: নভেম্বর মাস, ২০১০ স্থান: সিডনী

আমাদের এক ছোট ভাই সিডনী মুল শহর থেকে একটু দূরে (জায়গাটার নাম ডবল বে) একটা ব্যাঙ্কে রাতের বেলায় কাজ করে। সেখানে সে মাঝে মাঝেই ভুত বাবাজির দেখা পায়। না না রকম শব্দ করে আর মাঝে মাঝে চেয়ার টেবিল ধাক্কাধাক্কি করে ভুতে। এমন হলে সেই ছেলে দৌড়ে বের হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর আবার এসে কাজ শেষ করে। সে কারণে আমরা ওকে আর একা পাঠাইনা। সাথে কেউ না কেউ থাকে। তো ... একদিন সেই ছেলে দোতলায় কাজ করছে, তার সাথের ছেলেটি কাজ করছে নীচতলায়। দোতলায় থাকা ছেলেটি নীচে নেমে আসার সময় ওর ভ্যাকুয়াম মেশিনটি সিঁড়ির ওপর রেখে কাজ করছিলো। মেশিনের কর্ডটি লাগানো ছিল উপরের তলায়। হটাত সে দেখতে পায় ভ্যাকুয়াম মেশিনটি উপরের দিকে কেউ টেনে নিয়ে যাচ্ছে। ছেলেটি সোজা দৌড়ে বাইরে বেরিয়ে আসে, তার দেখাদেখি সাথের ছেলেটিও দৌড় দেয়। ওরা বাইরে বেরিয়ে এসে ব্যাঙ্কের গার্ডকে সব খুলে বলে। পরে দুজন গার্ডের সাথে ওরা আবার আসে ব্যাঙ্কের ভেতর। উপরে উঠে দেখে ভ্যাকুয়াম মেশিনটি সিঁড়ির সামনে একটি রুমের ভেতর, অথচ ওই রুমের চাবি আমাদের কাছে নেই। একমাত্র ব্যাঙ্কের ম্যানেজারই সেই রুম খুলতে পারেন। তখন ছেলেরা গার্ডের উপস্থিতিতে কাজ শেষ করে চলে আসে। পরদিন সকালে মেশিনটি পাওয়া যায় সেই রুমের দরজার সামনে। অথচ আমাদের ছেলে দুটোই নয়, দু দুজন বাইরের লোক, মানে গার্ডেরা দেখেছে যে মেশিনটা ছিল রুমের ভেতর ... :| :|

আমার নিক স্বপ্নজয় হলেও আমি স্বপ্ন বিলাসী মানুষ না। আমি যথেষ্টই বাস্তববাদী। অতিপ্রাকৃত কোন ঘটনা ঘটলে আমি তার ব্যাখ্যা খুঁজতে চেষ্টা করি। কিন্তু এসব ঘটনার কোন ব্যাখ্যা আমার জানা নেই।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: ভয়ের চোটে কেউ রাত্রে ঘুমাইতে না পারিলে সামহয়ারইন কর্তৃপক্ষ অথবা লেখক কোন ভাবেই দায়ী হইবেন না :|
৫২টি মন্তব্য ৪৯টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×