যখন ডায়রী লিখতাম তখন অদ্ভুত সব বিষয় নিয়ে লিখতাম। কাকের ঠ্যাং, বকের ঠ্যাং নিয়ে আমার সুদূর প্রসারী গভেষনা থেকে শুরু করে স্বপ্নাকে লেখা কতোশতো কবিতা, প্রেমপত্র, প্রেম নিয়ে আবেগ টসটস কতোশত কথা... ভালোলাগা ছিলো ওতে। প্রথম ডাইরীটা আমি কয়েকটা চিঠির সাথে পুড়িয়ে ফেলেছি। ২য় ডায়রীটা পড়িনা। তার অক্ষত থাকাটা একটা বিস্ময়। তৃতীয় ডায়রীটা আমার পাগলাটে, অসমাপ্ত। ছেঁড়া ছেঁড়া, ভাসা ভাসা কতো কি ওতে ভরা। শার্ট, প্যান্ট, শর্ট, গ্যাঞ্জি, স্যান্ডেলের তালিকা থেকে ওতে প্রেমপত্র পর্যন্ত লেখা। আছে গিটারের কিছু কর্ড। কিছু নিজের লেখা গান। কিছু প্রিয় মানুষ নিয়ে মূল্যায়ন। আছে কিছু প্রিয় চেহারা আঁকার কতোশতো বাহারী প্রচেষ্টা। রাস্তায় কোনো ফকিরকে ভালো লেগেছে সে অনুভূতি নিয়েও কয়েক লাইন... এসব...।
এখন ডায়রী টাইরী লেখা হয়না। প্রযুক্তি মানুষকে খুব বদলে দিচ্ছে। অনলাইনেই এখন ভাব বিনিময় করা যায় হারহামেশা। জীবন কতো সহজ এখানে। বৃষ্টি বাদলের মতো কতো ঝরঝরে আবেগ এখানে, ঘুরোঘুরি করে। মানুষ কতো সহজে নিজেকে এখানে গোছগাছ করতে পারে...। আমি এখনো প্রযুক্তির সাথে নিজেকে মানিয়ে পারিনি অতো। খুব অগোছালো, আর খুব ঘাড় ট্যারারা হয়তো এসবে মানিয়ে নিতে পারেনা। আমার ওতে কোনো দাবী নেই। নিজের প্রতি স্লেশ কিংবা তিক্ততাও নেই। আমি যা দাবি করি, যা ভাবনা ভাবি তা সবই সবুজ সর্ম্পকীয়। আমার সাথে প্রযুক্তির একটা দন্দ্ব তৈরী হবে, এটা স্বাভাবিক। আমি মেনে নিয়েছি। নতমুখেই।
রাত কতো হলো জানিনা। চোখে ঘুম নামেনি এখনো। আদৌ নামবে কিনা বলা মুশকিল। বাসায় নেট লাইন বিচ্ছিন্ন করে রেখেছি। নেট মানেই নিজের কমজোরী স্বভাবটার নেজ ধরে ঠুনকো টানাহ্যাঁছড়া। আমি ওসবে এখন আর বিশ্বাস করিনা। তবু কখনো সখনো খুব, খুব ইচ্ছে করলে ল্যান্ড ফোন দিয়ে ব্রাউজ করি। বেশি দূর যেতে পারিনা। আমার আঙুলের ডগায় খুব কম ওয়েব সাইট ঘুরোঘুরি করে। যেগুলো খুব চেনা। যখন খুব খুব ইচ্ছে করে কপালে ভাঁজ ফেলতে, সহসা রেগে ওঠতে, তখন কারো ডাহা মিথ্যে কথাগুলো পড়তে থাকি। যখন খুব লোনলী অনুভব করি তখন সোজা 'গুগলের' পেটে ঢু মেরে, কাউকে নিয়ে শুধু শুধু খুড়োখুড়ি করি। বরাবরের মতোই ওসব পানসে। তবু সময়তো কাটে। রাত বারে। চোখে ঘুম নামে।
** ২৪ নভেম্বর, ২০০৭ইং এর লেখা।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, ২০০৭ সকাল ১১:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


