somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সৈয়দ মুজতবা আলীর

০৩ রা নভেম্বর, ২০০৮ রাত ২:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত বছরে এক বন্ধুর সাথে রাইফেলস স্কয়ারে গেছি। ইউনিভার্সিটিতে মেজর শুরু হবে হবে। পড়া শুনার বেশ চাপ। সে বুদ্ধি দিল আয় দোস্ত কয়েকটা টু কিনে নিয়া যাই। দোকানদার আমাদের বেকুব ভেবে একটা ডিস্ক ধরায় দিল। কাভারের ছবিটায় একজন শেতাঙ্গ ছেলে একটা রেডইন্ডিয়ান মেয়েকে চুমু দিচ্ছে। এটা দেখেই হয়তো দোকানদার ভাবছে এটা টু এক্স। নামটা অনেক পছন্দ হলো দি স্লিপিং ডিকশনারী। রেগুলার ছবি হিসাবে এটার নাম আমি তখনো শুনি নাই। তবে মাস খানেক আগে HBOতে এই মুভিটা দেখিয়েছিল।


যাই হোক বাসায় এনে মুভিটা ছাড়লাম। যা ভেবেছিলাম। দারুন একটা রোমান্টিক মুভি। অনেক পরিচ্ছন্ন এবং কাহিনীটা হৃদয় স্পর্ষী । ব্রিটিশ কলোনীজমের সময়ে লন্ডনের একজন আধুনিক তরুন ব্রাজিলের অসভ্যদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়ানোর মহান ব্রত নিয়ে আসে। আমাদের দেশের অনেকের ধারণা ব্রিটিশরা বেছে বেছে বর্বর ব্যাক্তিদেরকেই পাঠাতো কলোনীগুলো শাষন করতে। সেটা ভারত হোক আর ব্রাজিলের রেইন ফরেস্ট হোক। সেই তরুনের কাজ বার বার আটকে যাচ্ছিলো ভাষাগত সমস্যার জন্যে। ব্রিটিশরা রেডইন্ডিয়ান ভাষা শিখতো অনেক কার্যকরীভাবে। একজন সুন্দরী তরুনীকে মাস খানেকের জন্যে শয্যাসঙ্গী হিসাবে গ্রহন করতো। এই কমাসে অবসম্ভাবী ভাবে তারা ভাষা শিখে যেত। দেখা গেছে অনেক কার্যকরী একটা উপায়। এই ভাষা শিক্ষিকাকে বলা হয় স্লিপিং ডিকশনারী। আধুনিক মনস্ক নায়ক এই প্রথা অনুসরন করতে প্রথমে চায়নি। পড়ে আস্তে আস্তে সে এবং তার স্লিপিং ডিকশনারী একে অন্যের প্রেমে পড়ে যায়। কিন্তু সৈয়দ মুজতবা আলীর টুনি মেমের মত একই কাহিনী। ব্রিটিশ সমাজ তাদের বিয়ের বিরুদ্ধে একাট্টা। মজার ব্যাপার এই স্লিপিং ডিকশনারীর মা ও ছিল একই পেশায়। এবং অজ্ঞাত পিতার ঔরসজাত এই নায়িকা বর্ণসঙ্কর এবং প্রমান করে তার বাবাও শেতাঙ্গ ছিল। সমাজের চাপে বাধ্য হয়ে এবং ফাসির কাঠ থেকে প্রান বাচাতে (নায়ক গভর্ণর কন্যার বাগদত্তা) নায়ক ইংল্যান্ডে ফিরে যায়। কয়েক বছর পরে একই জায়গায় নব পরিনীতা স্ত্রী (গভর্নর কন্যা) নিয়ে ফিরে আসে। অনেক খুজেও হারানো স্লিপিং ডিকশনারীর সন্ধান পায়না। একদিন নদীর ঘাটে যখন পাহাড়ি মেয়েরা গোসলের জন্যে নেমেছে হঠাত একটা শিশুকে দেখে সে চমকে উঠে। পাহাড়িদের সাথে একজন শেতাঙ্গ শিশু এবং তার চেহাড়া অবিকল নায়কের মত। এরপরে শুরু হয় কাহিনীর অন্য মোড়।

মাত্র কয়েকদিন আগে আরেকটা মুভী দেখলাম। নাম বিফোর দি রেইন। মুম্বাইয়ের নায়ক রাহুল বোস, একটা ভারতীয় পাহাড়ি গ্রামের স্মার্ট ছেলে। ব্রিটিশ ইঞ্জিনিয়ার সাহেবের ডান হাত। নায়ীকা নন্দীতা দাস ইঞ্জিনিয়ার মুর সাহেবের গৃহ ভৃত্যা এবং স্ত্রীর অবর্তমানে তাদের সাথে গোপন সম্পর্ক তৈরি হয়। এই সম্পর্কের জোর ধরেই এবং ইঞ্জিনিয়ার সাহেবের মিথ্যে প্রেমের ছলনা টের পেয়ে রাহুল বোস এবং মুর সাহেবের সামনে রাহুল বোসের পিস্তলে আত্নহত্যা করে নন্দিতা দাস। তারা দুজনে মিলে লাশ গুম করে। নন্দিতা দাসের পরিবার সন্দেহ করে রাহুল বোস কে।
কি কারনে জানি মুভিটা ভালো লাগে নাই।

খুব কাছা কাছি একটা কাহিনী এবং আমার খুব প্রিয় একটা রোমান্টীক বই সৈয়দ মুজতবা আলীর টূনি মেম। চা বাগানের ম্যানেজার হিসাবে কাজ করতে আসেন একজন সুদর্শন ইউরোপিয় তরুন। জনৈক সাওতাল কুলী টুনি হঠাত করে তার কাছে অনেক গুরুত্বপুর্ন হয়ে উঠলো। তুচ্ছ সাওতাল কুলি টুনি তার কাছে টুনি মেম হলো। কিন্তু ব্রিটিশ সমাজ মেনে নেবেনা। হ্যা ইচ্ছে করলে তুমি সাওতাল কুলী মেয়েদের সাথে যা খুশি করতে পারো। তাদের সাথে শুতে পারবে, উপপত্নি হিসাবে নিতে পারো, এমনকি গর্ভে সাদা চামড়া বাচ্চা হতে পারে। চা বাগানে এমন অনেক সাওতাল বাচ্চা আছে যাদের সাদা চামড়া, সোনালী চুল। কিন্তু বিয়ে অসম্ভব। টুনিকে তুমি যতই ভালোবাস বিয়ে করতে পারনা।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ২:০৬
১৬টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×