somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ে করার খুটিনাটি , একটা রোমান্টিক গল্প

০৯ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
এক ছেলের সাথে আজকে কথা হলো। আমাদের মোহাম্মদপুরেই থাকে, মুখ চেনা। আজকে একা একা মোস্তাকিমে ঢুকছিলাম কাবাব খাইতে। সে ও আসছিল। মুস্তাকিমের বেহেস্তি চাপ চিবাইতে চিবাইতে (আমি একাই ১৫টা লুচি খাইছি) ওর সাথে আলাপ হইতেছিল। আমারে কইলো বস, জানেন আমি ক্লাস টেনে থাকতে বাড়ী থেকে পলাইছিলাম বিয়া করতে।

টিনেজাররা অন্যরকম হয়। বাড়ি থেকে বিয়ে করার জন্যে পালানো তাদের জন্যে অস্বাভাবিক না। আমার মনে আছে, ক্লাস নাইন টেনে থাকতে কোচিং ক্লাসের জনৈক সুন্দরীর প্রতি আমারো একই আবেগ ছিল। ইস কত রাত আজাইরা জেগে বসে থাকতাম। সপ্তাহখানেক আগে বসুন্ধরার ওর সাথে কথা হইলো, মাঝবয়সী এক টাকা এবং টাকওয়ালা জামাই আর ফুটফুটে একটা বাচ্চা নিয়া শপিং এ আইছিলো। কথা হইলো সবার সাথে। টাকুয়ারে লাথি মারার কথা মনে একবার আসলো না। যাই হোক এই পোলার কথা কই।

সে এক ইংলিশ মিডিয়ামে পড়তো। তার ক্লাসের এক মেয়ের সাথে সম্পর্ক। গভীর প্রেম। ক্লাস টেনে থাকতে ওরা বুঝে গেল একজন ছাড়া আরেকজনের বেঁচে থাকার মানে নাই। বাবা মার কঠিন শাসন ভাঙ্গতেই হবে। রাত জেগে ফোনে কথা কইলে বাবে মায়ে ধাওয়া দেয়। বিকাল বেলা কোচিং ক্লাসের অযুহাতে ডেটিং করতেও ঝামেলা, মেয়ের মায়ে পৌছায়া দেয় আবার বাড়ি নিয়া আসে। ডেটিং করার উপায় নাই। এই সমস্যা নিয়া বেঁচে থাকা অর্থহীন। একমাত্র উপায় বিয়ে করে ফেলা। বাবা মায়েরে এই কথা কইলে কোপাইবো। তাছারা মিড টার্ম পরিক্ষার রেজাল্ট খারাপ, বাড়িতে কম্পিউটার গেমসই খেলতে দেয়না, বিয়া করার পার্মিশান দেবার চান্স নাই। একটাই উপায় পালায়া বিয়া করন লাগবো

ওরা একদিন বাড়ি থেকে পালায়া গেল। আমাদের তাজমহল রোডের পোলা। ধুরন্ধর নাম্বার ১। সে সব কিছু রেডি কইরা রাখছে। আগে থেকে টেকা পয়সা ম্যানেজ। দুই বন্ধুরে স্বাক্ষি আর উকিল বাপ সব রেডী। বেশীর ভাগ পোলাপাইন আইজকেই বিয়া করুম চিন্তা করে বাড়ী থেকে পালায়। সারাদিন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে, কাজী অফিসে ঢুকার সাহস পায়না। আর ঢুকলেও স্কুল ড্রেস দেখলে কাজী সাহেব নাকি দৌড়ানী দেয়। পোলাপান স্কুল ড্রেস পইরা সংসদ ভবনের আশে পাশে, চন্দ্রিমা উদ্যান, আর বেইলি রোডের ফাস্ট ফুডের দোকানে ঘুরে ফিরে বাসায় দেরী করে ফিরে বাপের ঝারি খায়, পড়ের দিন নতুন উদ্যমে দুই জনে বের হয় বিয়ে করতে কিন্তু রেজাল্ট থাকে এক। এই পোলা সব কিছুই রেডি করে রাখছে। কাজী সাহেবও ফিক্সড। কিন্তু মাইয়া অত চাল্লু ছিলনা। সে স্কুলে যাবার আগে পড়ার টেবিলে ড্রয়ারের মধ্যে মায়েরে একটা চিঠি লিখে আসছে, প্রিয় মা তোমার অধম কন্যারে ক্ষমা কর। আমি পারলাম না, পারলাম না তোমাদের মনের মত সন্তান হতে। এই টাইপ লেখা। মেয়ে জানে যে সে বাড়ি থেকে বাইর হলেই মা তার ড্রয়ার ঘাটাঘাটি করে প্রতি দিন। এই চিঠি মিস হবার চান্স নাই। চিঠি পইরাইতো মায়ের হাত পা ঠান্ডা। একঘন্টার মধ্যে পোলার বাপ মায়ের সাথে কথা হয়ে গেল। দুই পক্ষ কিছু ক্ষন হালকা চিল্লাচিল্লির পর অল কোয়ায়েট অন দি ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট। ওদের আটকানো লাগবো। কিভাবে জানি টেরও পেয়ে গেল আজকে ১২টায় লালমাটিয়া কাজী অফিসে এই কান্ড ঘটবে। মনে হয় সিটিসেলের এডের দোস্তগীর তোমার দোস্ত কোথায় টাইপ কোন বন্ধু চামে বাপ মায়ের কাছে সব বলে দিছে।

যাই হোক দুই পক্ষের বাপ মা গিয়ে কাজী অফিসে ওদের ধরলো। খোকা খুকুকে নতুন বর জামাইয়ের মত খাতির করে বাসায় নিয়ে আসা হলো। আসলে ১৮ হয়নাই এখনো তো বিয়ে টা লিগাল না। সামনে তোমাদের এস এস সি পরীক্ষা। তোমরা যেভাবে মিশতেছ ওভাবেই মিশ, আমরা কোন বাধা দিবনা। এসএসসি পরীক্ষার পর যেভাবেই হোক বিয়ে দিয়া বাড়িতে তুলে নিব। দুই পক্ষের নিদারুন চাপাবাজীতে মিয়া বিবি ঘাবরে গেল এবং রাজী হল। ঠিক হল আজকের জন্যে মিশন বিবাহ স্থগিত থাক। পরিক্ষার পরে গায়ের দিয়ে স্কুল স্কুল গন্ধটা যাবে তখন নাহয় বিয়ে করা যাবে। ওটা বেশি কঠিন কিছু না।

আমি ঐ পোলারে জিজ্ঞাস করলাম এর পর?

এরপর আর কি? পরীক্ষা হইলো। রেজাল্ট খারাপ হয় নাই। আমি কইলাম না না তোমাদের বিয়ার কি হইলো?

সৌম্য ভাই আর কইয়েন না। বাড়ি থেকে যখন মিলা মিশার ফ্রি লাইসেন্স দিয়া দিল তখন সব কিছু কেমন জানি পাইনসা পাইনসা লাগা শুরু করলো। আসলে লুকায়া লুকায়া না করলে প্রেম কেমন জানি প্রেম থাকে না। ঘর সংসার করার মত বোরিং হয়ে যায়। মেয়েটার খবর ছেলেটা জানাতে পারলো না। ছেলেটা ভালোই আছে। এখন অনেক ভদ্র পোলা। লিখা পড়ায় ভালো, একটা বাইক নিয়া প্রতিদিন ক্লাসে যায়।

সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ২:১৯
৩৬টি মন্তব্য ২১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×