টিনেজাররা অন্যরকম হয়। বাড়ি থেকে বিয়ে করার জন্যে পালানো তাদের জন্যে অস্বাভাবিক না। আমার মনে আছে, ক্লাস নাইন টেনে থাকতে কোচিং ক্লাসের জনৈক সুন্দরীর প্রতি আমারো একই আবেগ ছিল। ইস কত রাত আজাইরা জেগে বসে থাকতাম। সপ্তাহখানেক আগে বসুন্ধরার ওর সাথে কথা হইলো, মাঝবয়সী এক টাকা এবং টাকওয়ালা জামাই আর ফুটফুটে একটা বাচ্চা নিয়া শপিং এ আইছিলো। কথা হইলো সবার সাথে। টাকুয়ারে লাথি মারার কথা মনে একবার আসলো না। যাই হোক এই পোলার কথা কই।
সে এক ইংলিশ মিডিয়ামে পড়তো। তার ক্লাসের এক মেয়ের সাথে সম্পর্ক। গভীর প্রেম। ক্লাস টেনে থাকতে ওরা বুঝে গেল একজন ছাড়া আরেকজনের বেঁচে থাকার মানে নাই। বাবা মার কঠিন শাসন ভাঙ্গতেই হবে। রাত জেগে ফোনে কথা কইলে বাবে মায়ে ধাওয়া দেয়। বিকাল বেলা কোচিং ক্লাসের অযুহাতে ডেটিং করতেও ঝামেলা, মেয়ের মায়ে পৌছায়া দেয় আবার বাড়ি নিয়া আসে। ডেটিং করার উপায় নাই। এই সমস্যা নিয়া বেঁচে থাকা অর্থহীন। একমাত্র উপায় বিয়ে করে ফেলা। বাবা মায়েরে এই কথা কইলে কোপাইবো। তাছারা মিড টার্ম পরিক্ষার রেজাল্ট খারাপ, বাড়িতে কম্পিউটার গেমসই খেলতে দেয়না, বিয়া করার পার্মিশান দেবার চান্স নাই। একটাই উপায় পালায়া বিয়া করন লাগবো
ওরা একদিন বাড়ি থেকে পালায়া গেল। আমাদের তাজমহল রোডের পোলা। ধুরন্ধর নাম্বার ১। সে সব কিছু রেডি কইরা রাখছে। আগে থেকে টেকা পয়সা ম্যানেজ। দুই বন্ধুরে স্বাক্ষি আর উকিল বাপ সব রেডী। বেশীর ভাগ পোলাপাইন আইজকেই বিয়া করুম চিন্তা করে বাড়ী থেকে পালায়। সারাদিন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে, কাজী অফিসে ঢুকার সাহস পায়না। আর ঢুকলেও স্কুল ড্রেস দেখলে কাজী সাহেব নাকি দৌড়ানী দেয়। পোলাপান স্কুল ড্রেস পইরা সংসদ ভবনের আশে পাশে, চন্দ্রিমা উদ্যান, আর বেইলি রোডের ফাস্ট ফুডের দোকানে ঘুরে ফিরে বাসায় দেরী করে ফিরে বাপের ঝারি খায়, পড়ের দিন নতুন উদ্যমে দুই জনে বের হয় বিয়ে করতে কিন্তু রেজাল্ট থাকে এক। এই পোলা সব কিছুই রেডি করে রাখছে। কাজী সাহেবও ফিক্সড। কিন্তু মাইয়া অত চাল্লু ছিলনা। সে স্কুলে যাবার আগে পড়ার টেবিলে ড্রয়ারের মধ্যে মায়েরে একটা চিঠি লিখে আসছে, প্রিয় মা তোমার অধম কন্যারে ক্ষমা কর। আমি পারলাম না, পারলাম না তোমাদের মনের মত সন্তান হতে। এই টাইপ লেখা। মেয়ে জানে যে সে বাড়ি থেকে বাইর হলেই মা তার ড্রয়ার ঘাটাঘাটি করে প্রতি দিন। এই চিঠি মিস হবার চান্স নাই। চিঠি পইরাইতো মায়ের হাত পা ঠান্ডা। একঘন্টার মধ্যে পোলার বাপ মায়ের সাথে কথা হয়ে গেল। দুই পক্ষ কিছু ক্ষন হালকা চিল্লাচিল্লির পর অল কোয়ায়েট অন দি ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট। ওদের আটকানো লাগবো। কিভাবে জানি টেরও পেয়ে গেল আজকে ১২টায় লালমাটিয়া কাজী অফিসে এই কান্ড ঘটবে। মনে হয় সিটিসেলের এডের দোস্তগীর তোমার দোস্ত কোথায় টাইপ কোন বন্ধু চামে বাপ মায়ের কাছে সব বলে দিছে।
যাই হোক দুই পক্ষের বাপ মা গিয়ে কাজী অফিসে ওদের ধরলো। খোকা খুকুকে নতুন বর জামাইয়ের মত খাতির করে বাসায় নিয়ে আসা হলো। আসলে ১৮ হয়নাই এখনো তো বিয়ে টা লিগাল না। সামনে তোমাদের এস এস সি পরীক্ষা। তোমরা যেভাবে মিশতেছ ওভাবেই মিশ, আমরা কোন বাধা দিবনা। এসএসসি পরীক্ষার পর যেভাবেই হোক বিয়ে দিয়া বাড়িতে তুলে নিব। দুই পক্ষের নিদারুন চাপাবাজীতে মিয়া বিবি ঘাবরে গেল এবং রাজী হল। ঠিক হল আজকের জন্যে মিশন বিবাহ স্থগিত থাক। পরিক্ষার পরে গায়ের দিয়ে স্কুল স্কুল গন্ধটা যাবে তখন নাহয় বিয়ে করা যাবে। ওটা বেশি কঠিন কিছু না।
আমি ঐ পোলারে জিজ্ঞাস করলাম এর পর?
এরপর আর কি? পরীক্ষা হইলো। রেজাল্ট খারাপ হয় নাই। আমি কইলাম না না তোমাদের বিয়ার কি হইলো?
সৌম্য ভাই আর কইয়েন না। বাড়ি থেকে যখন মিলা মিশার ফ্রি লাইসেন্স দিয়া দিল তখন সব কিছু কেমন জানি পাইনসা পাইনসা লাগা শুরু করলো। আসলে লুকায়া লুকায়া না করলে প্রেম কেমন জানি প্রেম থাকে না। ঘর সংসার করার মত বোরিং হয়ে যায়। মেয়েটার খবর ছেলেটা জানাতে পারলো না। ছেলেটা ভালোই আছে। এখন অনেক ভদ্র পোলা। লিখা পড়ায় ভালো, একটা বাইক নিয়া প্রতিদিন ক্লাসে যায়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

