আমার প্রিয় পোস্ট

::::: দেখবো এবার জগতটাকে :::::

বগালেক কি সত্যি আগ্নেয়গীরি? জানতে চাইলে দেখে আসুন নিজের চোখে?

১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:২৭

শেয়ারঃ
0 25 0


কোথায় স্বর্গ? কে বলে বহুদুর?

বগালেকের উচ্চতা সী লেভেল থেকে প্রায় সাড়ে তিনহাজার ফিট। মেঘের দেশের এই প্রাকৃতিক হ্রদটার সাথে মুহম্মদ জাফর ইকবালের টি রেক্সের সন্ধানে বইটার ফসিল ভর্তি হ্রদটার আশ্চর্য রকমের মিল। কেউ কেউ বলে বগা লেক ঐ হ্রদটার চেয়েও হাজার গুন সুন্দর। যারা এখনো বগালেকে যাবার সৌভাগ্য হয়নি গিয়ে মিলিয়ে আসুন।
বগা লেক বান্দরবন জেলার রুমা উপজেলায় পড়েছে। সবচেয়ে কাছের বসতি, বগা মুখ পাড়া। বম অধ্যুসীত গ্রাম। এছাড়া দার্জিলিং পাড়া, এবং অফিশিয়ালী বাংলাদেশের সর্বোচ্চ গ্রাম(?) সাইকত পাড়া ও খুব কাছেই। দির্ঘ দিন ধরে কেওকারাডং অভিযানে যাওয়া ট্রেকার/হাইকারেরা কিংবা সাধারন টুরিস্টরা বগা লেককে বেস ক্যাম্প হিসাবে ব্যাবহার করে। রুমা বাজার থেকে বগা লেকে এসে রাত কাটায়, খাবার/পানি নিয়ে বোচকা বুচকি রেখে কেওকারাডং সামিট করে পরের দিন। এবং ফিরে এসে রুমার দিকে ফিরতি হাটা দেয়।

স্বপ্নের বগা লেক।

বগা লেক নিয়ে এখনো অনেক রহস্যের জাল ঘিরে আছে। যেমন সাগর পৃষ্ঠ হতে এত বেশি উচুতে অবস্থান, কিন্তু বগা লেক থেকে কোন নদী, খাল বা ঝর্না তৈরি হয়নি, এবং কোন বাইরের উৎস থেকেও বগা লেকে পানি আসে না। পানির উৎস বৃষ্টি পাত বলে ধারনা করা হয়। কিন্তু এত উপরে এত বিশাল লেক তৈরির জন্যে খালি বৃষ্টিপাত, অনেকের কাছে ব্যাপারট মানতে নারাজ। দ্বীতিয়ত বগা লেকের গভীরতা নিরুপন করা আজও সম্ভব হয়নি। অনেকেই বগা লেক সম্পর্কে এরকম মন্তব্য করে, আরে আমাদের গ্রামের বাড়ির পুকুরটা আরো চওড়া (যদিও এটা সাড়ে তিনহাজার ফিট উপরে এটা মনে থাকে না)। কিন্তু সত্যি কারের কথা হচ্ছে বগা আর্মি ক্যাম্পের সৈনিকেরা একবার লেকের মাঝে রশি ফেলে গভীরতা মাপার চেষ্টা করে। কিন্তু ২০০ ফিট যাবার পরে দড়ি শেষ হয়ে যায়, তলা আর পাওয়া যায়নি। তৃতীয়ত, বগা লেকের পানির রঙ নিয়মিত ভাবেই পালটে যায়, কখনো সবুজ, কখনো গাড় নীল আবার কখনো কালচে, মজার ব্যাপার কেও কারাডং রেঞ্জের অন্যান্য হ্রদ্গুলোর পানির রঙ একই ভাবে পালটে যায়, যদিও তার কোনটার সাথেই বগা লেকের কোন নদী, ঝিরি খাল বা ঝর্না নেই, বগা লেক থেকে দৃশ্যমান উপায়ে একবিন্দু পানিও বাইরে যায়না। অনেকেই ভাবে হয়তো ভু গর্ভস্থ কোন নদী আছে বগা লেকের, তলাটায় কি আছে, কেউ তো জানে না।

বগালেকে, সিয়াম দিদির দোকানের উঠান থেকে তোলা।

বগা লেকের চেহারা বাইরে থেকে আগ্নেয়গিরীর মত। এবং আশে পাশে প্রচুর আগ্নেয়শীলার উপস্থিতি। কেও কাড়াডং এবং তাজিং ডং এর মত বড় দুটো পর্বত ছাড়াও তিনহাজার ফিট ল্যান্ডমার্ক ছাড়ানো আরো কিছু পর্বত চুড়া আছে আশে পাশে। তাই বগা লেকের সত্যিকার পরিচয় কল্পনা করে নিতে গিয়ে বেশির ভাগ লোকই একে একটি মৃত আগ্নেয়গীরী বলে কল্পনা করে নেয়। কিন্তু আগ্নেয়শিলা আর লাভা এক জিনিস নয়। বগা লেকের আসল পরিচয় জানতে দরকার আধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে আধুনিক গবেষনা। সাম্প্রতিক বছর গুলোতে ট্রেকার এবং এডভেঞ্চার প্রেমীদের স্বর্গ রাজ্যে পরিনত হয়েছে রহস্যের বগা লেক। গত বছর কুরবানীর ঈদের পরে একমাসেই ২০০ জন বহিরাগত নাম এন্ট্রি করেছিল বগা আর্মি ক্যাম্পে। যতই বগা লেক পরিচিতি পাচ্ছে ততই জনপ্রিয় হচ্ছে। এখন এটা শূধু কেওকারাডং অভিযানের আগে একটি বেস ক্যাম্প না। নিজেই নিজের অনন্য সাধারন অবস্থান, মীথ আর রহস্যের কারনে অনন্য।

বগালেক থেকে পিছনের ট্রেক, ঝিরি পথ দিয়ে আসলে প্রবেশ পথ।

বম পাড়ায় যাবার ট্রেইল, বামে বগা লেক।


#বগা লেক কিভাবে যাবেন?

সাড়ে তিনহাজার ফিট প্রায় উপরে প্রাকৃতিক ভাবে গড়ে ওঠা লেক, যার থেকে একবিন্দু পানি বাইরে যায় না, বা বাইরে থেকে ভেতরে আসে না।

শিতকালে সাঙ্গুর এই চেহাড়া দেখে কনফিউজ হবেন না। মনে রাখবেন, এটা পাহাড়ি নদী, এবং এর নাম সাঙ্গু, তবে শীতকালে চান্দের গাড়ি দিয়ে সরাসরি যাওয়া যায়।

১। ঢাকা থেকে বাসে বান্দরবান। নাইট কোচটা ভালো। সাউদিয়া (এসি), এস আলম এবং ডলফিন নন এসি বাস ছাড়ে দিনে দুবার সরাসরি ঢাকা থেকে। এছাড়া পুর্বানী বাস এবং অন্যান্য মাইক্রোবাস সার্ভিস চিটাগং এর বদ্দার হাট থেকে কেরানীর হাট হয়ে বান্দরবান আসে সারাদিন।

সদর ঘাটে সাঙ্গু পেরিয়ে হাটা শুরু করলাম। এই সুদর্শন ব্যাক্তিটি, আমি। হি হি হি।

২। বান্দার বান থেকে চান্দের গাড়িতে করে রুমার দিকে রওনা হবেন। গ্রুপ করে গেলে খরচ কম হবে। চান্দের গাড়ির নিরাপত্তার ব্যাপারটা লক্ষনীয়। নাইট কোচে এলে সকাল ৭টায় বান্দারবানে পৌছে যাবেন,
৮টার চান্দের গাড়িটা ধরলে অনেক সুবিধা। পথে চিম্বুক ওয়াই জাংশান, গ্যারিসান এই দুইজায়গায় নাম এন্ট্রি করতে হবে। বহিরাগত দের জন্যে মাস্ট। সরকারী পার্মিশান ছাড়া কখনোই ট্রাভেল করবেননা। গ্যারিসনের পরে সদরঘাট ব্রীজে এসে রাস্তা শেষ সাঙ্গু নদীর পাড়ে। বর্ষা কালে বড় ট্রলার চললেও শীতকালে চান্দের গাড়ি নদী পাড় হয়। যদি না পারে তাহলে গাড়ি ছেড়ে দিতে হবে।

সাঙ্গুর পারে ধরে মনোরম ট্রেইল। ছবি তোলার দিন মায়ানমারে নার্গিস আসছিলো।

৩। সদর ঘাটে একটা আর্মি ক্যাম্প আছে, ওখানে রিপোর্ট করে পানি ভরে নেবেন। ওখানে একটা ঝর্নার মত আছে পাইপ দিয়ে ক্যাম্পে পানি আসে। সম্ভবত পাহাড়ে কোন ধরনের মিনারেল পানিতে মেশে, তাই ওখানকার পানি অস্বাভাবিক রকমের মিষ্টি। ক্যাম্পের লোকেরা অবশ্য আল্লাহর রহমত এটুকুই বলে।

কেও কারাডং রেঞ্জের নাম জানা এক পাহাড়ের চুড়ায় সূর্যাস্ত। জঙ্গলে রাত কাটাবেন না। কখনো।
৪। নৌকায় করে সাঙ্গুর ওপারে গিয়ে হাটা শুরু করতে পারেন, অথবা সরাসরি রুমা বাজারে চলে যেতে পারেন। সদরঘাট থেকে ৪/৫ মাইল রাস্তা। চান্দের গাড়ির রাস্তা, পাহাড়ি ট্রেইল কিংবা নদীর পাড় যেদিক দিয়েই যান না কেন সহজেই রুমা বাজারে পৌছে যাবেন। রুমা বাজার বাংলাদেশের একমাত্র রিক্সাবিহীন উপজেলা। যদিও উপজেলা সদর কিন্তু সমতলের তুলনায় অনেক অনুন্নত। তবে থাকার জন্যে গেস্ট হাউজ আছে। সেখানে বেশী কিছু আশা করা বোকামী।
৫। রুমাবাজার হিন্দু কালী মন্দিরের পাশে আর্মি ক্যাম্পে রিপোর্ট করবেন সাথে সাথে। এটাই মুল ক্যাম্প। বাকী গুলো এর আন্ডারে সাব ক্যাম্প। এখান থেকে পার্মিশান পেলে তবেই মুভ করা যাবে। তবে দুপুর ২টার পরে কোন পার্মিশান হয়না। ট্রেকিং করবেন শুনলে এমনিতে আর্মি ক্যাম্প একটু ইয়ে করে। তবে সবসময় ক্যাম্পে সত্যি কথা বলবেন। পথে কোন সমস্যা হলে নির্দিধায় আর্মির হেল্প নেন। আপনার কোন বিপদ হলে ওরা এগিয়ে আসবে। পার্মিশানের জন্যে আপনাকে অবশ্যই একজন বাঙ্গালী স্থানীয় গাইড ভাড়া করা লাগবে। সাধারনত কোন পাহাড়ি গাইড বিরল। আর সব গাইডের নাম ছবি ক্যাম্পে রেজিস্ট্রি থাকে। আন রেজিস্টার্ড গাইড নেবেন না। গাইডের উপরে বেশি ভরষা করবেন না। লারাম বম নামে এলাকায় তুখোড় এক বম কিশোর আছে। তাকে পেলে খুব ভালো।
৬। রাতে রুমাবাজারে থাকা বুদ্ধিমানের কাজ। শপিং করতে পারেন। কিংবা কাছে সুন্দর একটা ফলস আছে। এই মুহুর্তে নাম মনে পড়ছে না। ওটা দেখলেন। খুব সকাল সকাল খেয়ে পর্যাপ্ত ঘুমাবেন। পরিপুর্ন বিশ্রাম এবং খাবার খুব প্রয়োজন।
ঐ দূর পাহাড়ের মাঝে, দিগন্তেরই কাছে... নিঃসঙ্গে বসে একটি মেয়ে গাইছে, আপন সুরে।

৭। খুব ভোড়ে সুর্যদয়ের সাথে সাথে বের হবেন। গাইডের সাথে। তবে গাড়ি পেলে তাড়াহুরার কিছু নেই। সাধারনত ২টা ট্রেইল আছে। ঝিরি পথ এবং গাড়ির রাস্তা। দুটোই সুন্দর। তবে, এডভেঞ্চারের জন্যে ট্রেকাররা ঝিরি পথকে প্রাধান্য দেয়। তবে গাড়ির রাস্তা তে দারুন সব জঙ্গল পাবেন,
৮। সাধারন ট্রেকিং ম্যানুয়াল ফলো করবেন।
৯। কোন ওয়াইল্ড লাইফের ক্ষতি করবেননা। যেখানে সেখানে উচ্ছিষ্ট খাবার বা প্যাকেট ফেলবেন না। শুকনা মৌসুমে এই জঙ্গলটা দাবানলের জন্যে কুখ্যাত ধুমপায়ীরা সাবধানে সিগারেটের বাট নেভাবেন।
১০। বগা লেক আর্মি ক্যাম্পে রিপোর্ট করবেন। সিয়াম দিদির ঘর বলে একটা কুটির আছে। সিয়াম বম নামের একজন বম আদীবাসী স্কুল টিচার ট্রেকরদের কাছে গন দিদি হিসাবে বিখ্যাত। উনি রেস্টুরেন্ট চালায়। লারাম বম এবং আর্মির যৌথ ব্যাবস্থাপনায় থাকার জায়গা আছে। খুব সম্ভবত ২৫টাকা পার নাইট।

সবুজ পাহাড়ে স্বর্গ বাস।

১১। রাতে বগা লেকে থাকবেন। থাকার জায়গা না পেলে (টুরিস্ট মৌসুমে) পাশের বম পাড়ায় রাত কাটাতে পারেন অথবা লেকের পাশের ভ্যালিতে তাবুতে থাকতে পারেন।
১২। সকালে আর্মি ক্যাম্পের রিপোর্ট করে কেওকারাডং সামিট করবেন।
১৩/ শক্তি আর আগ্রহ থাকলে তাজিংডং ঘুরে আসতে পারবেন।

ট্রেকিংএ অবশ্যই পালের গোদা বা দলপতিকে শাপ শাপান্ত করবেন। কিন্তু নিশ্চিত বলতে পারি, একমাস পরেই গাইতে থাকবেন, কবে যাব পাহাড়ে আহারে আহারে।

একটা ভুল ধারনা দূর করি, অনেকেই বলে তাজিংডং বাংলাদেশে সর্বোচ্চ চুড়া এবং কেওকারাডং ২য়। এটা বিরাট ভুল বোঝা বুঝি। পাহাড়ে এভাবে তুলনা করা নিতান্তই বোকামী। আগেরদিনে ত্রিকোনমিতির হিসাব করত আর আজকাল আছে জিপিএস। জিপিএস রিডিং এ বাংলাদেশের সর্বোচ্চ চুড়া সাকা হাফলং ৩৪৪২ ফিট এবছরের (২০০৮) ফেব্রুয়ারীতে প্রথম এই পাহাড়টা জয় করে একদল সম্পুর্ন অপেশাদার ট্রেকার (ন্যাচার এডভেঞ্চার ক্লাব)। এরপরেই কেওকারাডং। ৩য় মদক ময়াল। তাজিং ডং জিপিএস হিসাবে কেওকারাডং এর চেয়ে অনেক ছোট।

সবার জন্যে শুভ এবং সফল ট্রেকিং ট্রিপের প্রত্যাশায় রইলাম। ইনফর্মেশন বা অন্য কোন হেল্পের জন্যে-

ই-মেইলঃ
মেসেঞ্জারঃ

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): বগালেকঘুরে বেড়ানোকেও কারাডংট্রেকিংব্যাগপ্যাকিংহাইকিং ;
প্রকাশ করা হয়েছে: পৃথিবীর পাঠশালা।  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ২:০৮ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৩৮
মৃত হাসানের প্রেতাত্মা বলেছেন: ছবিকে আগেই প্লাস। :) পোষ্টা তো অনেক বড় তাই পরে পড়ব। প্রিয়তে রাখলাম। :D



ক্যামেরার মডেল নাম্বারটা বলবেন প্লিজ?
১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৪০

লেখক বলেছেন: নোকিয়া এন সেভেন্টি থ্রি।
ক্যামেরা নয়। মোবাইল।

২. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৩৯
তারার হাসি বলেছেন: আপনি তাহলে শেষ পর্যন্ত পালিয়েছেন......... ছবিগুলি এডিট না করলেই মনে হয় ভাল ছিল। লেকের পানির রঙ বদলে গিয়েছে।
লেকটির নাম কি?
১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৪২

লেখক বলেছেন: বগা লেক??? ছবিতে এডিট বললে বলতে পারেন নাম লিখেছি। আর পানির রঙটা কিন্তু এডিট না। আকাশের কালারটা দেখছেন, রিফ্লেক্ট হচ্ছে। আমি এটাকে বলে হাই অল্টিচিউড ব্লু। খেয়াল করছেন কি যেখানে আকাশের রঙ হাই অল্টিচিউড ব্লু ওখানে মেঘ নাই।

৩. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৪৫
তারার হাসি বলেছেন: আমি আকাশের কথা কিন্তু বলি নাই ......... শুধু লেকের পানির কথা বলেছি।
১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৪৭

লেখক বলেছেন: আরেহ ভাই, বিশ্বাস হলো না? আমার ফেসবুক একাউন্টে গিয়ে দেখেন সেম ছবি টোটালি ফটোশপের টাচ ছাড়া আছে, যেখানে ক্যামেরার রেজ্যুলেশন আর নাম সিগ্নেচার নাই। পানির কালার দুজায়গায় মিলায় দেখেন।

৫. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৫৩
অন্তরাল বলেছেন: খুবই ভাল লাগল। পড়তে গিয়েই যেন পাহাড়ে ঘুরে এলাম একবার! দুর্দান্ত!
৬. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:০৪
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
পড়লাম । ভালো লাগলো ।

দুঃখ, বাতির নীচে অন্ধকার ।
চট্টলাবাসী হয়েও আজ পর্যন্ত বান্দরবন গেলাম না
কাজটা খুব খারাপ হইছে, কি বলেন ?
১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:০৯

লেখক বলেছেন: কাল সকালে বদ্দার হাট থেকে পুর্বানীতে উঠবেন। ৬টায় ১টা ছাড়ে। ৮টা সাড়ে আটটার মধ্যে বান্দারবানে পৌছে যাবেন। চান্দের গাড়ি নিয়ে তক্ষুনী শৈলপ্রাপাত ঘুরে চিম্বুকে উঠেন। ফেরার পথে মেঘলা দেখে নিলেন। সানসেটটা অবশ্যই নীলাচল (টাইগার হীলে কাটাবেন। এর পরে স্বর্ন মন্দিরে যাবেন। সানসেটের পরে ঢুকতে দেয়না। কিন্তু লামারা অনেক ভালো। একটূ কান্না কান্না করে অনুনয় করলেই স্বর্ন মন্দিরে সন্ধ্যার পরে যেতে দেবে। ছবি তুলতে পারবেননা সন্ধ্যার পরে। রাতের বাসে ফিরে আসেন।
গাড়ি হায়ার করলে খুব ভালো।
শর্ট কাট ওয়ান ডে।

৭. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:২৫
মাহমুদ৬৯ বলেছেন: ছবিকে আগেই প্লাস। পোষ্টা তো অনেক বড় তাই পরে পড়ব। প্রিয়তে রাখলাম।


৮. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৩৮
অ্যালন বলেছেন:
ড্যাএএমম গুড..কপালে নাই খালু..:(
১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৫৩

লেখক বলেছেন: খালামনি কেমুন আছে???

৯. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৩১
লিপিকার বলেছেন: চমৎকার বর্ণনা.....চমৎকার ছবি...বগা লেকে যাওয়ার স্বপ্ন দেখি...শোকেসে রেখে দিলাম......
১০. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৪২
রাশেদ বলেছেন: খুব সুন্দর ছবি।


থ্যাঙ্কস শেয়ারের জন্য।
১২. ১৪ ই নভেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০২
ত্রিভুজ বলেছেন: আমি জানতাম আপনি এরকম একটা পোস্ট দিবেন... এবং এটার জন্য অপেক্ষায় ছিলাম। :)

বগা লেকে যাওয়ার সময় আপনাকে পেলে ভাল হতো। পরেরবার কবে যাচ্ছেন?
১৪ ই নভেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:২৮

লেখক বলেছেন: নেক্সট প্রোগ্রাম, ডিসেম্বরের ৫ তারিখে। ইন্টার সিটি হন্টন।
৫তারিখে আমরা ধামরাই থেকে হেটে ঢাকার গাবতলীতে আসবো। যাবেন???

১৩. ১৪ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৪৪
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:

তথ্যের জন্য ধন্যবাদ সৌম্য ।

তয়, দুঃখের কথা হলো দেশের বাইরে আছি । দেশে গেলে বান্দরবান ঘুরতে ভুল হবে না এবার । যদি ততোদিন বেচে থাকি ।
১৪ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৫৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আশা করি খুব শিঘ্রি অন্যান্য জায়গার মত বগালেককেও আমাদের অতি উতসাহি পর্যটকরা পলিউটেড করবেনা। বগা লেক বেঁচে থাক তার সব রহস্যময়তা, সৌন্দর্য আর অদুষিত পরিবেশ নিয়ে

১৪. ০১ লা ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ২:১৩
আশফানুর আরেফিন বলেছেন: বগা লেক এর উচ্চতা আপনি বলেছেন সাড়ে তিনহাজার ফিট। কিন্তু আমার মনে হয় আমি দেখে ছিলাম ২৭০০ ফিট।
০১ লা ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:৩১

লেখক বলেছেন: অনিচ্ছাকৃত ভুল কিন্তু অমার্জনীয়। অত্যন্ত দুঃখিত।

১৫. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৫৮
"নিরব" বলেছেন: তথ্যের জন্য ধন্যবাদ সৌম্য । সঙ্গী ও সময় হলে বান্দরবান ঘুরতে যাব।

ভ্রমন নিয়ে কি আলাদা একটা গ্রুপ করায়া ?
১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ৮:০২

লেখক বলেছেন: সামুতে এডভেঞ্চার গ্রুপ চাই, দিতে হবে, মানি না মানবো না।

১৬. ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ ভোর ৫:৩২
ভাইটামিন বদি বলেছেন: দেশে গেলে অবশ্যই যাব।।।

সুযোগ হলে খাগড়াছড়ির আলু টিলার নিচে একটা সুড়ঙ্গ আছে....দেখতে পারেন। আশা করি ভাল লাগবে।

দেশে থাকতে চেষ্টা করতাম বছরে একবার অন্তত নতুন কোন যায়গায় যাবার....
১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ৮:০১

লেখক বলেছেন: হুম আলুটিলার গুহা। অনেক দারুন।

১৭. ০৮ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৫৪
ওয়ার হিরো বলেছেন: কবে যাব পাহাড়ে আহারে আহারে..
১৮. ৩০ শে নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:২৬
শুভ্র নামের ছেলে বলেছেন: উচ্চতা নিয়ে তো কনফিউজড হয়ে গেলাম, ৩৫০০ ফিট উপরে বলছেন বগা লেক, কিন্তু আরেক জায়গা তেই দেখলাম সাকা হাফলং এর উচ্চতা ৩৪৮৮ ফিট। আসলে সবচেয়ে উচু কে?
২২ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১:৩৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ শুভ্র ভাই। আসলে এই লেখাটা আমার ব্যাক্তিগত ব্লগস্পট থেকে হুবুহুবু কপি করা। ওটা আমার প্রথম কেওকারাডং যাবার পড়ে লেখা। অনেক বছর আগে লিখেছিলাম। কমিউনিটি ব্লগে এই লেখাটা দেয়া ঠিক হয় নাই। তথ্যগত বিভ্রাট অনেক বেশী। যেসময় এই লেখাটা লিখেছিলাম পাহাড় সম্পর্কে তখন আবেগ এত গভীর ছিল না।
বগালেক আসলে ১৮০০ফুটের মতো।
সাকা হাফলং নামটা সঠিক নয়। যারা নামকরন করেছিল, তারা দিয়েছিল সাকা হাফং। সাকা মানে পুর্ব আর হাফং মানে চুড়া। নামটা আসে শালুকীয়া পাড়া থেকে। ওদের কাছে পাহাড়টার আলাদা নাম ছিলনা, সবসময় দ্রষ্টব্য তাই ওরা বলতো পুব দিকের পাহাড় বা সাকা চু অথবা সাকা হাফং। পাহাড়টার সঠিক নাম তল্যাং ময় হওয়াই উচিত। কিন্তু বিএমটিসি আর ন্যাচার এডভেঞ্চার ক্লাব সাকা হাফং নামটা প্রচার করায় এবং সংবাদ মাধ্যমে এই নামটা জনপ্রিয় হওয়ায় তল্যাং ময় নামটা ঢেকে গেছে। অথচ স্থানীয় ভাবে তল্যাং ময় নামটাই বহুল পরিচিত। তাজিনডং এর চুড়ায় বসে কাউকে সাকা হাফং বললে চিনবেনা। কিন্তু তল্যাং ময় বললে সবাই চিনবে।
তল্যাং ময় প্রথম ওঠেন জিঞ্জে ফুলেন। পরে প্রায় একই সময় ন্যাচার এডভেঞ্চার ক্লাব আর বিএমটিসি ক্লাব উঠে। কারা আগে এ নিয়ে বিতর্ক আছে। ন্যাচার ক্লাবের সাথে ছিলেন আলম ভাই, উনি তার জিপিএস এ অনেকগুলো রিডিং নেন তার একটা ৩৪৮৮ফুট। এটাই পত্রিকাগুলো গ্রহনযোগ্য হিসাবে ধরে নেয় কারন জীন ফুলেন নিয়েছিলেন ৩৪৯০ফুট।
ঐ দুটো ক্লাব যাবার পরে ৩য় দল হিসাবে উঠে দিওয়ে এক্সপিডিটর্স। উনাদের রিডিং জানিনা। চতুর্থ দলে মেম্বার ছিলেন শুধু ২ জন। একটা আমি অন্যজন আলম ভাই (৩৪৯০ফুট হিসাব যিনি রেকর্ড করছিলেন)। এবারে আমরা সঠিক উচ্চতার জন্যেই বেশী সময় কাটিয়েছি। কয়েকটা জিপিএস দিয়ে সবচেয়ে সঠিক মাপ বের করার চেষ্টা করেছিলাম। আমার এবং আলম ভাই দুজনেরই বিশ্বাস ৩৪৭৫ফুটের কাছা কাছি উচ্চতা হবে। ৩৪৭৫ ফুট সবচেয়ে গ্রহনযোগ্য ৩৪৮৮ফুট নয়।

২২ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১:৪০

লেখক বলেছেন: সম্প্রতি (২০০৯এর শেষভাগে) র‌্যাং তল্যাং শৃঙ্গের কাছে ২টা লেক পাওয়া গেছে। যদিও লেক গুলোর অস্তীত্ব আগেই শুনেছিলাম। এদুটো প্রাকৃতিক কিনা বলতে পারি না। ন্যাচার এডভেঞ্চার ক্লাবের কজন সদস্য সরেজমিনে দেখে এসেছে। ডিটেইলস পাই নি। শুনেছি একটা ইংরেজী দৈনিকে আর্টিকেল এসেছিল। ওদুটোর একটা হবে বাংলাদেশের সর্বচ্চ লেক।
পুকুর পাড়া-রাইখ্যান এর লেক, বগালেকের চেয়ে বেশী উচু বলে আমার ধারনা।

১৯. ২১ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১১:০৬
পরিবেশবাদী ঈগলপাখি বলেছেন: খুব ভালো লাগল , বগা লেখে যাবার ইচ্ছা অনেক দিনের কিন্তু কখনো ডিটেইল ইনফো পাইনাই । আশা করি কিছু পোলাপান কে পটাতে পারলে যাব
২০. ২১ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১১:১০
সবাক বলেছেন: এক চাপ রং চা নিয়ে আরাম করে পড়তে হবে। প্রিয় পোস্ট তুইলা রাখলাম।
২১. ১০ ই মার্চ, ২০১১ দুপুর ২:০৭
সজীব বড়ুয়া নীল বলেছেন: বান্দরবান অনেক বার যাওয়া হল কিন্তু এই লেকটাতে যাওয়া হল না আপনার পোস্ট প ড়ে তো এখনই যেতে ইচ্ছে করছে । শুভকামনা রইল।
২২. ১০ ই মার্চ, ২০১১ দুপুর ২:০৯
সজীব বড়ুয়া নীল বলেছেন: বান্দরবান অনেক বার যাওয়া হল কিন্তু এই লেকটাতে যাওয়া হল না আপনার পোস্ট প ড়ে তো এখনই যেতে ইচ্ছে করছে । শুভকামনা রইল।
২৩. ১০ ই মার্চ, ২০১১ দুপুর ২:১৯
বাদ দেন বলেছেন: সাইদ ভাই, মনে হইল আপনার লগেই একখান টুয়র দিয়া আইলুম, দারুন লিখসেন
২৫. ২০ শে জুলাই, ২০১১ রাত ১১:৩৯
পৃথিবীর আমি বলেছেন: আশে পাশে প্রচুর আগ্নেয়শীলার উপস্থিতি।

আরেকটা তথ্যবিভ্রাট ভাই। ঐ জায়গায় আগ্নেয়শীলা থাকা একেবারেই অসম্ভব।
২১ শে জুলাই, ২০১১ সকাল ৭:১৪

লেখক বলেছেন: এই পোষ্টটাতে তথ্য বিভ্রাট অনেক, আমি জানি। পোষ্টটা অনেক আগের (সামহোয়ারে আমি তিন বছর আছি, এটা তারো অনেক আগে ব্লগস্পটে লিখেছিলাম) সেগুলো জানার ভুল। যেমন উচ্চতা নিয়ে তথ্যগুলো।
তবে 'আগ্নেয়শীলার অস্তীত্ব সরকারী ভাবে স্বীকার করা হয়। রুমা উপজেলা পরিষদের সরকারী কাগজ অনুযায়ী। আর কয়েকজন কিছু পাথরখন্ডকে আগ্নেয়শীলা বলে চিনিয়েছিল। সেগুলো সম্পর্কে আমি শিউর না।এগুলোর কয়েকটা এখনো আমার কালেকশানে আছে। (বগামুখ পাড়ার পরে যেই ঝিরিটা ওখান থেকে নেয়া)।
অনেক কিছুই বাংলাদেশে থাকা অসম্ভব। কিন্তু আছে। একবার শুনলাম বাংলাদেশে গ্রেট হোয়াইট শার্ক পাওয়া গেছে। শুনে খুব হাসলাম। পরে দেখলাম দেশের সবচেয়ে বেশী সার্কুলেশানের পত্রিকাতে গ্রেট হোয়াইটের ছবিও ছাপা হলো, বঙ্গোপসাগরে গ্রেট হোয়াইট শার্ক অসম্ভব। বৃটিশরা আবিষ্কার করে গেছিলো বঙ্গভুমি পলি মাটি থেকে জন্ম। হাজার খানেক পুরোনো সভ্যতা সেখানে অসম্ভব। উয়ারী বটেশ্বর এই বিজ্ঞানী গুলোকে দেখিয়ে আনতে ইচ্ছে করে। বাংলাদেশ মুল খন্ডেরই নাকি বয়স হাজার খানেক বছর। তাহলে বাংলাদেশে ফসিল হওয়া অসম্ভব। সাতছড়ির জঙ্গল থেকে কালেক্ট করা একটা ফসিল খন্ড আমি এনে আমার ড্রইং রুমে সাজিয়ে রেখেছি।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০২৮৯ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আমি সাঈদ সৌম্য।
ঘুরা ঘুরি করতে ভাল্লাগে।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ